- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১১
- ১২
- ১৩
- ১৪
- ১৫
- ১৬
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)আমি পৌল- আল্লাহর ইচ্ছায় মসিহ হযরত ইসা আ. এর একজন হাওয়ারি হওয়ার জন্যে আহূত- এবং আমাদের ভাই সুস্তানিস, (২)করিন্থে অবস্থিত আল্লাহর ইমানদার দলের কাছে লিখছি যাঁরা মসিহ ইসার মাধ্যমে পবিত্র হয়েছেন ও ওলি হওয়ার জন্যে আহূত, সেইসাথে সবজায়গায় যারা হযরত ইসা মসিহকে স্মরণ করে, তাদের কাছে; তিনি তো তাদের এবং আমাদের হযরত: (৩)হযরত ইসা মসিহ এবং আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর রহমত ও শান্তি তোমাদের ওপর বর্ষিত হোক।
(৪)মসিহ হযরত ইসা আ. এর মাধ্যমে আল্লাহর যে-রহমত তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে, সেই রহমতের কারণে আমি তোমাদের জন্যে সব সময় আমার আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি; (৫)কেননা তাঁর মাধ্যমেই তোমরা সবরকমের কথায় ও জ্ঞানে, সবদিক দিয়েই সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠেছো- (৬)ঠিক যেভাবে তোমাদের মাঝে মসিহ সম্বন্ধে সাক্ষ্য সুদৃঢ় হয়েছে- (৭)সেজন্যই তোমরা হযরত ইসা মসিহের আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় আছো বলে তোমাদের রুহানি দানের কোনো অভাব হচ্ছে না।
(৮)তিনিই তোমাদেরকে শেষ পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে সাহায্যও করে যাবেন, যেনো তোমরা হযরত ইসা মসিহের দিনে নির্দোষ হতে পারো।
(৯)আল্লাহ বিশ্বস্ত; তিনিই তোমাদেরকে ডেকেছেন তাঁর একান্ত প্রিয় মনোনীত জন হযরত ইসা মসিহের সাহচর্য লাভের জন্যে।
(১০)ভাই ও বোনেরা, হযরত ইসা মসিহের নামের দোহাই দিয়ে আমি তোমাদেরকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি, তোমাদের মাঝে যেনো মতৈক্য থাকে এবং কোনো রকম দলাদলি না-থাকে, বরং তোমরা একই চিন্তায় ও উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হও।
(১১)কেননা, ভাই ও বোনেরা আমার, খুলুয়ির লোকদের কাছ থেকে আমি জানতে পেরেছি যে, তোমাদের ভেতর বিবাদ রয়েছে।
(১২)আমি যা বলতে চাচ্ছি তা হলো এই যে, তোমরা প্রত্যেকে বলে থাকো, “আমি পৌলের লোক,” কিংবা “আমি আপল্লোর লোক,” অথবা “আমি কেফাসের লোক,” বা “আমি মসিহের লোক।”
(১৩)মসিহকে কি ভাগ করা হয়েছে? পৌল কি তোমাদের জন্য সলিববিদ্ধ হয়েছিলো? তোমরা কি পৌলের নামে বায়াত নিয়েছিলে?
(১৪)আমি আল্লাহর শুকরিয় আদায় করি যে, ক্রিস্পাস ও গাইয়ুসকে ছাড়া তোমাদের কাউকেই আমি বায়াত দেইনি, (১৫)যাতে কেউই বলতে না পারে যে, তোমরা আমার নামে বায়াত নিয়েছিলে।
(১৬)অবশ্য স্তিফানের পরিবারের লোকদেরকেও আমি বায়াত দিয়েছি; এছাড়া আর কাউকে আমি বায়াত করেছি কি-না আমার মনে পড়ে না।
(১৭)মসিহ আমকে বায়াত করতে নয়, বরং সুখবর প্রচার করতে পাঠিয়েছেন- তাও আবার বাকপটুর বিজ্ঞতায় নয়, যাতে মসিহের সলিব ক্ষমতা-শূন্য হয়ে না-পড়ে।
(১৮)যারা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, সলিবের বাণী তাদের কাছে মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয়; কিন্তু আমরা যারা নাজাত পাচ্ছি, সেই আমাদের কাছে তা আল্লাহর শক্তি।
(১৯)কেননা লেখা আছে, “নিশ্চয়ই আমি জ্ঞানীদের জ্ঞান ধ্বংস করে দেবো এবং বুদ্ধিমানদের উপলব্ধি করার আগ্রহ ব্যর্থ করে দেবো।”
(২০)কিন্তু যে জ্ঞানী, সে কোথায়? আলেম কোথায়? আর কোথায়ই-বা এ-যুগের তর্কবাগিশেরা? জগতের জ্ঞানকে কি আল্লাহ মূর্খতায় পরিণত করেননি?
(২১)যেহেতু আল্লাহ তাঁর নিজের বিচক্ষণতায়, আমাদের প্রচারের মূর্খতার ভেতর দিয়ে, ইমানদারদেরকে নাজাত দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেহেতু জ্ঞানের ভেতর দিয়ে দুনিয়া আল্লাহকে জানতে পারেনি।
(২২)কারণ ইহুদিরা নানা চিহ্ন দেখতে চায়, গ্রিকেরা জ্ঞান খোঁজ করে, (২৩)কিন্তু আমরা সেই সলিববিদ্ধ মসিহকে প্রচার করি, যিনি ইহুদিদের কাছে প্রতিবন্ধকতা আর অ-ইহুদিদের কাছে মূর্খতা, (২৪)কিন্তু যারা আহ্বানপ্রাপ্ত, তারা ইহুদি হোক বা অ-ইহুদি হোক, তাদের কাছে মসিহই আল্লাহর শক্তি এবং আল্লাহর বিজ্ঞতা।
(২৫)কেননা আল্লাহর মূর্খতা মানুষের জ্ঞানের চেয়েও জ্ঞানপূর্ণ, আর আল্লাহর দুর্বলতা মানুষের শক্তির চেয়েও শক্তিপূর্ণ।
(২৬)ভাই ও বোনেরা, তোমরা নিজেদের আহ্বানের কথা বিবেচনা করো: মানুষের বিচারে তোমরা অনেকেই জ্ঞানী ছিলে না, অনেকেই ক্ষমতাশালী ছিলে না এবং অনেকেই সম্ভ্রান্ত বংশের ছিলে না।
(২৭)কিন্তু জ্ঞানীদের লজ্জা দেবার জন্য পৃথিবীতে যারা নির্বোধ এবং সবলদের লজ্জা দেবার জন্য পৃথিবীতে যারা দুর্বল, আল্লাহ তাদেরই বেছে নিয়েছেন; (২৮)জগতে যা-কিছুর অস্তিত্ব আছে, সেগুলোকে অস্তিত্বহীনে পরিণত করার জন্যে যা-কিছু নীচ, ঘৃণ্য, অস্তিত্বহীন, আল্লাহ তা-ই বেছে নিয়েছেন। (২৯)যেনো আল্লাহর সামনে কেউ গর্ব করতে না-পারে।
(৩০)মসিহ হযরত ইসা আ. এর মাধ্যমে তোমাদের যে-জীবন, সে-জীবনের উৎস আল্লাহ। আমাদের জন্যে হযরত ইসা মসিহ হয়ে উঠেছেন আল্লাহর দেওয়া বিচক্ষণতা, ধার্মিকতা, পবিত্রতা ও নাজাত। (৩১)এই জন্য যে, যেমনটি লেখা আছে, “যে গর্ব করতে চায়, সে আল্লাহকে নিয়েই গর্ব করুক।”
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১) ভাই ও বোনেরা, আমি যখন তোমাদের কাছে গিয়েছিলাম, তখন আল্লাহর রহস্যময়তা প্রচার করতে গিয়ে আমি তোমাদের কাছে অভিজাত ভাষা কিংবা বিচক্ষণতার আশ্রয় নেইনি।
(২)কেননা আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, তোমাদের মাঝে আমি সলিববিদ্ধ হযরত ইসা মসিহকে ছাড়া অন্য কোনোকিছুই জানবো না। (৩)আর আমি দুর্বলতা নিয়ে, ভয়ে ও দুরু-দুরু বুকে তোমাদের কাছে গিয়েছিলাম।
(৪)আমার কথা ও প্রচারে বিচক্ষণ লোকের আপাতগ্রাহ্য ভাষা ছিলো না, বরং রুহ ও ক্ষমতার চাক্ষুষ প্রমাণ ছিলো, (৫)যাতে তোমাদের ইমান মানবীয় জ্ঞানের ওপর নয়, বরং আল্লাহর ক্ষমতার ওপর স্থির থাকে।
(৬)যা হোক, পরিপক্কদের কাছে আমরা জ্ঞানের কথা বলি, যদিও এই জ্ঞান এ-যুগের নয়, কিংবা এই যুগের যাঁরা শাসনকর্তা, যাঁরা জাহান্নামিদের অন্তর্ভুক্ত, তাঁদেরও নয়।
(৭)আমরা আসলে আল্লাহর সেই রহস্যময় গোপন জ্ঞানের কথাই বলি, যা আমাদের গৌরবের জন্য আল্লাহ অনন্তকাল আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন।
(৮)এই যুগের কোনো শাসকই তা বোঝেননি; কেননা যদি তাঁরা তা বুঝতেন, তাহলে মহিমার মালিককে তাঁরা সলিবে দিতেন না।
(৯)কিন্তু, যেমনটি লেখা আছে, “আল্লাহকে যারা মহব্বত করে তাদের জন্য তিনি যা প্রস্তুত করে রেখেছেন, তা কেউ চোখে দেখেনি, কানে শোনেনি এবং হৃদয়েও ধারণর করেনি।”- (১০)রুহের মাধ্যমে আল্লাহ এসব বিষয় আমাদের কাছে প্রকাশ করেছেন; কেননা রুহ সবকিছুই খুঁজে দেখেন, এমনকি আল্লাহর গভীর বিষয়গুলোও।
(১১)কোনো মানুষের মনের কথা তার নিজের রুহ ছাড়া আর কে জানে? ঠিক সেভাবে আল্লাহর রুহ ছাড়া আল্লাহর মনের কথা অন্য কেউই জানে না।
(১২)আমরা জাগতিক আত্মা পাইনি, বরং আমরা আল্লাহর কাছ থেকেই রুহ পেয়েছি, যেনো আল্লাহ আমাদেরকে যা যা দান করেছেন তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি।
(১৩)এবং এসব বিষয়ে আমরা মানবীয় জ্ঞানে শেখানো ভাষায় নয়, বরং রুহের শেখানো ভাষাতেই কথা বলি; ধার্মিক মানুষদের কাছে রুহানি বিষয়াদি ব্যাখ্যা করি।
(১৪)যারা জাগতিক, আল্লাহর রুহের দানগুলোকে তারা গ্রহণ করে না, কারণ তাদের কাছে ওগুলো মূর্খতা; এবং ওগুলোকে তারা বুঝতেও পারে না, কারণ ওগুলো আত্মিকভাবেই উপলব্ধির বিষয়।
(১৫)ধার্মিক মানুষেরা সবকিছুই উপলব্ধি করেন, আর তাঁরা নিজেরা অন্য কারো বিচারাধীন নন। (১৬)“কেননা আল্লাহর মন কে বুঝতে পেরেছে, যেনো তাঁকে উপদেশ দিতে পারে?” কিন্তু আমাদের আছে মসিহের মন।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)সুতরাং, ভাই ও বোনেরা, ধার্মিক লোকদের কাছে যেভাবে কথা বলা উচিত, আমি তোমাদের কাছে সেভাবে কথা বলতে পারিনি, বরং জাগতিক মানুষের কাছে, মসিহের-ওপর-ইমান-আনা শিশুদের কাছে, যেভাবে কথা বলা উচিত, সেভাবেই কথা বলেছি।
(২)আমি তোমাদের শক্ত খাবার না-দিয়ে দুধ পান করিয়েছি, কারণ তখনো তোমরা শক্ত খাবারের জন্য প্রস্তুত ছিলে না; এমনকি এখনো তোমরা প্রস্তুত নও, (৩)কেননা এখনো তোমরা জাগতিক মানুষই রয়ে গেছো। তোমাদের মধ্যে যতোদিন ঈর্ষা ও বিবাদ আছে, ততোদিন তোমরা কি জাগতিক লোক নও এবং তোমরা কি মানবীয় প্রবৃত্তি অনুসারে আচরণ করছো না?
