- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১১
- ১২
- ১৩
- ১৪
- ১৫
- ১৬
- ১৭
- ১৮
- ১৯
- ২০
- ২১
- ২২
- ২৩
- ২৪
- ২৫
- ২৬
- ২৭
- ২৮
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)হযরত ইসা মসিহের বংশতালিকা- হযরত ইসা মসিহ হযরত দাউদ আ.র বংশধর এবং হযরত দাউদ আ. হযরত ইব্রাহিম আ.র বংশধর। (২)হযরত ইব্রাহিম আ.র ছেলে হযরত ইসহাক আ.; হযরত ইসহাক আ.র ছেলে হযরত ইয়াকুব আ.; হযরত ইয়াকুব আ.র ছেলে হযরত ইহুদা আ. ও তার ভাইয়েরা; (৩)ইহুদার ছেলে ফারিস ও জেরহ- তাদের মা ছিলেন তামর; ফারিসের ছেলে হিস্রোন; হিস্রোনের ছেলে অরাম; (৪)অরামের ছেলে আমিনাদব; আমিনাদবের ছেলে নহসোন; নহসোনের ছেলে সালমুন; (৫)সালমুনের ছেলে বোয়াঝ- তার মা ছিলেন রাহাব; বোয়াঝের ছেলে ওবেদ- তার মা ছিলেন রুত; ওবেদের ছেলে ইয়াচ্ছা; (৬)ইয়াচ্ছার ছেলে বাদশা দাউদ। (৭)হযরত দাউদ আ.র ছেলে হযরত সোলায়মান আ.- তার মা ছিলেন উরিয়ের বিধবা স্ত্রী; সোলায়মানের ছেলে রহাব্য়াম; রহাব্য়ামের ছেলে আবিয়া; আবিয়ার ছেলে আসা; (৮)আসার ছেলে ইয়াহুসাফাত; ইয়াহুসাফাতের ছেলে ইউরম; ইউরমের ছেলে উজ্ঝিয়া; (৯)উজ্ঝিয়ার ছেলে ইউতাম; ইউতামের ছেলে আহাঝ; আহাঝের ছেলে হিযকিয়া; (১০)হিযকিয়ার ছেলে মানাচ্ছা; মানাচ্ছার ছেলে আমুন; আমুনের ছেলে ইউসিয়া; (১১)ইউসিয়ার ছেলে ইয়াকুনিয়া ও তার ভাইয়েরা- ব্যবিলনে নির্বাসনের সময় পর্যন্ত।
(১২)ব্যবিলনে নির্বাসনের পর- ইয়াকুনিয়ার ছেলে সালতিয়েল; সালতিয়েলের ছেলে ঝারুব্বাবিল; (১৩)ঝারুব্বাবিলের ছেলে আবিহুদ; আবিহুদের ছেলে আলি ইয়াকিম; আলি ইয়াকিমের ছেলে আঝুর; (১৪)আঝুরের ছেলে সাদুক; সাদুকের ছেলে আখিম; আখিমের ছেলে আলিয়ুদ; (১৫)আলিয়ুদের ছেলে আলি আঝার; আলি আঝারের ছেলে মাতিন; মাতিনের ছেলে ইয়াকুব; (১৬)ইয়াকুবের ছেলে ইউসুফ- মরিয়মের স্বামী; এই মরিয়মের গর্ভেই জন্মেছিলেন হযরত ইসা আ., যাঁকে মসিহ বলা হয়।
(১৭)এভাবে হযরত ইব্রাহিম আ. থেকে হযরত দাউদ আ. পর্যন্ত সব মিলিয়ে চৌদ্দ পুরুষ, হযরত দাউদ আ. থেকে ব্যবিলনে নির্বাসন পর্যন্ত চৌদ্দ পুরুষ এবং ব্যাবিলনে নির্বাসন থেকে মসিহ পর্যন্ত চৌদ্দ পুরুষ।
(১৮)হযরত ইসা মসিহের জন্ম এভাবে হয়েছিলো- হযরত ইউসুফ র. এর সাথে তাঁর মা বিবি মরিয়ম রা. এর বিয়ে ঠিক হয়েছিলো কিন্তু তাদের বিয়ের আগেই জানা গেলো যে, তিনি আল্লাহর রুহের মাধ্যমে গর্ভবতী হয়েছেন।
(১৯)তার স্বামী হযরত ইউসুফ র. আল্লাহর হুকুমের বাধ্য ছিলেন। তিনি মানুষের সামনে তাঁকে লজ্জায় ফেলতে চাইলেন না। এজন্য তিনি গোপনে বিয়ে ভেঙে দেবার পরিকল্পনা করলেন। (২০)কিন্তু তিনি যখন এসব ভাবছিলেন, তখন আল্লাহর এক ফেরেস্তা স্বপ্নে দেখা দিয়ে তাকে বললেন, দাউদের বংশধর ইউসুফ! মরিয়মকে তোমার স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে ভয় করো না। কারণ আল্লাহর রুহের মাধ্যমেই তার গর্ভে সন্তান এসেছে। তার একটি ছেলে হবে।
(২১)তুমি তার নাম রাখবে ইসা। কারণ সে তার লোকদের তাদের গুনাহ থেকে নাজাত করবে। (২২)এসব হয়েছিলো যেনো নবির মাধ্যমে আল্লাহ যেকথা বলেছিলেন তা পূর্ণ হয়- (২৩) দেখো, একজন কুমারী গর্ভবতী হয়ে এক পুত্রের জন্ম দেবে এবং তারা তার নাম রাখবে ইম্মানুয়েল। এর অর্থ হলো- আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।
(২৪)হযরত ইউসুফ র. ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর ফেরেস্তার হুকুম অনুসারেই কাজ করলেন। (২৫)তিনি তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলেন কিন্তু ছেলের জন্ম না হওয়া পর্যন্ত তার সাথে মিলিত হলেন না এবং তিনি তাঁর নাম রাখলেন ইসা।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)বাদশা হেরোদের শাসনামলে ইহুদিয়ার বৈতলেহেমে ইসার জন্ম হওয়ার পর, পূর্বদিক থেকে কয়েকজন পন্ডিত জেরুসালেমে (২)এসে জিজ্ঞেস করলেন, “ইহুদিদের যে-বাদশা জন্মেছেন, তিনি কোথায়? কারণ পূর্ব-আকাশে আমরা তাঁর তারা দেখে তাঁকে সম্মান জানাতে এসেছি।” (৩)একথা শুনে বাদশা হেরোদ ভয়ে অস্থির হয়ে উঠলেন এবং তার সাথে সমগ্র জেরুসালেমও ভয়ে অস্থির হয়ে উঠলো। (৪)তিনি ইহুদিদের সমস্ত প্রধান ইমাম ও আলিমদেরকে একত্রে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, মসিহের জন্ম কোথায় হওয়ার কথা আছে? (৫)তারা তাকে বললেন, “ইহুদিয়ার বৈতলেহেমে। কারণ নবি একথা লিখে গেছেন- (৬)হে ইহুদিয়ার বৈতলেহেম, ইহুদিয়ার শাসনকর্তাদের মধ্যে তুমি কোনোমতেই ছোটো নও; কারণ তোমার মধ্য থেকেই একজন শাসনকর্তা আসবেন, যিনি আমার লোক ইস্রাইলকে লালন-পালন করবেন।’”
(৭)তখন হেরোদ পন্ডিতদের গোপনে ডাকলেন এবং ঠিক কোন সময়ে তারাটি দেখা দিয়েছিলো তা তাদের কাছ থেকে জেনে নিলেন। (৮)অতঃপর তিনি তাদের এই বলে বৈতলেহেমে পাঠিয়ে দিলেন, “আপনারা যান এবং ভালো করে শিশুটির খোঁজ নিন। তাঁকে খুঁজে পেলে আমাকে জানাবেন, যেনো আমিও গিয়ে তাঁকে সম্মান দেখাতে পারি।” (৯)বাদশার কথা শুনে তারা রওনা হলেন এবং শিশুটি যেখানে ছিলেন, সেই জায়গার ওপরে এসে না থামা পর্যন্ত তারা পূর্ব-আকাশে যে-তারাটি দেখেছিলেন তা তাদের আগে আগে চলতে থাকলো। (১০)যখন তারা দেখলেন যে, তারাটি থেমে গেছে, তখন তারা আনন্দে অভিভূত হলেন। (১১)ঘরে ঢুকে তারা শিশুটিকে তাঁর মা হযরত মরিয়ম রা.-র কাছে দেখতে পেলেন। অতঃপর তারা তাঁর সামনে নতজানু হয়ে তাঁকে সম্মান জানালেন এবং তাদের ঝুলি খুলে তাঁকে সোনা, লোবান ও গন্ধরস উপহার দিলেন। (১২)তারা যেনো হেরোদের কাছে ফিরে না যান- স্বপ্নে এই আদেশ পেয়ে তারা অন্য পথে নিজেদের দেশে ফিরে গেলেন।
(১৩)তারা চলে যাবার পর আল্লাহর এক ফেরেস্তা হযরত ইউসুফ রা.কে স্বপ্নে দেখা দিয়ে বললেন, “ওঠো, শিশুটি ও তাঁর মাকে নিয়ে মিসরে পালিয়ে যাও আর আমি যতোদিন না বলি, ততোদিন সেখানেই থাকো। কারণ শিশুটিকে হত্যা করার জন্য হেরোদ তাঁর খোঁজ করবে।” (১৪)তখন ইউসুফ উঠে শিশুটি ও তাঁর মাকে নিয়ে সেই রাতেই মিসরের উদ্দেশে রওনা হলেন এবং মিসরে চলে গেলেন; (১৫)আর হেরোদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকলেন। এটি ঘটলো যাতে নবির মধ্য দিয়ে আল্লাহ যেকথা বলেছিলেন তা পূর্ণ হয়- “আমি মিসর থেকে আমার একান্ত প্রিয় মনোনীতজনকে ডেকে আনলাম।”
(১৬)হেরোদ যখন দেখলেন যে, পন্ডিতেরা তাকে ঠকিয়েছেন, তখন তিনি রেগে আগুন হয়ে গেলেন। এবং সেই পন্ডিতদের কাছ থেকে যে-সময়ের কথা তিনি জেনে নিয়েছিলেন, সে-অনুসারে বৈতলেহেম ও তার চারপাশের সব জায়গায় দু’বছর ও তার কম বয়সের যতো ছেলে ছিলো, সৈন্য পাঠিয়ে তাদের সকলকে হত্যা করালেন।
(১৭)তাতে নবি ইয়ারমিয়ার মধ্য দিয়ে যেকথা বলা হয়েছিলো তা পূর্ণ হলো- (১৮)“রামায় কান্নার স্বর শোনা গেলো- দুঃখে ভরা উচ্চস্বরে বিলাপ। রাহেল তার সন্তানদের জন্য কাঁদছে, সান্ত্বনা মানছে না; কারণ তারা আর নেই।”
(১৯)হেরোদের মৃত্যুর পর আল্লাহর এক ফেরেস্তা মিসরে স্বপ্নে দেখা দিয়ে হযরত ইউসুফ আ.-কে বললেন, (২০)“ওঠো, শিশুটি ও তাঁর মাকে নিয়ে ইস্রাইল দেশে চলে যাও; কারণ শিশুটিকে যারা হত্যা করতে চেয়েছিলো, তারা মারা গেছে।” (২১)তখন হযরত ইউসুফ আ. উঠে শিশুটি ও তাঁর মাকে নিয়ে ইস্রাইল দেশে চলে গেলেন। (২২)কিন্তু তিনি যখন শুনলেন যে, আর্খিলাউস তার পিতা হেরোদের সিংহাসনে বসে ইহুদিয়া শাসন করছেন, তখন তিনি সেখানে যেতে ভয় পেলেন; আর স্বপ্নে আদেশ পাবার পর গালিল প্রদেশে চলে গেলেন। (২৩)সেখানে তিনি নাসরত নামে একটি গ্রামে ঘর বাঁধলেন, যেনো নবির মাধ্যমে যেকথা বলা হয়েছিলো তা পূর্ণ হয়- “তাঁকে নাসরতীয় বলে ডাকা হবে।”
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)ওই সময়ে হযরত ইয়াহিয়া আ. ইহুদিয়ার মরুপ্রান্তরে এসে একথা প্রচার করতে লাগলেন- (২)“তওবা করো, কারণ বেহেস্তি রাজ্য কাছে এসে গেছে।” (৩)ইনি সেই লোক, যাঁর সম্পর্কে নবি হযরত ইসাইয়া আ. বলেছেন- “মরুপ্রান্তরে একজনের কণ্ঠস্বর ঘোষণা করছে- ‘তোমরা মালিকের পথ প্রস্তুত করো, তাঁর রাস্তা সোজা করো।’”
(৪)হযরত ইয়াহিয়া আ. উটের লোমের কাপড় পরতেন। তার কোমরে থাকতো চামড়ার কোমরবন্ধ। তিনি ফড়িং এবং বনমধু খেতেন। (৫)তখন জেরুসালেম, সমগ্র ইহুদিয়া এবং জর্দান নদীর আশেপাশের সমস্ত লোক তার কাছে যেতে লাগলো এবং (৬)গুনাহ স্বীকার করে জর্দান নদীতে তাঁর কাছে বায়াত নিতে লাগলো।
(৭)কিন্তু তিনি যখন দেখলেন যে, অনেক ফরিসি ও সদ্দুকি বায়াত নেবার জন্য আসছেন, তখন তিনি তাদের বললেন, “সাপের বংশধরেরা! যে-গজব আসছে তা থেকে পালাবার জন্য কে তোমাদের সতর্ক করলো? (৮)তওবার উপযুক্ত ফল দেখাও।
