- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১১
- ১২
- ১৩
- ১৪
- ১৫
- ১৬
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)আমি পৌল, হযরত ইসা মসিহের গোলাম, হাওয়ারি হওয়ার জন্য আমাকে ডাকা হয়েছে। আল্লাহর সুখবর প্রচারের জন্য আমাকে আলাদা করা হয়েছে, (২)যে বিষয়ে তিনি অনেক আগেই নবিদের মাধ্যমে তাঁর পাক-কিতাবে ওয়াদা করেছিলেন, (৩)এই সুখবর তাঁর একান্ত প্রিয় মনোনীতজনের বিষয়ে, যিনি শারীরিকভাবে হযরত দাউদ আ. এর বংশধর, (৪)এবং যিনি পবিত্রতার রুহের মতে, মৃত থেকে জীবিত করে উঠানোর মাধ্যমে, হযরত ইসা মসিহ আল্লাহর একান্ত প্রিয় মনোনীতজন বলে ঘোষিত হয়েছেন, তিনি আমাদের মুনিব হযরত ইসা আ.।
(৫)তাঁর মাধ্যমে আমরা অনুগ্রহ ও হাওয়ারি পদ লাভ করেছি, যেনো আমরা তাঁর নামের জন্য সমস্ত অ-ইহুদিদের কাছে ইমান ও বাধ্যতার কথা প্রচার করতে পারি।
(৬)তোমরা যারা হযরত ইসা মসিহের, তোমাদেরসহ, (৭)রোমে আল্লাহ যাদের মহব্বত করেন, যাদের মুমিন হওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে, তাদের সকলের কাছে লিখছি: আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর রহমত ও শান্তি এবং হযরত ইসা মসিহের দয়া তোমাদের সকলের ওপর বর্ষিত হোক।
(৮)প্রথমত আমি তোমাদের সকলের জন্য হযরত ইসা মসিহের মাধ্যমে আল্লাহ-পাকের শুকরিয়া আদায় করি, কারণ তোমাদের ইমানের কথা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। (৯)মসিহের সুখবর প্রচারের মাধ্যমে আমি রুহে আল্লাহর ইবাদত করি এবং আমার মোনাজাতে আমি যে অবিরতভাবে তোমাদেরকে স্মরণ করি, আল্লাহই তার সাক্ষী।
(১০)আমি এই মোনাজাত করছি, আল্লাহর ইচ্ছায় যে-কোনো উপায়ে আমি যেনো তোমাদের কাছে আসতে সমর্থ হই। (১১)আমি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে তোমাদের দেখার অপেক্ষায় আছি, যেনো আমি তোমাদের উৎসাহিত করার জন্য কিছু রুহানি দানের বিষয়ে তোমাদের বলতে পারি- (১২)অথবা তোমাদের ও আমার ইমানের দ্বারা আমরা একে অন্যকে উৎসাহ দিতে পারি।
(১৩)আমার ভাই ও বোনেরা, আমি তোমাদের জানাতে চাই যে, অনেকবার আমি তোমাদের কাছে আসতে চেয়েছি- কিন্তু প্রতিবারই বাধা পেয়েছি- যেনো আমি অন্যান্য অ-ইহুদিদের মধ্যে যেমন, তেমনি তোমাদের মধ্যেও কিছু ফল পেতে পারি। (১৪)গ্রিক বা বর্বর, জ্ঞানী বা বোকা সবার কাছেই আমি ঋণী- (১৫)এজন্য তোমরা যারা রোমে আছো, তোমাদের কাছেও সুখবর প্রচার করতে আমি খুবই আগ্রহী।
(১৬)সুখবরের জন্য আমি লজ্জিত নই; যাদের ইমান আছে, তাদের প্রত্যেকের-প্রথমে ইহুদিদের এবং পরে গ্রিকদেরও নাজাতের জন্য এটি হলো আল্লাহর শক্তি। (১৭)কারণ ইমানের জন্য ইমানের ভেতর দিয়েই এই সুখবরে প্রকাশ পেয়েছে আল্লাহর ধার্মিকতা; যেমন একথা লেখা আছে, “যে ধার্মিক সে ইমানের দ্বারাই বাঁচবে।”
(১৮)যারা তাদের গুনাহের দ্বারা সত্যকে চেপে রাখে, তাদের সমস্ত গুনাহ ও অধার্মিতার বিরুদ্ধে বেহেস্ত থেকে আল্লাহর অভিশাপ প্রকাশ পায়। (১৯)আল্লাহ সম্বন্ধে যা জানা যায় তা তাদের কাছে পরিষ্কার, কারণ আল্লাহ্ তা তাদের জানিয়েছেন। (২০)দুনিয়া সৃষ্টির প্রথম থেকেই এই সৃষ্টি তাঁর চিরন্তন ক্ষমতা ও আল্লাহর স্বভাব প্রকাশ করেছে। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তা থেকেই তাঁকে দেখা ও বোঝা যায়, আর তাই তাদের আর কোনো অজুহাত নেই।
(২১)যদিও তারা আল্লাহকে জেনেছে, তবুও তারা তাঁকে আল্লাহ হিসাবে সম্মান করেনি অথবা তারা তাঁর শুকরিয়া আদায় করেনি; কিন্তু তারা তাদের চিন্তা শক্তি হারিয়ে ফেলেছে, তাদের বুদ্ধিহীন অন্তর অন্ধকার হয়ে গেছে। (২২)যদিও তারা দাবি করে যে, তারা বুদ্ধিমান, আসলে তারা বোকা হয়ে গেছে;
(২৩)এবং একমাত্র আল্লাহর মহিমাকে তারা হাতে তৈরি মরণশীল মানুষের মূর্তি বা পাখির মূর্তি বা চারপেয়ে জন্তু বা বুকেহাটা প্রাণীর মূর্তির সাথে বিনিময় করে নিয়েছে।
(২৪)এজন্য আল্লাহ তাদেরকে তাদের নিজেদের মনের খারাপ ইচ্ছা মতো জঘন্য কাজ করার জন্য ছেড়ে দিলেন, এতে তারা নিজেদের শরীরেরই অসম্মান করেছে, (২৫)কারণ তারা আল্লাহর সত্যকে মিথ্যার সাথে বিনিময় করেছে এবং চিরকাল যিনি মহিমান্বিত, সেই সৃষ্টিকর্তাকে বাদ দিয়ে তাঁর সৃষ্ট জিনিসের পুজা ও আরাধনা করেছে, যিনি চিরকাল ধন্য! আমিন।
(২৬)এজন্য আল্লাহ তাদেরকে তাদের জঘন্য কামনা-বাসনার হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। তাদের মহিলারা স্বাভাবিক যৌনাচারবাদ দিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করেছে; (২৭)আর একইভাবে পুরুষেরা মহিলাদের সাথে তাদের স্বাভাবিক যৌনাচার বাদ দিয়েছে, একে অন্যের প্রতি কামনার আগুনে জ্বলে পুড়েছে। পুরুষে-পুরুষে জঘন্য লজ্জাজনক কাজ করেছে এবং নিজেদেরকে বিপথে নিয়ে যাবার উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছে।
(২৮)আর যেহেতু তারা আল্লাহকে মানতে চায়নি, সেহেতু আল্লাহও তাদেরকে তাদের বিকৃত মনের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন এবং তারা এমন সব কাজ করেছে, যা তাদের করা উচিত নয়। (২৯)তারা সবরকমের অন্যায়, মন্দতা, লোলুপতা ও অপরের অশুভ কামনায় পরিপূর্ণ। হিংসা, খুন, ঝগড়া-বিবাদ, প্রতারণা ও ধূর্ততায় ভরা; তারা অন্যের সমালোচনাকারী, (৩০)কুৎসা-রটনাকারী, আল্লাহকে ঘৃণাকারী, বদমেজাজি, উদ্ধত, অহংকারী, মন্দতার আবিষ্কারক, মা-বাবার অবাধ্য, (৩১)বোকা, বেইমান, হৃদয়হীন ও নিষ্ঠুর।
(৩২)তারা আল্লাহর এই আদেশ জানতো যে, যারা এরকম কাজ করে তারা মৃত্যুর যোগ্য-তবুও তারা শুধু এসবই করতো না, বরং অন্য যারা এসব করতো, তারা তাদের কাজেও সায় দিতো।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)অতএব, তুমি যে-ই হও না কেনো, তুমি যখন অন্যের বিচার করো, তখন তোমার কোনো অজুহাত নেই; কারণ অন্যের বিচারের রায় ঘোষণার মাধ্যমে তুমি নিজেকেই দোষী করে থাকো; তুমি বিচারক, তুমিও একই কাজ করে থাকো। (২)তুমি বলো, “আমরা জানি, যারা এরকম কাজ করে, তাদের ওপর আল্লাহর বিচার সত্য অনুসারেই হয়।”
(৩)তুমি যে-ই হও না কেনো, তুমি কি চিন্তা করে দেখেছো যে, যারা ওইরকম কাজ করে, তুমি যখন তাদের বিচার করো এবং তুমি নিজে ওই একই রকম কাজ করো, তখন তুমি কি আল্লাহর বিচার থেকে রক্ষা পাবে? (৪)অথবা তুমি কি তাঁর মহা-দয়া, ধৈর্য ও সহ্যগুণকে অবজ্ঞা করছো? তুমি কি বুঝতে পারো না যে, আল্লাহর এই দয়া তোমাকে তওবা পর্যন্ত নেবার জন্য? (৫)কিন্তু তুমি তোমার এই কঠিন ও অনুতাপহীন মনের দ্বারা হাশরের দিনে আল্লাহর গজব নিজের জন্য জমা করে রাখছো; হাশরের দিনে আল্লাহর ন্যায়বিচার প্রকাশ পাবে।
(৬)কারণ তিনি তো প্রত্যেককে তার কাজ অনুসারে ফল দেবেন: (৭)যারা ধৈর্য ধরে ভালো কাজ করে, গৌরব, সম্মান ও অমরত্বের সন্ধান করে, তিনি তাদের অনন্ত জীবন দান করবেন; (৮)কিন্তু যারা স্বার্থপর এবং যারা সত্যের অবাধ্য ও মন্দতার বাধ্য, তাদের প্রতি গজব ও প্রচণ্ড ক্রোধ নেমে আসবে।
(৯)যারা গুনাহের কাজ করে তাদের প্রত্যেকের নিদারুণ যন্ত্রণা ও চরম বিপদ হবে- প্রথমে ইহুদিদের এবং পরে অইহুদিদের, (১০)কিন্তু যারা নেক আমল করে, তাদের জন্য রয়েছে গৌরব, সম্মান ও শান্তি- প্রথমে ইহুদিদের ও পরে অইহুদিদেরও। (১১)নিশ্চয়ই আল্লাহ কারো পক্ষপাতীত্ব করেন না।
(১২)শরিয়ত বিহীন অবস্থায় যারা গুনাহ করেছে, শরিয়ত বিহীন অবস্থায় তারা ধ্বংস হবে, আর যারা শরিয়তের অধীনে থেকে গুনাহ করেছে, তাদের বিচার শরিয়ত মতেই হবে। (১৩)কারণ শরিয়তের কথা শুনে কেউ আল্লাহর চোখে ধার্মিক হয় না, বরং যারা শরিয়ত পালন করে, তারাই ধার্মিক বলে বিবেচিত হবে।
(১৪)কারণ যে-অইহুদিরা শরিয়ত পায়নি, তারা যখন সহজাতভাবে শরিয়ত অনুসারে কাজ করে, তখন শরিয়ত না পাওয়া সত্ত্বেও, তারা নিজেরাই নিজেদের শরিয়ত হয়ে ওঠে। (১৫)তারা দেখায় যে, শরিয়ত যা চায় তা তাদের অন্তরে লেখা রয়েছে, তাদের বিবেকও সেই একই সাক্ষ্য দেয়; এবং তাদের পরস্পর বিরোধী ভাবনা, হয় তাদেরকে দোষী করে, না হয় তাদেরকে সমর্থন করে।
(১৬)সেইদিন, আমার প্রচারিত সুখবর অনুসারে, আল্লাহ হযরত ইসা মসিহের মাধ্যমে, সকলের মনের গোপন বিষয়ের বিচার করবেন। (১৭)তুমি যদি নিজেকে ইহুদি বলে জানো এবং শরিয়তের ওপর ভরসা করো এবং আল্লাহর সাথে তোমার সম্পর্কের জন্য গর্ববোধ করো (১৮)এবং তাঁর ইচ্ছা কী তা জানো, আর শরিয়তি শিক্ষায় শিক্ষাপ্রাপ্ত হয়েছো বলে কোনটি উত্তম তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারো, (১৯)আর তুমি যদি নিশ্চিত হও যে, তুমি অন্ধদের পথপ্রদর্শক, যারা অন্ধকারে আছে তাদের জন্য আলো,
(২০)বোকাদের সংশোধনকারী, শিশুদের শিক্ষক, শরিয়তের মাঝে সত্য ও জ্ঞানের সঠিক পরিচয় পেয়েছো, (২১)তাহলে তুমি যে অন্যকে শিক্ষা দিচ্ছো, তুমি কি নিজেকে শিক্ষা দেবে না? তুমি যখন চুরি না করার শিক্ষা দাও, তখন তুমি কি চুরি করো?
(২২)তুমি বলছো, জিনা করো না, তুমি কি জিনা করো? তুমি তো মূর্তি ঘৃণা করো, তুমি কি মন্দির লুট করো? (২৩)তুমি যে শরিয়ত নিয়ে গর্ববোধ করছো, তুমি কি শরিয়ত অমান্য করে আল্লাহকে অসম্মান করো? (২৪)কারণ একথা লেখা আছে, “তোমাদেরই কারণে অ-ইহুদিদের মধ্যে আল্লাহর নামের নিন্দা হচ্ছে।”
(২৫)তুমি যদি শরিয়ত পালন করো, তাহলে খত্না করানোতে লাভ আছে; কিন্তু যদি শরিয়ত অমান্য করো, তাহলে তোমার খত্না করানো হলেও তুমি তো খত্না বিহীনের মতো হয়ে আছো। (২৬)সুতরাং, খত্না বিহীন লোকেরা যদি শরিয়তের নিয়ম-কানুন পালন করে, তাহলে তাদের খত্না না করানোটা কি খত্না হিসাবে ধরা হবে না?