(৪)কারণ তোমাদের মধ্যে একজন যখন বলে, “আমি পৌলের লোক,” এবং অন্যজন বলে, “আমি আপল্লোর লোক,” তখন তোমরা কি স্রেফ মানুষ নও? (৫)আপল্লো কে? আর পৌলই বা কে? তাঁরা তো খাদেমমাত্র, যাঁদের মাধ্যমে তোমরা ইমান এনেছো। আল্লাহ তাঁদের যাঁকে যতোটুকু দায়িত্ব দিয়েছেন, তিনি ততোটুকুই করেছেন।
(৬)আমি লাগিয়েছি, আপল্লো পানি দিয়েছেন কিন্তু বৃদ্ধি দিয়েছেন আল্লাহ। (৭)সুতরাং, যে লাগায় কিংবা যে পানি দেয়, সে কিছুই নয়, বরং বৃদ্ধিদাতা আল্লাহ-ই সব। (৮)যে লাগায় আর যে পানি দেয়, তাদের উদ্দেশ্য একই এবং তারা প্রত্যেকে নিজ-নিজ কাজ অনুসারে মজুরি পাবে।
(৯)আমরা আল্লাহর খাদেম, একত্রে কাজ করছি; তোমরা আল্লাহর জমিন, দালান আল্লাহরই। (১০)আমাকে দেওয়া আল্লাহর রহমত অনুসারে, একজন দক্ষ কারিগরের মতো আমি ভিত্তি স্থাপন করেছি, আর অন্য কেউ তার ওপরে গাঁথছে। প্রত্যেক কারিগরকে সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সে ভিত্তির উপরে কীভাবে গাঁথবে।
(১১)কেননা যে-ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে, তা থেকে ভিন্ন কোনো ভিত্তি কেউ স্থাপন করতে পারে না; হযরত ইসা মসিহ-ই হলেন সেই ভিত্তি। (১২)এই ভিত্তির ওপর কেউ যদি সোনা, রুপো, মহামূল্য পাথর, কাঠ, খড় বা বিচালি দিয়ে গাঁথে,
(১৩)তাহলে প্রত্যেক নির্মাতার কাজ দৃশ্যমান হবে; সেই দিনই তা প্রকাশ করবে, কারণ তা প্রকাশিত হবে আগুনের মধ্য দিয়ে এবং কে কেমন কাজ করেছে, আগুনই তা যাচাই করবে।
(১৪)ভিত্তির ওপর যা গাঁথা হয়েছে তা যদি টিকে থাকে, তাহলে নির্মাণকারী পুরস্কার পাবে। (১৫)কাজ যদি পুড়ে যায় তাহলে নির্মাতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে; অবশ্য সে নিজে আগুনের মধ্য দিয়ে যাবার মতো করে রক্ষা পাবে।
(১৬)তোমরা কি জানো না যে, তোমরাই আল্লাহর ঘর এবং আল্লাহর রুহ তোমাদের মধ্যে বাস করেন? (১৭)কেউ যদি আল্লাহর ঘর ধ্বংস করে, তাহলে আল্লাহও তাকে ধ্বংস করবেন। কারণ আল্লাহর ঘর পবিত্র, আর তোমরাই সেই ঘর।
(১৮)তোমরা নিজেদেরকে প্রতারিত করো না। তোমরা যদি মনে করো যে, এই যুগে তোমরাই জ্ঞানী, তাহলে জ্ঞানী হওয়ার জন্য তোমরা মূর্খ হও। (১৯)কেননা এই জগতের জ্ঞান আল্লাহর কাছে মূর্খতা। কারণ লেখা আছে, “জ্ঞানীদেরকে তিনি তাদের কুট-বুদ্ধির ফাঁদে পাকড়াও করবেন।” (২০)এবং আরো লেখা আছে, “জ্ঞানীদের চিন্তা-ভাবনাগুলোর কথা আল্লাহ জানেন- ওগুলো অসার।”
(২১)সুতরাং, মানুষের নেতাদের নিয়ে কেউ গর্ব না-করুক। কেননা সবকিছুই তোমাদের, (২২)হোক পৌল বা আপল্লো বা কৈফা বা জগত বা জীবন বা মরণ বা বর্তমান কিংবা ভবিষ্যৎ- সবই তোমাদের, (২৩)আর তোমরা মসিহের এবং মসিহ আল্লাহর।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)লোকে আমাদের মনে করুক যে, আমরা মসিহের খাদেম এবং আল্লাহর নিগূঢ়তত্বের ব্যাপারগুলোর তত্ত্বাবধায়ক। (২)তদুপরি, তত্ত্বাবধায়কদের কাছে এটা আশা করা হয় যে, তারা হবে বিশ্বস্ত।
(৩)কিন্তু আমার বিচার তোমরাই করো কিংবা মানবীয় আদালত করে- এটা আমার কাছে খুবই সাধারণ ব্যাপার। এমনকি আমিও আমার বিচার করি না। (৪)আমার নিজের বিরুদ্ধের কোনোকিছুর ব্যাপারে আমি অবহিত নই, কিন্তু তাই বলে ওভাবে আমি নির্দোষ বলে রায়প্রাপ্তও নই। মসিহই আমার বিচার করেন।
(৫)সুতরাং, তোমরা সময়ের আগে, মসিহের আসার আগে, কোনোকিছুর বিচার কোরো না। এখন যা কিছু অন্ধকারে লুকানো আছে, তিনিই তা আলোতে আনবেন এবং মানুষের মনের সমস্ত মতলব প্রকাশ করে দেবেন। তখন প্রত্যেকেই আল্লাহর কাছ থেকে প্রশংসা পাবে।
(৬)ভাই ও বোনেরা, তোমাদের মঙ্গলের জন্যই আমি আমার নিজের ও আপল্লোর উদাহরণ দিয়ে এসব বললাম, যেনো তোমরা আমাদের কাছ থেকে একথার মানে শিখতে পারো, “যা লেখা আছে তার বাইরে আর কিছু নেই;” যাতে তোমাদের মধ্যে কেউ একজনের সমর্থনে অন্যজনের বিরুদ্ধে দম্ভ না-দেখায়।
(৭)কেননা তোমার মাঝে ভিন্নকিছু কে দেখেছে? তোমার এমন কী আছে, যা তুমি পাওনি? আর যদি তা পেয়েই থাকো, তাহলে কেনো তা দান নয় বলে গর্ব করো?
(৮)ইতোমধ্যেই তোমরা তোমাদের কাঙ্ক্ষিত সবকিছু পেয়ে গেছো! ইতোমধ্যেই তোমরা ধনী হয়ে গেছো! আমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে বাদ দিয়ে তোমরা বাদশাহ হয়ে গেছো! আমার ইচ্ছে হয়, সত্যিই তোমরা যদি বাদশাহ হতে, তাহলে আমরাও তোমাদের সাথে বাদশাহ হতে পারতাম! (৯)কেনান আমার মনে হয়, আমরা যারা হাওয়ারি, আমাদেরকে আল্লাহ মৃত্যুর সাজাপ্রাপ্ত লোকদের মতো সকলের শেষে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন, কেননা আমরা গোটা দুনিয়ার কাছে, ফেরেস্তা ও মানুষের কাছে, হাস্যকর বস্তুতে পরিণত হয়েছি।
(১০)মসিহের জন্য আমরা মূর্খ আর তোমরা মসিহের সাথে যুক্ত হয়ে বুদ্ধিমান। আমরা দুর্বল কিন্তু তোমরা বলবান। তোমরা সম্মানিত কিন্তু আমরা অপমানিত। (১১)বর্তমান সময় পর্যন্ত আমরা ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত, আমরা পরে আছি গরিবী পোশাক, আমরা প্রহৃত ও গৃহহীন, (১২)এবং আমরা নিজের হাতে পরিশ্রম করে ক্লান্ত হচ্ছি। আমরা গালি খেয়ে দোয়া করছি; নির্যাতিত হয়ে ধৈর্য ধরছি; (১৩)অপবাদ দিলে আমরা নম্রভাবে কথা বলছি। আজ অবধি আমরা যেনো জগতের আবর্জনা, সমস্ত কিছুর তলানিতে পরিণত হয়েছি।
(১৪)আমি তোমাদের লজ্জা দেবার জন্য নয়, বরং আমার প্রিয় সন্তান হিসেবে তোমাদের সাবধান করার জন্যই এসব লিখছি। (১৫)মসিহের ওপর ইমান আনার কারণে তোমাদের দশহাজার অভিভাবক থাকতে পারে, কিন্তু পিতা তোমাদের অনেক নেই। বস্তুত মসিহ হযরত ইসা আ. এর ওপর ইমান আনার কারণে ইঞ্জিলের মধ্য দিয়ে আমিই তোমাদের পিতা হয়েছি। (১৬)সেজন্য তোমাদের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ, তোমরা আমার অনুকরণকারী হও।
(১৭)আর এজন্যই আমি তিমথীকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি- মসিহের অনুসারী হিসেবে সে আমার প্রিয় ও বিশ্বস্ত সন্তান। মসিহ হযরত ইসা আ. এর ওপর ইমান আনার ফলে আমি যে-সব কর্মপন্থা মেনে চলি এবং প্রত্যেক জায়গায় ও প্রত্যেক জামাতে শিক্ষা দেই, তা সে তোমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে। (১৮)কিন্তু আমি তোমাদের কাছে আসবো না ভেবে তোমাদের মধ্যে কেউ-কেউ উদ্ধত হয়ে উঠেছে।
(১৯)ইনশা-আল্লাহ, আমি শীঘ্রই তোমাদের কাছে আসবো; তবে ঐ উদ্ধতদের কথাবার্তা শুনতে নয়, বরং তাদের ক্ষমতা দেখে নিতে আসবো। (২০)কেননা আল্লাহর রাজ্য কথার নয়, বরং ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল।
(২১)তোমারা কী চাও? আমি তোমাদের কাছে বেত নিয়ে আসি, নাকি কোমল হৃদয়ের মহব্বত নিয়ে আসবো?
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)বাস্তবিকপক্ষে শোনা যাচ্ছে, তোমাদের মধ্যে এমন অনৈতিক যৌনাচার রয়েছে, যা পৌত্তলিকদের মাধ্যেও নেই; কেননা একজন তার সৎমাকে নিয়ে থাকছে। (২)এর পরেও তোমরা অহঙ্কার করছো! এর চেয়ে যে-লোক এই কাজ করেছে, তাকে তোমাদের মাঝ থেকে বের করে দেবার জন্য তোমাদের কি আহাজারি করা উচিত ছিলো না?
(৩)আমি সশরীরে না-থাকলেও মনের দিক দিয়ে তোমাদের মাঝে উপস্থিত আছি, এবং ইতোমধ্যেই আমি রায় ঘোষনা করেছি, (৪)এবং যে-লোক এমন কাজ করেছে, উপস্থিত থাকা লোকের মতোই আমি হযরত ইসা আ. এর নামে, তার রায় ঘোষণা করেছি। তোমরা যখন সালিসে বসবে, এবং হযরত ইসা আ. এর ক্ষমতা নিয়ে মনের দিক দিয়ে আমিও উপস্থিত থাকবো, (৫)তখন ঐ লোককে শয়তানের হাতে তুলে দিতে হবে, যেনো তার শরীর ধ্বংস হয় কিন্তু কেয়ামতের দিন তার রুহ নাজাত পায়।
(৬)তোমাদের অহঙ্কার কোনো ভালো জিনিস নয়। তোমরা কি জানো না যে, একটুখানি খামির গোটা ময়দার তালকে ফাঁপিয়ে তোলে? (৭)পুরোনো খামির পরিষ্কার করে ফেলো, যেনো তোমরা একটা নতুন ময়দার তাল হতে পারো; আর প্রকৃতপক্ষে তোমরা তো খামিরহীন। কেননা আমাদের ঈদুল ফেসাখের বাচ্চাভেড়া- মসিহ- কোরবানি হয়েছেন।
(৮)সুতরাং, এসো, হিংসা ও গুনাহের পুরোনো খামির দিয়ে নয়, বরং আন্তরিকতা ও সত্যের খামিরহীন রুটি দিয়ে আমরা এই উৎসব পালন করি।
(৯)আমার চিঠিতে আমি তোমাদেরকে দুশ্চরিত্র লোকদের সাথে মিশতে নিষেধ করেছিলাম; (১০)আমি অবশ্য ঢালাওভাবে এই জগতের দুশ্চরিত্র লোকদের কিংবা সমস্ত লোভী, লুটেরা বা পৌত্তলিকদের কথা বলিনি, কারণ তাহলে তো তোমাদেরকে এই দুনিয়ার বাইরে চলে যেতে হতো।
(১১)কিন্তু এখন আমি তোমাদেরকে লিখছি- ভাই বা বোন বলে পরিচিত কেউ যদি দুশ্চরিত্র, লোভী, পৌত্তলিক, গালমন্দকারী, মাতাল কিংবা লুটেরা হয়, তাহলে তার সাথে মেলামেশা করো না। এমনকি, ওরকম লোকের সাথে খাওয়াদাওয়াও করো না।
(১২)বাইরের লোকদের বিচার করার আমার কী অধিকার আছে? ভেতরের লোকদের বিচার কি তোমরা করো না? (১৩)বাইরের লোকদের বিচার আল্লাহ-ই করবেন। “দুষ্ট লোকটাকে তোমরা তোমাদের ভেতর থেকে বের করে দাও।”
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)তোমাদের মধ্যে কারো যদি অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তাহলে সে কি দলের মুরব্বীদের কাছে না-গিয়ে অধার্মিকদের কাছে গিয়ে বিচার চাওয়ার সাহস দেখায়? (২)তোমরা কি জানো না যে, ওলিরাই দুনিয়ার বিচার করবেন? আর দুনিয়ার বিচার যদি তোমাদের দ্বারা হয়, তাহলে তোমরা কি তুচ্ছ বিষয়ের বিচার করার যোগ্যতা রাখো না? (৩)তোমরা কি জানো না যে, আমরা ফেরেস্তাদেরও বিচার করবো? এই দুনিয়ার বিষয় তো সামান্য ব্যাপার!