(৯)মনে মনে একথা বলতে পারার কথা চিন্তাও করো না যে, ‘হযরত ইব্রাহিম আ. আমাদের পূর্বপুরুষ’; কেননা আমি তোমাদের বলছি, আল্লাহ এই পাথরগুলো থেকেও হযরত ইব্রাহিম আ. এর বংশধর সৃষ্টি করতে পারেন।
(১০)গাছের গোড়াতে কুড়াল লাগানোই আছে; যে-গাছে ভালো ফল ধরে না তা কেটে আগুনে ফেলে দেয়া হবে। (১১)তওবা করেছো বলে আমি তোমাদের পানিতে বায়াত দিচ্ছি কিন্তু আমার পরে যিনি আসছেন, তিনি আমার চেয়ে মহান। আমি তাঁর জুতা বইবারও যোগ্য নই। তিনি আল্লাহর রুহ ও আগুনে তোমাদের বায়াত দেবেন। (১২)তাঁর কুলা তাঁর হাতেই আছে এবং তাঁর ফসল মাড়ানোর জায়গা তিনি সাফ করবেন। তিনি তাঁর গম গোলায় জমা করবেন এবং যে-আগুন কখনো নেভে না, সেই আগুনে তুষ পুড়িয়ে ফেলবেন।”
(১৩)অতঃপর হযরত ইসা আ. হযরত ইয়াহিয়া আ.এর কাছে বায়াত নেবার জন্য গালিল থেকে জর্দানে এলেন। (১৪)হযরত ইয়াহিয়া আ. তাঁকে বিরত রাখতে চেষ্টা করলেন; বললেন, “আমারই বরং আপনার কাছে বায়াত নেয়া দরকার অথচ আপনি কিনা এসেছেন আমার কাছে?” (১৫)কিন্তু হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “এবার এরকমই হোক; কারণ আমাদের পক্ষে এভাবেই দীনের সমস্ত দাবি পূরণ করা উচিত।” তখন তিনি রাজি হলেন। (১৬)বায়াত নেবার পর হযরত ইসা আ. পানি থেকে উঠে আসার সাথে সাথেই তাঁর সামনে আসমান খুলে গেলো আর তিনি দেখলেন, আল্লাহর রুহ কবুতরের মতো নেমে এসে তাঁর ওপরে বসছেন। (১৭)এবং বেহেস্ত থেকে একটি কণ্ঠস্বর বললেন, “এ-ই আমার একান্ত প্রিয় মনোনীতজন, তার ওপর আমি খুবই সন্তুষ্ট।”
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)অতঃপর ইবলিসের দ্বারা পরীক্ষিত হওয়ার জন্য হযরত ইসা আ.কে আল্লাহর রুহের পরিচালনায় মরুপ্রান্তরে যেতে হলো। (২)চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত রোজা রাখার পর তাঁর খিদে পেলো। (৩)তখন ইবলিস এসে তাঁকে বললো, “তুমি যদি আল্লাহর একান্ত প্রিয় মনোনীতজন হও, তাহলে এই পাথরগুলোকে রুটি হয়ে যেতে বলো।” (৪)কিন্তু উত্তরে তিনি বললেন, একথা লেখা আছে- ‘মানুষ শুধু রুটিতেই বাঁচে না কিন্তু আল্লাহর মুখের প্রত্যেকটি কালামের দ্বারাই বাঁচে।’”
(৫)তখন ইবলিস তাঁকে পবিত্র শহরে নিয়ে গেলো এবং বায়তুল-মোকাদ্দসের চূড়ার ওপর দাঁড় করিয়ে তাঁকে বললো, (৬)“তুমি যদি আল্লাহর একান্ত প্রিয় মনোনীতজন হও, তাহলে লাফ দিয়ে নিচে পড়ো। কারণ লেখা আছে- ‘তিনি তাঁর ফেরেস্তাদের তোমার বিষয়ে হুকুম দেবেন,’ এবং ‘তারা তাদের হাতে করে তোমাকে তুলে ধরবেন, যাতে তোমার পায়ে পাথরের আঘাত না লাগে।’” (৭)হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “আবার একথাও লেখা আছে- ‘তোমার আল্লাহ মালিককে পরীক্ষা করবে না।’”
(৮)ইবলিস আবার তাঁকে খুব উঁচু একটি পাহাড়ে নিয়ে গেলো, দুনিয়ার সব রাজ্য ও তার জাঁকজমক দেখালো এবং তাঁকে বললো,
(৯)“তুমি যদি নতজানু হয়ে আমাকে সেজদা করো, তাহলে এই সবই আমি তোমাকে দেবো।” (১০)হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “দূর হ শয়তান! কারণ একথা লেখা আছে- ‘তুমি তোমার মালিক আল্লাহকেই সেজদা করবে এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে।’”
(১১)অতঃপর ইবলিস তাঁকে ছেড়ে চলে গেলো। আর তখনই ফেরেস্তারা এসে তাঁর সেবাযত্ন করতে লাগলেন।
(১২)তারপর হযরত ইসা আ. যখন শুনলেন যে, হযরত ইয়াহিয়া আ.কে জেলখানায় বন্দি করা হয়েছে, তখন তিনি গালিলে চলে গেলেন। (১৩)তিনি নাসরত ছেড়ে লেকের পাড়ে জাবুলুন ও নাপ্তালি এলাকায় অবস্থিত কফরনাহুমে গিয়ে বাস করতে লাগলেন। (১৪)এতে নবি হযরত ইসাইয়ার মাধ্যমে যেকথা বলা হয়েছিলো তা পূর্ণ হলো- (১৫)“জাবুলুন দেশ ও নাপ্তালি দেশ, সমুদ্র-পথ, জর্দানের ওপার, অ-ইহুদিদের গালিল, (১৬)যে-জাতি অন্ধকারে ছিলো, তারা মহা-আলো দেখতে পেলো; এবং যারা মৃত্যুর দেশে ও ছায়ায় ছিলো, তাদের কাছে আলো দেখা দিলো।”
(১৭)সেই সময় থেকে হযরত ইসা আ. এই বলে প্রচার করতে শুরু করলেন, “তওবা করো, কারণ আল্লাহর রাজ্য কাছে এসে গেছে।”
(১৮)তিনি গালিল লেকের পাড় দিয়ে যাবার সময় দুই ভাইকে অর্থাৎ সাফওয়ান, যাকে পিতর বলা হয় এবং তার ভাই আন্দ্রিয়ানকে দেখতে পেলেন; তারা লেকে জাল ফেলছিলেন, কারণ তারা ছিলেন জেলে।
(১৯)তিনি তাদের বললেন, “আমাকে অনুসরণ করো, আমি তোমাদের মানুষ-ধরা জেলে করবো।” (২০)তখনই তারা তাদের জাল ফেলে রেখে তাঁকে অনুসরণ করলেন।
(২১)সেই জায়গা থেকে কিছু দূর গেলে পর তিনি অন্য দুই ভাইকে অর্থাৎ হযরত ইয়াকুব ইবনে জাবিদি ও তার ভাই হযরত ইউহোন্না রা.কে দেখতে পেলেন। তারা তাদের পিতা জাবিদির সাথে নৌকায় বসে জাল মেরামত করছিলেন। তিনি তাদের ডাক দিলেন। (২২)তারা তখনই তাদের পিতাকে ও নৌকা ছেড়ে তাঁকে অনুসরণ করলেন।
(২৩)হযরত ইসা আ. গালিলের সব জায়গায় ঘুরে ঘুরে তাদের বিভিন্ন সিনাগোগে গিয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন। আল্লাহর রাজ্যের সুখবর প্রচার এবং লোকদের সবরকম রোগ ও অসুস্থতা থেকে সুস্থ করতে লাগলেন। (২৪)এর ফলে গোটা সিরিয়ায় তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়লো। তারা সব রোগীদের- যারা নানা রকম রোগে ও ভীষণ যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছিলো, যাদের ভূতে ধরেছিলো এবং যারা মৃগী ও অবশরোগে ভুগছিলো- তাঁর কাছে নিয়ে এলো এবং তিনি তাদের সুস্থ করলেন। (২৫)গালিল, দিকাপলি, জেরুসালেম, ইহুদিয়া এবং জর্দানের অন্য পাড়ের অনেক মানুষ তাঁর পেছনে পেছনে যেতে লাগলো।
রুকু PDF ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)জনতার ঢল দেখে হযরত ইসা আ. পাহাড়ের ওপর উঠলেন। তিনি বসার পর তাঁর হাওয়ারিরা তাঁর কাছে এলেন। (২)অতঃপর তিনি তাদের এই বলে শিক্ষা দিতে লাগলেন-
(৩)“রহমতপ্রাপ্ত তারা, রুহে যারা গরিব; কারণ বেহেস্তি রাজ্য তাদেরই। (৪)রহমতপ্রাপ্ত তারা, যারা দুঃখশোকে কাতর; কারণ তারা সান্ত¡না পাবে। (৫)রহমতপ্রাপ্ত তারা, যারা নম্র ও ভদ্র; কারণ দুনিয়া তাদেরই হবে। (৬)রহমতপ্রাপ্ত তারা, যারা আল্লাহর ইচ্ছা মতো চলার জন্য ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত; কারণ তারা তৃপ্ত হবে। (৭)রহমতপ্রাপ্ত তারা, যারা দয়ালু; কারণ তারা দয়া পাবে। (৮)রহমতপ্রাপ্ত তারা, যাদের অন্তর খাঁটি; কারণ তারা আল্লাহর দিদার পাবে।
(৯)রহমতপ্রাপ্ত তারা, যারা শান্তি স্থাপন করে; কারণ তাদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত বলে ডাকা হবে।
(১০)রহমতপ্রাপ্ত তারা, যারা আল্লাহর পথে চলার জন্য অত্যাচারিত, নির্যাতিত; কারণ বেহেস্তি রাজ্য তাদেরই। (১১)রহমতপ্রাপ্ত তোমরা, যখন লোকে আমার জন্য তোমাদেরকে অপমান ও অত্যাচার করে এবং তোমাদের নামে নানা রকম মিথ্যা অপবাদ দেয়। (১২)তখন আনন্দ করো ও খুশি হয়ো; কারণ বেহেস্তে তোমাদের জন্য মহাপুরস্কার রয়েছে। তোমাদের আগে যে-নবিরা ছিলেন, তাদের ওপরও তারা একইভাবে অত্যাচার করেছে।
(১৩)তোমরা দুনিয়ার লবণ। কিন্তু যদি লবণের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তা কেমন করে আবার নোনতা করা যাবে? তা আর কোনো কাজে লাগে না; কেবল বাইরে ফেলে দেবার ও অবহেলায় পায়ের তলায় মাড়ানোর উপযুক্ত হয়। (১৪)তোমরা দুনিয়ার আলো। পাহাড়ের ওপর বানানো কোনো শহর লুকানো থাকতে পারে না। (১৫)কেউ বাতি জ্বালিয়ে লুকিয়ে রাখে না কিন্তু বাতিদানির ওপরেই রাখে। এবং তা ঘরের সকলকেই আলো দেয়। (১৬)একইভাবে তোমাদের আলো অন্যদের সামনে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলুক, যেনো তারা তোমাদের ভালো কাজ দেখে তোমাদের প্রতিপালকের প্রশংসা করে।
(১৭)একথা মনে করো না যে, আমি শরিয়ত বা সহিফাগুলো বাতিল করতে এসেছি। আমি বাতিল করতে নয় বরং পূর্ণ করতে এসেছি। (১৮)আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, যতোক্ষণ পর্যন্ত আসমান ও জমিন বিলুপ্ত না হচ্ছে, ততোক্ষণ পর্যন্ত শরিয়তের একটি নুক্তা বা একটি বিন্দুও বিলুপ্ত হবে না- সবই পূর্ণ হবে। (১৯)সুতরাং এই হুকুমগুলোর মধ্যে ছোট্ট একটি হুকুমও যদি কেউ অমান্য করে এবং অন্যকে অমান্য করতে শেখায়, তাহলে সে বেহেস্তি রাজ্যে ছোটো বলে গণ্য হবে। কিন্তু যদি কেউ হুকুমগুলো পালন করে ও অন্যকে পালন করতে শেখায়, তাহলে সে বেহেস্তি রাজ্যে মহান বলে গণ্য হবে।