(২৭)কাজেই যারা শারীরিকভাবে খত্না বিহীন কিন্তু শরিয়ত পালন করে, তারা তোমার শরিয়ত অমান্য করার বিচার করবে, যদিও তোমার কাছে নিয়ম-নীতির লিখিত কিতাব আছে ও তোমার খতনা করানো হয়েছে? (২৮)কেননা বাহ্যিক ইহুদি আসল ইহুদি নয়, সেভাবে বাইরের খত্না আসল খত্না নয়। (২৯)বরং অন্তরে যে ইহুদি, সে-ই আসল ইহুদি, এবং আসল খত্না হচ্ছে অন্তরের বিষয়-এটি রুহানি ব্যাপার, আক্ষরিক নয়। এরকম মানুষ অন্যদের কাছ থেকে নয় বরং আল্লাহর কাছ থেকে প্রশংসা পায়।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)তাহলে একজন ইহুদির কি সুবিধা আছে? বা খত্না করানোর কি মূল্য আছে? (২)সবদিক দিয়েই অনেক লাভ আছে। প্রথমত আল্লাহ তাঁর কালাম ইহুদিদের কাছে দিয়েছেন।
(৩)কেউ কেউ যদি অবিশ্বস্ত হয় তাহলে কি হবে? তাদের অবিশ্বস্ততা কি আল্লাহর বিশ্বস্ততাকে বাতিল করে দেবে? (৪)কখনো না! যদিও সবাই মিথ্যাবাদী, তবুও আল্লাহর সত্যবাদিতা প্রমাণিত; যেমন একথা লেখা আছে, “তুমি যেনো তোমার কথায় ধার্মিক বলে গণ্য হও, এবং বিচারের সময় বিজয়ী হও।”
(৫)কিন্তু আমাদের অধার্মিকতায় যদি আল্লাহর ধার্মিকতা প্রকাশ করে, তাহলে আমরা কী বলবো? আমি মানুষের মতো কথা বলছি- আল্লাহ মানুষের উপর তাঁর রাগ দেখিয়ে কি অন্যায় করছেন? (৬)কখনোই না! কারণ তাহলে আল্লাহ কিভাবে দুনিয়ার বিচার করবেন? (৭)কিন্তু আমার মিথ্যায় যদি আল্লাহর সত্যবাদিতা, তাঁর মহিমার জন্য উপচে পড়ে, তাহলে এখনো কেনো আমি গুনাহগার হিসাবে দোষী বলে সাব্যস্ত হচ্ছি? (৮)এবং কেনো বলবো না, (যেমন কোনো কোনো মানুষ আমাদের নিন্দা করে বলে যে, আমরা নাকি বলে থাকি), “এসো আমরা মন্দ কাজ করি, যাতে ভালো কিছু আসতে পারে”? এজন্য তারা অবশ্যই শাস্তি পাবে!
(৯)তাহলে কি বলবো? আমরা কি অন্যদের থেকে ভালো আছি? না, মোটেও না; কারণ আমরা আগেই অভিযোগ করেছি যে, ইহুদি ও অইহুদি সবাই গুনাহের ক্ষমতার অধীন, (১০)যেমন একথা লেখা আছে: “ধার্মিক কেউ নেই, একজনও নেই; (১১)এমন একজনও নেই, যে বোঝে; এমন একজনও নেই, যে আল্লাহর খোঁজ করে। (১২)সকলেই বিপথগামী হয়েছে, তারা একসাথে অকেজো হয়ে গেছে; দয়া করে এমন কেউ নেই, একজনও নেই।” (১৩)“তাদের গলা খোলা কবরের মতো; প্রতারণা করার জন্য তারা তাদের জিহ্বা ব্যবহার করে।” “তাদের ঠোঁটের নিচে রয়েছে সাপের বিষ।” (১৪)“তাদের মুখ অভিশাপ ও তিক্ততায় ভরা।”
(১৫)“খুন-খারাবি বা রক্তপাতের জন্য তাদের পা ছুটতে থাকে; (১৬)তাদের পথে-পথে থাকে ধ্বংস ও যন্ত্রণা, (১৭)এবং শান্তির পথ তারা জানেই না।” (১৮)“তাদের চোখের সামনে নেই আল্লাহর ভয়।”
(১৯)এখন আমরা জানি যে, শরিয়ত যা-কিছু বলে, তা শরিয়তের অধীন লোকদেরকেই বলে, যেনো প্রত্যেকটি মুখ বন্ধ হয় এবং সারা দুনিয়া আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করে।
(২০)কারণ শরিয়ত কর্তৃক আদিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্পাদনের মাধ্যমে “কোনো মানুষই তাঁর চোখে ধার্মিক গনিত হবে না” কারণ শরিয়তের দ্বারা মানুষ গুনাহ সম্পর্কে জানতে পারে।
(২১)কিন্তু এখন, শরিয়ত ছাড়াই আল্লাহর ধার্মিকতা প্রকাশিত হয়েছে, এবং শরিয়ত ও নবিগণের দ্বারা তা প্রমানিত হয়েছে, (২২)যারা হযরত ইসা মসিহের ওপর ইমান আনে, তাদের ইমানের মধ্য দিয়ে সবার প্রতি আল্লাহর ধার্মিকতা আসে। এখানে কোনো পার্থক্য নেই, (২৩)কেননা সবাই গুনাহ করেছে এবং আল্লাহর মহিমা থেকে বঞ্চিত হয়েছে; (২৪-২৫)আল্লাহ যে-হযরত ইসা মসিহকে তাঁর রক্তের দ্বারা কাফফারা আদায়ের জন্য কোরবানি হিসাবে তুলে দিয়েছেন, তাঁরই কাছ থেকে পাওয়া নাজাতের মাধ্যমে, আল্লাহর দয়ার দান হিসাবে, এখন তারা ধার্মিক বলে গণ্য; এই ধার্মিকতা ইমানের মধ্য দিয়েই কার্যকর। তিনি তা করলেন তাঁর ধার্মিকতা দেখাবার জন্য, কারণ আল্লাহ তাঁর অতুলনীয় সহনশীলতার কারণে আগেকার সব গুনাহ ধরে রাখলেন না; (২৬)বর্তমান সময়ে এটি প্রমাণ করার প্রয়োজন ছিলো যে, তিনি নিজে ধার্মিক এবং যে কেউ হযরত ইসা আ.এর ওপর ইমান আনে, তাকে তিনি ধার্মিক বলে গ্রহণ করেন।
(২৭)তাহলে গর্ব কোথায় থাকলো? তা দূর করে দেওয়া হয়েছে। কোন শরিয়তের দ্বারা? কাজের শরিয়ত দ্বারা? না, কিন্তু ইমানের শরিয়ত দ্বারা। (২৮)আমরা মনে করি যে, শরিয়ত নির্ধারিত কাজ ছাড়াই ইমানের কারণে মানুষকে ধার্মিক বলে গ্রহণ করা হয়।
(২৯)অথবা আল্লাহ কি শুধু ইহুদিদেরই আল্লাহ? তিনি কি অইহুদিদের আল্লাহ নন? হ্যাঁ, তিনি অইহুদিদেরও আল্লাহ, (৩০)নিশ্চয়ই আল্লাহ এক; এবং তিনি খত্নাপ্রাপ্ত ও খতনা বিহীন লোকদের ইমানের দ্বারা ধার্মিক বলে গ্রহণ করবেন। (৩১)তাহলে কি আমরা ইমানের দ্বারা শরিয়তকে বাদ দিচ্ছি? কখনো না! বরং আমরা শরিয়ত প্রতিষ্ঠা করছি।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১) তাহলে দৈহিক সম্পর্কের দিক থেকে আমাদের পূর্বপুরুষ হযরত ইব্রাহিম আ. সম্বন্ধে আমরা কী বলবো? তিনি কী পেয়েছিলেন? (২)হযরত ইব্রাহিম আ. যদি তাঁর কাজের কারণে ধার্মিক বলে গণ্য হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর গর্ব করার মতো কিছু কারণ আছে, তবে তা আল্লাহর সামনে নয়। (৩)কারণ পাককিতাব কী বলে? “হযরত ইব্রাহিম আ. বিশ্বাস করেছিলেন, আর তা তার ধার্মিকতা হিসাবে গণ্য হলো।”
(৪)যে কাজ করে, তার মজুরি তো দান হিসেবে বিবেচিত হয় না, এটা তার পাওনা।
(৫)কিন্তু যেব্যক্তি কাজ ছাড়াই আল্লাহভক্তদের ধার্মিক হিসাবে গ্রহনকারীর (ধার্মিক প্রতিপন্নকারীর) উপর বিশ্বাস করে, তার বিশ্বাস ধার্মিকতা বলে গণ্য হয়।
(৬)একইভাবে হযরত দাউদ আ. সেই সব লোকদের সৌভাগ্যবান বলেন, যাদেরকে আল্লাহ কাজ ছাড়াই ধার্মিক বলে গ্রহণ করেন: (৭)“ভাগ্যবান তারা, যাদের গুনাহ মাফ করা হয়েছে, এবং যাদের গুনাহ ঢেকে দেয়া হয়েছে; (৮)ভাগ্যবান সেই ব্যক্তি, আল্লাহ যার বিরুদ্ধে গুনাহ ধরবেন না।”
(৯)তাহলে রহমত কি কেবল খতনাকারী লোকদের জন্য, নাকি খতনা না করানো লোকদের জন্যও? আমরা তো বলি, “ইমানই হযরত ইব্রাহিম আ.র জন্য ধার্মিকতা হিসাবে গণ্য হয়েছিলো।” (১০)তাহলে কোন অবস্থায় ইমান তাঁর জন্য ধার্মিকতা হিসাবে গণিত হয়েছিলো? তার খতনা করানোর আগে, নাকি পরে? বরং খতনা করানোর আগেই হয়েছিলো, পরে নয়। (১১)তিনি খতনা করানোর আগেই ইমানের মাধ্যমে তার যে ধার্মিকতা ছিলো, সেই ধার্মিকতার সীলমোহর হিসাবে তিনি খতনার চিহ্ন গ্রহণ করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিলো এই যে, খতনাবিহীন অবস্থায় যারা বিশ্বাস করে এবং এর ফলে তা তাদের ধার্মিকতা বলে গনিত হয়, যেনো তিনি তাদের সকলের আদি পিতা হতে পারেন।
(১২)সেইভাবে তারা কেবল খতনা প্রাপ্ত হয়েছে তা নায়, বরং আমাদের আদি পিতা হযরত ইব্রাহিম আ. এর খতনা হওয়া আগে যে বিশ্বাস ছিলো সেই বিশ্বাসের আদর্শও অনুসরণ করে।
(১৩)কারণ দুনিয়তে উত্তরাধিকার লাভ করার ওয়াদা হযরত ইব্রাহিম আ. ও তাঁর বংশধরদের কাছে শরিয়তের মাধ্যমে আসেনি বরং ইমানের ধার্মিকতার মাধ্যমে এসেছিলো। (১৪)যদি শরিয়ত পালনের দ্বারা উত্তরাধিকার লাভ করা যায়, তাহলে ইমান তো অকেজো হয়ে পড়লো এবং ওয়াদারও কোনো মূল্য রইলো না।
(১৫)কারণ শরিয়ত বয়ে আনে শাস্তি ও ক্রোধ; কিন্তু যেখানে শরিয়ত নেই, সেখানে তা অমান্য করারও প্রশ্ন নেই। (১৬-১৭)এজন্য ওয়াদা ইমানের ওপর নির্ভর করে, যেনো ওয়াদা অনুগ্রহের উপর নির্ভর করে এবং হযরত ইব্রাহিম আ. এর বংশধরদের সকলের জন্যে নিশ্চিত হয়- কেবলমাত্র শরিয়তের অনুসারীদের জন্যে নয় বরং যারা হযরত ইব্রাহিম আ. এর মতো বিশ্বাসের অংশীদার তাদের জন্যও হয়।- কারণ তিনি আমাদের সবার আদি-পিতা।
যেমন লেখা আছে, “আমি তোমাকে অনেক জাতির পিতা করেছি” – সেই আল্লাহর সামনে, যাঁর উপর তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, যিনি মৃতদের জীবন দান করেন এবং যা অস্তিত্বহীন তা অস্তিত্বে আনেন।