(৪)তোমাদের যদি জাগতিক কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তোমরা কি এমন লোকদের বিচারাক নিয়োগ করো, ইমানদারদের মধ্যে যাদের কোনো স্থানই নেই?
(৫)তোমাদের লজ্জা দেবার জন্যই আমি একথা বলছি। এটা কি হতে পারে যে, ভাইয়ে-ভাইয়ে বিবাদ হলে তা মীমাংসা করার মতো জ্ঞানীলোক তোমাদের মাঝে একজনও নেই, (৬)অথচ একজন ইমানদার আরেকজন ইমানদারের বিরুদ্ধে মামলা চালায়- তাও আবার অবিশ্বাসীদের আদালতে?
(৭)আসলে, তোমাদের পরস্পরের বিরুদ্ধে মামলা করাটাই তোমাদের পরাজয়। এর বদলে তোমরা অন্যায় সহ্য করো না কেনো? ঠকে যাও না কেনো? (৮)অথচ তোমরাই অন্যায় করছো, তোমরাই ঠকাচ্ছো আর তা করছো ইমানদারদেরই প্রতি!
(৯)তোমরা কি জানো না যে, আল্লাহর রাজ্যে অন্যায়কারীদের কোনো স্থান নেই? প্রতারিত হয়ো না! দুশ্চরিত্র, পৌত্তলিক, জিনাকারী, পুরুষ-বেশ্যা, পায়ুকামী, মহিলা বেশ্যা, (১০)চোর, লোভী, মাতাল, গালাগালকারী এবং লুটেরা- এদের একজনও আল্লাহর রাজ্যে স্থান পাবে না।
(১১)তোমরা কেউ-কেউ অমন লোকই ছিলে। কিন্তু হযরত ইসা মসিহের নামে এবং আমাদের আল্লাহর রুহের মধ্য দিয়ে তোমাদেরকে ধুয়ে পরিষ্কার, পবিত্র ও ধার্মিক বলে গ্রহণ করা হয়েছে।
(১২)“সবকিছুই আমার জন্য বৈধ,” কিন্তু সবকিছুই উপকারী নয়। “সবকিছুই আমার জন্য আইনানুগ,” কিন্তু আমি কোনোকিছুরই অধীন হবো না। (১৩)“খাবারের জন্য পেট আর পেটের জন্য খাবার,” কিন্তু এই দুটোই আল্লাহ ধ্বংস করবেন। শরীর জিনার জন্য নয়, বরং আল্লাহর জন্য আর আল্লাহ শরীরের জন্য।
(১৪)আল্লাহ তাঁর ক্ষমতাগুণে মসিহকে মৃত থেকে জীবিত করেছেন এবং আমাদেরকেও মৃত থেকে জীবিত করবেন। (১৫)তোমরা কি জানো না যে, তোমাদের শরীর মসিহেরই অঙ্গপ্রত্যঙ্গ? তাহলে আমি কি মসিহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে গিয়ে বেশ্যার অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পরিণত করবো? কখনোই না।
(১৬)তোমরা কি জানো না, বেশ্যার সাথে যে মিলিত হয়, সে তার সাথে একদেহে পরিণত হয়? কেননা একথা বলা হয়েছে, “তারা দুজন একদেহ হবে।” (১৭)কিন্তু মসিহের সাথে যে যুক্ত হয়, সে তাঁর সাথে এক- রুহে পরিণত হয়।
(১৮)জিনা থেকে দূরে থাকো! মানুষ যে-সব গুনাহ করে তার সবই দেহের বাইরের কিন্তু জিনাকারী তার নিজের দেহের বিরুদ্ধেই গুনাহ করে।
(১৯)কিংবা তোমরা কি জানো না, তোমাদের দেহ হলো তোমাদের হৃদয়ে বাসকারী সেই আল্লাহর রুহের ঘর, যাঁকে তোমরা আল্লাহর কাছ থেকে পেয়েছো, এবং তোমরা তোমাদের নিজেদের নও?
(২০)কারণ মূল্য দিয়ে তোমাদেরকে কেনা হয়েছে; সুতরাং, আল্লাহর গৌরবের জন্য তোমাদের দেহ ব্যবহার করো।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১) তোমরা আমাকে যে-সব বিষয়ে লিখেছো, এবার সে-প্রসঙ্গে আসা যাক: “কোনো নারীকে স্পর্শ না করা একজন পুরুষের জন্য ভালো।” (২)কিন্তু যৌন অনৈতিকতা থেকে রক্ষা পাবার জন্য প্রত্যেক পুরুষের নিজের স্ত্রী থাকা আর প্রত্যেক মহিলার নিজের স্বামী থাকা উচিত।
(৩)বিবাহিত জীবনে স্বামীর কাছে স্ত্রীর যা পাওনা, সে তাকে তা দিক; একইভাবে স্ত্রীর কাছে স্বামীর যা পাওনা, সেও তাকে তা দিক। (৪)কারণ স্ত্রীর দেহের ওপর অধিকার তার নিজের নয়, বরং তার স্বামীর; একইভাবে স্বামীর দেহের ওপর অধিকার তার নিজের নয়, বরং তার স্ত্রীর রয়েছে।
(৫)তোমরা একে অন্যকে এ-অধিকার থেকে বঞ্চিত করো না; তবে একমত হয়ে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত, তোমরা নিজেদেরকে ইবাদতে মসগুল রাখার জন্য, আলাদা থাকতে পারো; তারপরে আবার দুজনে মিলিত হয়ো, যেনো তোমাদের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের অভাবে শয়তান তোমাদেরকে গুনাহে ফেলতে না-পারে।
(৬)একথা আমি তোমাদেরকে হুকুম দিয়ে নয়, বরং অনুমতি দিয়েই বলছি। (৭)মন চায় যে, সবাই যদি আমার মতো হোতো! কিন্তু আল্লাহর কাছ থেকে একেকজন একেকরকম দান পেয়েছে; একজনের দান একরকম, আবার অন্যজনের দান অন্যরকম।
(৮)অবিবাহিত আর বিধবাদের আমি বলছি, তাদের জন্য উত্তম হলো আমার মতো অবিবাহিত থাকা। (৯)কিন্তু তারা যদি আত্মসংযমের অনুশীলন না-করে, তাহলে বিয়ে করুক; কারণ কামনার আগুনে পুড়ে মরার চেয়ে বিয়ে করাই বরং ভালো।
(১০)যাদের বিয়ে হয়েছে তাদের আমি এই হুকুম দিচ্ছি- অবশ্য আমি না বরং আল্লাহই দিচ্ছেন- স্ত্রী যেনো তার স্বামীর কাছ থেকে আলাদা না হয়।
(১১)কিন্তু যদি সে চলেই যায়, তাহলে সে আর বিয়ে না-করুক কিংবা তার স্বামীর সাথে বিরোধ মিটিয়ে ফেলুক; আর স্বামীও তার স্ত্রীকে তালাক না-দিক।
(১২)অন্য সবাইকে আমি বলছি- আল্লাহ নয় বরং আমি বলছি- যে, কোনো ইমানদার ভাইয়ের যদি অবিশ্বাসী স্ত্রী থাকে আর সেই স্ত্রী তার সাথে থাকতে রাজি থাকে, তাহলে সে তাকে তালাক না-দিক। (১৩)আবার কোনো মহিলার যদি অ-ইমানদার স্বামী থাকে আর সেই স্বামী তার সাথে থাকতে রাজি থাকে, তাহলে সে তাকে তালাক না-দিক। (১৪)কারণ স্ত্রীর মধ্য দিয়ে অ-ইমানদার স্বামী আর স্বামীর মধ্য দিয়ে অ-ইমানদার স্ত্রী পবিত্র হয়েছে। নইলে তোমাদের ছেলে-মেয়েরা তো নাপাক হতো; কিন্তু আসলে তারা পবিত্র। (১৫)কিন্তু সেই অ-ইমানদার স্বামী বা স্ত্রী যদি আলাদা হতে চায়, তাহলে তা হোক। এক্ষেত্রে সেই ভাই বা বোন কোনো নৈতিক বন্ধনে আবদ্ধ নয়। আল্লাহ তোমাদেরকে শান্তিতে থাকার জন্য ডেকেছেন। (১৬)স্ত্রী, তুমি যা জানো, তুমি তোমার স্বামীকে বাঁচাতে পারবে। স্বামী, তুমি যা জানো, তুমি তোমার স্ত্রীকে বাঁচাতে পারবে।
(১৭)সে যা-ই হোক না কেনো, আল্লাহ তোমাদের যার জন্য যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং যে-জন্য তোমাদের ডেকেছেন, তোমরা প্রত্যেকে সেভাবে জীবন-যাপন করো। সমস্ত ইমানদার দলে এটাই আমার নিয়ম।
(১৮)আহ্বান পাবার আগে কেউ কি খতনাপ্রাপ্ত ছিলো? তাহলে সে তার খতনার চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা না-করুক। আহ্বান পাবার আগে কেউ কি খতনাহীন ছিলো? তাহলে সে খতনাকরার চেষ্টা না-করুক। (১৯)খতনা করানো বা না-করানোয় কিছুই এসে যায় না, বরং আল্লাহর হুকুম পালন করাই হলো আসল কথা। (২০)তোমাদের যাকে যে-অবস্থায় আহ্বান করা হয়েছে, তোমরা সেই অবস্থাতেই থাকো।
(২১)তোমাকে আহ্বানের সময় তুমি কি গোলাম ছিলে? সেজন্য দুঃখ করো না। অবশ্য তুমি যদি স্বাধীনতা পেয়ে যাও, তাহলেও তোমার বর্তমান অবস্থাকেই আরো বেশি সার্থক করে তুলো। (২২)গোলাম অবস্থায় যে ব্যক্তি মসিহের আহ্বান পেয়েছে, সে তো মসিহেরই স্বাধীন করা লোক; একইভাবে স্বাধীন অবস্থায় যে ব্যক্তি আহ্বান পেয়েছে, সে তো মসিহেরই গোলাম। (২৩)দাম দিয়ে তোমাদের কেনা হয়েছে; সুতরাং মানুষের গোলাম হয়ো না।
(২৪)ভাই ও বোনেরা, আহ্বানের সময় তোমরা যে-অবস্থায় ছিলে, আল্লাহকে স্মরণ রেখে সে-অবস্থাতেই থাকো। (২৫)কুমারীদের ব্যাপারে আল্লাহর কাছ থেকে আমি কোনো নির্দেশনা পাইনি, তবে আল্লাহর রহমতে বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে আমি আমার মতামত জানাচ্ছি।
(২৬)উপস্থিত সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে আমি মনে করি, যে যে-অবস্থায় আছো, তোমাদের পক্ষে সে-অবস্থায় থাকাই ভালো। (২৭)তোমার কি স্ত্রী আছে? তাহলে মুক্ত হতে চেষ্টা করো না। তোমার কি স্ত্রী নেই? তাহলে বিয়ে করার চেষ্টা করো না।
(২৮)কিন্তু বিয়ে যদি তুমি করোই, তাতে তোমার কোনো গুনাহ হবে না এবং কোনো কুমারী যদি বিয়ে করে, তাহলে তারও কোনো গুনাহ হবে না। তবুও যারা বিয়ে করে, এই জীবনে তারা যন্ত্রণা ভোগ করবেই, আর এই যন্ত্রণা থেকে আমি তোমাদের মুক্তি চাই।