(২০)আমি তোমাদের বলছি, আলিম ও ফরিসিদের চেয়ে আল্লাহর হুকুমের প্রতি তোমাদের বাধ্যতা যদি বেশি না হয়, তাহলে তোমরা কখনোই বেহেস্তি রাজ্যে ঢুকতে পারবে না।
(২১)তোমরা শুনেছো, আগেকার লোকদের কাছে বলা হয়েছে, ‘খুন করো না’; এবং ‘যে খুন করে, তাকে বিচারের সামনে দাঁড়াতে হবে।’ (২২)কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, তোমরা যদি কোনো ভাই বা বোনের ওপর রাগ করো, তাহলে তোমাদেরকে বিচারের সামনে দাঁড়াতে হবে।
যদি তোমরা কোনো ভাই বা বোনকে অপমান করো, তাহলে তোমাদেরকে মহাসভার সামনে জবাবদিহি করতে হবে। এবং যদি তোমরা বলো, ‘তুমি অকাজের, একটি বোকা,’ তাহলে তোমরা জাহান্নামের আগুনে পড়ার যোগ্য বলে গণ্য হবে।
(২৩)সেজন্য যখন তোমরা এবাদতখানায় এবাদত বা দান করার জন্য দাঁড়াবে, তখন যদি মনে পড়ে যে, তোমার বিরুদ্ধে তোমার ভাই বা বোনের কিছু বলার আছে, (২৪)তাহলে তোমার দান সেখানে রেখে ফিরে যাও। আগে তোমার ভাই বা বোনের সাথে বিবাদ মিটিয়ে ফেলো এবং পরে এসে এবাদত করো বা তোমার দান করো।
(২৫)কেউ যদি তোমার বিরুদ্ধে মামলা করতে যায়, তাহলে তুমি আর দেরি না করে তোমাদের দু’জনের আদালতে পৌঁছার আগেই সমস্ত বিরোধ মিটিয়ে ফেলো। তা না হলে ফরিয়াদি তোমাকে বিচারকের হাতে তুলে দিতে পারে আর বিচারক তোমাকে পুলিশে দেবে আর পুলিশ তোমাকে জেলে দেবে। ২৬আমি তোমাকে সত্যি বলছি, শেষ পয়সাটা শোধ না করা পর্যন্ত তুমি সেখান থেকে কিছুতেই বেরিয়ে আসতে পারবে না।
(২৭)তোমরা শুনেছো, একথা বলা হয়েছে, ‘জিনা করো না।’ (২৮)কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, যে কেউ কোনো মহিলার দিকে কামনার চোখে তাকায়, সে তখনই মনে মনে তার সাথে জিনা করে। (২৯)তোমার ডান চোখ যদি তোমার গুনাহর কারণ হয়, তাহলে তা উপড়ে ফেলে দাও। তোমার গোটা শরীর নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে বরং তার একটি অঙ্গ হারানো তোমার পক্ষে উত্তম। (৩০)তোমার ডান হাত যদি তোমার গুনাহর কারণ হয়, তাহলে তা কেটে ফেলে দাও। তোমার গোটা শরীর নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে বরং তার একটি অঙ্গ হারানো তোমার পক্ষে উত্তম।
(৩১)এটাও বলা হয়েছে, ‘যে কেউ তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, সে তাকে তালাকনামা দিক।’ (৩২)কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, যে কেউ জিনা করার অপরাধ ছাড়া অন্য কোনো কারণে স্ত্রীকে তালাক দেয়, সে তাকে জিনাকারিনী করে তোলে। এবং তালাক পাওয়া স্ত্রীকে যে বিয়ে করে, সেও জিনা করে।
(৩৩)আবার তোমরা শুনেছো, আগেকার লোকদের কাছে বলা হয়েছে, ‘তোমরা মিথ্যা কসম খেয়ো না, বরং আল্লাহর উদ্দেশে তোমাদের সব কসম পালন করো।’ (৩৪)কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, একেবারেই কসম খেয়ো না- এমনকি বেহেস্তের নামেও না, কারণ তা আল্লাহর সিংহাসন। (৩৫)দুনিয়ার নামেও না, কারণ তা তাঁর পা রাখার জায়গা। কিংবা জেরুসালেমের নামেও না, কারণ তা মহান বাদশার শহর।
(৩৬)তোমাদের মাথার নামে কসম খেয়ো না, কারণ তোমরা তার একটি চুলও সাদা কিংবা কালো করতে পারো না। (৩৭)তোমাদের কথার ‘হ্যাঁ’ যেনো ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ যেনো ‘না’ হয়; এর বেশি যা-কিছু তা শয়তানের কাছ থেকেই আসে।
(৩৮)তোমরা শুনেছো, বলা হয়েছে, ‘চোখের বদলে চোখ এবং দাঁতের বদলে দাঁত।’ (৩৯)কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, অন্যায়কারীকে প্রতিরোধ কোরো না; বরং কেউ তোমার ডান গালে চড় মারলে তাকে অন্য গালটিও পেতে দিয়ো। (৪০)কেউ যদি মামলা করে তোমার জামাটি নিতে চায়, তাহলে তাকে তোমার চাদরটিও নিতে দিয়ো। (৪১)কেউ যদি তোমাকে এক মাইল যেতে বাধ্য করে, তাহলে তার সাথে দু’মাইল যেয়ো। (৪২)যে তোমার কাছে কিছু চায় তাকে দিয়ো। আর যে তোমার কাছে ধার চায় তাকে তা দিতে অস্বীকার করো না।
(৪৩)তোমরা শুনেছো, বলা হয়েছে, ‘তোমার প্রতিবেশীকে মহব্বত কোরো এবং শত্রুকে ঘৃণা করো।’ (৪৪)কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, তোমাদের শত্রুদেরও মহব্বত করো (৪৫)এবং যারা তোমাদের ওপর অত্যাচার করে, তাদের জন্য মোনাজাত করো, যেনো তোমরা আল্লাহর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত হতে পারো। তিনি তো ভালোমন্দ সকলের ওপর তাঁর সূর্য ওঠান এবং আল্লাহর হুকুমের বাধ্য ও অবাধ্য সকলের ওপর বৃষ্টি দান করেন।
(৪৬)যারা তোমাদের মহব্বত করে, তোমরা যদি কেবল তাদেরই মহব্বত করো, তাহলে তোমরা কী পুরস্কার পাবে? কর-আদায়কারীরাও কি তা-ই করে না? (৪৭)আর তোমরা যদি কেবল তোমাদের ভাইবোনদেরই সালাম জানাও, তাহলে অন্যদের চেয়ে বেশি আর কী করছো? বিধর্মীরাও কি তাই করে না? (৪৮)সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের মতো খাঁটি হও।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)সাবধান, লোক দেখানো ধর্মকর্ম করো না; যদি করো, তাহলে তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে কোনো পুরস্কারই পাবে না। (২)এজন্য তোমরা যখন দান-খয়রাত করো, তখন ঢাকঢোল পিটিয়ে তা ঘোষণা করো না। কারণ অন্যদের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার জন্য ভন্ডরা সিনাগোগে ও পথে পথে এমনটি করে থাকে। আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তারা তাদের পুরস্কার পেয়ে গেছে। (৩)কিন্তু তুমি যখন দান-খয়রাত করো, তখন তোমার ডান হাত যা করছে তা তোমার বাম হাতকে জানতে দিয়ো না, যেনো তোমার দান-খয়রাত গোপনে হয়। (৪)তাহলে তোমার প্রতিপালক, যিনি গোপন সবকিছু দেখেন, তিনিই তোমাকে পুরস্কার দেবেন।
(৫)তোমরা যখন মোনাজাত করো, তখন ভণ্ডদের মতো করো না; কারণ তারা সিনাগোগে ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে লোক দেখানো মোনাজাত করতে ভালোবাসে। আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তারা তাদের পুরস্কার পেয়ে গেছে।
(৬)কিন্তু তুমি যখন মোনাজাত করো, তখন তোমার ঘরের ভেতরে গিয়ে দরজা বন্ধ করো এবং তোমার প্রতিপালক, যিনি গোপনে উপস্থিত, তাঁর কাছে মোনাজাত করো। তোমার প্রতিপালক, যিনি গোপন সবকিছু দেখেন, তিনিই তোমাকে পুরস্কার দেবেন।
(৭)মোনাজাতের সময় তোমরা বিধর্মীদের মতো অর্থহীন কথার পাহাড় গড়ো না; কারণ তারা মনে করে, বেশি কথা বললেই আল্লাহ তাদের মোনাজাত কবুল করবেন। (৮)তাদের মতো হয়ো না; কারণ তোমাদের প্রতিপালকের কাছে চাওয়ার আগেই তিনি তোমাদের দরকারের বিষয় জানেন। (৯)সুতরাং তোমরা এভাবে মোনাজাত করো-
‘হে আমাদের প্রতিপালক, সমস্ত প্রশংসা ও গুণগান তোমারই।
(১০)তোমার রাজ্য আসুক। বেহেস্তের মতো দুনিয়াতেও তোমার ইচ্ছা পূর্র্ণ হোক।
(১১)আজকের খাবার আজ আমাদের দাও।
(১২)আমরা যেভাবে আমাদের নিজ নিজ অপরাধীদের মাফ করেছি, তেমনি তুমিও আমাদের অপরাধ মাফ করো।
(১৩)আমাদেরকে পরীক্ষার সামনে এনো না, বরং শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করো।
(১৪)তোমরা যদি অন্যদের অপরাধ মাফ করো, তাহলে তোমাদের প্রতিপালকও তোমাদের অপরাধ মাফ করবেন।
(১৫)তোমরা যদি অন্যদের অপরাধ মাফ না করো, তাহলে তোমাদের প্রতিপালকও তোমাদের অপরাধ মাফ করবেন না।
(১৬)তোমরা যখন রোজা রাখো, তখন ভ-দের মতো মুখ কালো করে রেখো না। তারা যে রোজা রাখছে তা লোকদের দেখানোর জন্যই তারা মুখ শুকনো করে রাখে। আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তারা তাদের পুরস্কার পেয়ে গেছে। (১৭)কিন্তু তুমি যখন রোজা রাখো, তখন মাথায় তেল দিয়ো ও মুখ ধুয়ো, (১৮)যেন অন্যেরা জানতে না পারে যে, তুমি রোজা রাখছো। তাহলে তোমার প্রতিপালক, যিনি গোপনে উপস্থিত আছেন, কেবল তিনিই তা দেখবেন এবং তোমার প্রতিপালক, যিনি গোপন সবকিছু দেখেন, তিনিই তোমাকে পুরস্কার দেবেন।
(১৯)তোমরা নিজেদের জন্য এই দুনিয়াতে ধন-সম্পদ জমা করো না; কারণ এখানে মরচে ধরে ও পোকায় সবকিছু নষ্ট করে এবং চোর সিঁধ কেটে চুরি করে। (২০)তোমরা বরং বেহেস্তে নিজেদের জন্য ধন-সম্পদ জমা করো; কারণ সেখানে মরচে ধরে না বা পোকায় নষ্ট করে না এবং চোর সিঁধ কেটে চুরিও করে না। (২১)যেখানে তোমার ধন-সম্পদ থাকবে, তোমার মন তো সেখানেই থাকবে।
(২২)চোখ শরীরের বাতি। সুতরাং তোমার চোখ যদি সুস্থ থাকে, তাহলে তোমার গোটা শরীরই আলোয় পূর্র্ণ হবে। (২৩)কিন্তু তোমার চোখ যদি অসুস্থ হয়, তাহলে তো তোমার সম্পূর্ণ শরীরই অন্ধকারে পূর্র্ণ হবে। সুতরাং তোমার মাঝে যে-আলো আছে তা যদি অন্ধকার হয়, তাহলে সে-অন্ধকার কতোই-না ভয়াবহ!