(১৮)তিনি আশার বিপরিতে বিশ্বাস করেছিলেন যে তিনি “অনেক জাতির পিতা হবেন”. তাকে যা বলা হয়েছিলো তা হলো “তোমার বংশধরদের সংখ্যা অগণণীয় হবে।” (১৯)তিনি যখন তার নিজের শরীরের কথা ভাবলেন যা ইতমধ্যেই মৃতপ্রায় (কারণ তার বয়স ১০০ বছর) তাঁ স্ত্রী বিবি সায়েরার বন্ধ্যা হওয়ার কথা ভাবলেন, তখনও তিনি বিশ্বাস বা ইমানে দুর্বল হননি।
(২০)আল্লাহর ওয়াদার ব্যাপারে তিনি কোনো সন্দেহ পোষণ করেননি, বরং আল্লাহর প্রশংসা করতে করতে তিনি ইমানে শক্তিশালী হয়ে উঠলেন, (২১)তিনি এবিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন যে, আল্লাহ যে ওয়াদা করেছেন তা পুরণ করতে তিনি সম্পূর্ণরূপে সক্ষম। (২২)কাজেই তাঁর ইমান বা বিশ্বাস “তার জন্য ধার্মিকতা হিসাবে গণ্য হয়েছিলো।”
(২৩)“তার জন্য গনিত বা গন্য হলো”, এই কথাগুলো কেবল তাঁর জন্য লেখা হয়নি, (২৪)বরং লেখা হয়েছে আমাদের জন্যও। যিঁনি আমাদের মালিক হযরত ইসা আ.-কে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত করে তুলেছেন, তাঁর ওপর আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের প্রতিও একথাটি বর্তায়, (২৫)আমাদের গুনাহের জন্য তাঁকে মৃত্যুর হাতে তুলে দেয়া হয়েছিলো এবং আমাদেরকে ধার্মিক প্রতিপন্ন করার জন্য তাঁকে জীবিত করে তোলা হয়েছিলো।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১) অতএব, ইমানের দ্বারা ধার্মিক বলে গণ্য হওয়ায়, আমাদের নেতা হযরত ইসা মসিহের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে আমাদের শান্তি আছে,
(২)তাঁরই মাধ্যমে আমরা এই অনুগ্রহে প্রবেশের অধিকার লাভ করেছি, এটাই আমাদের অবস্থান; এবং আল্লাহর মহিমার অংশীদার হওয়ার আশায় আমরা গর্ববোধ করি।
(৩)এবং শুধু তা-ই নয়, বরং আমরা আমাদের দুঃখ-কষ্টের জন্যও গর্ব করি, কারণ আমরা জানি যে, দুঃখ-কষ্ট ধৈর্যের জন্ম দেয়, (৪)এবং ধৈর্য চরিত্র তৈরী করে এবং চরিত্র আশার জন্ম দেয়, (৫)আর আশা আমাদেরকে হতাশ করে না, কারণ আমাদেরকে যে রুহকে দেওয়া হয়েছে, তার মাধ্যমে আমাদের অন্তরে আল্লাহর মহব্বত ঢেলে দেওয়া হয়েছে। (৬)কারণ আমরা যখন দুর্বল ছিলাম, ঠিক সেই সময় মসিহ ভক্তিহীনদের জন্য মৃত্যুবরণ করলেন।
(৭)আসলে ধার্মিক ব্যক্তির জন্য প্রায় কেউই জীবন দেবে না – হয়ত একজন ভালো বা সৎ মানুষের জন্য কেউ জীবন দিতে সাহস করতে পারে। (৮)কিন্তু আল্লাহ আমাদের প্রতি তাঁর মহব্বতের প্রমাণ এই ভাবে দিয়েছেন যে, আমরা যখন গুনাহগার ছিলাম, তখনও মসিহ আমাদের জন্য মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
(৯)যেহেতু এখন, আমরা তাঁর রক্তের দ্বারা ধার্মিক প্রতিপন্ন হয়েছি, সেহেতু তাঁর মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর রাগ থেকে রেহাই পাবো, তা কতোইনা নিশ্চিত।
(১০)কারণ আমরা যখন শত্রু ছিলাম, তখন যদি আল্লাহর একান্ত প্রিয় মনোনীতজনের মৃত্যুর মাধ্যমে আমরা তাঁর সাথে মিলিত হয়ে থাকি, তাহলে মিলিত হয়ে আমরা আরও নিশ্চিত যে তাঁর জীবনের মাধ্যমে নাজাত পাবো। (১১)শুধু তা-ই নয়, যাঁর দ্বারা আমরা পুনর্মিলিত হয়েছি, সেই হযরত ইসা মসিহের মাধ্যমে আমরা আল্লাহকে নিয়ে গর্ব করে থাকি।
(১২)অতএব, যেভাবে একজন মানুষের মাধ্যমে দুনিয়াতে গুনাহ এসেছিলো, এবং গুনাহের মাধ্যমে মৃত্যু এসেছিলো; ঠিক সেভাবে মৃত্যু সব মানুষের ওপর ছড়িয়ে পড়লো, কারণ সবাই গুনাহ করেছে। (১৩)বস্তুত শরিয়ত আসার আগেও দুনিয়াতে গুনাহ ছিলো, কিন্তু শরিয়ত না থাকলে গুনাহ তো আর গুনাহ বলে গণ্য হয় না।
(১৪)তবুও মৃত্যু হযরত আদম আ. থেকে হযরত মুসা আ. পর্যন্ত রাজত্ব করেছে, এমনকি তাদের ওপরেও রাজত্ব করেছে যারা হযরত আদম আ. এর সীমালঙ্ঘন করার মতো কোনো গুনাহ করেনি; হযরত আদম আ. ছিলেন তাঁরই প্রতিচ্ছবি, যাঁর আসার কথা ছিলো।
(১৫)কিন্তু অনুগ্রহের দান গুনাহের মতো নয়। কারণ একজন মানুষের গুনাহের কারণে যদি অনেকেই মারা যায়, তাহলে আল্লাহর অনুগ্রহ এবং সেই একমাত্র ব্যক্তি, হযরত ইসা মসিহের, অনুগ্রহের দান আরো বহুজনের জন্য যে উপচে পড়বে, তা কতোইনা নিশ্চিত।
(১৬)আর সেই বিনামূল্যের দান একজন মানুষের গুনাহের ফলাফলের মতো নয়। কারণ একটি মাত্র গুনাহের বিচার শাস্তি নিয়ে এসেছে, কারণ একটি গুনাহের বিচারের ফলে শাস্তি এসে গেলো, কিন্তু অনেক গুনাহের পরে যে দান এসেছে তা ধার্মিকতা এনে দিলো।
(১৭)একজনের গুনাহের কারণে, সেই একজনের মাধ্যমে যদি মৃত্যু রাজত্ব করে, তাহলে আর একজন মানুষের অর্থাৎ হযরত ইসা মসিহের, মাধ্যমে যারা অঢেল অনুগ্রহ ও ধার্মিকতার অনুগ্রহ-দান লাভ করে, তারা যে জীবনের ওপর রাজত্ব করবে, তা কতোই না নিশ্চিত।
(১৮)অতএব, যেভাবে একজনের গুনাহ সব মানুষের উপরে শাস্তি নিয়ে এসেছিলো, সেভাবে একজনের ধার্মিকতার কাজ সব মানুষে জন্য নির্দোষিতা ও জীবন নিয়ে এসেছে।
(১৯)যেভাবে একজন মানুষের অবাধ্যতার কারণে অনেকে গুনাহগার হলো, সেভাবেই একজন মানুষের বাধ্যতার ফলে অনেকে ধার্মিক হিসেবে গণ্য হবে।
(২০)আর শরিয়ত আসার ফলে অপরাধ বহুগুণে বেড়ে গেলো; কিন্তু যেখানে গুনাহ বেড়ে গেলো, সেখানে অনুগ্রহ আরো বেশী বৃদ্ধি পেলো, (২১)যেনো গুনাহ যেভাবে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে রাজত্ব করে, সেভাবে অনুগ্রহও আমাদের হযরত ইসা মসিহের মাধ্যমে অনন্ত জীবনের দিকে ধার্মিকতা লাভের মাধ্যমে রাজত্ব করতে পারে।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১) তাহলে আমরা কী বলবো? অনুগ্রহ যাতে উপচে পড়ে সেজন্য আমরা কি গুনাহ করতেই থাকবো?
(২)কখনোই না! আমরা যারা গুনাহের কাছে মরেছি, আমরা কীভাবে আবার গুনাহের মধ্যে জীবন-যাপন করতে পারি? (৩)তোমরা কি জানো না যে, আমরা যারা মসিহ হযরত ইসা আ. এর উদ্দেশে বায়াত গ্রহণ করেছি, তারা সবাই তাঁর মৃত্যুর মধ্যে বায়াত গ্রহণ করেছি?
(৪)কাজেই মৃত্যুর মধ্যে বায়াত গ্রহণের দ্বারা আমরা তাঁর সাথে কবরস্ত বা সমাহিত হয়েছি, যাতে প্রতিপালকের মহিমার গুণে হযরত ইসা মসিহ যেভাবে মৃত থেকে জীবিত হয়ে উঠেছিলেন, ঠিক সেভাবে আমরাও জীবনের নতুনতায় চলতে পারি।
(৫)কারণ আমরা যদি তাঁর মৃত্যুর মতো মৃত্যুতে তাঁর সাথে একীভূত হয়ে থাকি, তাহলে নিশ্চয়ই আমরা তাঁর পুনরুত্থানের মতো পুনরুত্থানেও তাঁর সাথে একীভূত হবো।
(৬)আমরা জানি যে, আমাদের পুরোনো আমিকে বা সত্ত্বাকে তাঁর সাথে সলিবে হত্যা করা হয়েছিলো, যেনো আমাদের গুনাহের শরীর ধ্বংস হয় এবং আমরা আর গুনাহের গোলামীতে না থাকি। (৭)কারণ, যে মারা গেছে, সে গুনাহ থেকে মুক্ত হয়েছে।
(৮) কিন্তু আমরা যদি মসিহের সাথে ইন্তেকাল করে থাকি, তাহলে আমরা বিশ্বাস করি যে, তাঁর সাথে আমরা জীবিতও থাকবো। (৯)আমরা জানি যে, মসিহ মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠেছেন বলে তিনি আর মৃত্যুবরণ করবেন না; তাঁর উপরে মৃত্যুর আর কোনো কর্তৃত্ব নেই।
(১০)যে মৃত্যুতে তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন, গুনাহের জন্য একবারই তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন; কিন্তু যে জীবন তিনি যাপন করেন, তা আল্লাহর জন্যই যাপন করেন।
(১১)ঠিক সেইভাবে তোমরাও নিজেদেরকে গুনাহের কাছে মৃত বলে মনে করো এবং মসিহ হযরত ইসাতে আল্লাহর কাছে জীবিত বলে মনে করো।
(১২)সুতরাং গুনাহকে তোমাদের মরণশীল শরীরের উপর রাজত্ব করতে দিও না, যাতে তোমরা তার সমস্ত কামন-বাসনার অধীন না হও।
(১৩)আর তোমাদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলো গুনাহের হাতে তুলে দিও না, বরং মৃত থেকে জীবিত হয়ে আল্লাহর কাছে নিজেদের তুলে দাও, আর ধার্মিকতার হাতিযার হিসাবে আল্লাহর কাছে তোমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো তুলে দাও। (১৪)কারণ গুনাহ তোমাদরে উপর র্কতৃত্ব করবে না, কারণ তোমরা শরয়িতরে অধীন নও, বরং অনুগ্রহরে অধীনে রয়ছেো।
(১৫)তাহলে কী দাঁড়ালো? আমরা শরিয়তের অধীনে নই কিন্তু অনুগ্রহরে অধীনে আছি বলে কি গুনাহ করবো? কখনোই না!