(২৯)ভাই ও বোনেরা, আমি বলতে চাইছি- নির্ধারিত সময় নিকটবর্তী; কাজেই এখন থেকে বিবাহিতরা এমনভাবে চলুক, যেনো তাদের স্ত্রী নেই; (৩০)এবং শোকার্ত যারা, তারা যেনো শোকার্তই নয়, যারা আনন্দিত, তারা যেনো আনন্দিতই নয়, যারা কেনাকাটা করছে, তাদের যেনো কোনো সম্পদই নেই; (৩১)এবং যারা দুনিয়াবি লেনদেনের সাথে জড়িত, তারা যেনো কোনো লেনদেনের সাথেই জড়িত নয়। কারণ এই দুনিয়ার বর্তমান রূপ বিলীন হতে চলেছে।
(৩২)আমি চাই, তোমরা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকো। অবিবাহিত লোক আল্লাহর বিষয় নিয়ে ও তাঁকে কীভাবে সন্তুষ্ট করা যায়, তা নিয়ে চিন্তা করে। (৩৩)কিন্তু বিবাহিত লোক দুনিয়াবি বিষয় নিয়ে এবং কীভাবে তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করা যায়, তা নিয়ে চিন্তা করে; (৩৪)আর এভাবে তাঁর আকর্ষণ বিভক্ত হয়ে পড়ে। অবিবাহিতা নারী ও কুমারীরা আল্লাহর বিষয়ে চিন্তা করে, যাতে তারা দেহমনে পবিত্র হতে পারে। কিন্তু বিবাহিতা নারী দুনিয়াবি বিষয় নিয়ে এবং কীভাবে তার স্বামীকে সন্তুষ্ট করা যায়, তা নিয়ে চিন্তা করে।
(৩৫)তোমাদের ভালোর জন্যই আমি একথা বলছি; তোমাদের ওপর কোনো প্রকার নিয়ন্ত্রণ চাপিয়ে দেবার জন্য নয়, বরং সৎ কাজের ও সম্পূর্ণ মনপ্রাণ দিয়ে আল্লাহর কাছে নিবেদিত হওয়ার ক্ষেত্রে তোমাদেরকে উৎসাহ দেবার জন্যই বলছি। (৩৬)কেউ যদি মনে করে যে, সে তার বাগদত্তার প্রতি সুবিচার করছে না, আর যদি তার অনুভূতি তীব্র হয়, এবং সেটাই হওয়া উচিত, তাহলে ইচ্ছা হলে সে বিয়ে করুক; তাতে তার কোনো গুনাহ হবে না। তারা বিয়ে করুক।
(৩৭)কিন্তু কেউ যদি তার সিদ্ধান্তে অটল হয়, তার ওপর যদি কোনো বাধ্যবাধকতা না-থাকে বরং নিজের ইচ্ছার ওপর নিজের থাকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, সে যদি তাকে বাগদত্তা হিসেবেই রাখবে বলে মনে-মনে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তাহলে সে ভালো করে। (৩৮)সুতরাং, যে তার বাগদত্তাকে বিয়ে করে সে ভালো করে; আর যে বিয়ে থেকে বিরত থাকে সে আরো ভালো করে।
(৩৯)স্ত্রী ততোদিনই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ থাকে, যতোদিন তার স্বামী বেঁচে থাকে। কিন্তু স্বামী মারা গেলে সে স্বাধীন, যাকে ইচ্ছা বিয়ে করতে পারে, তবে সে যেনো ইমানদার হয়। (৪০)অবশ্য আমার মতে, সে যেমন আছে যদি তেমনই থাকে, তাহলে সেটা তার জন্য আরো বেশি কল্যাণকর। আমি মনে করি, আমিও আল্লাহর রুহকে পেয়েছি।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১) এবার প্রতিমার সামনে উৎসর্গ করা খাবারের বিষয়ে আসা যাক: আমরা জানি যে, “আমাদের সকলের জ্ঞান আছে।” জ্ঞান মানুষকে ফুলিয়ে তোলে, কিন্তু মহব্বত মানুষকে গড়ে তোলে।
(২)কেউ যদি কোনোকিছু জানে বলে দাবি করে, তাহলে তার এখনো প্রয়োজনীয় জ্ঞান নেই; (৩)কিন্তু যে কেউ আল্লাহকে মহব্বত করে, আল্লাহ তাকে জানেন।
(৪)সুতরাং, প্রতিমার সামনে উৎসর্গ করা খাবার খাওয়ার বিষয়ে, আমরা জানি যে, “প্রকৃত অর্থে পৃথিবীতে প্রতিমার কোনো অস্তিত্বই নেই” এবং “একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই।” (৫)বস্তুত, যদিও আসমানে বা জমিনে তথাকথিত দেবতারা থাকতে পারে- বাস্তবিকই এই দেবতা ও প্রভুর সংখ্যাও অনেক- (৬)তবুও আমাদের জন্য আল্লাহ মাত্র একজনই আছেন; তিনিই প্রতিপালক; তাঁর কাছ থেকেই সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে এবং তাঁর জন্য আমরা বেঁচে আছি। আর আমাদের নেতা মাত্র একজন, তিনি হযরত ইসা মসিহ, যাঁর মাধ্যমে দিয়ে সবকিছু হয়েছে এবং তাঁরই মধ্য দিয়ে আমরা বেঁচে আছি।
(৭)যাহোক, এই জ্ঞান প্রত্যেকের নেই। যেহেতু এখনো পর্যন্ত কেউ কেউ প্রতিমা পুজোয় ভীষণভাবে অভ্যস্ত হয়ে আছে, সেহেতু এখনো তারা প্রতিমার সামনে উৎসর্গ করা খাবারকে প্রসাদ মনে করেই খায়; আর তাতে তাদের বিবেক দুর্বল বলে কলুষিত হয়। (৮)“খাবার আমাদেরকে আল্লাহর কাছে নিয়ে যায় না।” খাবার না-খেলেও আমাদের কোনো ক্ষতি হয় না, আবার খেলেও কোনো লাভ হয় না।
(৯)তবে সাবধান! তোমাদের এই স্বাধীনতা যেনো কোনোভাবে দুর্বলদের বাঁধার কারণ হয়ে না-দাঁড়ায়। (১০)অন্যেরা যদি তোমাদের মতো জ্ঞানীদেরকে পুজোমণ্ডপে বসে খেতে দেখে, তাহলে, তাদের নীতিচেতনা দুর্বল বলে, তারা কি প্রতিমার সামনে উৎসর্গ করা খাবার খেতে উৎসাহিত হবে না? (১১)সুতরাং, যে-দুর্বল ইমানদারদের জন্য মসিহ ইন্তেকাল করেছেন, তোমার জ্ঞানের দ্বারাই তারা ধ্বংস হলো।
(১২)এভাবে যখন তোমরা তোমাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গুনাহ করো, এবং তাদের দুর্বল অনুভূতিতে আঘাত করো, তখন তোমরা তো আসলে মসিহের বিরুদ্ধেই গুনাহ করো। (১৩)সুতরাং, খাবার যদি তাদের পতনের কারণ হয়, তাহলে আমি আর কখনো মাংস খাবো না, যাতে আমি তাদের একজনেরও পতনের কারণ না-হই।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)আমি কি স্বাধীন নই? আমি কি হাওয়ারি নই? আমি কি হযরত ইসা আ.-কে দেখিনি? তোমরা কি আল্লাহর উদ্দেশে আমারই কাজের ফল নও? (২)অন্যদের কাছে না-হলেও তোমাদের কাছে তো আমি একজন হাওয়ারি; কারণ আল্লাহর কাছে তোমরাই আমার হাওয়ারি-পদের সিলমোহর। (৩)যারা আমাকে যাচাই করতে চায়, তাদের কাছে এটাই আমার আত্মপক্ষ সমর্থন।
(৪)আমাদের কি খাওয়া-দাওয়ার অধিকার নেই? (৫)ইমানদার স্ত্রীকে সফর সঙ্গী করার অধিকার কি আমাদের নেই, যেমনটি করে থাকেন অন্যান্য হাওয়ারিরা, হযরত ইসা মসিহের ভাইয়েরা ও হযরত কৈফা রা.? (৬)নাকি কেবল বার্নাবাস ও আমিই হলাম সেই ব্যক্তি যাদের জীবিকা নির্বাহের কাজ করা থেকে বিরত থাকার অধিকার নেই?
(৭)কে কখন নিজের টাকা খরচ করে সৈনিকের চাকরি করে? কে আঙুরখেত করে কিন্তু তার কোনো ফল খায় না? আর কেই-বা পশুপাল চরিয়েও তার কোনো দুধ খায় না? (৮)আমি কি মানুষের অধিকার থেকে একথা বলছি? তওরাত শরীফও কি একই কথা বলে না? (৯)তওরাত শরীফে লেখা আছে, “শস্য মাড়াই করার সময় বলদের মুখে জালতি বেঁধো না।” আল্লাহ কি কেবল বলদের কথা ভাবেন?
(১০)তিনি কি সম্পূর্ণরূপে আমাদের ভালোর জন্য একথা বলেননি? নিশ্চয়ই একথা আমাদের ভালোর জন্য লেখা হয়েছিলো; কারণ যে জমি চাষ করে, তার উচিত আশা নিয়ে জমি চাষ করা এবং যে ফসল মাড়াই করে, তার উচিত ফসলের ভাগ পাবার আশা নিয়ে মাড়াই করা।
(১১)আমরা যখন তোমাদের মাঝে রুহানি বীজ বুনেছি, তখন তোমাদের কাছ থেকে আমরা যদি বস্তুগত সুবিধা গ্রহণ করি, তাহলে তা কি খুব বড়ো কোনো ব্যাপার? (১২) এ-ব্যাপারে তোমাদের ওপর অন্যদের যদি যৌক্তিক অধিকার থাকে, তাহলে আমাদের কি তা আরো বেশি নেই? তবুও আমরা কিন্তু কখনো সে-অধিকার ভোগ করিনি, বরং মসিহের সুখবরের পথে বাধা সৃষ্টির পরিবর্তে আমরা সমস্ত কষ্টই সহ্য করছি।
(১৩)তোমরা কি জানো না, বায়তুল-মোকাদ্দসে যারা খেদমতে নিয়োজিত হয়, তারা বায়তুল-মোকদ্দস থেকেই খাবার পায় আর কোরবানি-দেবার-স্থানে যারা কাজ করে, তারা কোরবানি-দেবার-স্থানে যা কোরবানি দেওয়া হয়, তার ভাগ পায়? (১৪)ঠিক সেভাবে মসিহ হযরত ইসা আ. হুকুম দিয়েছেন, যারা সুখবর প্রচার করে, তারা যেনো তা থেকেই তাদের খাওয়াপরা পায়।
(১৫)তবে আমি এসব অধিকারের কোনোটির কোনোরকম ব্যবহার করিনি, কিংবা আমি এজন্য এসব লিখছি না যাতে সেগুলো আমার ক্ষেত্রে প্রয়োগ হতে পারে। আমার বরং তারচেয়ে মরে যাওয়া ভালো- আমার এই অহঙ্কারের ভিত্তি থেকে কেউ আমাকে বঞ্চিত করতে পারবে না!