(২৪)কেউই দুই মনিবের সেবা করতে পারে না; কারণ হয় সে একজনকে ঘৃণা করবে ও অন্যজনকে ভালোবাসবে, না হয় সে একজনের খুবই বাধ্য হবে ও অন্যজনকে অবহেলা করবে। তোমরা আল্লাহ ও ধন-স¤পত্তি, এই দু’য়ের সেবা করতে পারো না।
(২৫)এজন্য আমি তোমাদের বলছি, কী খাবে বা কী পান করবে বলে জীবনের বিষয়ে কিংবা কী পরবে বলে শরীরের বিষয়ে চিন্তা করো না। খাবারের চেয়ে জীবন এবং জামা-কাপড়ের চেয়ে শরীর কি বেশি মূল্যবান নয়।
(২৬)পাখিদের দিকে তাকিয়ে দেখো; তারা বীজ বোনে না, ফসল কাটে না, গোলায় জমাও করে না; তবুও তোমাদের প্রতিপালক তাদের খাইয়ে থাকেন। তোমরা কি তাদের থেকে মূল্যবান নও? (২৭)তোমাদের মধ্যে কেউ কি চিন্তা-ভাবনা করে নিজের জীবন এক ঘন্টাও বাড়াতে পারে? (২৮)কেনো তোমরা জামা-কাপড়ের বিষয়ে ভাবছো? মাঠের ফুলের কথা চিন্তা করে দেখো, তারা কেমন বেড়ে ওঠে! তারা তো পরিশ্রম করে না, সুতোও কাটে না। (২৯)আমি তোমাদের বলছি, বাদশা সোলায়মান এতোটা জাঁকজমকের মধ্যে থেকেও এগুলোর একটির মতোও নিজেকে সাজাতে পারেননি। (৩০)মাঠের যে-ঘাস আজ আছে আর আগামীকাল চুলোয় ফেলে দেয়া হবে তা যখন আল্লাহ এমনভাবে সাজান, তখন হে দুর্বল বিশ্বাসীর দল, তিনি কি তোমাদের আরো সুন্দর করে সাজাবেন না?
(৩১)অতএব, চিন্তা করো না। বলো না, ‘আমরা কী খাবো’ অথবা ‘আমরা কী পান করবো’ কিংবা ‘আমরা কী পরবো?’
(৩২)বিধর্মীরাই তো এসবের পেছনে ছুটে মরে। তোমাদের প্রতিপালক তো জানেন যে, এসব জিনিস তোমাদের প্রয়োজন আছে। (৩৩)কিন্তু তোমরা প্রথমে আল্লাহর রাজ্য ও তাঁর হুকুমের বাধ্য হয়ে চলো, তাহলে এসব জিনিসও তোমাদের দেয়া হবে। (৩৪)সুতরাং আগামীকালের বিষয়ে চিন্তা করো না; আগামীকাল তার নিজের ভাবনা নিজেই ভাববে; আজকের কষ্ট আজকের জন্য যথেষ্ট।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)বিচার করো না, তাহলে তোমরাও বিচারের মুখোমুখি হবে না। কারণ যেভাবে তোমরা বিচার করো, সেভাবেই তোমাদের বিচার করা হবে; (২)আর যেভাবে তোমরা মেপে দাও, সেভাবে তোমাদের জন্যও মাপা হবে।
(৩)অন্যের চোখে যে-ধূলিকণা আছে তা কেনো দেখছো অথচ তোমার নিজের চোখের মধ্যে যে কাঠের টুকরো আছে তা লক্ষ্য করছো না কেনো?
অথবা (৪)যখন তোমার নিজের চোখেই কাঠের টুকরা রয়েছে, তখন কেমন করে অন্যকে বলছো, ‘এসো, তোমার চোখ থেকে কণাটি বের করে দেই’? (৫)তুমি ভণ্ড প্রথমে তোমার নিজের চোখ থেকে কাঠের টুকরাটি বের করে ফেলো, তাহলে অন্যের চোখ থেকে কণাটি বের করার জন্য স্পষ্ট দেখতে পাবে।
(৬)যা পবিত্র তা কুকুরকে দিয়ো না। শূকরের সামনে মুক্তা ছড়িয়ো না; হয়তো তারা সেগুলো তাদের পায়ের তলায় মাড়াবে এবং ফিরে এসে তোমাকেই ক্ষতবিক্ষত করবে।
(৭)চাও, তোমাদের দেয়া হবে। খোঁজ করো, তোমরা পাবে। দরজায় কড়া নাড়ো, তোমাদের জন্য খোলা হবে। (৮)যারা চায় তারা প্রত্যেকে পায় এবং যারা খোঁজ করে তারা প্রত্যেকে খুঁজে পায় আর যারা দরজায় কড়া নাড়ে, তাদের প্রত্যেকের জন্য দরজা খোলা হয়। (৯)তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যার সন্তান রুটি চাইলে সে তাকে পাথর দেবে? (১০)কিংবা মাছ চাইলে সাপ দেবে? (১১)তোমরা খারাপ হয়েও যদি নিজেদের সন্তানদের ভালো ভালো জিনিস দিতে জানো, তাহলে যারা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে চায়, তিনি যে তাদের ভালো ভালো জিনিস দেবেন, এটি কতোই-না নিশ্চিত!
(১২)সব বিষয়েই তোমরা অন্যের কাছ থেকে যেমনটি আশা করো, তোমরাও তাদের জন্য তেমনই করো; এটাই হলো শরিয়ত ও সহিফাগুলোর মূল শিক্ষা।
(১৩)সরু দরজা দিয়ে ঢোকো, কারণ ধ্বংসের পথে যাওয়া সহজ ও এর দরজাও চওড়া; অনেকেই এপথে যায়। কিন্তু জীবনের পথ খুব কঠিন এবং (১৪)তার দরজাও সরু; খুব কম লোকই তা খুঁজে পায়।
(১৫)ভণ্ড নবিদের বিষয়ে সাবধান হও! তারা তোমাদের কাছে ভেড়ার চেহারায় আসে অথচ ভেতরে তারা রাক্ষুসে নেকড়ের মতো। (১৬)কাজ দেখেই তোমরা তাদের চিনতে পারবে। কাঁটাঝোপে কি আঙুর কিংবা শিয়াল-কাঁটায় কি ডুমুর ধরে? (১৭)ঠিক সেভাবে প্রত্যেক ভালো গাছে ভালো ফলই ধরে আর খারাপ গাছে খারাপ ফলই ধরে।
(১৮)ভালো গাছে খারাপ ফল অথবা খারাপ গাছে ভালো ফল ধরতে পারে না। (১৯)যে-গাছে ভালো ফল ধরে না তা কেটে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। (২০)কাজেই বলি, কাজ দ্বারাই তোমরা তাদের চিনতে পারবে।
(২১)যারা আমাকে ‘হুজুর, হুজুর’ বলে ডাকে, তারা প্রত্যেকে যে বেহেস্তি রাজ্যে ঢুকতে পারবে তা নয় কিন্তু যে আমার প্রতিপালকের ইচ্ছা পালন করে, সে-ই ঢুকতে পারবে। (২২)সেদিন অনেকেই আমাকে বলবে, ‘হুজুর, হুজুর’, আমরা কি আপনার নামে ভবিষ্যতের কথা বলিনি? আপনার নামে কি ভূত ছাড়াইনি? এবং আপনার নামে কি অনেক আশ্চর্য কাজ করিনি?’ (২৩)তখন আমি তাদের স্পষ্ট করে বলবো, ‘কোনোকালেই তোমরা আমার লোক ছিলে না। দুষ্টের দল! আমার কাছ থেকে দূর হও।’
(২৪)অতএব, যে কেউ আমার এসব কথা শোনে এবং আমল করে, সে এমন একজন বুদ্ধিমানের মতো, যে পাথরের ওপর তার ঘর তৈরি করলো। (২৫)পরে বৃষ্টি নামলো, বন্যা এলো, ঝড় বইলো এবং সেই ঘরের ওপর আঘাত করলো কিন্তু সেই ঘর পড়লো না; কারণ তা পাথরের ওপর তৈরি করা হয়েছিলো। (২৬)আর যে কেউ আমার এসব কথা শোনে কিন্তু পালন করে না, সে এমন একজন মূর্খের মতো, যে বালির ওপর তার ঘর তৈরি করলো।
(২৭)পরে বৃষ্টি নামলো, বন্যা এলো, ঝড় বইলো এবং সেই ঘরের ওপর আঘাত করলো; তাতে ঘরটা পড়ে গেলো। কি ভীষণভাবেই না এটির পতন ঘটলো!”