(১৬)তোমরা কি জানো না যে, তোমরা যদি নিজেদেরকে কারো কাছে বাধ্য গোলাম হিসাবে সমর্পণ করো, তাহলে তোমরা যার হুকুম পালন করো, তোমরা তো তাঁরই গোলাম? হয় তোমরা গুনাহের গোলাম, যা মৃত্যু ডেকে আনে, অথবা হুকুম পালনের গোলাম, যা ধার্মিকতার দিকে নিয়ে যায়।
(১৭)কিন্তু আল্লাহর ধন্যবাদ হোক যে, তোমরা একসময় গুনাহের গোলাম ছিলে, কিন্তু তোমাদেরকে যে শিক্ষা দেয়া হয়েছিলো, তা তোমরা মনে-প্রাণে মেনে চলছো, (১৮)এবং এখন তোমরা গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে ধার্মিকতার গোলাম হয়েছো।
(১৯)তোমাদের স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতার কারণে আমি মানুষের ভাষায় কথা বলছি। কারণ একসময় তোমরা যেভাবে তোমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে গোলাম হিসাবে অপবিত্রতা ও জঘন্য জঘন্য পাপাচারের হাতে সমর্পণ করেছিলে, ঠিক সেভাবে এখন তোমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পবিত্রতার উদ্দেশে ধার্মিকতার গোলামীর কাছে সমর্পণ করো।
(২০)তোমরা যখন গুনাহের গোলাম ছিলে, তখন ধার্মিকতার ব্যাপারে তোমরা স্বাধীন ছিলে। (২১)কাজেই এখন যে-সব বিষয়ে তোমরা লজ্জিত হচ্ছো, সে-সব থেকে তোমাদের কি লাভ হয়েছিলো? ওই-সব কাজের পরিনাত হচ্ছে মৃত্যু।
(২২)কিন্তু এখন তোমরা গুনাহের অধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর গোলাম হয়েছো, তাই তোমাদের যে উপকার হবে তা হলো পবিত্রতা, আর এর পরিণাম হলো আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ বা অনন্ত জীবন। (২৩)কারণ গুনাহের মজুরি হলো মৃত্যু, কিন্তু আল্লাহর অনুগ্রহের দান হচ্ছে আমাদের মনিব হযরত ইসা মসিহে অনন্ত-জীবন বা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)প্রিয় ভাই ও বোনেরা, তোমরা কি জানো না,- কারণ আমি তাদের সাথে কথা বলছি, যারা শরিয়ত জানে- একজন মানুষ যতোদিন জীবিত থাকে, শরিয়ত শুধুমাত্র ততোদিন তার উপরে প্রযোজ্য থাকে? (২)যেমন, একজন বিবাহিতা স্ত্রীলোক যতো দিন তার স্বামী জীবিত থাকে, ততোদিন শরিয়তের আইন অনুসারে তার স্বামীর কাছে অবদ্ধ থাকে; কিন্তু স্বামী যদি মারা যায়, তবে সে স্বামী-সংক্রান্ত শরিয়ত থেকে মুক্ত হয়ে যায়।
(৩)একইভাবে, স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় স্ত্রী যদি অন্য পুরুষের সাথে বসবাস করে, তাহলে তাকে জিনাকারিণী বলা হয়, কিন্তু স্বামী মারা গেলে সে ঐ শরিয়ত থেকে মুক্ত হয়ে যায়, এবং সে যদি অন্য পুরুষকে বিয়ে করে, তাহলে সে জিনাকারিণী নয়।
(৪)একইভাবে মসিহের শরীরের মাধ্যমে শরিয়তের কাছে তোমাদের মৃত্যু হয়েছে, যেনো তোমরা অন্যজনের হও, অর্থাৎ যিনি মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠেছেন, তাঁর হতে পারো, যাতে আমরা আল্লাহর জন্য ফল উৎপন্ন করতে পারি।
(৫)আমরা যখন মাংসিক কামনা-বাসনায় জীবন-যাপন করতাম, তখন শরিয়তের দ্বারা জাগিয়ে তোলা আমাদের গুনাহে পূর্ণ কামনা-বাসনাগুলো মৃত্যুর জন্য ফল উৎপাদন করতে আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর মাঝে কাজ করতো।
(৬)কিন্তু এখন আমরা শরিয়তের অধীনতা থেকে মুক্ত হয়েছি; যা আমাদের বন্দি করে রেখেছিলো, এখন আমরা তার কাছে মৃত, যেনো আমরা কাগজে লেখা সেই পুরোনো নিয়মের নয়, কিন্তু রুহের নতুন জীবনের গোলাম।
(৭)তাহলে আমরা কী বলবো? শরিয়ত কি গুনাহ? কখনও না! কিন্তু যদি শরিয়ত না থাকতো, তাহলে গুনাহ যে কী তা আমি জানতে পারতাম না। “তুমি লোভ করো না” – শরিয়ত যদি একথা না বলতো, তাহলে লোভ যে কী তা আমি জানতে পারতাম না। (৮)কিন্তু গুনাহ, শরিয়তের এই হুকুমের সুযোগ নিয়ে আমার মধ্যে সব রকমের লোভের সৃষ্টি করেছে। শরিয়ত না থাকলে গুনাহ তো মৃত।
(৯)আমি এক সময় শরিয়তের বাইরে জীবিতই ছিলাম, কিন্তু শরিয়ত যখন আসলো তখন গুনাহ জীবিত হয়ে উঠলো। (১০)এবং আমার মৃত্যু ঘটলো, আর যে-শরিয়ত জীবন দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, সে-ই আমার কাছে মৃত্যুস্বরূপ প্রমানিত হলো, (১১)কারণ গুনাহ সুযোগ পেয়ে শরিয়তের হুকুমের মাধ্যমে আমাকে প্রতারিত করলো এবং তার মাধ্যমে আমাকে হত্যা করলো।
(১২)কাজেই শরিয়ত ও তার হুকুমগুলো পবিত্র, ন্যায্য ও উত্তম। (১৩)তাহলে যা ভালো, তা-ই কি আমার কাছে মৃত্যু বয়ে আনলো? নিশ্চয়ই না! যা ভালো, তার মাধ্যমেই গুনাহ আমার মধ্যে মৃত্যু এনেছে, যাতে গুনাহ, গুনাহ হিসাবেই প্রমানিত হয় এবং শরিয়তের হুকুমের মাধ্যমে গুনাহের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়।
(১৪)কারণ আমরা জানি যে, শরিয়ত হচ্ছে রুহানি; কিন্তু আমি তো জাগতিক বা মাংসিক, গুনাহের গোলামিতে বিক্রি হয়েছি।
(১৫)আমি আমার নিজের কাজ নিজেই বুঝি না, কারণ আমি যা করতে চাই, তা আমি করি না, বরং যা আমি ঘৃণা করি, আমি তা-ই করি। (১৬)এখন, যা আমি করতে চাই না, যদি আমি তা-ই করি, তাহলে আমি মেনে নিচ্ছি যে, শরিয়তের আইন ভালো।
(১৭)কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমি যা করি, তা আমি নিজে করি না, বরং যে-গুনাহ আমার মধ্যে বাস করে, সে-ই করে। (১৮)কারণ আমি জানি যে, আমার অন্তরে, অর্থাৎ আমার শরীরের ভেতর, ভালো কিছুই বাস করে না। আমি যা ন্যায় তা করার ইচ্ছা করতে পারি, কিন্তু ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি না। (১৯)কারণ যে-ভালো কাজ আমি করতে চাই, তা আমি করি না, কিন্তু আমি যে মন্দ করতে চাই না, তাই করি।
(২০)সুতরাং যা আমি করতে চাই না অথচ তা-ই যখন করি, তখন তা আমি নিজে করি না, কিন্তু আমার ভেতর যে-গুনাহ বাস করে, সে-ই তা করে। (২১)কাজেই আমি এটাকে একটি নিয়ম হিসাবে দেখি যে, যখন আমি ভালো কাজ করতে চাই, তখন মন্দতা কাছাকাছিই থাকে।
(২২)কারণ আমি আমার অন্তরে আল্লাহর শরিয়তের জন্য আনন্দ করি, (২৩)আমি আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে অন্য এক আইন দেখতে পাচ্ছি, যা আমার মনের নিয়ম নীতির সংগে যুদ্ধ যুদ্ধ করে চলছে, যা আমাকে আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও মধ্যে বসবাসকারী গুনাহের নিয়ম-নীতির কাছে বন্দী করে রেখেছে।
(২৪)কি দুর্ভাগা মানুষ আমি! এই মরণশীল দেহ থেকে কে আমাকে উদ্ধার করবে?
(২৫)আমাদের হযরত ইসা মসিহের মাধ্যমে আল্লাহর ধন্যবাদ হোক! কাজেই আমার মন দিয়ে আমি আল্লাহর শরিয়তের গোলাম, কিন্তু আমার শরীরিক কামনা-বাসনা দিয়ে আমি গুনাহের আইন কানুনের গোলাম।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১) অতএব, যারা মসিহ ইসাকে গ্রহণ করেছে, তাদের ওপর আর কোনো শাস্তি নেই। (২)কারণ হযরত ইসা মসিহের জীবন দায়ী রুহানি শরিয়ত তোমাদেরকে মৃত্যু ও গুনাহের শরিয়ত থেকে মুক্ত করেছে।
(৩)শরীরের দুর্বলতার কারণে শরিয়তের আইন-কানুন যা করতে পারেনি, আল্লাহ নিজে তা করেছেন: তিনি তাঁর একান্ত প্রিয় মনোনীতজনকে গুনাহময় শরীরের সাদৃশ্যে এবং গুনাহের মোকাবেলা করার জন্যে পাঠিয়ে দিয়ে শরীরের মাঝেই গুনাহকে ধ্বংস করেছেন, (৪)যেনো আমরা যারা দেহের অধীনে নই বরং রুহের অধীনে চলি, সেই আমাদের মাঝে শরিয়তের আইন-কানুনের ন্যায্য দাবিগুলো পূর্ণতা লাভ করে।
(৫)কারণ যারা শারীরিক কামনা-বাসনা অনুসারে জীবন-যাপন করে, তারা শারীরিক বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ দেয়, কিন্তু যারা রুহের আকাক্সক্ষা অনুসারে জীবন-যাপন করে, তারা রুহানি বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ দেয়। (৬)শারীরিক আকাঙ্ক্ষা প্রতি মনোযোগী হওয়ার মানে মৃত্যু, কিন্তু রুহানি আকাঙ্ক্ষার প্রতি মনোযোগী হওয়ার মানে জীবন ও শান্তি।
(৭)এজন্য, যে মন শারীরিক কামনা-বাসনার উপর স্থির থাকে, সেটি আল্লাহর প্রতি শত্রুভাবাপন্ন; এটি আল্লাহর শরিয়তের আইন-কানুনের অধীনতা স্বীকার করে না- আসলে এটি তা করতে পারে না। (৮)এবং যারা শারীরি বা মাংসে আছে, তারা আল্লাহকে খুশী করতে পারে না।
(৯)কিন্তু তোমরা শারীরি বা মাংসে নও; তোমরা রুহে আছো; কেননা আল্লাহর রুহ তোমাদের মধ্যে বাস করেন। মসিহের রুহ যার মধ্যে নেই, সে তাঁর নয়।
(১০)কিন্তু যদি মসিহ তোমাদের অন্তরে থাকেন, তাহলে গুনাহের জন্য শরীর মৃত হলেও, ধার্মিকতার জন্য রুহ জীবিত। (১১)হযরত ইসা আ.-কে যিনি মৃত থেকে জীবিত করে তুলেছেন, তাঁর রুহ যদি তোমাদের অন্তরে বাস করেন, তাহলে মসিহকে যিনি মৃতদের থেকে জীবিত করে তুলেছেন, তিনিই তোমাদের মধ্যে বাসকারী তাঁর রুহের দ্বারা তোমাদের এই মরণশীল দেহকেও জীবিত করবেন।
(১২)সুতরাং, প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমরা ঋণী; তবে আমাদের সেই ঋণ শারীরিক কামনা-বাসনা অনুসারে জীবন-যাপন করার জন্য শারীরি বা মাংসের কাছে নয়- (১৩)কারণ যদি শারীরিক চাহিদার বশে জীবন-যাপন করো, তাহলে তোমাদের মৃত্যু হবে; কিন্তু যদি রুহের দ্বারা শারীরিক কামনা-বাসনার মৃত্যু ঘটাও, তাহলে তোমরা জীবিত থাকবে। (১৪)কারণ, যারা আল্লাহর রুহের দ্বারা পরিচালিত হয়, তারা সবাই আল্লাহর সন্তান।
(১৫)কারণ তোমরা তো গোলামির রুহকে পাওনি যে তোমরা ভয় পাবে, কিন্তু তোমরা দত্তক সন্তানের রুহকে পেয়েছো। যখন আমরা “আব্বা! পিতা!” বলে সজোরে ডাক দেই, (১৬)তখন এই রুহ-ই আমাদের রুহের সাথে মিলে এই সাক্ষ্য দেয় যে, আমরা আল্লাহর সন্তান।
(১৭)আর আমরা যদি সন্তান হই, তাহলে আমরা উত্তরাধিকারী, আল্লাহর উত্তরাধিকারী এবং মসিহের সাথে সহঅধিকারী- যদি বাস্তবিকপক্ষে আমরা তাঁর সাথে দুঃখভোগ করে থাকি, যেনো তাঁর সাথে মহিমান্বিতও হই।
(১৮)আমি মনে করি, যে-মহিমা আমাদের কাছে প্রকাশ করা হবে, তার সাথে বর্তমান সময়ের দুঃখ-কষ্ট তুলনার যোগ্যই নয়। (১৯)কারণ সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহর সন্তানদের প্রকাশিত হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে; (২০)কারণ সৃষ্টিকে নিষ্ফলতার অধীন করা হয়েছে-তবে তার নিজের ইচ্ছায় নয় বরং যিনি এটিকে অধীন করেছেন, তাঁরই ইচ্ছায়; এই আশায় যে, (২১)সৃষ্টি নিজেই তার ধ্বংসের গোলামি থেকে মুক্ত হবে এবং আল্লাহর সন্তানেরা মহিমাময় স্বাধীনতা লাভ করবে।
(২২)আমরা জানি যে, সমস্ত সৃষ্টি এখনো পর্যন্ত প্রসব-বেদনায় আর্তনাদ করছে; (২৩)শুধু সৃষ্টি নয় কিন্তু আমরা নিজেরাও, যাদের রয়েছে রুহের প্রথম ফল, আমরাও অন্তরে আর্তনাদ করছি, দত্তক হিসাবে গৃহীত হবার জন্য, অর্থাৎ আমাদের দেহের মুক্তির জন্য অপেক্ষা করছি।
(২৪)কারণ আশায় আমরা নাজাত পেয়েছি। যা দেখা যায় তা তো আশা নয়। কেননা যা দেখা যায় তার জন্য কে আশা করে? (২৫)কিন্তু যদি আমরা এমন কিছুর আশা করি যা আমরা দেখতে পাই না, তাহলে ধৈর্যের সাথে আমরা তার জন্য অপেক্ষা করি ।
(২৬)সেভাবে আমাদের দুর্বলতার মাঝে রুহ আমাদেরকে সাহায্য করেন; কারণ কীভাবে মোনাজাত করা উচিত তা আমরা জানি না, কিন্তু ঐ একই রুহ ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব এমন গভীর আকুলতার সাথে মিনতি করেন। (২৭)এবং আল্লাহ, যিনি অন্তর অনুসন্ধান করেন, তিনি জানেন রুহের ইচ্ছা কী, কারণ রুহ আল্লাহর ইচ্ছা অনুসারে মুমিনদের পক্ষে মিনতি করেন।
(২৮)আমরা জানি যে, আল্লাহ তাঁর পরিকল্পনা অনুসারে যাদেরকে ডেকেছেন, এবং যারা আল্লাহকে মহব্বত করে, তাদের কল্যাণের জন্য সবকিছু একসাথে কাজ করে।
(২৯)কারণ তিনি যাদের আগে থেকেই জানতেন, তাদেরকে তাঁর একান্ত প্রিয় মনোনীতজনের সাদৃশ্য হওয়ার জন্য আগেই মনোনীত করেছিলেন, যেনো এক বিরাট পরিবারের মধ্যে তিনিই জ্যেষ্ঠ হতে পারেন।
(৩০)তিনি যাদের আগেই মনোনীত করেছিলেন, তাদেরকেও তিনি আহ্বান করলেন; আর যাদের আহ্বান করলেন, তাদের তিনি ধার্মিকও করলেন; এবং যাদের তিনি ধার্মিকতাপূর্ণ করলেন, তিনি তাদের মহিমান্বিতও করলেন।
(৩১)তাহলে এসব বিষয়ে আমরা কী বলবো? যদি আল্লাহ আমাদের পক্ষে থাকেন, তাহলে আমাদের বিপক্ষে কে?
(৩২)যিনি তাঁর একান্ত প্রিয় মনোনীতজনকে পর্যন্ত রেহাই দিলেন না, বরং আমাদের সবার জন্য তাঁকে দান করে দিলেন, তিনি কি তাঁর সাথে সাথে অন্যান্য সবকিছু আমাদেরকে দেবেন না?