(১৬)আমি যদি সুখবর প্রচার করি, তাহলে তা আমাকে অহঙ্কার করার কোনো অধিকার দেয় না, কারণ আমি তা করতে বাধ্য; অভিশাপ আমার ওপর, যদি আমি সুখবর প্রচার না করি! (১৭)আমি যদি নিজের ইচ্ছায় তা করি, তাহলে আমার জন্য পুরস্কার রয়েছে; আর যদি আমি নিজের ইচ্ছায় না-ও করি, তবুও আমার ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব বলেই তা করি।
(১৮)তাহলে আমার পুরস্কার কী? সেই পুরস্কার শুধু এই: ইঞ্জিলের-প্রচারক হিসেবে আমার যে-অধিকার, তা ভোগ না-করে, বিনা মূল্যে, আমি সুখবর প্রচার করতে পারি। (১৯)যদিও আমি সকলের কাছে স্বাধীন, তবুও আমি নিজেকে সকলের কাছে গোলাম বানিয়েছি, যেনো আমি তাদের অনেককে জয় করতে পারি।
(২০)ইহুদিদের জয় করার জন্য ইহুদিদের কাছে আমি একজন ইহুদির মতো হয়েছি। শরিয়তের অধীনে থাকা লোকদেরকে জয় করার জন্য, নিজে শরিয়তের অধীন না-হয়েও, আমি শরিয়তের অধীনে থাকা লোকের মতো হয়েছি। (২১)যদিও আমি আল্লাহর দেওয়া শরিয়তের বাইরে নই, বরং মসিহের আইনের অধীনেই আছি, তবুও শরিয়তের বাইরের লোকদের জয় করার জন্য আমি শরিয়তের বাইরে থাকা লোকের মতো হয়েছি।
(২২)দুর্বলদের জয় করার জন্য দুর্বলদের কাছে আমি দুর্বলই হয়েছি। যেভাবেই হোক, কিছু লোককে নাজাতের পথে আনার জন্য আমি সকলের কাছে সবকিছু হয়েছি। (২৩)এসব আমি সুখবরের জন্যই করছি, যেনো আমি এর রহমতের ভাগী হতে পারি।
(২৪)তোমরা কি জানো না, দৌঁড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সবাই দৌঁড়ায় কিন্তু পুরস্কার পায় মাত্র একজন? তোমরাও এমনভাবে দৌঁড়াও যাতে পুরস্কার পেতে পারো। (২৫)ক্রীড়াবিদেরা সব বিষয়ে আত্মসংযমের চর্চা করে; তারা তা করে অস্থায়ী জয়মালা পাবার আশায় কিন্তু আমরা করি চিরস্থায়ী বিজয় মালা পাবার আশায়। (২৬)সুতরাং, আমি লক্ষ্যহীনভাবে দৌঁড়াচ্ছি না, কিংবা বাতাসের সাথেও মুষ্টিযুদ্ধ করছি না; (২৭)আমি বরং আমার শরীরকে শাস্তি দিয়ে নিজের বশে রাখছি, যাতে অন্যদের কাছে প্রচার করার পরে আমি নিজেই অযোগ্য হয়ে না-যাই।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)ভাই ও বোনেরা, আমি চাই না তোমাদের অজানা থাকুক যে, আমাদের পূর্বপুরুষেরা সবাই মেঘের নিচে ছিলেন, সবাই সাগরের ভেতর দিয়ে গিয়েছিলেন, (২)তাঁরা সবাই মেঘ ও সমুদ্রের ভেতর হযরত মুসা আ. এর কাছে বায়াত গ্রহণ করেছিলেন; (৩)এবং সবাই একই রুহানি খাবার খেয়েছিলেন, (৪)এবং সবাই একই রুহানি পানীয় পান করেছিলেন। যে-রুহানি পাথর তাঁদের পিছে পিছে যাচ্ছিলো, তা থেকেই তাঁরা পান করেছিলেন; আর মসিহ-ই ছিলেন সেই পাথর।
(৫)কিন্তু তাদের অধিকাংশের ওপরই আল্লাহ সন্তুষ্ট ছিলেন না এবং মরুভূমিতেই তাঁরা নিহত হয়েছিলেন। (৬)ঘটে-যাওয়া এসব ঘটনা আমাদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ, যেনো আমরা তাঁদের মতো মন্দ কামনা না-করি। (৭)তাদের মধ্যে কেউ-কেউ যেমন মূর্তিপুজো করেছিলেন, তোমরা তেমন কোরো না। যেমনটি লেখা আছে, “লোকেরা খাওয়াদাওয়া করতে বসলো, পরে তারা আমোদপ্রমোদে মেতে উঠলো।” (৮)তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ জিনা করেছিলেন; আমরা যেনো তাদের মতো জিনায় লিপ্ত না হই, আর এর ফলে একই দিনে তেইশ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছিলেন।
(৯)আমরা যেনো মসিহকে পরীক্ষা না-করি, যেমনটি তাদের মধ্যে কেউ কেউ করেছিলেন, এবং সাপের কামড়ে মারা পড়েছিলেন। (১০)তোমরা অভিযোগ কোরো না, যেমনটি তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ করেছিলেন, এবং ধ্বংসকারীর হাতে ধ্বংস হয়েছিলেন। (১১)এসব ঘটনা তাদের ওপর ঘটেছিলো যেনো তারা আমাদের জন্য উদাহরণ হয়ে উঠে; এবং আমাদের- যাদের ওপর আখেরি জামানা এসে পড়েছে, আমাদের শিক্ষা দেবার জন্য তা লিখে রাখা হয়েছে। (১২)সুতরাং, তোমরা যদি মনে করো যে, তোমরা দাঁড়িয়ে আছো, তাহলে সাবধান হও, যেনো তোমাদের পতন না-হয়।
(১৩)প্রত্যেকের জীবনে যে-সব পরীক্ষা এসে থাকে, তা থেকে ভিন্ন কোনো পরীক্ষা তোমাদের জীবনে আসেনি। আল্লাহ বিশ্বস্ত; তিনি তোমাদেরকে সহ্যের অতিরিক্ত পরীক্ষায় পড়তে দেবেন না, বরং পরীক্ষার সাথে সাথে বেরিয়ে আসার একটি পথও তিনি করে দেবেন, যেনো তোমরা তা সহ্য করতে পারো।
(১৪)সুতরাং, প্রিয় বন্ধুরা আমার, তোমরা মূর্তিপুজো থেকে দূরে থাকো। (১৫)আমি তোমাদের বুদ্ধিমান মনে করে কথা বলছি; আমি যা বলছি তা তোমরা নিজেরা বিচার করে দেখো। (১৬)রহমতের যে-পেয়ালাটি নিয়ে আমরা শুকরিয়া আদায় করি, তা কি মসিহের রক্তে অংশগ্রহণ নয়? আর যে-রুটি আমরা ছিড়ে টুকরো করি, তা কি মসিহের শরীরে অংশগ্রহণ নয়? (১৭)কেননা শরীর একটাই, আমরা অনেক হলেও একটাই শরীর, কারণ আমরা সবাই একটি রুটিতেই অংশগ্রহণ করি।
(১৮)ইস্রায়েল জাতির কথা চিন্তা করে দেখো; যারা কোরবানির মাংস খায় তারা কি সেই কোরবানি দেবার স্থানের অংশীদার নয়? (১৯)আমার এই কথা দিয়ে আমি কী বোঝাতে চাই? প্রতিমার সামনে উৎসর্গ করা খাবার কি বিশেষ কিছু, নাকি ওই প্রতিমা বিশেষকিছু? (২০)না, তা নয়; আমি বলতে চাইছি যে, পৌত্তলিকরা যা উৎসর্গ করে, তা আল্লাহর উদ্দেশ্যে নয় তারা ভুতদের কাছেই করে। আমি চাই না যে, তোমরা ভূতদের অংশীদার হও।
(২১)তোমরা একই সাথে হযরত ইসা মসিহের এবং ভূতদের পেয়ালায় পান করতে পারো না। তোমরা একই সাথে হযরত ইসা মসিহের এবং ভূতদের খাবারে অংশ নিতে পারো না। (২২)অথবা আমরা কি মসিহকে ঈর্ষান্বিত করছি? আমরা কি তাঁর চেয়েও শক্তিশালী?
(২৩)“সবকিছুই বৈধ,” কিন্তু সবকিছুই উপকারী নয়। “সবকিছুই আইনসম্মত,” কিন্তু সবকিছুই গড়ে তোলে না। (২৪)তোমার নিজের সুবিধার কথা ভেবো না, বরং অন্যের সুবিধার কথা ভাবো। (২৫)মাংসের বাজারে যা কিছু বিক্রি হয়, বিবেকের কাছে কোনো প্রশ্ন না তুলে, তা খাও; (২৬)কারণ “জমিন ও এর প্রাচুর্য আল্লাহরই।”
(২৭)কোনো অ-ইমানদার যদি তোমাদের দাওয়াত করে আর তোমরা দাওয়াত খেতে যাও, তাহলে, বিবেকের কাছে কোনো প্রশ্ন না করে, তোমাদের সামনে যা দেওয়া হয় তা খেয়ো। (২৮)কিন্তু কেউ যদি তোমাদের বলে, “এটা তো বলি-দেওয়া-পশুর মাংস,” তাহলে যে তোমাদের জানিয়ে দিয়েছে তার কথা বিবেচনায় রেখে এবং বিবেকের খাতিরে তা খেয়ো না- (২৯)আমি অন্যের বিবেকের কথা বলছি, তোমাদের নয়। কেননা আমার স্বাধীনতা কেনো অন্য কারো বিবেকের বিচারের বিষয় হবে?
(৩০)আমি যদি শুকরিয়া আদায় করে খাবারে অংশ নেই, তাহলে যে-খাবারের জন্য আমি শুকরিয়া আদায় করছি, তার জন্য কেনো আমি নিন্দিত হবো? (৩১)সুতরাং, তোমরা যা-কিছু খাও অথবা পান করো, কিংবা যা-ই করো-না-কেনো, সবকিছুই আল্লাহর মহিমার জন্য কোরো।
(৩২)ইহুদি বা অ-ইহুদি কিংবা আল্লাহর ওপর যারা ইমান এনেছে তাদের কারো মনে কষ্ট দিয়ো না, (৩৩)আমি যেমন আমার সমস্ত কাজে সবাইকে সন্তুষ্ট করতে চেষ্টা করি, নিজের সুবিধার কথা না-ভেবে বরং অনেকের সুবিধার কথা ভাবি, যেনো তারা নাজাত পায়, তোমরাও তেমনই কোরো।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)আমি যেমন মসিহকে অনুকরণ করছি, তেমনি তোমরাও আমাকে অনুকরণ করো। (২)আমি তোমাদের প্রশংসা করছি, কারণ তোমরা সব ব্যাপারেই আমাকে স্মরণ করে থাকো এবং আমি তোমাদের যে-পরম্পরাগত শিক্ষা দিয়েছি, তা আঁকড়ে আছো।
(৩)কিন্তু আমি চাই, তোমরা যেনো বুঝতে পারো যে, মসিহ প্রত্যেক পুরুষের মাথা এবং স্বামী তার স্ত্রীর মাথা, আর আল্লাহ মসিহের মাথা। (৪)যে-পুরুষ এবাদত করার কিংবা ভবিষ্যৎবানী বলার সময় নিজের মাথা ঢেকে রাখে, সে তার মাথার অসম্মান করে। (৫)কিন্তু যে-মহিলা এবাদত করার কিংবা ভবিষ্যৎবানী বলার সময় নিজের মাথা ঢেকে রাখে না, সে তার মাথার অসম্মান করে- সে একপ্রকার মাথা-কামানো মহিলার মতো হয়ে পড়ে। (৬)কোনো মহিলা যদি মাথা না-ঢাকে, তাহলে সে তার চুলও কেটে ফেলুক; কিন্তু কোনো মহিলার পক্ষে চুল কেটে ফেলা বা মাথা কামিয়ে ফেলা যদি লজ্জার ব্যাপার হয়, তাহলে সে তার মাথা ঢেকে রাখুক। (৭)পুরুষের পক্ষে মাথা ঢেকে রাখা উচিত নয়, কারণ সে আল্লাহর সুরত ও প্রতিচ্ছবি কিন্তু নারী পুরুষের প্রতিচ্ছবি।
(৮)বস্তুত পুরুষ নারী থেকে আসেনি কিন্তু নারী পুরুষ থেকে এসেছে। (৯)নারীর জন্য পুরুষের সৃষ্টি হয়নি কিন্তু পুরুষের জন্য নারীর সৃষ্টি হয়েছে। (১০)এজন্য নারীর উচিত, ফেরেস্তাদের কারণে, তার মাথায় কর্তৃত্বের একটি প্রতীক রাখা।
(১১)তবুও আল্লাহর দৃষ্টিতে নারী পুরুষের থেকে স্বাধীন নয় এবং পুরুষও নারীর থেকে স্বাধীন নয়। (১২)কারণ নারী যেমন পুরুষ থেকে এসেছে, তেমনি পুরুষও নারীর মধ্য দিয়ে এসেছে; কিন্তু সবকিছু আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে। (১৩)তোমরা নিজেরাই বিবেচনা করে দেখো: মাথায় কাপড় না-দিয়ে আল্লাহর ইবাদত করা কি কোনো নারীর শোভা পায়?
(১৪)প্রকৃতি নিজেই কি তোমাদের এ-শিক্ষা দেয় না যে, কোনো পুরুষ যদি লম্বা চুল রাখে, তাহলে তা তার জন্য অসম্মানের বিষয়, (১৫)কিন্তু কোনো নারীর যদি লম্বা চুল থাকে, তাহলে তা তার জন্য গৌরবের বিষয়? কারণ নারীকে চুল দেওয়া হয়েছে তার আবরণ হিসেবে। (১৬)কিন্তু কেউ যদি এ-বিষয়ে তর্ক চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে বলবো- অমন কোনো প্রথা আমাদের কিংবা আল্লাহর সমগ্র ইমানদার দলের মধ্যেও নেই।
(১৭)এখন নিচের নির্দেশনাগুলোর বিষয়ে আমি তোমাদের প্রশংসা করতে পারছি না, কারণ তোমরা যখন সমবেত হও, তখন তা ভালোর জন্য না-হয়ে বরং খারাপের জন্য হয়। (১৮)প্রথমত, আমি শুনতে পাচ্ছি, তোমরা যখন দল হিসেবে একত্রিত হও, তখন তোমাদের মধ্যে দলাদলি থাকে; আর আমি তা কিছুটা বিশ্বাসও করি।
(১৯)নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে দলাদলি থাকতে হবে, কেবল তাহলেই এটি পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, তোমাদের মধ্যে খাঁটি লোক কারা। (২০)তোমরা যখন একত্রিত হও, তখন তা আসলে মসিহের নির্দেশিত অনুষ্ঠানের জন্য হও না। (২১)কারণ খাবার সময় হলে তোমরা প্রত্যেকে নিজ-নিজ খাবার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ো; তাতে কেউ ক্ষুধার্ত থেকে যায়, কেউ আবার মাতাল হয়ে পড়ে।
(২২)এ কেমন রীতি! খাওয়াদাওয়া করার জন্য কি তোমাদের ঘরবাড়ি নেই? অথবা তোমরা কি আল্লাহর দলকে অবজ্ঞা করছো এবং যাদের কিছু নেই তাদেরকে লজ্জা দিচ্ছো? আমি তোমাদের কী বলবো? আমি কি তোমাদের প্রশংসা করবো? না, এ-ব্যাপারে আমি তোমাদের প্রশংসা করতে পারছি না!