(২৮)হযরত ইসা রা. যখন এসব বিষয়ে বলা শেষ করলেন, তখন সমস্ত লোক তাঁর শিক্ষায় অবাক হয়ে গেলো; (২৯)কারণ তিনি আলিমদের মতো শিক্ষা না দিয়ে বরং অধিকার আছে এমন একজনের মতো তাদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)হযরত ইসা রা. যখন পাহাড় থেকে নেমে এলেন, তখন অনেক লোক তাঁর পেছনে পেছনে চললো। (২)সেই সময় একজন কুষ্ঠরোগী এসে তাঁর সামনে নতজানু হয়ে বললো, “হুজুর, আপনি ইচ্ছা করলেই আমাকে পাকসাফ করতে পারেন।” (৩)তিনি হাত বাড়িয়ে তাকে ছুঁয়ে বললেন, “আমি তা-ই চাই, তুমি পাকসাফ হও!” তখনই সে কুষ্ঠরোগ থেকে পাকসাফ হয়ে গেলো। (৪)হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “দেখো, তুমি এই বিষয়ে কাউকে কিছু বলো না; কিন্তু ইমামের কাছে গিয়ে নিজেকে দেখাও আর তাদের কাছে প্রমাণ হিসেবে হযরত মুসা আ. যে-কোরবানির হুকুম দিয়েছেন তা আদায় করো।”
(৫)হযরত ইসা আ. যখন কফরনাহুম শহরে ঢুকলেন, তখন একজন রোমীয় সেনা অফিসার তাঁর কাছে এসে অনুরোধ করে বললেন, (৬)“হুজুর, আমার গোলাম অবশরোগে বিছানায় পড়ে আছে এবং ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে।” (৭)তিনি তাকে বললেন, “আমি গিয়ে তাকে সুস্থ করবো।”
(৮)সেই রোমীয় সেনা অফিসার উত্তরে বললেন, “হুজুর, আপনি যে আমার বাড়িতে আসবেন, আমি তার যোগ্য নই! কেবল মুখে বলুন, তাতেই আমার গোলাম সুস্থ হয়ে উঠবে। (৯)কারণ আমিও অন্যের অধীন এবং সৈন্যরা আমার অধীনে আছে। আমি একজনকে ‘যাও’ বললে সে যায় এবং অন্যজনকে ‘এসো’ বললে সে আসে। আমার গোলামকে ‘এটি করো’ বললে সে তা করে।” (১০)তার কথা শুনে হযরত ইসা আ. অবাক হলেন এবং যারা তাঁর পেছনে পেছনে যাচ্ছিলো তাদের বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, ইস্রাইল জাতির কারো মধ্যে আমি এমন ইমান দেখিনি।
(১১)আমি তোমাদের বলছি, পূর্ব-পশ্চিম থেকে অনেকে আসবে এবং হযরত ইব্রাহিম আ., হযরত ইসহাক আ. ও হযরত ইয়াকুব আ. এর সাথে বেহেস্তি রাজ্যে খেতে বসবে; (১২)কিন্তু রাজ্যের সন্তানদের বাইরে অন্ধকারে ফেলে দেয়া হবে। সেখানে তারা কান্নাকাটি করবে ও দাঁতে দাঁত ঘষতে থাকবে।” (১৩)হযরত ইসা আ. সেই রোমীয় সেনা অফিসারকে বললেন, “যাও, তুমি যেমন ইমান এনেছো, তোমার জন্য তেমনই হোক।” ঠিক তখনই তার গোলাম সুস্থ হয়ে গেলো।
(১৪)পরে হযরত ইসা আ. যখন হযরত সাফওয়ান রা.র বাড়িতে গেলেন, তখন দেখলেন, তার শাশুড়ির জ্বর হয়েছে এবং তিনি বিছানায় পড়ে আছেন। (১৫)হযরত ইসা আ. তার হাত ছুঁলেন, তাতে তার জ্বর ছেড়ে গেলো এবং তিনি উঠে তাঁর খেদমত করতে লাগলেন।
(১৬)সেদিন সন্ধ্যায় তারা ভূতে পাওয়া অনেক লোককে হযরত ইসা আ. এর কাছে নিয়ে এলো এবং তিনি কালাম দ্বারাই সেই ভূতদের ছাড়ালেন। যারা অসুস্থ ছিলো, তাদের সকলকে সুস্থ করলেন। (১৭)এভাবেই নবি হযরত ইসাইয়ার মধ্য দিয়ে বলা একথা পূর্ণ হলো, “তিনি আমাদের সব দুর্বলতা তুলে নিলেন এবং আমাদের অসুস্থতা বহন করলেন।”
(১৮)হযরত ইসা আ. নিজের চারপাশে জনতার ভিড় দেখে লেকের ওপারে যাবার হুকুম দিলেন। (১৯)একজন আলিম এসে বললেন, “হুজুর, আপনি যেখানেই যান না কেনো, আমি আপনাকে অনুসরণ করবো।” (২০)হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “শিয়ালের গর্ত আছে এবং পাখির বাসা আছে কিন্তু ইবনুুল-ইনসানের মাথা রাখার জায়গা নেই।”
(২১)সাহাবিদের মধ্যে অন্য একজন তাঁকে বললেন, “হুজুর, আগে আমার পিতাকে দাফন করে আসতে দিন।” (২২)হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “মৃতেরাই তাদের নিজ নিজ মৃতদের দাফন করুক কিন্তু তুমি আমাকে অনুসরণ করো।” (২৩)অতঃপর তিনি নৌকায় উঠলে তাঁর সাহাবিরাও তাঁর পেছনে পেছনে গেলেন।
(২৪)লেকে ভীষণ ঝড় উঠলো আর ঢেউগুলো নৌকার ওপর এমনভাবে আছড়ে পড়তে লাগলো যে, তাতে নৌকা ডুবে যাওয়ার মতো হলো; কিন্তু তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। (২৫)তারা গিয়ে তাঁকে জাগিয়ে বললেন, “হুজুর, আমাদের বাঁচান! আমরা যে মরলাম!” (২৬)তিনি তাদের বললেন, “দুর্বল ইমানদারের দল, কেনো তোমরা ভয় পাচ্ছো?” এরপর তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বাতাস ও লেককে ধমক দিলেন আর তখনই সবকিছু একেবারে শান্ত হয়ে গেলো। (২৭)এতে তারা অবাক হয়ে বললেন, “ইনি কেমন মানুষ যে, বাতাস এবং লেকও তাঁর বাধ্য হয়?”
(২৮)তিনি যখন লেকের ওপারে গাদারীয়দের এলাকায় গেলেন, তখন ভূতে পাওয়া দু’ব্যক্তি গোরস্থান থেকে বের হয়ে তাঁর কাছে এলো। তারা এমন ভয়ঙ্কর ছিলো যে, কেউই সেপথ দিয়ে যেতে পারতো না। (২৯)হঠাৎ তারা চিৎকার করে বলে উঠলো, “হে আল্লাহর একান্ত প্রিয় মনোনীতজন, আমাদের সাথে আপনার কী? সময় না হতেই কি আপনি আমাদের যন্ত্রণা দিতে এখানে এসেছেন?” (৩০)তখন তাদের কাছ থেকে কিছুটা দূরে বেশ বড়ো একপাল শূকর চরে বেড়াচ্ছিলো।
(৩১)ভূতেরা তাঁকে কাকুতি-মিনতি করে বললো, “আপনি যদি আমাদের তাড়িয়েই দিতে চান, তাহলে ওই শূকর পালের মধ্যে পাঠিয়ে দিন।” (৩২)তিনি তাদের বললেন, “যাও!” সুতরাং তারা বের হয়ে শূকরগুলোর মধ্যে ঢুকে গেলো এবং তখনই সেই শূকরের পাল ঢালু পাড় দিয়ে জোরে দৌঁড়ে গিয়ে লেকে পড়লো ও পানিতে ডুবে মরলো।
(৩৩)যারা শূকর চরাচ্ছিলো তারা পালিয়ে গেলো এবং গ্রামে গিয়ে সমস্ত ঘটনা- বিশেষভাবে ওই ভূতে পাওয়া লোকদের বিষয়ে- জানালো। (৩৪)তখন গ্রামের সমস্ত লোক হযরত ইসা আ. এর সাথে দেখা করার জন্য বেরিয়ে এলো। তাঁর দেখা পেয়ে তারা তাঁকে কাকুতি-মিনতি করলো, যেনো তিনি তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যান।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)অতঃপর তিনি নৌকায় উঠে লেক পাড়ি দিয়ে তাঁর নিজের শহরে এলেন। (২)তখনই কিছু লোক বিছানায় শোয়ানো এক অবশরোগীকে তাঁর কাছে নিয়ে এলো। হযরত ইসা আ. তাদের ইমান দেখে সেই অবশরোগীকে বললেন, “সন্তান আমার, সাহস করো; তোমার গুনাহ মাফ করা হলো।”
(৩)এতে কয়েকজন আলিম মনে মনে বলতে লাগলেন, “এই লোকটি কুফরি করছে।” (৪)কিন্তু হযরত ইসা আ. তাদের মনের চিন্তা বুঝতে পেরে বললেন, “কেনো তোমরা মনে মনে খারাপ চিন্তা করছো? (৫)কোনটি বলা সহজ- ‘তোমার গুনাহ মাফ করা হলো’ নাকি ‘উঠে দাঁড়াও এবং হেঁটে বেড়াও’? (৬)কিন্তু তোমরা যেনো জানতে পারো যে, এই দুনিয়াতে গুনাহ মাফ করার অধিকার ইবনুল-ইনসানের আছে”-¬ অতঃপর তিনি সেই অবশরোগীকে বললেন- “ওঠো, তোমার বিছানা তুলে নিয়ে বাড়ি চলে যাও।” (৭)তখন সে উঠে দাঁড়ালো এবং তার বাড়ি ফিরে গেলো। (৮)লোকেরা এ-ঘটনা দেখে সশ্রদ্ধ ভয়ে ভীত হলো এবং আল্লাহ মানুষকে এমন অধিকার দিয়েছেন দেখে তাঁর প্রশংসা করতে লাগলো।
(৯)সেই জায়গা থেকে চলে যাবার পথে হযরত ইসা আ. দেখলেন, মথি নামে এক লোক কর আদায় করার ঘরে বসে আছেন। তিনি তাকে বললেন, “আমাকে অনুসরণ করো।” আর তিনি উঠে তাঁকে অনুসরণ করলেন। (১০)পরে তিনি যখন ঘরের ভেতরে খেতে বসলেন, তখন অনেক কর-আদায়কারী ও গুনাহগারেরা এসে তাঁর ও সাহাবিদের সাথে বসলো।
(১১)তা দেখে ফরিসিরা তাঁর সাহাবিদের বললেন, “তোমাদের ওস্তাদ কর-আদায়কারী ও গুনাহগারদের সাথে খাওয়া-দাওয়া করেন কেনো?” (১২)একথা শুনে তিনি বললেন, “সুস্থদের জন্য ডাক্তারের দরকার নেই, বরং অসুস্থদের জন্যই দরকার আছে।
(১৩)‘আমি দয়া চাই, কোরবানি নয়- একথার অর্থ কী, তা গিয়ে শেখো।’ কারণ আমি আল্লাহর হুকুমের প্রতি বাধ্যদের নয়, বরং গুনাহগারদেরই ডাকতে এসেছি।”
(১৪)পরে হযরত ইয়াহিয়ার সাহাবিরা তাঁর কাছে এসে বললেন, “আমরা ও ফরিসিরা প্রায়ই রোজা রাখি কিন্তু আপনার সাহাবিরা রোজা রাখেন না কেনো?” (১৫)হযরত ইসা আ. তাদের বললেন, “বর সাথে থাকতে কি বিয়ে বাড়ির মেহমানরা দুঃখ করতে পারে? কিন্তু সময় আসছে, যখন বরকে তাদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন তারা রোজা রাখবে।
(১৬)পুরোনো কাপড়ে কেউ নতুন কাপড়ের তালি দেয় না। যদি দেয়, তাহলে সেই পুরোনো কাপড় থেকে নতুন তালিটি ছিঁড়ে আসে; তাতে সেই ছেঁড়া আরো বড়ো হয়। (১৭)পুরোনো চামড়ার থলিতে কেউ টাটকা আঙুররস রাখে না। রাখলে থলি ফেটে গিয়ে সেই রস পড়ে যায় এবং থলিও নষ্ট হয়। লোকে নতুন থলিতেই টাটকা আঙুররস রাখে; তাতে দুটোই রক্ষা পায়।”
(১৮)হযরত ইসা আ. যখন তাদেরকে এসব কথা বলছিলেন, তখনই একজন ইহুদি নেতা এলেন এবং তাঁর সামনে নতজানু হয়ে বললেন, “আমার মেয়েটি এইমাত্র মারা গেছে কিন্তু আপনি এসে তার ওপর হাত রাখুন, তাতে সে বেঁচে উঠবে।”
(১৯)তখন হযরত ইসা আ. উঠলেন এবং সাহাবিদের নিয়ে তার সাথে চললেন। (২০)এমন সময় এক মহিলা পেছন থেকে এসে তাঁর চাদরের ঝালরটি ছুঁলো। (২১)এই মহিলা বারো বছর ধরে রক্তস্রাব রোগে ভুগছিলো। সে মনে মনে বলছিলো, “যদি আমি তাঁর চাদরটিও ছুঁতে পারি, তাহলে আমি অবশ্যই সুস্থ হয়ে উঠবো।” (২২)হযরত ইসা আ. ঘুরে দাঁড়ালেন এবং তাকে দেখতে পেয়ে বললেন, “মা, সাহস করো; তোমার ইমান তোমাকে সুস্থ করেছে।” এবং তখনই সেই মহিলা সুস্থ হয়ে গেলো।
(২৩)হযরত ইসা আ. সেই নেতার বাড়িতে পৌঁছে দেখতে পেলেন, বাঁশি-বাজিয়েরা রয়েছে এবং লোকেরা কোলাহল করছে। (২৪)তিনি তখন বললেন, “এখান থেকে যাও, মেয়েটি মরেনি, ঘুমোচ্ছে।” ফলে তারা তাকে উপহাস করতে লাগলো। (২৫)কিন্তু ঘর থেকে লোকদের বের করে দেবার পর তিনি ভেতরে গিয়ে তার হাত ধরলেন, তাতে মেয়েটি উঠে বসলো।
(২৬)এবং এই ঘটনার কথা সেই এলাকার সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়লো।