(৩৩)আল্লাহ যাদের বেছে নিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কে অভিযোগ আনবে? আল্লাহ নিজেই তাদের ধার্মিক বলে গ্রহণ করেছেন। (৩৪)কে দোষী সাব্যস্ত করবে? মসিহ হযরত ইসা আ., যিনি জীবন দিয়েছিলেন; হ্যাঁ, যাকে মৃত্যু থেকে জীবিত করে তুলা হয়েছে; তিনিই আল্লাহর ডানপাশে আছেন, যিনি আমাদের জন্য অনুরোধ করেন।
(৩৫)মসিহের মহব্বত থেকে কে আমাদেরকে আলাদা করবে? কি কষ্টকর পরিস্থিতি, কি নিদারুণ যন্ত্রণা, কি নির্যাতন, কি দুর্ভিক্ষ, কি কাপড়-চোপড়ের অভাব, কি ভয়ানক বিপদ কিংবা কি তরবারি? (৩৬)যেমন একথা লেখা আছে, “তোমার জন্য প্রতিদিন আমরা নিহত হচ্ছি; জবাই করার ভেড়ার মতোই আমাদের মনে করা হচ্ছে।” (৩৭)যিনি আমাদের মহব্বত করেন, তাঁরই মাধ্যমে আমরা সমস্ত বিষয়ে বিজয়ী থেকেও বেশি বিজয়ী।
(৩৮)আমি একথা নিশ্চিতভাবে জানি যে, মৃত্যু কিংবা জীবন, কিংবা ফেরেস্তা, কিংবা শাসনকর্তা কিংবা বর্তমানের কোনো কিছু কিংবা ভবিষ্যতের কোনো কিছু, কিংবা ক্ষমতা,
(৩৯)কিংবা উচ্চতা কিংবা গভীরতা কিংবা সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে অন্য কোনো কিছুই হযরত ইসা মসিহের মাঝে বিদ্যমান আল্লাহর যে-মহব্বত, তা থেকে আমাদেরকে আলাদা করতে পারবে না।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১) মসিহের সাথে যুক্ত থেকে আমি সত্য বলছি- আমি মিথ্যা বলছি না; আল্লাহর রুহের দ্বারা আমার বিবেক নিশ্চিত করছে যে- (২)আমার অন্তরে গভীর দুঃখ ও সীমাহীন যন্ত্রণা রয়েছে।
(৩)কারণ আমি এই কামনা করতে পারতাম যে আমার নিজের লোকদের অর্থাৎ মাংসিক ভাবে আমার স্বজাতিদের খাতিরে নিজে অভিশপ্ত ও মসিহের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হই। (৪,৫)তারা হলো বনি-ইস্রাইল এবং তাদেরকে দত্তক হিসাবে গৃহীত হওয়া, গৌরব, ওয়াদা-চুক্তি, শরিয়ত প্রদান, এবাদত ও প্রতিশ্রুতি; মহান ব্যক্তিরা ছিলেন তাদেরই পূর্বপুরুষ, শারীরিক দিক থেকে তাদের মধ্য থেকে এসেছেন সেই মসিহ, যিনি সবার ওপরে; যিনি চিরকাল সমস্ত প্রশংসা-ধন্য আল্লাহ। আমিন।
(৬)আল্লাহর কালাম যে ব্যর্থ হয়েছে এমন নয়; কেননা বনি-ইস্রাইলের সবাই প্রকৃত ইস্রাইলের মধ্যে পড়ে না,
(৭)আর হযরত ইব্রাহিম আ. এর সন্তানেরা সবাই তাঁর সত্যিকারের বংশধর নয়; কিন্তু “হযরত ইসহাক আ.-এর বংশধরদেরকে তোমার বংশধর বলা হবে।”
(৮)একথার অর্থ এই, রক্তমাংসে কামনা-বাসনার যাদের জন্ম হয়েছে, তারা আল্লাহর মনোনীত বংশধর, বরং ওয়াদা অনুসারে যাদের জন্ম হয়েছে, তারাই বংশধর হিসেবে গণ্য।
(৯)কারণ প্রতিশ্রুতি তো একথা বলে- “ঠিক এই সময়ে আমি ফিরে আসবো এবং হযরত সায়েরা রা.র একটি ছেলে হবে।” (১০)শুধু তা-ই নয়, হযরত রেবেকা রা. বেলায়ও একই ঘটনা ঘটেছিলো, যখন তিনি আমাদের পূর্বপুরুষ হযরত ইসহাক আ. এর সন্তান গর্ভে ধারণ করেছিলেন। (১১)এমনকি তাদের জন্মের আগে অথবা ভালো-মন্দ কোনোকিছু করার আগেই (যাতে আল্লাহর নির্বাচনের উদ্দেশ্য বহাল থাকে- (১২)কাজের দ্বারা নয় কিন্তু তাঁর আহ্বানের দ্বারা) হযরত রিবিকা রা. কে বলা হয়েছিলো, “বড়োটি ছোটোটির গোলাম হবে।” (১৩)যেমনটি লেখা আছে, “আমি ইয়াকুবকে মহব্বত করেছি, কিন্তু ইশোকে করেছি ঘৃণা।”
(১৪) তাহলে আমরা কী বলবো? আল্লাহ কি অবিচার করেন? কখনোই না! (১৫)তিনি হযরত মুসা আ.কে বলেছিলেন, “যার প্রতি আমার দয়া আছে তাকেই আমি দয়া করবো, এবং যার প্রতি আমার মমতা আছে তাকেই মমতা দেখাবো।” (১৬)সুতরাং এটা কোনো মানুষের ইচ্ছা বা পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে না, কিন্তু যিনি অনুগ্রহ দেখান, সেই আল্লাহর ওপর নির্ভর করে।
(১৭)তাওরাত শরিফে আল্লাহ ফেরাউনকে একথা বলেছিলেন, “আমি তোমাকে এই উদ্দেশ্যে বাদশা বানিয়েছি যেনো তোমার মাধ্যমে আমার ক্ষমতা দেখাই, যেনো সারা দুনিয়ায় আমার নাম প্রচারিত হয়।”
(১৮)সুতরাং তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে করুনা করেন, এবং যাকে ইচ্ছা তার মন কঠিন করেন। (১৯)তাহলে তুমি হয়তো আমাকে বলবে, “তাহলে তিনি আবার দোষ ধরেন কেনো? কে তাঁর ইচ্ছায় বাধা দিতে পারে?”
(২০)কিন্তু তুমি আসলে কে- একজন মানুষমাত্র- যে আল্লাহর বিপক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছো? কোনো মানুষ যদি কিছু তৈরি করে, তাহলে সেই জিনিস কি তাকে বলতে পারে, “কেনো তুমি আমাকে এরকম তৈরি করেছো?” (২১)কুমারের কি মাটির উপর কোনো অধিকার নেই যে, সে একই মাটির দলা দিয়ে বিশেষ ব্যবহারের জন্য একটি পাত্র এবং সাধারণ ব্যবহারের জন্য আরেকটি পাত্র তৈরি করবে?
(২২)আল্লাহ যদি তাঁর রাগ ও ক্ষমতা দেখাবার ইচ্ছায়, যারা তাঁর রাগের ও শাস্তির অধীন, তাদেরকে অসিম ধৈর্যের সাথে সহ্য করেন, তাহলে তাতে সমস্যা কোথায়; (২৩,২৪)এবং শুধু ইহুদিদের মধ্য থেকে নয়, বরং অ-ইহুদিদের মধ্য থেকেও, আমাদেরকেসহ তিনি যাদেরকে আহ্বান করেছেন, যাদেরকে তিনি তাঁর মহিমার জন্য অনেক অগেই প্রস্তুত করেছেন, সেই সব রহমতের পাত্রদেরকে তাঁর মহিমার প্রাচুর্য দেখাবার জন্য তিনি যদি তা করেন, তাতেইবা সমস্যা কোথায়?
(২৫)নবি হযরত হোশেয়া আ. এর কিতাবে আল্লাহ যেমন বলেছেন, “যারা আমার লোক ছিলো না, আমি তাদেরকে ‘আমার লোক’ বলে ডাকবো, এবং যে আমার প্রিয়তমা ছিলো না, তাকে আমি ‘প্রিয়তমা’ বলে ডাকবো।” (২৬)“এবং যে-জায়গায় তাদেরকে বলা হয়েছিলো, ‘তোমরা আমার লোক নও,’ সেখানেই তাদেরকে চিরন্তন আল্লাহর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত বা সন্তান বলে ডাকা হবে।”
(২৭)এবং হযরত ইসাইয়া আ. ইস্রায়েলের বিষয়ে চিৎকার করে বলেছিলেন, “বনি-ইস্রায়েলের সংখ্যা সাগরের বালুকণার মতো হওয়ার পরেও তাদের অল্পই নাজাত পাবে; (২৮)কারণ আল্লাহ দুনিয়াতে শীঘ্রই তাঁর বিচার এবং চূড়ান্তভাবে তাঁর দণ্ডাদেশ কার্যকর করবেন।”
(২৯)হযরত ইসাইয়া আ. যেমন আগেই বলেছিলেন, “সর্বশক্তিমান আল্লাহ যদি আমাদের জন্য কিছু লোককে অবশিষ্ট না রাখতেন, তাহলে আমাদের অবস্থা সদোম ও গমোরার মতো হতো।” (৩০)তাহলে আমরা কী বলবো? অইহুদিরা, যারা ধার্মিকতার জন্য চেষ্টাও করেনি, তারা তা পেয়েছে; অর্থাৎ ইমানের মধ্য দিয়ে ধার্মিকতা লাভ করেছে; (৩১)কিন্তু বনি-ইস্রায়েল, যারা সেই ধার্মিকতার জন্য চেষ্টা করেছে, যার ভিত্তি হলো শরিয়ত, কিন্তু সেই শরিয়তও তারা পূর্ণরূপে পালন করতে সক্ষম হয়নি।
(৩২)কেনো সক্ষম হয়নি? কারণ তারা ইমানের ওপর ভিত্তি করেনি বরং এমনভাবে চেষ্টা করেছে যেনো তা কাজের মাধ্যমে অর্জন করা যায়। তারা হোঁচট খাবার পাথরে হোঁচট খেয়েছে, (৩৩)যেমন লেখা আছে, “দেখো, আমি সিয়োনে এমন একটি পাথর স্থাপন করছি, যাতে মানুষ হোঁচট খাবে; এমন একটি পাথর যা তাদের হোঁচট খাওয়াবে, এবং যে কেউ তাঁর ওপর ইমান আনবে, সে লজ্জিত হবে না।”
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১) ভাই ও বোনেরা, তাদের জন্য আমার অন্তরের আকাঙ্ক্ষা ও আল্লাহর কাছে মোনাজাত এই যে, তারা যেনো নাজাত পায়।
(২)তাদের পক্ষে আমি এই সাক্ষ্য দিতে পারি যে, আল্লাহর প্রতি তাদের গভীর উৎসাহ আছে, কিন্তু তা আলোকিত নয়।
(৩)কারণ যে-ধার্মিকতা আল্লাহর কাছ থেকে আসে, সে-সম্বন্ধে তারা অজ্ঞ ছিলো, এবং তারা তাদের নিজস্ব ধার্মিকতা প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করছিলো; তাই তারা আল্লাহর ধার্মিকতার কাছে নিজেদেরকে সম্পর্পণ করেনি।
(৪)কারণ মসিহ হলেন শরিয়তের শেষ, যাতে যারা ইমান আনে তারা প্রত্যেক ধার্মিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
(৫)শরিয়তের ভেতর দিয়ে যে ধার্মিকতা আসে, সে-সম্বন্ধে হযরত মুসা আ. লিখেছেন, “যে-লোক এসব বিষয় পালন করে, সে এগুলোর মাধ্যমেই জীবন পাবে।”
(৬)কিন্তু ইমান আনার মাধ্যমে যে-ধার্মিকতা লাভ করা যায়, তা একথা বলে- “তোমরা মনে মনে বলো না যে, ‘কে বেহেস্তে উঠবে?’” অর্থাৎ মসিহকে আনার জন্য কে বেহেস্তে উঠবে? (৭)“অথবা ‘কে পাতালে নামবে’”? অর্থাৎ মৃতদের মধ্য থেকে মসিহকে উঠিয়ে আনার জন্য কে পাতালে নামবে?
(৮)তাহলে একথার অর্থ কী? “কালাম তোমার কাছে, তোমার মুখে ও তোমার অন্তরে আছে” (অর্থাৎ ইমানের কালাম যা আমরা ঘোষনা করি);
(৯)কারণ, তুমি যদি মুখে হযরত ইসা আ. কে মুনিব বলে স্বীকার করো এবং অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করো যে, আল্লাহ তাঁকে মৃত থেকে জীবিত করে তুলেছেন, তাহলে তুমি নাজাত পাবে।
(১০)কেননা, কেউ অন্তরে ইমান আনলে ধার্মিক বলে গণ্য হয়, এবং যে কেউ মুখে স্বীকার করে সে নাজাত পায়। (১১)হযরত ইসাইয়া আ. এর কিতাবে লেখা আছে, “যে কেউ বিশ্বাস করে, সে লজ্জিত হবে না।” (১২)কারণ, ইহুদি ও অ-ইহুদির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; সকলের আল্লাহ সেই একই আল্লাহ, এবং যারা তাঁকে ডাকে, তাদের সবার প্রতি তিনি দয়ালু।
(১৩)কারণ, “যে কেউ রাব্বুল আলামিনের নামে ডাকে, সে নাজাত পাবে।” (১৪)কিন্তু যাঁর ওপরে তারা ইমান আনেনি, তাঁকে তারা ডাকবে কীভাবে? এবং যাঁর বিষয়ে তারা কখনো শোনেনি, তাঁর ওপরে তারা কীভাবে ইমান আনবে? এবং কেউ যদি তাঁর কথা তাদের না বলে তাহলে তারা কীভাবে শুনবে?