(২৩)আমি তোমাদের যে-শিক্ষা দিয়েছি তা আমি আল্লাহর কাছ থেকে পেয়েছি; তা হলো এই: যে-রাতে হযরত ইসা আ. এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছিলো, সেই রাতে তিনি একটি রুটি নিয়েছিলেন; (২৪)এবং শুকরিয়া জানানোর পর, তিনি তা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে বলেছিলেন, “তোমাদের জন্য এই আমার শরীর। আমার স্মরণে তোমরা এমনটি করো।”
(২৫)খাবার শেষে তিনি একইভাবে পেয়ালা নিয়ে বলেছিলেন, “এই পেয়ালা আমার রক্তে সম্পাদিত নতুন ওয়াদা-চুক্তি। তোমরা যতোবার পান করবে, ততোবার আমার স্মরণেই তা করবে।”
(২৬)সেজন্য মসিহ না-আসা পর্যন্ত তোমরা যতোবার এই রুটি খাবে এবং এই পেয়ালা থেকে পান করবে, ততোবারই তাঁর মৃত্যুর কথা প্রচার করবে। (২৭)সুতরাং, যে-কেউ অযোগ্যভাবে মসিহের রুটি খায় ও পেয়ালা থেকে পান করে, মসিহের দেহ ও রক্তের জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে। (২৮)নিজেদেরকে পরীক্ষা করে দেখো, আর তারপরেই কেবল এই রুটি খাও এবং এই পেয়ালা থেকে পান করো। (২৯)কারণ যারা দেহটিকে না বুঝে খায় ও পান করে, তারা নিজেরা নিজেদের শাস্তি খায় ও পান করে।
(৩০)সেজন্যই তোমাদের মধ্যে অনেকে দুর্বল আর অসুস্থ, আবার অনেকে মারাও গেছে। (৩১)কিন্তু আমরা নিজেরা যদি নিজেদের বিচার করতাম, তাহলে আমরা বিচারিত হতাম না। (৩২)কিন্তু আল্লাহ যখন আমাদের বিচার করেন, তখন আমাদেও শাসন করা হয়, যাতে আমরা দুনিয়ার সাথে দোষী সাব্যস্ত না-হই।
(৩৩)সুতরাং, ভাই ও বোনেরা আমার, তোমরা যখন খাবার জন্য একত্রিত হও, তখন একে অন্যের জন্য অপেক্ষা কোরো। (৩৪)তোমাদের যদি খিদে পায় তাহলে বাড়িতেই খেয়ে নিয়ো, যাতে তোমাদের একত্রিত হওয়াটা শাস্তির কারণ হয়ে না-দাঁড়ায়। আমি যখন আসবো তখন অন্যসব ব্যাপারে নির্দেশ দেবো।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)ভাই ও বোনেরা, আমি চাই না যে, আল্লাহর রুহের দান সম্বন্ধে তোমরা অজানা থাকো। (২)তোমরা জানো যে, তোমরা যখন পৌত্তলিক ছিলে, তখন তোমাদের নির্বাক প্রতিমার পরিচালিত হয়েছিলো।
(৩)সুতরাং, আমি চাই তোমরা বুঝে নাও যে, আল্লাহর রুহের দ্বারা কথা বললে কেউ কখনো বলে না, “ইসার ওপর অভিশাপ নেমে আসুক!” আবার আল্লাহর রুহের প্রেরণা না-পেলে কেউই বলতে পারে না, “ইসা-ই মসিহ”।
(৪)দান নানা প্রকার হলেও রুহ কিন্তু একই; (৫)খেদমত নানা প্রকার হলেও মসিহ কিন্তু একজনই; (৬)এবং কার্যকলাপ নানা প্রকার আছে, কিন্তু আল্লাহ একজনই- তিনিই প্রত্যেকের মাঝে সবকিছু সক্রিয় করেন।
(৭)সকলের উপকারের জন্যই প্রত্যেককে রুহের প্রকাশ করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। (৮)রুহের মধ্যমে একজনকে দেওয়া হয় প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণ ভাবনার কথা বলার ক্ষমতা, আবার সেই একই রুহের মাধ্যমে অন্যজনকে দেওয়া হয় জ্ঞানের কথা বলার ক্ষমতা,
(৯)একই রুহের মাধ্যমে একজনকে দেওয়া হয় ইমান, আবার অন্যজনকে দেওয়া হয় রোগ ভালো করার নানারকম দান, (১০)কাউকে দেওয়া হয় আশ্চর্য়কাজ করার ক্ষমতা, কাউকে ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা, কাউকে রুহদেরকে চিনে নেবার ক্ষমতা, কাউকে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলার ক্ষমতা আবার কাউকে দেওয়া হয় বিভিন্ন ভাষা বুঝিয়ে দেবার ক্ষমতা।
(১১)এই সবকিছু সক্রিয় করে তোলেন সেই এক ও অদ্বিতীয় রুহ, তিনি যাকে যা দিতে ইচ্ছা করেন, তাকে তা-ই দেন। (১২)যেমন দেহ একটি হলেও তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অনেক এবং সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মিলে একটাই দেহ হয়, মসিহও ঠিক তেমনই।
(১৩)একই রুহের মাধ্যমে বায়াত গ্রহণ করে আমরা এক-দেহ হয়েছি এবং সকলেই একই রুহের স্বাদ গ্রহণ করেছি- তা আমরা ইহুদি বা অ-ইহুদি, গোলাম কিংবা স্বাধীন, যা-ই হই না কেনো।
(১৪)প্রকৃতপক্ষে একটি নয় বরং অনেকগুলো অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সমন্বয়ে শরীর গঠিত হয়। (১৫)পা যদি বলে, “আমি হাত নই, কাজেই আমি শরীরের অংশও নই,” তাহলে সেটা যে শরীরের অংশ নয়, এমন নয়। (১৬)আবার কান যদি বলে, “আমি চোখ নই, কাজেই আমি শরীরের অংশও নই,” তাহলে সেটাও যে শরীরের অংশ নয়, এমন নয়। (১৭)গোটা শরীর যদি একটি চোখ হতো, তাহলে শোনার শক্তি কোথায় থাকতো? আবার গোটা শরীর যদি কান হতো, তাহলে ঘ্রাণশক্তি কোথায় থাকতো?
(১৮)তবে যেভাবে রয়েছে- শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোর প্রত্যেকটিকে আল্লাহ নিজের ইচ্ছামতো সাজিয়েছেন। (১৯)সবগুলোই যদি একটা অঙ্গ হতো, তাহলে শরীর কোথায় থাকতো? (২০)বস্তুত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অনেক হলেও শরীর কিন্তু একটাই।
(২১)চোখ হাতকে বলতে পারে না, “তোমাকে আমার দরকার নেই;” আবার মাথা পাকে বলতে পারে না, “তোমাকে আমার দরকার নেই।” (২২)অন্যদিকে, শরীরের যেসব অঙ্গকে তুলনা-মূলকভাবে দুর্বল বলে মনে হয়, সেগুলোই বেশি দরকারি। (২৩)এবং শরীরের যেসব অঙ্গকে আমরা কম সম্মানের বলে মনে করি, সেগুলোকেই অধিক সম্মানে ঢেকে রাখি; এবং আমাদের যেসব অঙ্গ কম শ্রদ্ধার, সেগুলোর প্রতি আমরা পরম শ্রদ্ধা দেখাই,
(২৪)যদিও আমাদের আরো শ্রদ্ধার অঙ্গগুলোর এটি দরকার নেই। কিন্তু আল্লাহ শরীরটি এভাবে সাজিয়েছেন, তুচ্ছ অঙ্গটিকে অধিক সম্মান দিয়েছেন, (২৫)যাতে শরীরের ভেতর কোনো বিভেদ না থাকে, বরং অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো একে অন্যের প্রতি একইরকম যত্নবান হয়।
(২৬)একটি অঙ্গ ব্যথা পেলে সমস্ত অঙ্গই একত্রে তার সাথে ব্যথিত হয়; আবার একটি অঙ্গ সম্মান পেলে সমস্ত অঙ্গই একত্রে সেটির সাথে আনন্দিত হয়।
(২৭)এখন তোমরাই মসিহের শরীর এবং একেকজন সেই শরীরের একেকটি অঙ্গ।
(২৮)আল্লাহ ইমানদার দলগুলোতে প্রথমত হাওয়ারি, দ্বিতীয়ত ভবিষ্যৎবক্তা, তৃতীয়ত শিক্ষক নিযুক্ত করেছেন; অতঃপর নিযুক্ত করেছেন তাদেরকে, যাঁদের রয়েছে অলৌকিক কাজ করার, রোগ ভালো করার, সাহায্য করার এবং পরিচালনা করার ও বিভিন্ন ভাষায় কথা বলার ক্ষমতা।
(২৯)সবাই কি হাওয়ারি? সবাই কি ভবিষ্যৎবক্তা? সবাই কি শিক্ষক? সবাই কি অলৌকিক কাজ করে? (৩০)সবাই কি সুস্থ করার ক্ষমতা পেয়েছে? সবাই কি বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে? সবাই কি বিভিন্ন ভাষার অর্থ বলে দেয়?
(৩১)তোমরা বরং উত্তম দান পাবার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করো। আমি তোমাদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ এক পথের সন্ধান দেবো।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)আমি যদি মানুষ ও ফেরেশতার ভাষায় কথা বলি কিন্তু আমার মধ্যে মহব্বত না-থাকে, তাহলে তো আমি ঢং ঢং শব্দকারী ঘন্টা বা ঝনঝন করা করতাল হয়ে পড়েছি।
(২)আমার যদি ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা থাকে, আমি যদি সমস্ত রহস্যময় ব্যাপার বুঝতে পারি এবং সবরকমে বিজ্ঞ হই, এবং আমার যদি পাহাড়কে সরিয়ে দেবার মতো পূর্ণ ইমান থাকে, অথচ আমার মধ্যে মহব্বত না-থাকে, তাহলে আমি তো কিছুই নই।
(৩)আমি যদি আমার সমস্ত সম্পত্তি দান করে দেই, এবং গর্ব করার আশায় আমি যদি আমার দেহটিকে দান করে দেই, অথচ আমার মধ্যে যদি মহব্বত না-থাকে, তাহলে আমার কোনোই লাভ নেই।
(৪)মহব্বত ধৈর্য ধরে, দয়া করে; মহব্বত হিংসা করে না, দম্ভ কিংবা ঔদ্ধত্য দেখায় না, (৫)কিংবা রূঢ় আচরণ করে না। মহব্বত জিদ ধরে না, সহজে রাগ করে না, বিরক্ত হয় না; (৬)পাপের কাজে আনন্দ পায় না, বরং সত্য নিয়ে আনন্দ করে। (৭)মহব্বত সবকিছু ধারণ করে, সবকিছু বিশ্বাস করে, সবকিছুতে আশা রাখে আর সবকিছু সহ্য করে। (৮)মহব্বত কখনো শেষ হয় না। সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণী একদিন শেষ হয়ে যাবে; ভাষাগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে; জ্ঞানও শেষ হয়ে যাবে।
(৯)কারণ আমরা আংশিক মাত্র জানি ও আংশিকই ভবিষ্যদ্বাণী করি; (১০)কিন্তু সম্পূর্ণ যখন আসবে, আংশিক তখন শেষ হয়ে যাবে। (১১)আমি যখন শিশু ছিলাম, তখন আমি শিশুর মতো কথা বলতাম, শিশুর মতো চিন্তা করতাম এবং শিশুর মতোই যুক্তি দিতাম; কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর শিশুর সবকিছুই আমি ত্যাগ করেছি।
(১২)আমরা যেনো এখন আয়নায় অস্পষ্ট দেখছি কিন্তু তখন সামনা-সামনি দেখতে পাবো। আমি এখন আংশিক মাত্র জানি, কিন্তু আমি যেমন এখন সম্পূর্ণভাবে পরিচিত হয়েছি, তখন আমি তেমনি সম্পূর্ণভাবে জানতে পারবো।
(১৩)আর এখন ইমান, আশা আর মহব্বত- এই তিনটি টিকে আছে; কিন্তু এগুলোর মধ্যে মহব্বতই শ্রেষ্ঠ।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)তোমরা মহব্বতের পেছনে ছুটো এবং রুহানি দানগুলো পাবার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করো, এবং বিশেষভাবে যেনো তোমরা ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারো।
(২)বিভিন্ন ভাষায় যারা কথা বলে, তারা মানুষের কাছে নয় কিন্তু আল্লাহর কাছেই কথা বলে, কেননা কেউ-ই তা বুঝতে পারে না; তারা তো রুহের মাধ্যমে রহস্যময় কথা বলে। (৩)অন্যদিকে যারা ভবিষ্যদ্বাণী করে, তারা তো মানুষের কাছে এমন কথা বলে, যা শ্রোতাদের গড়ে তোলে এবং উৎসাহ ও সান্ত্বনা দেয়। (৪)বিভিন্ন ভাষায় যারা কথা বলে তারা নিজেদেরকে গড়ে তোলে, কিন্তু যারা ভবিষ্যদ্বাণী করে তারা ইমানদাদের দলকে গড়ে তোলে।
(৫)আমি চাই, যেনো তোমরা সকলেই বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে পারো, কিন্তু তার চেয়েও বেশি চাই, যেনো তোমরা ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারো। দলকে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন ভাষায় যে কথা বলে, কেউ একজন যদি সেকথার মানে বুঝিয়ে না-দেয়, তাহলে তার চেয়ে বরং যে ভবিষ্যদ্বাণী করে সে-ই উত্তম।
(৬)সুতরাং, ভাই ও বোনেরা, আমি যদি তোমাদের কাছে এসে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলি, কিন্তু ইলহাম, জ্ঞান, ভবিষ্যদ্বাণী কিংবা শিক্ষার কথা না-বলি, তাহলে আমি কীভাবে তোমাদের উপকার করবো? (৭)এটা অনেকটা বাঁশী কিংবা বীণা জাতীয় নিস্প্রাণ বাদ্যযন্ত্রের মতো; তাল-লয় না-মেনেই যদি ওগুলো বাজতে থাকে, তাহলে কী বাজছে তা মানুষ কী করে বুঝবে?