(২৭)হযরত ইসা আ. সেই জায়গা ছেড়ে চলে যাবার সময় দু’জন অন্ধ তাঁর পেছনে পেছনে চললো। তারা চেঁচিয়ে বলতে লাগলো, “হে দাউদের সন্তান, আমাদের প্রতি রহম করুন!” (২৮)তিনি ঘরে ঢোকার পর সেই অন্ধরা তাঁর কাছে এলো। তখন হযরত ইসা আ. তাদের বললেন, “তোমরা কি বিশ্বাস করো যে, আমি তা করতে পারি?” তারা বললো, “জি, হুজুর।”
(২৯)অতঃপর তিনি তাদের চোখ ছুঁয়ে বললেন, “তোমরা যেমন বিশ্বাস করেছো, তোমাদের প্রতি তেমনই হোক।” তখন তাদের চোখ খুলে গেলো।
(৩০)হযরত ইসা আ. খুব কঠোরভাবে তাদের হুকুম দিয়ে বললেন, “দেখো, কেউই যেনো এই ঘটনা জানতে না পারে।” (৩১)কিন্তু তারা বাইরে গিয়ে সেই এলাকার সব জায়গায় তাঁর খবর ছড়িয়ে দিলো।
(৩২)তারা চলে গেলে ভূতে পাওয়া এক বোবাকে তাঁর কাছে আনা হলো। (৩৩)ভূত ছাড়াবার পর বোবা কথা বলতে লাগলো। এতে সকলে অবাক হয়ে বললো, বনি-ইসরাইলের মধ্যে আর কখনো এরকম দেখা যায়নি।” (৩৪)কিন্তু ফরিসিরা বললেন, “সে ভূতদের রাজার সাহায্যে ভূত ছাড়ায়।”
(৩৫)হযরত ইসা আ. শহরে শহরে ও গ্রামে গ্রামে গিয়ে তাদের সিনাগোগ-গুলোতে শিক্ষা দিতে ও বেহেস্তি রাজ্যের সুখবর প্রচার করতে লাগলেন; এবং সব রকমের অসুস্থদের সুস্থ করতে লাগলেন।
(৩৬)লোকদের ভিড় দেখে তাদের জন্য তাঁর মমতা হলো, কারণ তারা রাখালহীন ভেড়ার মতো ক্লান্ত ও অসহায় ছিলো। (৩৭)তখন তিনি তাঁর সাহাবিদের বললেন, “ফসল সত্যিই অনেক কিন্তু কাজ করার লোক কম। (৩৮)অতএব, ফসলের মালিকের কাছে অনুরোধ করো, যেনো তিনি তাঁর ফসলের মাঠে কাজ করার জন্য লোক পাঠিয়ে দেন।”
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)অতঃপর হযরত ইসা আ. তাঁর বারোজন সাহাবিকে ডাকলেন ও তাদেরকে ভূতদের ওপর অধিকার দিলেন, যেনো তারা তাদের ছাড়াতে পারেন এবং সবরকম রোগ ও অসুস্থতা দূর করতে পারেন। (২)সেই বারোজন হাওয়ারির নাম এই:
হযরত সাফওয়ান হযরত রা.- যাকে হযরত পিতর রা. বলা হয়- আর তার ভাই হযরত আন্দ্রিয়ান রা.; হযরত ইয়াকুব ইবনে জাবিদি ও তার ভাই হযরত ইউহোন্না রা.; (৩)হযরত ফিলিপ রা. ও হযরত বর্থলময় রা.; হযরত থোমা রা. ও কর-আদায়কারী হযরত মথিরা.; হযরত ইয়াকুব ইবনে আলফিয়াস ও হযরত থদ্দেয় রা.; (৪)দেশপ্রেমিক হযরত সিমোন রা. এবং হযরত ইহুদা ইস্কারিয়োত রা.- যিনি তাঁর সাথে বেইমানি করেছিলেন।
(৫)এই বারোজনকে হযরত ইসা আ. এই হুকুম দিয়ে পাঠালেন- “তোমরা অইহুদিদের কাছে বা সামেরীয়দের কোনো গ্রামে যেয়ো না, (৬)বরং ইস্রাইলের হারানো সন্তানদের কাছে যাও। (৭)যেতে যেতে তোমরা এই সুসংবাদ প্রচার করো যে, বেহেস্তি রাজ্য কাছে এসে গেছে। (৮)তোমরা অসুস্থদের সুস্থ করো, মৃতদের জীবন দিয়ো, কুষ্ঠীদের পাকসাফ করো এবং ভূতদের দূর করো। তোমরা বিনামূল্যে পেয়েছো, বিনামূল্যেই দিয়ো। (৯)যাত্রা পথের জন্য তোমাদের কোমরবন্ধে সোনা, রুপা বা তামার পয়সা, (১০)কোনো থলি, দুটো কোর্তা, জুতা বা লাঠি নিয়ো না; কারণ যে কাজ করে সে খাবার পাবার যোগ্য।
(১১)তোমরা যে-শহরে বা গ্রামে যাবে, সেখানে তোমাদের মেহমান হিসেবে গ্রহণ করতে পারে এমন উপযুক্ত লোককে খুঁজে নিয়ো এবং অন্য কোথাও চলে না যাওয়া পর্যন্ত তার বাড়িতেই থেকো। (১২)সেই বাড়িতে ঢোকার সময় সালাম দিয়ো। (১৩)বাড়িটি যদি উপযুক্ত হয়, তাহলে তোমাদের শান্তি তার ওপর নেমে আসুক। কিন্তু যদি তা উপযুক্ত না হয়, তাহলে তোমাদের শান্তি তোমাদের কাছেই ফিরে আসুক। (১৪)কেউ যদি তোমাদের স্বাগত না জানায় কিংবা তোমাদের কথা না শোনে, তাহলে সেই বাড়ি বা গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার সময় তোমাদের পা থেকে ধুলো ঝেড়ে ফেলো। (১৫)আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, কেয়ামতের দিন ওই শহরের চেয়ে বরং সদোম ও ঘমোরা শহরের অবস্থা অনেক সহনীয় হবে।
(১৬)দেখো, আমি তোমাদেরকে নেকড়ের পালের মধ্যে ভেড়ার মতো পাঠাচ্ছি। সুতরাং সাপের মতো সতর্ক এবং কবুতরের মতো সরল হও। (১৭)তাদের থেকে সাবধান থেকো; কারণ তারা তোমাদেরকে আদালতে সমর্পণ করবে এবং সিনাগোগের ভেতর চাবুক মারবে।
(১৮)আমার কারণে দেশের শাসনকর্তা ও বাদশাদের সামনে, তাদের ও অ-ইহুদিদের কাছে সাক্ষ্য দেবার জন্য, তোমাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে। (১৯)যখন তারা তোমাদের ধরিয়ে দেবে, তখন কীভাবে কী বলতে হবে তা নিয়ে চিন্তা করো না। তোমাদের যে কী বলতে হবে তা সেই সময়েই তোমাদের দেয়া হবে। (২০)কারণ তোমরা যে বলবে তা নয়, বরং তোমাদের প্রতিপালকের রুহই তোমাদের মধ্য দিয়ে কথা বলবেন।
(২১)ভাই ভাইকে এবং পিতা সন্তানকে মেরে ফেলার জন্য ধরিয়ে দেবে। সন্তানেরা বাবা-মার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তাদের হত্যা করাবে। (২২)আমার নামের জন্য তোমরা সকলের কাছে ঘৃণিত হবে কিন্তু যে শেষ পর্যন্ত স্থির থাকবে, সে নাজাত পাবে। (২৩)যখন তারা তোমাদেরকে এক গ্রামে অত্যাচার করবে, তখন অন্য গ্রামে পালিয়ে যেয়ো। আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, ইবনুল-ইনসান আসার আগে তোমরা ইস্রাইলের সব শহরে যাওয়া শেষ করতে পারবে না।
(২৪)শিক্ষকের চেয়ে ছাত্র এবং মনিবের চেয়ে গোলাম বড়ো নয়। (২৫)ছাত্রের পক্ষে শিক্ষকের এবং গোলামের পক্ষে মনিবের মতো হওয়াই যথেষ্ট। তারা যখন বাড়ির মালিককে বেলসোবুল বলেছে, তখন তাঁর পরিবার-পরিজনদের আরো কতোকিছুই-না বলবে!
(২৬)সুতরাং তাদের ভয় করো না। এমন কিছুই লুকোনো নেই, যা প্রকাশ পাবে না এবং এমন কিছুই গোপন নেই, যা জানাজানি হবে না। (২৭)আমি তোমাদের কাছে যা অন্ধকারে বলছি তা তোমরা আলোতে বলো এবং যা তোমরা কানেকানে শুনছো তা ছাদের ওপরে গিয়ে প্রচার করো।
(২৮)যারা কেবল শরীর ধ্বংস করতে পারে কিন্তু রুহ ধ্বংস করতে পারে না, তাদের ভয় করো না; বরং তাঁকেই ভয় করো, যিনি শরীর এবং রুহ উভয়ই জাহান্নামে ধ্বংস করতে পারেন। (২৯)দুটো চড়ুই কি এক পয়সায় বিক্রি হয় না? তবুও তোমাদের প্রতিপালকের অনুমতি ছাড়া তাদের একটিও মাটিতে পড়ে না। (৩০)এমনকি তোমাদের মাথার সব চুলও গোনা আছে। (৩১)অতএব, ভয় করো না। অনেক চড়ুই পাখির চেয়েও তোমরা অধিক মূল্যবান।
(৩২)যারা অন্যের সামনে আমাকে স্বীকার করে, আমিও তাদের প্রত্যেককে আমার প্রতিপালকের সামনে স্বীকার করবো।
(৩৩)এবং যে-ব্যক্তি অন্যের সামনে আমাকে অস্বীকার করে, আমিও তাকে আমার প্রতিপালকের সামনে অস্বীকার করবো।
(৩৪)ভেবো না যে, আমি পৃথিবীতে শান্তি দিতে এসেছি; আমি শান্তি দিতে নয় কিন্তু তরবারি নিয়ে এসেছি। (৩৫)আমি ছেলেকে বাবার বিরুদ্ধে, মেয়েকে মায়ের বিরুদ্ধে এবং পুত্রবধূকে শাশুড়ির বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে এসেছি। (৩৬)নিজের ঘরের লোকেরাই নিজের শত্রু হয়ে উঠবে।
(৩৭)যে-ব্যক্তি তার বাবা-মাকে আমার চেয়ে বেশি ভালোবাসে, সে আমার উপযুক্ত নয় এবং যে তার ছেলে-মেয়েকে আমার চেয়ে বেশি ভালোবাসে, সেও আমার উপযুক্ত নয়। (৩৮)যে সলিব বহন না করে আমাকে অনুসরণ করে, সে আমার উপযুক্ত নয়। (৩৯)যারা তাদের জীবন খোঁজে, তারা তা হারাবে এবং আমার জন্য যারা তাদের জীবন হারায়, তারা তা ফিরে পাবে।
(৪০)যে তোমাদের গ্রহণ করে, সে আমাকেই গ্রহণ করে এবং যে আমাকে গ্রহণ করে, সে যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁকেই গ্রহণ করে। (৪১)নবিকে যে নবি বলে গ্রহণ করে, সে নবিরই পুরস্কার পাবে এবং দীনদারকে যে দীনদার বলে গ্রহণ করে, সে দীনদারেরই পুরস্কার পাবে। (৪২)যে কেউ এই সামান্য লোকদের মধ্যে কোনো একজনকে আমার উম্মত জেনে এক গ্লাস ঠান্ডা পানিও পান করতে দেয়- আমি তোমাদের সত্যিই বলছি- সে তার পুরস্কার হারাবে না।”
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)অতঃপর হযরত ইসা আ. তাঁর বারোজন হাওয়ারিকে হুকুম দেয়া শেষ করে নিজে গ্রামে গ্রামে শিক্ষা দিতে ও প্রচার করতে সেই জায়গা ছেড়ে চলে গেলেন।
(২)হযরত ইয়াহিয়া আ. জেলে বন্দি অবস্থায় যখন মসিহের কাজের বিষয়ে শুনলেন, তখন তিনি তার সাহাবিদের মাধ্যমে তাঁর কাছে জানতে চেয়ে পাঠালেন যে, (৩)“যাঁর আসার কথা আছে আপনি কি তিনি, নাকি আমরা অন্য কারো জন্য অপেক্ষা করবো?” (৪)উত্তরে হযরত ইসা আ. তাদের বললেন, “যাও, এবং তোমরা যা শুনছো ও দেখছো তা হযরত ইয়াহিয়াকে জানাও (৫)অন্ধেরা তাদের দৃষ্টি ফিরে পাচ্ছে, খোঁড়ারা হাঁটছে, কুষ্ঠীরা পাকসাফ হচ্ছে, কালারা শুনছে, মৃতেরা বেঁচে উঠছে এবং গরিবদের কাছে সুখবর প্রচার করা হচ্ছে। (৬)রহমতপ্রাপ্ত সেই ব্যক্তি, যে আমাকে নিয়ে বাধা না পায়।”
(৭)তারা চলে যাচ্ছেন, এমন সময় হযরত ইসা আ. জনতার উদ্দেশে হযরত ইয়াহিয়া আ. সম্পর্কে বলতে লাগলেন, “মরুপ্রান্তরে তোমরা কী দেখতে গিয়েছিলে? বাতাসে দোলা নলখাগড়া? (৮)তাহলে তোমরা কী দেখতে গিয়েছিলে? দামি পোশাক পরা কোনো লোককে কি? দেখো, যারা দামি পোশাক পরে তারা তো রাজপ্রাসাদেই থাকে। (৯)তাহলে তোমরা কী দেখতে গিয়েছিলে? কোনো নবিকে? হ্যাঁ, আমি তোমাদের বলছি, নবির চেয়েও মহান একজনকে।
(১০)ইনি সেই ব্যক্তি, যাঁর বিষয়ে লেখা আছে, ‘দেখো, তোমার আগে আমি আমার নবিকে পাঠাচ্ছি, সে তোমার আগে গিয়ে তোমার পথ প্রস্তুত করবে।’
(১১)আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, মায়ের গর্ভজাত এমন একজনও নেই, যে হযরত ইয়াহিয়া আ.-র চেয়ে মহান; তবুও বেহেস্তি রাজ্যের তুচ্ছতম ব্যক্তিও তার চেয়ে মহান। (১২)হযরত ইয়াহিয়া আ.-র সময় থেকে আজ পর্যন্ত বেহেস্তি রাজ্য জোরের সাথে এগিয়ে আসছে এবং শক্তিশালীরা তা জোরপূর্বক দখল করছে। (১৩)সকল নবি এবং শরিয়ত ভবিষ্যতের কথা বলেছেন হযরত ইয়াহিয়া আ.-র আগমন পর্যন্ত। (১৪)এবং যদি তোমরা গ্রহণ করতে পারো, তাহলে যে- হযরত ইলিয়াস আ.-র আসার কথা ছিলো, তিনিই এই ব্যক্তি। (১৫)যার কান আছে সে শুনুক!