(১৫)আর তাদেরকে পাঠানো না হলে তারা কীভাবে তাঁর কথা প্রচার করবে? যেমন হযরত ইসাইয়া আ. ও হযরত নহিমিয়া আ. এর কিতাবে লেখা আছে, “যারা সুখবর প্রচার করে তাদের পা কতোই না সুন্দর!” (১৬)কিন্তু সবাই সুখবরের বাধ্য হয়নি; একারণে হযরত ইসাইয়া আ. বলেন, “ইয়া রাব্বুল আ’লামিন, আমাদের কথায় কে ইমান এনেছে?”
(১৭)সুতরাং ইমান আসে শোনার মধ্য দিয়ে, আর যা শোনা যায় তা আসে মসিহের প্রচারিত বাণীর মধ্য দিয়ে।
(১৮)কিন্তু আমি জিজ্ঞেস করি, তারা কি শুনতে পায়নি? নিশ্চয়ই তারা শুনতে পেয়েছে; কারণ “তাদের আওয়াজ সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, এবং তাদের বাণী দুনিয়ার শেষ সীমা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।”
(১৯)আমি আবার জিজ্ঞেস করি, বনি-ইস্রায়েল কি বুঝতে পারেনি? প্রথমে হযরত মুসা আ. বলেন, “যারা কোনো জাতিই নয়, তাদের মাধ্যমে আমি তোমাদের হিংসা জাগিয়ে তুলবো; একটি বোকা জাতিকে দিয়ে আমি তোমাদেরকে রাগিয়ে তুলবো।”
(২০)পরে হযরত ইসাইয়া আ. আরো সাহসের সাথে বলেছেন, “যারা আমার খোঁজ করেনি, তারা আমাকে পেয়েছে; যারা আমাকে ডাকেনি, তাদের কাছে আমি নিজেকে প্রকাশ করেছি।”
(২১)কিন্তু বনি-ইস্রাইলের বিষয়ে তিনি বলেছেন, “আমি সারাদিন ধরে এক অবাধ্য ও একগুঁয়ে জাতির দিকে আমার হাত বাড়িয়ে রয়েছি।”
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১) তাহলে আমার প্রশ্ন, আল্লাহ কি তাঁর লোকদেরকে পরিত্যাগ করেছেন? কখনোই না! আমি নিজে একজন ইস্রায়েলীয়, হযরত ইব্রাহিম আ. এর বংশধর, এবং হযরত বিন্ইয়ামিন আ. এর-গোত্রের লোক।
(২)আল্লাহ তাঁর সেই লোকদেরকে, যাদের তিনি আগে থেকেই জানতেন, তাদেরকে পরিত্যাগ করেননি। তোমরা কি জানো না? হযরত ইলিয়াস আ. এর বিষয়ে পাক-কিতাব কি বলে, তিনি বনি-ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে কীভাবে অনুরোধ জানিয়েছিলেন: (৩)“হে আল্লাহ, এরা তোমার নবিদেরকে খুন করেছে, এরা তোমার কোরবানি দেবার স্থানগুলো ভেঙে ফেলেছে; কেবল আমি একাই বেঁচে আছি, আর খুন করার জন্য এরা আমাকেও খুঁজছে।”
(৪)কিন্তু আল্লাহ তাঁকে কী জবাব দিয়েছিলেন? “যারা লাব্বাল দেবতার কাছে হাঁটু পাতেনি, এমন সাত হাজার লোককে আমি আমার নিজের জন্য রেখে দিয়েছি।” (৫)ঠিক সেই ভাবে আজও তাঁর অনুগ্রহে মনোনীত কিছু লোক অবশিষ্ট রয়েছে।
(৬)কিন্তু যদি তা অনুগ্রহেই হয়, তাহলে তা আর কাজের ওপর নির্ভর করে না, তা না হলে অনুগ্রহ তো আর অনুগ্রহ থাকে না, (৭)তাহলে কী হবে? বনি-ইস্রায়েল যা খুঁজছিলো, তা পেতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। মনোনীতরা তা পেয়েছে কিন্তু বাকিদের মন কঠিন হয়ে গেছে;
(৮)যেমন কিতাবে লেখা আছে, “আল্লাহ তাদেরকে অসাড়তার রুহ দিয়েছেন, এমন চোখ দিয়েছেন যা দেখতে পায় না, এমন কান দিয়েছেন যা শুনতে পায় না- অতীত থেকে আজ পর্যন্ত।”
(৯)এবং হযরত দাউদ আ. বলেছেন, “তাদের খানাপিনা হয়ে উঠুক তাদের জন্য ফাঁদ ও জাল, প্রতিবন্ধক-হোঁচট ও প্রতিশোধের কারণ হোক; (১০)তাদের চোখ অন্ধকার হোক, যেনো তারা দেখতে না পায়, এবং তারা চিরদিনের জন্য কুঁজো হয়ে থাকুক।”
(১১)কাজেই আমি জিজ্ঞেস করি, যাতে তাদের পতন ঘটে সেজন্য কি তারা হোঁচট খেয়েছে? না! কিন্তু তাদের হোঁচট খাওয়ার কারণে অ-ইহুদিদের কাছে নাজাত এসেছে, যেনো বনি-ইস্রায়েল ঈর্ষাকাতর হয়ে ওঠে। (১২)তাদের হোঁচট খাওয়ার অর্থ যদি হয় দুনিয়ার জন্য সমৃদ্ধি এবং তাদের ব্যর্থতার অর্থ যদি হয় অ-ইহুদিদের জন্য সমৃদ্ধি, তাহলে তাদের পূর্ণ মাত্রায় অন্তর্ভুক্তির অর্থ হবে আরো কতোই না প্রাচুর্যপূর্ণ!
(১৩)তোমরা যারা অ-ইহুদি, এখন আমি তোমাদের সাথে কথা বলছি। যেহেতু আমাকে অ-ইহুদিদের কাছে পাঠানো হয়েছে, (১৪)যেনো আমার নিজের লোকদেরকে ঈর্ষাকাতর করে তুলতে পারি, আর এজন্য আমি আমার খেদমত কাজের গৌরব করি, যাতে তাদের কিছুলোককে নাজাতের পথ দেখাতে পারি।
(১৫)কারণ যদি তাদের প্রত্যাখ্যান করায় দুনিয়ার পুনর্মিলন হয়, তাহলে তাদের গ্রহণ করা মৃতদের মধ্য থেকে জীবন লাভ ছাড়া আর কী হবে!
(১৬)যদি প্রথম ফলের মতো আল্লাহর নামে দান করা খামির প্রথম অংশটা যদি পবিত্র হয়, তাহলে তো গোটা খামিই পবিত্র এবং মূল যদি পবিত্র হয়, তাহলে তো ডালপালাগুলোও পবিত্র।
(১৭)কিন্তু যদি কিছু ডাল ভেঙে ফেলা হয়, আর যে তুমি জংলী জলপাই গাছের ডাল, তোমাকে যদি সেই ভালো জলপাই গাছের শেকড়ের অংশীদার হওয়ার জন্য তাদের জায়গায় কলম করে লাগানো হয়, (১৮)তাহলে শাখা-প্রশাখার জন্য গর্ব করো না। যদি তুমি অহঙ্কার করো, তাহলে মনে রেখো যে, তুমি মূলকে বাঁচিয়ে রাখছো না কিন্তু মূলই তোমাকে বাঁচিয়ে রাখছে।
(১৯)তুমি হয়তো বলবে, “আমাকে কলম করে জুড়ে দেবার জন্যই ডালগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে।” (২০)একথা সত্য। তাদের অবিশ্বাসের কারণে তাদের ভেঙে ফেলা হয়েছে, কিন্তু তুমি দাঁড়িয়ে আছো কেবলমাত্র ইমানের কারণে। সুতরাং অহঙ্কার করো না, কিন্তু ভয় ও শ্রদ্ধামাখা সম্মানবোধ নিয়ে স্থির থাকো। (২১)কারণ আল্লাহ যখন আসল ডালগুলোকেই রেহাই দেননি, তখন হয়তো তিনি তোমাকেও রেহাই দেবেন না।
(২২)কাজেই আল্লাহর দয়াশীলতা ও কঠোরতার প্রতি দৃষ্টি দাও: যারা পতিত হয়েছে, তাদের প্রতি কঠোরতা কিন্তু তোমার প্রতি আল্লাহর দয়াশীলতা- অবশ্য যতোদিন তুমি তাঁর দয়াশীলতায় থাকো, তা না হলে তোমাকেও কেটে ফেলা হবে।
(২৩)এবং ঐ সব বনি-ইস্রাইল যদি তাদের অবিশ্বাসে অনড় না থাকে, তাহলে তাদেরকেও কলম করে জুড়ে দেওয়া হবে, কেননা আবারো তাদেরকে কলম করে জুড়ে দেবার ক্ষমতা আল্লাহর আছে।
(২৪)কারণ প্রকৃতিগতভাবে যে জংলী জলপাইগাছ, সেই গাছ থেকে কেটে নিয়ে তোমাদেরকে যদি প্রকৃতির বিপরীতে গিয়ে, চাষ করা জলপাই গাছে কলম করে জুড়ে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এটি কতো না নিশ্চিত যে, এই স্বাভাবিক ডালগুলোকে কলম করে তাদের নিজ নিজ জলপাই গাছের সাথে আবারো জুড়ে দেওয়া হবে।
(২৫)ভাই ও বোনেরা, তোমরা যতোটুকু জ্ঞানী তার চেয়ে যাতে নিজেদেরকে অধিক জ্ঞানী বলে মনে না-করো, সে-জন্য আমি চাই তোমরা যেনো এই গোপন তত্ত্বটি বা রহস্যটি বুঝতে পারো: অ-ইহুদিদের পূর্ণসংখ্যা যতোদিন না ভেতরে আসছে, ততোদিন পর্যন্ত বনি-ইস্রাইলের একটি অংশের ওপরে কঠিনতা নেমে এসেছে।
(২৬)আর এভাবেই বনি-ইস্রাইলের সবাই রক্ষা পাবে; যেমন কিতাবে লেখা আছে, “সিয়োন থেকে নাজাতদাতা আসবেন; তিনি ইয়াকুব সন্তানদের থেকে অধার্মিকতা দূর করবেন।” (২৭)“এবং আমি যখন তাদের গুনাহ দূর করবো, তখন তাদের কাছে এটাই হবে আমার ওয়াদা।”
(২৮)সুখবরের দিক থেকে, তোমাদের খাতিরে তারা শত্রু; কিন্তু মনোনয়নের দিক থেকে, পিতৃ-পুরুষদের খাতিরে তারা প্রিয়পাত্র; (২৯)কারণ আল্লাহর দান ও আহ্বান অপরিবর্তনীয়।
(৩০)যেভাবে তোমরা একসময় আল্লাহর অবাধ্য ছিলে কিন্তু এখন তাদের অবাধ্যতার কারণে তোমরা অনুগ্রহ লাভ করেছো, (৩১)ঠিক সেভাবে তারাও এখন অবাধ্য হয়েছে, যেনো যে-অনুগ্রহ তোমাদের প্রতি দেখানো হয়েছে, তার দ্বারা তারাও অনুগ্রহ লাভ করতে পারে।
(৩২)বস্তুত আল্লাহ যাতে সকলের প্রতি অনুগ্রহ দেখাতে পারেন, সেজন্য তিনি সকলকেই অবাধ্যতার বন্দি করে রেখেছেন।
(৩৩)আল্লাহর প্রাচুর্য, বা ধন-সম্পদ, বিজ্ঞতা ও জ্ঞান কতোই না গভীর! তাঁর বিচার মানুষের বুঝার বাইরে এবং তাঁর পথ কতোই না রহস্যময় খোঁজে পাওয়া অসাধ্য!
(৩৪)“কারণ, কে রাব্বুল আ’লামিনের মন জেনেছে? অথবা কে তাঁর পরামর্শদাতা হয়েছে?” (৩৫)“অথবা বিনিময় পাবার জন্য কে তাঁকে কিছু উপহার দিয়েছে?”