(৮)যুদ্ধেও বাজনা যদি অস্পষ্ট স্বরে বাজে, তাহলে কে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হবে? (৯)তোমাদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; তোমরা যদি কোনো ভাষায় এমন বক্তব্য দাও যা বুঝা যায় না, তাহলে যা বললে তা মানুষ কী করে বুঝবে? কারণ তোমাদের কথা তো তখন বাতাসের কাছে বলা কথার মতোই হবে।
(১০)নিশ্চয়ই দুনিয়াতে হাজারো ভাষা আছে এবং এর কোনোটিই অর্থহীন নয়, ভাষা ছাড়া কিছুই নেই। (১১)সুতরাং, আমি যদি কোনো শব্দের অর্থ না-বুঝি, তাহলে বক্তার কাছে আমি এবং আমার কাছে বক্তা উভয়েই বিদেশিরই মতো হই। (১২)তোমাদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; যেহেতু তোমরা নানারকম রুহানি দান পাবার জন্য গভীরভাবে আগ্রহী, সেহেতু ইমানদারদেরকে গড়ে তোলার জন্য ওগুলো বেশি করে পেতে সচেষ্ট হও।
(১৩)সুতরাং, ভিন্ন ভাষায় যে কথা বলে, সে মোনাজাত করুক, যেনো তার অর্থ বুঝিয়ে দিতে পারে।
(১৪)আমি যদি ভিন্ন ভাষায় মোনাজাত করি, তাহলে আমার রুহ মোনাজাত করে কিন্তু আমার মন নিষ্ক্রিয় থাকে। (১৫)তাহলে আমার কী করা উচিত? আমি রুহ দিয়ে মোনাজাত করবো বটে, তবে আমার মন দিয়েও মোনাজাত করবো; আমি রুহ দিয়ে হামদ পেশ করবো, মন দিয়েও হামদ পেশ করবো। (১৬)তা না হলে তুমি যদি রুহে শুকরিয়া আদায় করো, তাহলে বহিরাগতের অবস্থানে যে রয়েছে সে কেমন করে তোমার শুকরিয়া শেষে “আমিন” বলে সায় দেবে? কারণ সেই বহিরাগত তো জানে না তুমি কী বলছো। (১৭)তুমি হয়তো চমৎকারভাবেই শুকরিয়া আদায় করছো কিন্তু অন্য লোকটির তাতে কোনো উপকারই হচ্ছে না।
(১৮)আমি তোমাদের সবার চেয়ে অধিক ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলতে পারি বলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি। (১৯)তবুও ইমানদারদেও দলে অন্যদের শিক্ষা দেবার জন্য ভিন্ন ভাষায় হাজার দশেক কথা বলার চেয়ে আমার নিজের মন থেকে মাত্র পাঁচটি কথা বলা ভালো বলে আমি মনে করি।
(২০)ভাই ও বোনেরা, চিন্তাভাবনার দিক থেকে তোমরা ছেলেমানুষের মতো হয়ো না; মন্দের বিষয়ে তোমারা বরং শিশুর মতো হও এবং চিন্তা-ভাবনায় পরিণত মানুষের মতো হও । (২১)কিতাবে লেখা আছে, “আমি অপরিচিত ভাষাভাষি লোকদের দ্বারা এবং বিদেশিদের মুখ দিয়ে আমি এই জাতির কাছে কথা বলবো; তবুও তারা আমার কথায় কান দেবে না,” -একথা আল্লাহ বলছেন।
(২২)সুতরাং, ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ইমানদারদের জন্য নয়, বরং ইমানদারদের জন্য নিদর্শন স্বরূপ; কিন্তু ভবিষ্যদ্বাণী অইমানদারদের জন্য নয়, বরং ইমানদারদের জন্য নিদর্শন স্বরূপ।
(২৩)অতএব, যদি দলেরর সবাই সমবেত হয়ে একই সাথে ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলতে থাকে আর তখন দলের বাইরের লোকেরা অথবা অইমানদারেরা ভেতরে আসে, তাহলে তারা কি তোমাদেরকে পাগল বলবে না?
(২৪)কিন্তু সবাই যদি ভবিষ্যদ্বাণী করে আর তখন কোনো অইমানদারেরা বা দলেরর বাইরের লোক ভেতরে আসে, তাহলে সে সকলের দ্বারা তিরস্কারিত ও সকলের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
(২৫)ওই অবিশ্বাসীর হৃদয়ের গোপন বিষয়গুলো বেরিয়ে পড়ার পর, সে সিজদায় অবনত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে বলবে, “সত্যিই, আল্লাহ আপনাদের মধ্যে আছেন।”
(২৬)বন্ধুরা আমার, তাহলে কী করা উচিত? তোমরা যখন এক জায়গায় মিলিত হও, তখন তোমাদের মধ্যে কেউ হামদ পেশ করে, কেউ শিক্ষা দেয়, কেউ আল্লাহর দেয়া বাণী বা ইলহাম প্রকাশ করে, কেউ ভিন্ন ভাষায় কথা বলে, আবার কেউ অর্থ বুঝিয়ে দেয়। তবে এই সবই যেন গড়ে তুলার জন্য করা হয়।
(২৭)কেউ যদি ভিন্ন ভাষায় কথা বলে, তাহলে বক্তার সংখ্যা দুই থেকে সর্বোচ্চ তিনজন হোক এবং তারা প্রত্যেকে পর্যায়ক্রমে কথা বলুক; আর একজন তার অর্থ বুঝিয়ে দিক।
(২৮)কিন্তু অর্থ বুঝিয়ে দেবার জন্য কেউ যদি না-থাকে, তাহলে তারা বরং দলের সভাতে নীরব থাকুক; তারা নিজেদের সাথে নিজেরা ও আল্লাহর সাথে কথা বলুক।
(২৯)দুই কিংবা তিনজন আল্লাহর কাছ থেকে বিশেষ কোনা সংবাদ বা বানী পেয়ে থাকলে তা বলুক, আর যা বলা হলো তা অন্যেরা বিবেচনা করে দেখুক। (৩০)কাছাকাছি বসে থাকা কেউ যদি ইলহাম পায়, তাহলে প্রথম ব্যক্তিটি নীরব হয়ে যাক, (৩১)কারণ তোমরা প্রত্যেকে পর্যায়ক্রমে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারো, যেনো সবাই শিক্ষা পায় ও উৎসাহিত হয়।
(৩২)নবিদের মানসিক অবস্থা তো নবিদের নিয়ন্ত্রণেই থাকে, (৩৩)কারণ আল্লাহ বিশৃঙ্খলার আল্লাহ নন, তিনি শান্তির আল্লাহ। কামেলদের সমস্ত দলের মতো,
(৩৪)তোমাদের দলেও মহিলারা নীরব থাকুক; কারণ তাদেরকে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়নি; শরিয়ত অনুসারে তারা বরং বাধ্য থাকুক। (৩৫)তাদের যদি কিছু জানার থাকে, তাহলে বাড়িতে তারা তাদের স্বামীদেরকে জিজ্ঞেসে করুক; কারণ একজন মহিলার জন্য দলগত সভায় কথা বলা লজ্জার বিষয়।
(৩৬)আল্লাহর কালাম কি তোমাদের মধ্য থেকেই শুরু হয়েছে কিংবা তা কি কেবল তোমাদেরই কাছে এসেছে? (৩৭)কেউ যদি নিজেকে বিশেষ বার্তাবাহক কিংবা আধ্যাত্মিক লোক বলে মনে করে, তাহলে তাকে স্বীকার করতে হবে যে, আমি তোমাদের কাছে যা-কিছু লিখছি তার সবই আল্লাহর হুকুম। (৩৮)যে কেউ একথার স্বীকৃতি দেয় না, সেও স্বীকৃতি পাবে না।
(৩৯)সুতরাং, বন্ধুরা আমার, ভবিষ্যতের বিষয়ে কথা বলার জন্য আগ্রহী হও এবং ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলতে বাধা দিয়ো না; (৪০)তবে সবকিছুই শালীন ও সুশৃঙ্খলভাবে করা উচিত।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১) ভাই ও বোনেরা, আমি তোমাদেরকে সেই সুখবরের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যা আমি তোমাদের কাছে প্রচার করেছি, যা তোমরা গ্রহণ করেছো, যা তোমরা আঁকড়ে ধরে আছো; (২)যার মাধ্যমে তোমরা নাজাতও পেয়েছো- অবশ্য যে-কালাম আমি তোমাদের কাছে প্রচার করেছি তা যদি তোমরা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে থাকো; আর না হলে বৃথাই তোমরা ইমান এনেছো।
(৩)কারণ আমি নিজে যা পেয়েছি, তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তোমাদের কাছেও তুলে ধরেছি। আর তা হলো এই: পাক-কিতাবের কথামতো মসিহ আমাদের গুনাহের জন্য ইন্তেকাল করেছেন, (৪)তাঁকে দাফন করা হয়েছিলো এবং পাক-কিতাবের কথামতো তৃতীয় দিনে তিনি পুনরুত্থিত হয়েছেন, (৫)এবং হযরত কৈফা রা.-কে ও পরে সেই বারোজনকে দেখা দিয়েছিলেন।
(৬)অতঃপর তিনি একই সময়ে পাঁচশোরও বেশি ভাইবোনকে দেখা দিয়েছিলেন; তাঁদের মধ্যে কেউ-কেউ মারা গেলেও অধিকাংশই আজও বেঁচে আছেন। (৭)এরপরে তিনি হযরত ইয়াকুব রা.-কে ও পরে হাওয়ারিদের সবাইকে দেখা দিয়েছিলেন। (৮)অসময়ে জন্মেছি যে-আমি, সেই আমাকেও তিনি সবশেষে দেখা দিয়েছিলেন।
(৯)হাওয়ারিদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে নগণ্য; হাওয়ারি বলে পরিচিত হওয়ার যোগ্যও আমি নই, কারণ ইমানদারদের দলের উপর আমি নির্যাতন করেছি।
(১০)কিন্তু এখন আমি যা হয়েছি তা আল্লাহর রহমতেই হয়েছি এবং আমার ওপর বর্ষিত তাঁর সেই রহমত নিষ্ফল হয়নি। অন্যদিকে তাঁদের যে-কোনোজনের চেয়ে আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি- অবশ্য আমি নই, বরং আমার ওপর আল্লাহর যে-দয়া আছে, তা-ই তা করেছে।
(১১)সুতরাং, আমি হই কিংবা তাঁরা হোন, আমরা যেমন প্রচার করেছি এবং তোমরাও তেমন ইমান এনেছো। (১২)মসিহকে যখন মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত বলে প্রচার করা হয়েছে, তখন তোমাদের মধ্যে কেউ-কেউ কেমন করে বলতে পারে, মৃতদের পুনরুত্থান বলে কিছু নেই? (১৩)মৃতদের পুনরুত্থান বলে কিছু যদি না-ই থাকে, তাহলে তো মসিহকেও জীবিত করা হয়নি; (১৪)আর মসিহকে যদি জীবিত করা না-হয়ে থাকে, তাহলে বৃথা হয়েছে আমাদের প্রচার এবং তোমাদের ইমানও বৃথা গেছে।
(১৫)এছাড়া তাতে একথাই প্রমাণ হচ্ছে যে, আল্লাহকে আমরা ভুলভাবে উপস্থাপন করছি, কারণ আমারা আল্লাহ সম্বন্ধে এই সাক্ষ্য দিয়েছি যে, তিনি মসিহকে পুনর্জীবিত করেছেন- কিন্তু যদি একথা সত্যি হয় যে মৃতদের জীবিত করা হয় না, তাহলে তো মসিহ তাঁকেও জীবিত করা হয়নি। (১৬)কারণ যদি মৃতদের পুনরুত্থান না হয়, তাহলে মসিহকেও পুনরুত্থিত করা হননি। (১৭)মসিহকে যদি পুনরুত্থিত করা না-হয়ে থাকে, তাহলে বৃথাই তোমাদের ইমান এবং তোমরা এখনো তোমাদের গুনাহের মধ্যে পড়ে আছো। (১৮)আর মসিহের ওপর ইমান এনে যারা ইন্তেকাল করেছে, তারাও ধ্বংস হয়েছে। (১৯)মসিহের ওপর আমাদের প্রত্যাশা যদি শুধুমাত্র এই জীবনের জন্য হয়, তাহলে সমস্ত মানুষের মধ্যে আমরাই সবচেয়ে দুর্ভাগা।
(২০)কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মসিহকে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত করা হয়েছে- মৃতদের মধ্য থেকে তিনিই প্রথম ফল। (২১)যেহেতু একজন মানুষের মধ্য দিয়ে মৃত্যু এসেছে, সেহেতু মৃতদের পুনরুত্থানও এসেছে একজন মানুষের মধ্য দিয়ে; (২২)আদমের সন্তান বলে যেমন সব মানুষের মৃত্যু হয়, তেমনি মসিহের মাধ্যমে সবাইকে জীবিত কোরে তোলা হবে। (২৩)অবশ্য প্রত্যেকে তার নিজের পালা অনুসারে উঠবে: মসিহ প্রথম ফল, তারপর মসিহের আগমনের সময়ে তাঁর আপনজনেরা। (২৪)অতঃপর আসবে শেষ; তিনি তখন সমস্ত কর্তৃত্ব, ক্ষমতা ও শক্তি ধ্বংস করে প্রতিপালক আল্লাহর হাতে রাজত্ব তুলে দেবেন।
(২৫)কারণ যতোদিন না তিনি তাঁর সমস্ত শত্রুকে তাঁর পায়ের নীচে না ফেলেন, ততোদিন তাঁকে রাজত্ব করতে হবে। (২৬)শেষ শত্রু যে-মৃত্যু, সেও ধ্বংস হবে। (২৭)কারণ “আল্লাহ সবকিছুই তাঁর পায়ের তলায় বশীভূত করে রেখেছেন।” কিন্তু যখন বলা হয়, “সবকিছুই বশীভূত করে রাখা হয়েছে,” তখন এটা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে, যিনি সবকিছুই তাঁর বশে রেখেছেন, তিনি এর অন্তর্ভুক্ত নন।
(২৮)সবকিছু তাঁর বশে রাখার পর একান্ত প্রিয় মনোনীতজন নিজেও তাঁরই বশীভূত হবেন, যিনি সবকিছু তাঁর অধীনে রেখেছেন, যেনো আল্লাহই হতে পারেন সকলের আল্লাহ। (২৯)অন্যদিকে, মৃতদের পক্ষে যারা বায়াত গ্রহণ করে তারা কী করবে? মৃতেরা যদি জীবিত না-ই হয়, তাহলে কেনো তারা তাদের পক্ষে বায়াত গ্রহণ করে? (৩০)আর আমরাই-বা কেনো প্রতি ঘন্টায় নিজেদেরকে বিপদে ফেলছি?