(১৬)এই প্রজন্মকে আমি কীসের সাথে তুলনা করবো? এরা এমন ছেলে-মেয়ের মতো, যারা বাজারে বসে একে অন্যকে ডেকে বলে (১৭)‘আমরা তোমাদের জন্য বাঁশি বাজালাম কিন্তু তোমরা নাচলে না; আমরা আর্তনাদ করলাম কিন্তু তোমরা বিলাপ করলে না।’ (১৮)হযরত ইয়াহিয়া আ. এসে খাওয়া-দাওয়া করেননি বলে তারা বলে, ‘ওকে ভূতে পেয়েছে!’ (১৯)ইবনুল-ইনসান এসে খাওয়া-দাওয়া করছেন বলে তারা বলে, ‘দেখো, ওই যে একজন পেটুক ও মদখোর, কর-আদায়কারী ও গুনাহগারদের বন্ধু!’ কিন্তু কাজই প্রমাণ করে তার জ্ঞান সঠিক কিনা।”
(২০)অতঃপর তিনি যেসব শহরে সব থেকে বেশি মোজেজা দেখিয়েছিলেন, সেসব শহরকে ধিক্কার দিতে লাগলেন, কারণ তারা তওবা করেনি।
(২১)“হায় কোরাযিন! হায় বেতসাইদা! ধিক তোমাদের; কারণ তোমাদের মাঝে যেসব মোজেজা দেখানো হয়েছে তা যদি টায়ার ও সিডনে দেখানো হতো, তাহলে অনেক আগেই তারা চট পরে ছাই মেখে তওবা করতো। (২২)কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, কেয়ামতের দিন তোমাদের চেয়ে বরং টায়ার ও সিডনের অবস্থা অনেক সহনীয় হবে। (২৩)হে কফরনাহুম, তুমি নাকি বেহেস্তে উঠবে? না, তোমাকে সব থেকে নিচে, জাহান্নামে নামানো হবে। যেসব মোজেজা তোমার মধ্যে দেখানো হয়েছে তা যদি সদোমে দেখানো হতো, তাহলে সেটি আজো টিকে থাকতো। (২৪)কিন্তু আমি তোমাকে বলছি যে, কেয়ামতের দিন তোমার চেয়ে বরং সদোম শহরের অবস্থা অনেক সহনীয় হবে।”
(২৫)সেই সময় হযরত ইসা আ. বললেন, “হে প্রতিপালক, আসমান-জমিনের মালিক, আমি তোমাকে শুকরিয়া জানাই, কারণ তুমি এসব বিষয় জ্ঞানী ও পণ্ডিতদের কাছে গোপন রেখে শিশুদের কাছে প্রকাশ করেছো। (২৬)নিশ্চয়ই, হে আমার প্রতিপালক, এটাই ছিলো তোমার মহান ইচ্ছা। (২৭)আমার প্রতিপালক সবকিছুই আমার হাতে দিয়েছেন। প্রতিপালক ছাড়া কেউই একান্ত প্রিয় মনোনীতজনকে জানে না এবং একান্ত প্রিয় মনোনীতজন ছাড়া কেউই প্রতিপালককে জানে না, আর একান্ত প্রিয় মনোনীতজন তাঁকে যাদের কাছে প্রকাশ করেন, তারাই তাঁকে জানে।
(২৮)তোমরা, যারা পরিশ্রম করে ক্লান্ত এবং যাদের বোঝা ভারী, আমার কাছে এসো; আমি তোমাদের বিশ্রাম দেবো।
(২৯)আমার জোয়াল তোমাদের ওপর তুলে নাও আর আমার কাছ থেকে শেখো; কারণ আমার অন্তর ভদ্র ও নম্র এবং তোমরা তোমাদের অন্তরে বিশ্রাম পাবে। (৩০)কারণ আমার জোয়াল সহজ এবং বোঝাও হালকা।”
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিচক করুন
(১)সেই সময় হযরত ইসা আ. এক সাব্বাতে ফসলের মাঠ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর সাহাবিদের খিদে পেয়েছিলো এবং তারা ফসলের শিষ ছিঁড়ে খেতে শুরু করলেন। (২)তা দেখে ফরিসিরা তাঁকে বললেন, “দেখুন, সাব্বাতে যা করা উচিত নয়, আপনার সাহাবিরা তা-ই করছে।” (৩)তিনি তাদের বললেন, “ হযরত দাউদ আ. ও তার সঙ্গীরা যখন ক্ষুধার্ত ছিলেন, তখন হযরত দাউদ আ. যা করেছিলেন তা কি আপনারা পড়েননি?
(৪)তিনি তো আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করে আল্লাহর উদ্দেশে দান করা রুটি খেয়েছিলেন, যা হযরত দাউদ আ. ও তার সঙ্গীদের জন্য খাওয়া ঠিক ছিলো না কিন্তু ছিলো শুধু ইমামদের জন্য।
(৫)অথবা আপনারা কি শরিয়তের নিয়মগুলো পড়েননি যে, সাব্বাতে ইমামেরা বায়তুল-মোকাদ্দসে সাব্বাত অমান্য করলেও নির্দোষ থাকেন? (৬)আমি আপনাদের বলছি, বায়তুল-মোকাদ্দসের চেয়ে মহান একজন এখানে আছেন। (৭)কিন্তু ‘আমি কোরবানি নয়, দয়া চাই’- একথার অর্থ কী, তা যদি আপনারা জানতেন, তাহলে নির্দোষীদের দোষী করতে না। (৮)কারণ ইবনুল-ইনসানই সাব্বাতের মালিক।”
(৯)সেই জায়গা ছেড়ে গিয়ে তিনি তাদের সিনাগোগে ঢুকলেন। (১০)সেখানে এক লোক ছিলো, যার একটি হাত শুকিয়ে গিয়েছিলো। তাঁকে দোষী করার উদ্দেশ্যে তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “সাব্বাতে সুস্থ করা কি শরিয়ত-সম্মত?” (১১)তিনি তাদের বললেন, “ধরুন, আপনাদের মধ্যে কোনো একজনের মাত্র একটি ভেড়া আছে এবং সাব্বাতে সেটি একটি গর্তে পড়ে গেলো, তাহলে সে কি সেটিকে ধরে তুলে আনবেন না? (১২)একটি ভেড়ার চেয়ে একজন মানুষ কতোই-না মূল্যবান! সুতরাং সাব্বাতে ভালো কাজ করা শরিয়ত-সম্মত।” (১৩)অতঃপর তিনি লোকটিকে বললেন, “তোমার হাত বাড়িয়ে দাও।” সে হাত বাড়িয়ে দিলো এবং তা আবার অন্য হাতের মতো ভালো হয়ে গেলো।
(১৪)ফরিসিরা বেরিয়ে গেলেন এবং কীভাবে তাঁকে হত্যা করা যায়, সে-ব্যাপারে চক্রান্ত করতে লাগলেন। (১৫)বিষয়টি জানতে পেরে হযরত ইসা আ. সেখান থেকে চলে গেলেন। প্রচুর লোক তাঁর পেছনে পেছনে যাচ্ছিলো আর তিনি তাদের সবাইকে সুস্থ করলেন, (১৬)এবং তিনি তাদের হুকুম দিলেন, যেনো তারা তাঁর বিষয়ে কাউকে কিছু না বলে। (১৭)এজন্য যে, নবি ইসাইয়ার মাধ্যমে যেকথা বলা হয়েছে তা যেনো পূর্র্ণ হয়- (১৮)“এই দেখো আমার সেবক, যাকে আমি মনোনীত করেছি, সে আমার একান্ত প্রিয়। আমার অন্তর তার ওপর সন্তুষ্ট। আমি তার ওপর আমার রুহ দেবো এবং সে সমস্ত জাতির কাছে ন্যায়বিচার প্রচার করবে। (১৯)সে ঝগড়াঝাটি কিংবা চিৎকার করবে না; এমনকি পথেঘাটে তার কণ্ঠস্বরও শোনা যাবে না।
(২০)ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আগে সে থেঁৎলানো নলখাগড়া ভাঙবে না কিংবা মিটমিট করে জ্বলতে থাকা বাতি নেভাবে না। (২১)এবং তার নামে সমস্ত জাতি আশা রাখবে।”
(২২)অতঃপর লোকেরা এক ভূতে ধরা, অন্ধ ও বোবা লোককে তাঁর কাছে নিয়ে এলো এবং তিনি তাকে সুস্থ করলেন। ফলে বোবা লোকটি কথা বলতে ও দেখতে লাগলো। (২৩)এতে সমগ্র জনতা অবাক হয়ে বললো, “তাহলে ইনিই কি হযরত দাউদ আ.-র সেই বংশধর?” (২৪)কিন্তু ফরিসিরা একথা শুনে বললেন, “ও তো কেবল ভূতদের রাজা বেল্সবুলের সাহায্যে ভূত ছাড়ায়।”
(২৫)তাদের চিন্তা বুঝতে পেরে তিনি তাদের বললেন, “নিজের বিরুদ্ধে ভাগ হয়ে গেলে প্রত্যেক রাজ্যই ধ্বংস হয়; এবং কোনো শহর কিংবা পরিবার নিজের বিরুদ্ধে ভাগ হয়ে গেলে তা আর টেকে না। (২৬)শয়তান যদি শয়তানকেই ছাড়ায়, তাহলে সে তো তার নিজের বিরুদ্ধেই ভাগ হয়ে যায়; তাহলে তার রাজ্য কীভাবে টিকে থাকবে? (২৭)আমি যদি বেলসবুলের সাহায্যেই ভূত ছাড়াই, তাহলে তোমাদের নিজের লোকেরা কীসের সাহায্যে তাদের ছাড়ায়? তারাই তোমাদের বিচারক হবে। (২৮)কিন্তু আমি যদি আল্লাহর রুহের সাহায্যে ভূত ছাড়াই, তাহলে তো আল্লাহর রাজ্য তোমাদের কাছে এসে গেছে। (২৯)কোনো বলবানকে প্রথমে বেঁধে না রেখে কীভাবে একজন তার ঘরে ঢুকে তার ধন-সম্পদ লুট করতে পারে?