(৩৬)কারণ সবকিছুই তাঁর কাছ থেকে, তাঁর মাধ্যমে এবং তাঁরই জন্য। চিরকাল ধরে সমস্ত প্রশংসা তাঁরই হোক, আমিন।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)সুতরাং, ভাই ও বোনেরা, আল্লাহর অপার অনুগ্রহের জন্য, আমি তোমাদেরকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, তোমরা তোমাদের শরীরকে আল্লাহর কাছে কবুল যোগ্য, পবিত্র ও জীবিত কোরবানি হিসাবে উপস্থাপন করো, এটাই তোমাদের রুহানি ইবাদত।
(২)এই দুনিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে চলো না, বরং তোমাদের মনের পুনরায় নবীনীকরণের মাধ্যমে রূপান্তরিত হও, যেনো তোমরা বুঝতে পারো আল্লাহর ইচ্ছা কী – কোনটা ভালো, গ্রহনযোগ্য এবং নিখুঁত।
(৩)আমাকে যে অনুগ্রহ দেওয়া হয়েছে সেই অনুসারে আমি তোমাদের সবাইকে বলছি- তোমরা নিজেদেরকে যতোটা মনে করা উচিৎ তার থেকে উচ্চতর বা বড়ো কিছু মনে করো না, বরং আল্লাহ তোমাদের প্রত্যেককে যে পরিমাণ ইমান দিয়েছেন, সেই পরিমান অনুসারে আত্ম-সংযত ভাবে চিন্তা করো।
(৪)কারণ আমাদের যেমন একটি শরীরে অনেক অঙ্গ আছে এবং সব অঙ্গের কাজ একই রকম নয়, (৫)তেমনিভাবে আমরা যদিও অনেক কিন্তু মসিহের মধ্যে এক দেহ, এবং আমরা একে অন্যের অঙ্গ।
(৬)আমাদেরকে দেওয়া রহমত অনুসারে আমরা ভিন্ন ভিন্ন দান পেয়েছি: তা যদি হয় নবির মতো কথা বলা, তাহলে এসো, ইমান অনুসারে আমরা কথা বলি; (৭)ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের বিষয় হলে, এসো ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করি; শিক্ষা দেবার দান হলে, এসো শিক্ষা দেই;
(৮)উপদেশদাতা হলে, এসো উপদেশ দেই, দান করার হলে, এসো খোলা হাতে দান করি; নেতৃত্ব দেবার হলে, এসো অধ্যবসায়ের সাথে নেতৃত্ব দেই; দয়া করার হলে, এসো আনন্দ মনে দয়া করি।
(৯)তোমাদের মহব্বত হোক নির্ভেজাল; যা মন্দ তা ঘৃণা করো, যা ভালো তা আকড়ে ধরে রাখো; (১০)একে অন্যকে ভাই-বোনের মতো মহব্বত করো; নিজের থেকে অন্যকে বেশি সম্মান করো।
(১১)যেখানে উদ্দীপনা প্রয়োজন, সেখানে শিথিল হয়ো না বা সেখানে পিছিয়ে পড়ো না, রুহে অত্যন্ত উৎসাহী হও, আল্লাহর খেদমত করো।
(১২)আশা নিয়ে আনন্দ করো, কষ্টের সময় ধৈর্য ধরো, একাগ্রচিত্তে মোনাজাত করো।
(১৩)আল্লাহর ওলিদের অভাবে সাহায্য করো; অপরিচিতদের মেহমানদারিতে ব্যস্ত থাকো।
(১৪)যারা তোমাদের ওপর অত্যাচার করে, তাদের জন্য দোয়া করো; অভিশাপ দিয়ো না বরং দোয়া করো।
(১৫)যারা আনন্দ করে, তাদের সাথে আনন্দ করো; যারা কাঁদে, তাদের সাথে কাঁদো।
(১৬)একে অন্যের সাথে মিলেমিশে থাকো; অহঙ্কারী হয়ো না বরং নম্রদের সাথে সংযুক্ত থাকো; তোমরা যতটুকু জ্ঞানী তার চেয়ে নিজেদেরকে অধিক জ্ঞানী বলে মনে করো না।
(১৭)অন্যায়ের বদলে কারো প্রতি অন্যায় করো না বরং সব মানুষের চোখে যা ভালো তা-ই করো।
(১৮)যদি সম্ভব হয়, তোমাদের পক্ষে যতো দূর সম্ভব, সবার সাথে শান্তিতে বাস করো।
(১৯)প্রিয়জনেরা, তোমরা নিজেরা প্রতিশোধ নিয়ো না, কিন্তু আল্লাহর গজবের জন্য জায়গা ছেড়ে দাও; কারণ একথা লেখা আছে, “প্রতিশোধ নেওয়া আমার কাজ, আমিই প্রতিফল দেবো-একথা আল্লাহ বলেন।”
(২০)না, “তোমার শত্রুর যদি ক্ষুধা পায়, তাহলে তাকে খেতে দাও, তার যদি পিপাসা পায়, তাহলে তাকে কিছু পান করতে দাও; কেননা এটা করার মাধ্যমে তুমি তার মাথায় জ্বলন্ত কয়লার স্তূপ বানাবে।”
(২১)মন্দের দ্বারা পরাজিত হয়ো না, বরং ভালো দিয়ে মন্দকে পরাজিত করো।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)প্রত্যেক ব্যাক্তি শাসনকর্তাদের অধীনতা মেনে চলুক; কারণ এমন কোনো কর্তৃত্ব নেই, যা আল্লাহর কাছ থেকে আসে না, এবং প্রচলিত সকল কর্তৃত্ব আল্লাহর দ্বারা স্থাপিত।
(২)সুতরাং যারা কর্তৃত্বের বিরোধিতা করে, তারা মূলত আল্লাহর নিয়োগের বিরোধিতা করে, এবং যারা বিরোধিতা করে তারা নিজেদের ওপর বিচার ডেকে আনবে।
(৩)কারণ যারা ভালো কাজ করে তাদের জন্যে নয় বরং যারা খারাপ কাজ করে তাদের জন্য শাসনকর্তারা ভয়ের কারণ। তুমি কি কর্তৃপক্ষের সামনে নির্ভয়ে থাকতে চাও? তাহলে যা ভালো তাই করো, তাতে তুমি তার কাছ থেকে অনুমোদন পাবে।
(৪)কারণ তোমাদের ভালোর জন্যই তারা আল্লাহ্র খাদেম হিসাবে কাজ করেন। কিন্তু তুমি যদি অন্যায় কাজ করো, তাহলে তোমার ভয় করা উচিৎ, কারণ কর্তৃপক্ষ এমনি এমনি তরবারি বহন করেন না! যারা অন্যায় কাজ করে তাদের শাস্তি বাস্তবায়নের জন্য তারা তো আল্লাহ্র খাদেম।
(৫)কাজেই কেবল শাস্তি পাবার ভয়ে নয় কিন্তু বিবেক পরিষ্কার রাখার জন্যও তাদের বাধ্য হতে হবে। (৬)একই কারণে তোমরা করও দিয়ে থাকো, কেননা কর্তৃপক্ষ তো আল্লাহর খাদেম, এবং তারা এই কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। (৭)যার যা পাওনা, তাকে তা দাও- যাঁকে কর দেবার, তাঁকে কর দাও, যাঁকে রাজস্ব দেবার, তাঁকে রাজস্ব দাও, যাঁকে সম্মান দেবার, তাঁকে সম্মান দাও, যাঁকে শ্রদ্ধা করার, তাঁকে শ্রদ্ধা করো।
(৮)তোমরা একজন অন্যজনের কাছে মহব্বত-ঋণ ছাড়া কারো কাছে কোনো বিষয়ে ঋণী থেকো না; কারণ যে অন্যকে মহব্বত করে, সে তো শরিয়ত পূর্ণ করে।
(৯)শরিয়ত বলে: “জিনা করো না; খুন করো না; চুরি করো না; লোভ করো না”; এবং এরকম অন্য যে-কোনো শরিয়তের সার কথা হচ্ছে, “তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো মহব্বত করো।”
(১০)মহব্বত প্রতিবেশীর প্রতি অন্যায় করে না; অতএব মহব্বতেই সমস্ত শরিয়তের পূর্ণতা।
(১১)এছাড়াও এখন সময়টা কেমন তা তোমরা জানো, এখন তো তোমাদের ঘুম থেকে জেগে ওঠার সময়। কেননা যখন আমরা ইমান এনেছিলাম, তখনকার চেয়ে এখন নাজাত আমাদের আরো কাছে এসে গেছে; (১২)রাত প্রায় শেষের পথে, দিন কাছে এসে গেছে। এসো, আমরা অন্ধকারের কাজগুলো ছেড়ে দেই এবং আলোর বর্ম পরে নেই;
(১৩)রঙ্গরসেও মাতলামিতে নয়; অসংযত ভোগ লালোসা ও কামুকতায় নয়, ঝগড়াঝাটি ও ঈর্ষা বা হিংসা-পরায়ণতায় নয়, বরং এসো, দিনের আলোর উপযুক্তভাবে চলি।
(১৪)তোমরা বরং হযরত ইসা মসিহকে পরিধান করো আর শারীরিক কামনা-বাসনা তৃপ্ত করার জন্য কোনো সুযোগ রেখো না।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)যাদের ইমান দুর্বল, তাদেরকে সাদরে গ্রহণ করো, কিন্তু অভিমত বা মতবাদ নিয়ে ঝগড়া করার জন্য নয়। (২)কেউ কেউ বিশ্বাস করে যে, সে সবকিছু খেতে পারে, আবার যে ইমানে দুর্বল, সে শুধু শাকসব্জি খায়।
(৩)যারা সব কিছু খায়, তারা যেনো ওই সব মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না করে, যারা সবকিছু খায়; এবং যারা সব কিছু খায় না তারা যেনো ঐ সব মানুষকে দোষী না করে যারা সব কিছু খায়, কারণ আল্লাহ্ তাদের উভয়কেই সাদরে গ্রহণ করেছেন।
(৪)তুমি কে যে অন্যের গোলামের বিচার করো? সে স্থির থাকুক বা পড়ে যাক? তা তার মালিকের সামনেই হয়, এবং তারা দাঁড়াবে, কারণ রাব্বুল আ’লামিন তাদের স্থির রাখতে সক্ষম।
(৫)কেউ কেউ একটি দিনকে অন্য দিনের চেয়ে ভালো মনে করে, আবার কেউ কেউ সব দিনকে সমান বিবেচনা করে। প্রত্যেকের উচিৎ নিজের মনে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া।
(৬)যারা কোনো একটি দিন পালন করে তারা রাব্বুল আ’লামিনের সন্মানেই তা করে। এছাড়া যারা সবকিছু খায়, তারা আল্লাহর সন্মানেই তা খায়, কারণ তারা আল্লাহ্কে শুকরিয়া জানায়; পক্ষান্তরে যারা সবকিছু না খায়, তারাও তাদের আল্লাহর সন্মানেই খায় না এবং আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায় করে।
(৭)আমরা নিজেদের জন্য বেঁচে থাকি না এবং নিজেদের জন্য মৃত্যুবরণও না। (৮)যদি আমরা বেঁচে থাকি, তাহলে আল্লাহ্র জন্যই বেঁচে থাকি, আর যদি মরি, তাহলে আল্লাহ্র জন্যই মরি; তাই আমরা বাঁচি বা মরি, আমরা আল্লাহ্রই। (৯)কারণ মসিহ এই উদ্দেশ্যেই ইন্তেকাল করলেন এবং জীবিত হলেন, যেনো তিনি জীবিত ও মৃত উভয়েরই মুনিব হতে পারেন।
(১০)কেনো তুমি তোমার ভাই বা বোনের বিচার করো? অথবা কেনো তুমি তোমার ভাই বা বোনকে তাচ্ছিল্য বা অবহেলা করো? আমরা সবাই তো আল্লাহর বিচারাসনের সামনে দাঁড়াবো।
(১১)কারণ কিতাবে লেখা আছে- “আল্লাহ বলেন, আমার জীবনের কসম, আমার সামনে প্রত্যেকেই হাঁটু পাথবে, এবং প্রত্যেকেই আমার প্রশংসা করবে।” (১২)সুতরাং আমাদের প্রত্যেককেই আল্লাহর কাছে নিজ নিজ হিসাব দিতে হবে।
(১৩)এজন্য এসো, আমরা যেনো আর একে অন্যের বিচার না করি, বরং কখনোই কারো পথে প্রতিবন্ধকতা কিংবা ব্যাঘাত সৃষ্টি না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
(১৪)আমি জানি এবং হযরত ইসা আ. এর কাছ থেকে নিশ্চিতভাবে বুঝেছি যে, প্রকৃতিগতভাবে কোনোকিছুই নিজে থেকে নাপাক নয়; বরং যে তা নাপাক মনে করে, তার জন্য তা নাপাক। (১৫)তুমি যা খাচ্ছো তার জন্য যদি তোমার ভাই বা বোন মনে আঘাত বা কষ্ট পায়, তাহলে তো তুমি আর মহব্বতের পথে চলছো না। যার জন্য মসিহ জীবন দিয়েছেন, তোমার খাওয়া-দাওয়া জন্য তাকে ধ্বংস হতে দিও না।
(১৬)তোমার ভালো কাজ যেনো তোমার নিন্দার কারণ না হয়।
(১৭)কেননা আল্লাহর রাজ্য খাওয়া-দাওয়া বা পান করার বিষয় নয় বরং আল্লাহর রুহে ধার্মিকতা, শান্তি ও আনন্দ।
(১৮)সুতরাং যে ব্যক্তি মসিহের খেদমত করে, তাকে আল্লাহর কবুল যোগ্য এবং সে মানুষের স্বীকৃতি লাভ করে।
(১৯)তাহলে এসো, আমরা এমন কিছু করতে চেষ্টা করি, যা শান্তি স্থাপন করে ও একে অন্যকে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
(২০)খাবার-দাবারের বস্তু নিয়ে আল্লাহর কাজকে নষ্ট করো না। বস্তুত সবকিছুই পাক-পরিস্কার, কিন্তু তুমি যা খাচ্ছো তার দ্বারা যদি অন্যেরা বাধা হয় তাহলে তা তোমার জন্য তা অন্যায়।
(২১)এটাই ভালো; মাংস না খাওয়া কিংবা আঙ্গুররস পান না করা অথবা এমন কিছু না করা, যা করলে তোমার ভাই বা বোনের জন্য বিপদ ডেকে আনে।