(৩১)ভাই ও বোনেরা, আমি প্রতিদিনই মরি! যেমন নিশ্চিতভাবে আমি তোমাদের নিয়ে গর্ব করি, তেমনি একথাও ঠিক যে, আমার সেই গর্ব অমাদের মসিহ হযরত ইসাতে। (৩২)যদি আমি কেবল মানবিক আশায় ইফিসে বন্যপশুদের সাথে লড়াই করে থাকি, তাহলে তাতে আমার কী লাভ হয়েছে? মৃতেরা যদি জীবিত না হয়, তাহলে “এসো, আমরা খাওয়া-দাওয়া আর পানাহার করি, কারণ আগামীকালই তো আমরা মরে যাবো।” (৩৩)বিভ্রান্ত হয়ো না- “অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ হয়।”
(৩৪)সংযমী ও ধর্মময় জীবন-যাপন করো, এবং আর গুনাহ করো না; কারণ কিছু লোকের আল্লাহ সম্পর্কে কনো ধারণাই নেই। তোমাদেরকে লজ্জা দেবার জন্য আমি একথা বলছি। (৩৫)তবে কেউ হয়তো জিজ্ঞেস করবে, “মৃতেরা কীভাবে জীবিত হয়? তারা কেমন শরীর নিয়ে আসে?” (৩৬)হায়রে মূর্খ! তুমি যে-বীজ বোনো তা না-মরলে চারা গজায় না।
(৩৭)তুমি যা বুনো তা তো আর সম্পূর্ণ গাছ নয়, বরং তুমিতো বীজ বপন করো, সেটা হয়ত গম কিংবা অন্য কনো শস্যের একটা বীজ মাত্র। (৩৮)তবে আল্লাহ তাঁর ইচ্ছামতো এটিকে একটা দেহ দিয়ে থাকেন এবং প্রত্যেক বীজকেই তিনি আলাদা আলাদা দেহ দিয়ে থাকেন। (৩৯)সব শরীর এক রকম নয়, বরং মানুষের শরীর এক রকম, পশুর আরেক রকম, পাখির আরেক রকম এবং মাছের আরেক রকম।
(৪০)বেহেস্তি শরীরও আছে, আবার দুনিয়ার শরীরও আছে কিন্তু বেহেস্তী শরীরগুলোর উজ্জ্বলতা এক রকম এবং দুনিয়ার শরীরগুলোর উজ্জ্বলতা আরেক রকম। (৪১)সূর্যের উজ্জ্বলতা এক রকম, চাঁদের উজ্জ্বলতা আরেক রকম এবং তারাগুলোর উজ্জ্বলতা আরেক রকম; বস্তুত উজ্জ্বলতার দিক থেকে একটি তারা থেকে আরেকটি তারা আলাদা। (৪২)মৃতদের জীবিহ হয়ে উঠাও ঠিক এমনই। যা বুনা হয় তা ক্ষয় হয়ে যায় কিন্তু যা উঠানো হয় তা অক্ষয় বা স্থায়ী হয়।
(৪৩)এটা অসম্মানের সাথে বুনা হয় কিন্তু সম্মানের সাথে ওঠানো হয়। দুর্বলতায় বুনা হয় কিন্তু ক্ষমতার সাথে ওঠানো হয়। (৪৪)যা বুনা হয় তা হলো জাগতিক শরীর, কিন্তু যাকে উঠানো হয় তা হলো রুহানি শরীর। জাগতিক শরীর যদি থাকে, তাহলে রুহানি শরীরও আছে।
(৪৫)এভাবে লেখাও আছে, “প্রথম মানুষ আদম, জীবন্ত প্রাণী হলেন;” আর শেষ আদম জীবনদাতা রুহ হলেন।
(৪৬)কিন্তু রুহানি প্রথম নয় বরং জাগতিকই প্রথম, এবং তারপর রুহানি। (৪৭)প্রথম মানুষ মাটি থেকে এসেছিলেন- ধুলোর মানুষ তিনি; কিন্তু দ্বিতীয় মানুষটি এসেছিলেন বেহেস্ত থেকে। (৪৮)ধুলোর মানুষেরা ওই ধুলোর মানুষটিরই মতো; আর বেহেস্তী মানুষেরা ওই বেহেস্তী মানুষটিরই মতো। (৪৯)আমরা যেমন ওই ধুলোর মানুষটির প্রতিমূর্তি ধারণ করেছি, ঠিক তেমনি ওই বেহেস্তী মানুষটিরও প্রতিমূর্তি ধারণ করবো।
(৫০)ভাই ও বোনেরা, আমি যা বলছি তা হলো এই- রক্ত ও মাংস আল্লাহর রাজ্যের অধিকারী হতে পারে না এবং যা ক্ষয়শীল তা অক্ষয়তার অধিকারী হতে পারে না। (৫১)শোনো, আমি তোমাদেরকে একটা রহস্যময় ব্যাপার জানাচ্ছি! আমরা সবাই মরবো না, কিন্তু আমরা সবাই রূপান্তরিত হবো, (৫২)মুহূর্তের মধ্যে, চোখের পলকে, শেষ শিঙ্গাধ্বনির সাথে-সাথে। শিঙ্গা বেজে উঠবে এবং মৃতেরা অক্ষয় হয়ে উঠে আসবে, আর আমরাও রূপান্তরিত হবো।
(৫৩)এই ক্ষয়নীয় শরীরকে পরতে হবে অক্ষয়তা এবং এই মরণশীল শরীরকে পরতে হবে অমরতা। (৫৪)এই ক্ষয়শীল শরীর যখন পরবে অক্ষয়তা এবং এই মরণশীল শরীর পরবে অমরতা, তখন পূর্ণ হবে পাককিতাবের এই কথা- “বিজয় মৃত্যুকে গিলে ফেলেছে।” (৫৫)“হে মৃত্যু, কোথায় তোমার জয়? হে মৃত্যু, কোথায় তোমার হুল?”
(৫৬)মৃত্যুর হুল হলো গুনাহ আর গুনাহের শক্তি শরিয়ত। (৫৭)কিন্তু সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, তিনিই হযরত ইসা মসিহের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে বিজয় দান করেন।
(৫৮)অতএব, প্রিয়জনেরা আমার, অবিচল ও মন স্থির করো; আল্লাহর কাজে নিজেদেরকে উজাড় করে দাও, কারণ তোমরা তো জানো আল্লাহর উদ্দেশে তোমাদের যে-পরিশ্রম, তা বৃথা নয়।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)এখন আমি কামেলদের জন্য দান সংগ্রহের বিষয়ে বলছি: গালাতিয়ার ইমানদারগুলোকে আমি যেসব নির্দেশনা দিয়েছি, তোমারও তা অনুসরণ করো।
(২)প্রত্যেক সপ্তাহের প্রথমদিনে তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের আয়ের কিছু অংশ ও অতিরিক্ত আয় আলাদা করে রাখো, যেনো আমি যখন আসবো তখন চাঁদা তুলতে না-হয়। (৩)এবং আমি পৌঁছার পর, তোমাদের দান জেরুসালেমে নিয়ে যাবার জন্য তোমরা যাদেরকে সমর্থন করবে, চিঠি দিয়ে আমি তাদেরকেই পাঠিয়ে দেবো। (৪)যদি মনে হয় যে, আমারো যাওয়া উচিত, তাহলে তারা আমার সাথে যাবে।
(৫)মেসিডোনিয়া সফর শেষে আমি তোমাদের ওখানে যাবো, কারণ আমি মেসিডোনিয়া হয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
(৬)এবং হয়তো তোমাদের কাছে আমি কিছুদিন থাকবো, কিংবা গোটা শীতকালটাও থেকে যেতে পারি, যেনো আমি যেখানেই যাই না কেনো, তোমরা আমার যাবার ব্যবস্থা করে দিতে পারো। (৭)এবার যাবার পথে আমি তোমাদের সাথে দেখা করতে চাই না, কারণ আমি আশা করি তোমাদের সাথে কিছু দিন থাকবো, ইনশা-আল্লাহ। (৮)তবে নবান্ন উৎসব পর্যন্ত আমি ইফিসেই থাকবো,
(৯)কারণ ফলপ্রসূ কাজের জন্য আমার সামনে খোলা রয়েছে একটা মস্ত দুয়ার; অবশ্য প্রতিপক্ষও আছে অনেক।
(১০)তিমথি যদি আসেন, তাহলে দেখো, তিনি যেনো তোমাদের মাঝে নির্ভয়ে থাকতে পারে, কারণ আমার মতো তিনিও আল্লাহর কাজ করছেন; (১১)সুতরাং, কেউ তাকে তুচ্ছ না-করুক। আমার কাছে আসার জন্য তোমরা তাকে নিরাপদে পাঠিয়ে দিয়ো; কারণ আমি তাকে ভাইদের সাথে আশা করছি।
(১২)এবার আমাদের ভাই আপল্লো সম্পর্কে বলি- আমি তাঁকে অনেক করে অনুরোধ করেছিলাম, যেনো তিনি ভাইদের সাথে তোমাদের কাছে যান কিন্তু তিনি এখন কিছুতেই যেতে চাইলেন না। পরে সুযোগ পেলে তিনি যাবেন।
(১৩)তোমরা সতর্ক ও ইমানে স্থির থাকো, সাহসী ও বলবান হও। (১৪)তোমরা যা-কিছু করো না যেনো, মহব্বতের সাথে করো।
(১৫)ভাই ও বোনেরা, তোমরা তো জানো, হযরত স্তিফান র. এর পরিবারের লোকেরাই আখায়ার প্রথম ইমানদার, এবং কামেলদের খেদমতে তাঁরা নিজেদেরকে উজাড় করে দিয়েছেন। (১৬)সুতরাং, আমি তোমাদের অনুরোধ করছি- এরকম লোকদের, এবং তাঁদের সহকর্মী ও কঠোর পরিশ্রমীদের প্রত্যেকের খেদমতে তোমরা নিজেদেরকে নিয়োজিত করো।
(১৭)স্তিফান, ফর্তুনাত আর আখায়িক আসায় আমি খুবই খুশি হয়েছি, কারণ তোমাদের শূন্যতা তাঁরা পূরণ করে দিয়েছেন; (১৮)এবং তারা তোমাদের মতো আমার হৃদয়ও সতেজ করেছেন। সুতরাং, এরকম লোকদের তোমরা স্বীকৃতি দিয়ো।
(১৯)এশিয়ার ইমানদার দলগুলো তোমাদের সালাম জানাচ্ছে। আকুইলা, প্রিস্কা এবং তাঁদের ঘরে সমবেত ইমানদারেরা আল্লাহর নামে তোমাদেরকে আন্তরিক সালাম জানাচ্ছেন। (২০)এখানকার ভাই-বোনেরা সবাই সালাম জানাচ্ছে। পবিত্র চুমু দিয়ে তোমরা একজন অন্যজনকে সালাম জনাও।
(২১)আমি পৌল, আমি আমার নিজের হাতে লিখে তোমাদের সালাম জানাচ্ছি।
(২২)কেউ যদি হযরত ইসা মসিহকে মহব্বত না করে, সে অভিশপ্ত। হযরত ইসা মসিহ, আসুন! (২৩)হযরত ইসা আ. এর দয়া তোমাদের ওপর থাকুক। (২৪)মসিহ হযরত ইসা আ. এর উম্মত হিসেবে তোমাদের সকলের প্রতি আমার ভালোবাসা রইলো।
Facebook
WhatsApp
Telegram
Email
Print