(২২)যে ইমান তোমার আছে, তা আল্লাহর সামনে তোমার একান্ত নিজের দৃঢ় বিশ্বাস হিসেবে ধারণ করো। ভাগ্যবান তারা, যাদের কাজের জন্য তাদের নিজেদেরকে দোষী করার কোনো কারণ নেই।
(২৩)কিন্তু যাদের সন্দেহ আছে, তারা যদি খায়, তাহলে তারা দোষী সাব্যস্ত হবে, কারণ তারা তাদের ইমান অনুসারে কাজ করে না; আর ইমান থেকে যা না আসে, তা-ই গুনাহ।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১) আমরা যারা সবল, আমাদের উচিত নিজেদের সন্তুষ্ট না করে বরং দুর্বলদের দুর্বলতাগুলো সহ্য করা।
(২)আমাদের প্রত্যেকের উচিত আমাদেও নিজ নিজ প্রতিবেশীকে সন্তুষ্ট করা, যেনো তাকে গড়ে তোলা যায়। (৩)কেননা মসিহ নিজেকে সন্তুষ্ট করেননি; কিন্তু যেমনটি লেখা আছে, “যারা তোমাকে অপমান করে, তাদের সেই অপমান আমার ওপরে পড়েছে।”
(৪)আগেকার দিনে যা কিছু লেখা হয়েছিলো, তা আমাদের শিক্ষার জন্যই লেখা হয়েছিলো, যেনো ধৈর্য এবং পাক-কিতাবের উৎসাহের মাধ্যমে আমরা আশা পাই।
(৫)ধৈর্য ও উৎসাহদাতা আল্লাহ্ তোমাদেরকে, মসিহ হযরত ইসা আ. এর অনুসারী হয়ে একে অপরের সাথে একতাবদ্ধভাবে জীবন-যাপন করার তৌফিক দান করো,
(৬)যাতে তোমরা সবাই একসাথে এক স্বরে আমাদের হযরত ইসা মসিহের প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করতে পারো।
(৭)সুতরাং আল্লাহর মহিমার জন্য হযরত ইসা মসিহ যেভাবে তোমাদেরকে গ্রহণ করেছেন, সেভাবে তোমরাও একজন অন্যজনকে গ্রহণ করো।
(৮)আমি তোমাদের বলছি, মসিহ আল্লাহর সত্যের পক্ষে খতনাকারীদের খেদমতকারী হয়েছিলেন, যেনো তিনি পূর্বপুরুষদের কাছে দেয়া আল্লাহর ওয়াদাগুলো নিশ্চিত করতে পারেন, (৯)এবং যেনো অ-ইহুদিরা আল্লাহর দয়ার জন্য তাঁর প্রশংসা করে। যেমনটি জবুর শরিফে লেখা আছে, “অতএব আমি অ-ইহুদিদের মধ্যে তোমার প্রশংসা করবো, এবং তোমার নামের প্রশংসা করবো”; (১০)তিনি আবার বলেছেন, “হে অ-ইহুদিরা, তোমরা তাঁর লোকদের সাথে আনন্দ করো”; (১১)তিনি আবার বলেন, “হে অ-ইহুদিরা, তোমরা সবাই রাব্বুল আ’লামিনের গুণগান করো, এবং সমস্ত জাতি তাঁর প্রশংসা করুক”; (১২)আবার হযরত ইসাইয়া আ. বলেন, “ইয়াচ্ছার মূল আসবেন, তিনি অ-ইহুদিদের উপরে কর্তৃত্ব করবেন; আর অ-ইহুদিরা তাঁর উপরে আশা রাখবে।”
(১৩)প্রত্যাশার আল্লাহ তোমাদেরকে, ইমানের মধ্য দিয়ে, সমস্ত আনন্দ ও শান্তিতে পরিপূর্ণ করুন, যাতে আল্লাহ্র রুহের ক্ষমতায় তোমরা প্রত্যাশায় উপচে পড়তে পারো।
(১৪)আমার ভাই ও বোনেরা, তোমাদের ব্যাপারে আমি নিজে নিশ্চিতভাবে মনে করি যে, তোমরা নিজেরাই সদ্গুণের ভাণ্ডার, সমস্ত রকম জ্ঞানে পরিপূর্ণ, এবং একজন অন্যজনকে শিক্ষা দিতে সক্ষম।
(১৫-১৬)তবুও আল্লাহর দেয়া অনুগ্রহের জন্য আমি তোমাদের কিছু বিষয় স্মরণ করিয়ে দেবার জন্য আমি সাহস করে তোমাদের কাছে লিখছি, কারণ আল্লাহ আমাকে তাঁর সুখবরের খাদেমের কাজে অ-ইহুদিদের কাছে মসিহ হযরত ইসা আ. এর খাদেম হিসাবে নিযুক্ত করেছেন, যাতে অ-ইহুদিদের উপহার বা কোরবানী আল্লাহর রুহের দ্বারা পাক-সাফ হয়ে গ্রহনযোগ্য হয়।
(১৭)অতএব, হযরত ইসা মসিহের কারণে আল্লাহর কাজের বিষয়ে আমার গর্ব করার কারণ আছে।
(১৮)অ-ইহুদিদের বাধ্যতা লাভ করার জন্য হযরত ইসা মসিহ আমার মাধ্যমে যে-কাজ করেছেন, তার বাইরে কোনো কিছু বলার সাহস আমি দেখাবো না। তাঁর কথায় ও কাজে,
(১৯)নানা নিদর্শন ও মুজিযার শক্তিতে, আল্লাহর রুহের ক্ষমতায়, যাতে আমি জেরুসালেম থেকে শুরু করে ইল্লিরিকাম পর্যন্ত মসিহের সুখবর পূর্ণরূপে প্রচার করতে পারি।
(২০)তাই আমি স্থির করেছি যে, যেসব জায়গায় মসিহের নাম প্রচারিত হয়নি, সেসব জায়গায় সুখবর প্রচার করাকে আমি আমার লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছি, যাতে অন্য কারো ভিত্তির ওপর গেঁথে তুলতে না হয়; (২১)কিন্তু কিতাবে যেমন লেখা আছে, “যাদের কাছে তাঁর কথা কখনো বলা হয়নি তারা দেখতে পাবে, এবং যারা তাঁর কথা কখনো শোনেনি তারা বুঝতে পারবে।”
(২২)এজন্যই তোমাদের কাছে আসতে আমি বারবার বাধা পেয়েছি।
(২৩)কিন্তু এখন, এই অঞ্চলে আমার আর কোনো জায়গা নেই; আমি অনেক বছর যাবত যেমন আশা ও ইচ্ছা করে আসছি, তেমনি তোমাদের কাছে আসতে চাইছি।
(২৪)যখন আমি স্পেন যাবো, আমার যাত্রা পথে আমি তোমাদেরকে দেখতে পাবো বলে আশা করছি; তখন তোমাদের সাথে কিছুদিন আনন্দে কাটাবার পর তোমরাই আমাকে স্পেন পাঠাবে।
(২৫)এই সময়ে আমি মুমিনদের খেদমত করার উদ্দেশ্যে জেরুশালেম যাচ্ছি; (২৬)কারণ মাকিদনিয়া ও আখায়ার ভাই-বোনেরা জেরুশালেমে মুমিনদের মধ্যে যারা গরিব, তাদের সাহায্য করতে পেরে আনন্দিত হয়েছেন।
(২৭)তাঁরা আনন্দের সাথেই তা করেছেন, আর আসলেই তাঁরা জেরুশালেমের মুমিনদের কাছে ঋণী; কারণ যদি এই অ-ইহুদিরা মুমিনদের রুহানি রহমতের ভাগ পান, তাহলে নিশ্চয়ই মুমিনরা তাদের পার্থিব বিষয়ের ভাগ পাবার অধিকারী।
(২৮)তাই আমার কাজ শেষ হলে, এবং এই সংগৃহীত দান তাঁদের হাতে তুলে দেবার পর, আমি তোমাদের ওখান হয়ে স্পেনের উদ্দেশে রওনা হবো; (২৯)এবং আমি জানি যে, আমি যখন তোমাদের কাছে আসবো, তখন মসিহের পরিপূর্ণ রহমত ও বরকত নিয়েই আসবো।
(৩০)ভাই ও বোনেরা, হযরত ইসা মসিহের নামে ও আল্লাহর রুহের মহব্বতের খাতিরে, আমি তোমাদের অনুরোধ করছি, তোমরা আমার জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিক মোনাজাতে আমার সাথে যুক্ত হও, (৩১)যেনো আমি ইহুদিয়ার অবিশ্বাসীদের হাত থেকে রক্ষা পাই, এবং জেরুসালেমের ওলিদের ও মুমিনদের কাছে আমার খেদমতের কাজ যেনো গ্রহণযোগ্য হয়; (৩২)যাতে আল্লাহর ইচ্ছায় আমি আনন্দের সাথে তোমাদের কাছে আসতে পারি এবং তোমাদের সান্নিধ্যে সতেজ হতে পারি।
(৩৩)শান্তিদাতা আল্লাহ তোমাদের সবার সাথে থাকুন। আমিন।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১) আমি তোমাদের কাছে আমাদের বোন ফৈবির প্রশংসা করছি, তিনি কিংক্রিয়ার ইমানদার দলের একজন খাদেম, (২)তাই আল্লাহর দরবেশদের যেভাবে গ্রহণ করা হয়, আল্লাহর নামে তাঁকেও সেভাবে গ্রহণ করো, এবং তোমাদের কাছ থেকে তাঁর কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে তাকে সাহায্য করো, কারণ তিনি অনেককে এবং আমাকেও সাহায্য করেছেন।
(৩)মসিহ ইসাতে আমার সহকর্মী প্রিস্কিলা ও আকিলা তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন; (৪)আর তাঁরা আমার জীবন বাঁচাবার জন্য নিজেদেরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন; সেজন্য শুধু আমিই নই বরং সমস্ত অ-ইহুদি ইমানদার দলও তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।
(৫)তাঁদের বাড়ির দলের সবাইকে আমার সালাম দিয়ো। আমার প্রিয় ইপাইনেতকে আমার সালাম দিয়ো, এশিয়াতে তিনিই প্রথম মসিহের ওপর ইমান এনেছিলেন। (৬)মরিয়ামকে সালাম দিয়ো, তিনি তোমাদের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
(৭)আমার আত্মীয় আন্দ্রনিকাস ও জুনিয়াকে আমার সালাম দিয়ো, তাঁরা আমার সাথে জেলে ছিলেন; সাহাবিদের মধ্যে তাঁরা অন্যতম এবং আমার আগে মসিহের ওপর ইমান এনেছেন। (৮)মসিহে আমার প্রিয় আমবিলিয়াসকে সালাম দিয়ো। (৯)মসিহের কাজে আমার সহকর্মী উর্বানুস ও আমাদের প্রিয় ইস্তাখিসকে সালাম দিয়ো।
(১০)আবাল্লিসকে সালাম দিয়ো, মসিহের কাজে তিনি পরীক্ষিত। আরিস্তুবুলুসের পরিবারের সবাইকে আমার সালাম দিয়ো। (১১)আমার আত্মীয় হেরুদিয়ুনকে সালাম দিয়ো। নার্কিসুসের পরিবারে যারা মসিহের ওপর ইমান এনেছে, তাদেরকে সালাম দিয়ো। (১২)তারিফাইন ও তারিফুসাকে সালাম দিয়ো, তাঁরা মসিহের পক্ষে পরিশ্রম করছেন। প্রিয় বার্সিসকে সালাম দিয়ো, তিনি মসিহের পক্ষে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
(১৩)মসিহের মনোনীত রুফুসকে সালাম দিয়ো; আর তার মা, যিনি আমারও মায়ের মতো, তাকেও আমার সালাম দিয়ো। (১৪)আসিনক্রিতুস, ফ্লিগুন, হার্মাস, পাত্রুবাস, হার্মিস এবং তাঁদের সাথে থাকা ভাই-বোনদের সালাম দিয়ো। (১৫)ফিলুলুগুস ও জুলিয়া, নিরিয়ুস ও তাঁর বোন এবং উলুম্বাস এবং তাঁদের সংগী সমস্ত মুমিনদেরকে সালাম দিয়ো। (১৬)তোমরা পবিত্র চুমু দিয়ে একে অন্যকে শুভেচ্ছা জানাবে। মসিহের অনুসারী সমস্ত দল তোমাদের সালাম জানাচ্ছে।
(১৭)ভাই ও বোনেরা, তোমরা যে শিক্ষা পেয়েছো তার বিপরীত শিক্ষা দিয়ে যারা তোমাদের মধ্যে দলাদলি ও বাঁধার সৃষ্টি করে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে আমি তোমাদেরকে অনুরোধ করছি; তাদের থেকে দূরে থাকো। (১৮)এরকম লোকেরা হযরত ইসা মসিহের খেদমত করে না, বরং নিজেদের পেটের পুজা করে এবং মিষ্টি কথা ও মনভোলানো সুন্দর কথার দ্বারা সরলমনা লোকদের ভুলায়।
(১৯)তোমাদের বাধ্যতার কথা সবাই জানে, সেজন্য তোমাদের নিয়ে আমি আনন্দ করি; তবুও আমি চাই, তোমরা ভালো বিষয়ে জ্ঞানী হও এবং মন্দ বিষয়ে নির্দোষ হও। (২০)শান্তিদাতা আল্লাহ খুব তাড়াতাড়িই শয়তানকে তোমাদের পায়ের তলায় ফেলে পিষে ফেলবেন। হযরত ইসা মসিহের দয়া তোমাদের ওপরে থাকুক।
(২১)আমার সহকর্মী তিমথীয় এবং আমার আত্মীয় লুকিয়ুস, ইয়াসুন ও সুসিপাত্রুস তোমাদের সালাম জানাচ্ছেন। (২২)আমি তার্তিয়ুস, এই চিঠির লেখক, মসিহের নামে তোমাদের সালাম জানাচ্ছি।
(২৩-২৪)গায়ুস, যাঁর বাড়িতে আমি অতিথি ও যাঁর বাড়িতে ইমানদার দল মিলিত হয়, তিনি তোমাদের সালাম জানাচ্ছেন। এই শহরের কোষাধ্যক্ষ আরাস্তুস ও আমাদের ভাই কাওয়ার্তুস তোমাদের সালাম জানাচ্ছেন।
(২৫)আমার সুখবর ও হযরত ইসা মসিহ-বিষয়ক প্রচার অনুসারে, রহস্যময়তার উন্মোচন অনুসারে, -যুগযুগ ধরে এই রহস্যময়তা গোপন ছিলো
(২৬,২৭)কিন্তু এখন প্রকাশিত এবং নবিদের সহিফাগুলোর ভেতর দিয়ে অ-ইহুদিদের সবার কাছে জানান দেয়া হয়েছে- চিরন্তন আল্লাহর হুকুম অনুসারে, হযরত ইসা মসিহের মধ্য দিয়ে, একমাত্র বিচক্ষণ আল্লাহর প্রতি ইমানের বাধ্যতা আনার জন্য, যে-আল্লাহ পাক তোমাদেরকে শক্তিশালী করে তুলতে সক্ষম, চিরকাল তাঁরই প্রশংসা হোক! আমিন।
Facebook
WhatsApp
Telegram
Email
Print