(৩০)যে আমার পক্ষে নয়, সে আমার বিপক্ষে এবং যে আমার সাথে জড়ো করে না, সে ছড়ায়।
(৩১)এজন্য আমি তোমাদের বলছি, মানুষের সব গুনাহ এবং কুফরি মাফ করা হবে কিন্তু আল্লাহর রুহের বিরুদ্ধে কুফরি মাফ করা হবে না। (৩২)ইবনুল-ইনসানের বিরুদ্ধে কথা বললে মাফ পাবে কিন্তু আল্লাহর রুহের কথা বললে মাফ পাবে না- ইহকালেও না, পরকালেও না।
(৩৩)গাছ ভালো হলে তার ফল ভালো হয় এবং গাছ খারাপ হলে তার ফলও খারাপ হয়। আসলে, ফল দিয়েই গাছ চেনা যায়। (৩৪)অকৃতজ্ঞ জাতি! তোমরা খারাপ হয়ে কেমন করে ভালো কথা বলতে পারো? হৃদয় থেকে যা উপচে পড়ে, মুখ তো তা-ই বলে। (৩৫)ভালো লোক ভালো ভাণ্ডার থেকে ভালো জিনিস বের করে এবং খারাপ লোক মন্দ ভাণ্ডার থেকে মন্দ জিনিস বের করে।
(৩৬)আমি তোমাদের বলছি, কেয়ামতের দিন তোমাদের প্রত্যেকটি অপ্রয়োজনীয় কথার হিসেব দিতে হবে। (৩৭)তোমার কথা দ্বারাই তুমি নির্দোষ অথবা দোষী বলে গণ্য হবে।”
(৩৮)অতঃপর আলিম ও ফরিসিদের মধ্যে কয়েকজন তাঁকে বললেন, “হুজুর, আমরা আপনার কাছ থেকে চিহ্ন হিসেবে একটি মোজেজা দেখতে চাই।” (৩৯)উত্তরে তিনি তাদের বললেন, “এ-কালের দুষ্ট ও জিনাকারী লোকেরা মোজেজা দেখতে চায় কিন্তু হযরত ইউনুস নবির চিহ্ন ছাড়া আর কোনো মোজেজাই এদের দেখানো হবে না। (৪০)হযরত ইউনুস আ. যেমন সাগরের বিরাট মাছের পেটে তিন দিন ও তিন রাত ছিলেন, ইবনুল-ইনসানও তেমনই তিন দিন ও তিন রাত মাটির নিচে থাকবেন।
(৪১)কেয়ামতের দিন নিনবি শহরের লোকেরা উঠে এই কালের লোকদের দোষী করবে; কারণ নিনবির লোকেরা হযরত ইউনুস আ.-র প্রচারের ফলে তওবা করেছিলো। আর দেখো, এখানে হযরত ইউনুসের চেয়েও মহান একজন আছেন!
(৪২)কেয়ামতের দিন দক্ষিণের রানী উঠে এ-কালের লোকদের দোষী করবে; কারণ হযরত সোলায়মান আ. এর জ্ঞানের কথা শোনার জন্য সে দুনিয়ার শেষ সীমা থেকে এসেছিলো। আর দেখো, এখানে হযরত সোলায়মান আ. এর চেয়েও মহান একজন আছেন!
(৪৩)মানুষের ভেতর থেকে যখন কোনো ভূত বেরিয়ে যায়, তখন সে বিশ্রামের জায়গার উদ্দেশে শুকনো এলাকার ভেতর দিয়ে ঘোরাফেরা করতে থাকে কিন্তু কোথাও তা পায় না। (৪৪)শেষে সে বলে, ‘যেখান থেকে আমি এসেছি, আমি আমার সেই ঘরেই ফিরে যাবো।’ ফিরে এসে সে তা খালি, পরিষ্কার ও সাজানো-গোছানো দেখতে পায়। (৪৫)অতঃপর সে গিয়ে নিজের চেয়েও খারাপ অন্য সাতটি ভূতকে সাথে নিয়ে আসে এবং তারা সেখানে ঢুকে বাস করতে থাকে। ফলে সেই লোকটির প্রথম অবস্থা থেকে শেষ অবস্থা আরো খারাপ হয়। এ-কালের দুষ্ট লোকদের অবস্থা তেমনই হবে।”
(৪৬)তিনি তখনো লোকদের কাছে কথা বলছিলেন, এ-সময় তাঁর মা ও ভাইয়েরা তাঁর সাথে কথা বলার জন্য বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। (৪৭)কোনো এক লোক তাঁকে বললো, “দেখুন, আপনার মা ও ভাইয়েরা আপনার সাথে কথা বলার জন্য বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন।”
(৪৮)যে-লোকটি একথা বলেছিলো, উত্তরে হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “কে আমার মা এবং কারা আমার ভাই?”
(৪৯)তিনি তাঁর সাহাবিদেরকে দেখিয়ে বললেন, “এই দেখো, আমার মা ও ভাইয়েরা! (৫০)কারণ যারা আমার প্রতিপালকের ইচ্ছা পালন করে তারাই আমার ভাই, বোন ও মা।”
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)ওই দিন হযরত ইসা আ. ঘর থেকে বেরিয়ে লেকের পাড়ে গিয়ে বসলেন। (২)তাঁর কাছে এতো লোক এসে জড়ো হলো যে, তিনি একটি নৌকায় উঠে বসলেন আর সমস্ত লোক পাড়ে দাঁড়িয়ে রইলো। (৩)তিনি দৃষ্টান্তের মধ্য দিয়ে তাদেরকে অনেক বিষয়ে বলতে লাগলেন। বললেন, “শোনো, এক চাষী বীজ বুনতে গেলো।
(৪)বীজ বোনার সময় কতকগুলো বীজ পথের পাশে পড়লো; আর পাখিরা এসে তা খেয়ে ফেললো। (৫)কতকগুলো বীজ পাথুরে জমিতে পড়লো। সেখানে বেশি মাটি ছিলো না। সেগুলো বেশি মাটির নিচে ছিলো না বলে তাড়াতাড়ি চারা গজিয়ে উঠলো। (৬)সূর্য ওঠার পর সেগুলো পুড়ে গেলো এবং শিকড় ভালো করে বসেনি বলে শুকিয়ে গেলো। (৭)কতকগুলো বীজ কাঁটাবনের মধ্যে পড়লো। কাঁটাগাছ বেড়ে উঠে চারাগুলো চেপে রাখলো। (৮)অন্যগুলো ভালো জমিতে পড়লো এবং ফল দিলো- কোনোটিতে একশো গুণ, কোনোটিতে ষাট গুণ আবার কোনোটিতে তিরিশ গুণ। (৯)যার শোনার কান আছে, সে শুনুক।”
(১০)অতঃপর সাহাবিরা কাছে এসে তাঁকে বললেন, “আপনি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে এদের সাথে কথা বলছেন কেনো?” (১১)উত্তরে তিনি বললেন, “বেহেস্তি রাজ্যের গোপন বিষয়গুলো তোমাদেরই জানতে দেয়া হয়েছে কিন্তু এদের নয়।
(১২)কারণ যার আছে তাকে আরো দেয়া হবে আর তাতে তার প্রয়োজনের থেকে বেশি হবে; কিন্তু যার কিছুই নেই, তার যা আছে, তাও তার কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হবে।
(১৩)এদের সাথে আমার দৃষ্টান্তের মাধ্যমে কথা বলার কারণ হলো, ‘এরা দেখেও দেখে না, শুনেও শোনে না এবং বোঝেও না।’ (১৪)এদের মধ্য দিয়েই ইসাইয়া নবির এই ভবিষ্যদ্বাণী পূর্র্ণ হচ্ছে- ‘তোমরা শুনবে কিন্তু কখনোই বুঝবে না, তোমরা দেখবে কিন্তু কখনোই হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে না।
(১৫)এসব লোকের হৃদয় অসাড় এবং কান বন্ধ হয়ে গেছে আর তারা তাদের চোখও বন্ধ করে রেখেছে; যেনো তারা চোখ দিয়ে না দেখে, কান দিয়ে না শোনে এবং হৃদয় দিয়ে না বোঝে, আর ভালো হওয়ার জন্য আমার কাছে ফিরে না আসে।’
(১৬)কিন্তু রহমতপ্রাপ্ত তোমাদের চোখ ও তোমাদের কান, কারণ তা দেখতে পায় ও শুনতে পায়। (১৭)আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমরা যা দেখছো তা অনেক নবি ও কামিল লোক দেখতে চেয়েও দেখতে পাননি আর তোমরা যা শুনছো তা তারা শুনতে চেয়েও শুনতে পাননি।
(১৮)অতএব, তোমরা চাষীর গল্পের অর্থ শোনো। (১৯)যখন কেউ সে-রাজ্যের কালাম শুনে তা না বোঝে, তখন সেই শয়তান এসে তার অন্তরে যে-কালাম বোনা হয়েছিলো তা কেড়ে নেয়। পথের পাশে পড়া বীজের মধ্য দিয়ে একথাই বুঝানো হয়েছে।
(২০)পাথুরে জমিতে বোনা বীজের মধ্য দিয়ে তার সম্বন্ধেই বলা হয়েছে, যে সেই কালাম শুনে তখনই আনন্দের সাথে গ্রহণ করে; (২১)কিন্তু তার মধ্যে শিকড় ভালো করে বসে না বলে অল্প সময়ের জন্য সে স্থির থাকে। পরে কালামের জন্য যখন কষ্ট এবং অত্যাচার আসে, তখনই সে পিছিয়ে যায়। (২২)কাঁটাবনে বোনা বীজের মধ্য দিয়ে তার সম্বন্ধেই বলা হয়েছে, যে সেই কালাম শোনে কিন্তু জাগতিক দুশ্চিন্তা এবং ধন-স¤পত্তির মায়া সেই কালামকে চেপে রাখে; সেজন্য তাতে কোনো ফল ধরে না। (২৩)ভালো জমিতে বোনা বীজের মধ্য দিয়ে তার সম্বন্ধেই বলা হয়েছে, যে সেই কালাম শোনে ও বোঝে এবং বাস্তবিকই ফল দেয়। কেউ দেয় একশো গুণ, কেউ দেয় ষাট গুণ আবার কেউ দেয় তিরিশ গুণ।”
(২৪)তিনি তাদের সামনে আরো একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেন- “বেহেস্তি রাজ্যকে এমন এক ব্যক্তির সাথে তুলনা করা চলে, যে নিজের জমিতে ভালো বীজ বুনলো। (২৫)কিন্তু সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর তার শত্রু এসে গমের মধ্যে ঘাসের বীজ বুনে চলে গেলো। (২৬)সুতরাং গাছগুলো যখন বেড়ে উঠলো এবং তাতে শিষ ধরলো, তখন তার মধ্যে ঘাসও দেখা গেলো। (২৭)তখন বাড়ির মালিকের গোলামরা এসে তাকে বললো, ‘মালিক, আপনি কি আপনার জমিতে ভালো বীজ বোনেননি? তাহলে ঘাসগুলো কোথা থেকে এলো?’
(২৮)সে তাদের বললো, ‘নিশ্চয়ই এটি কোনো শত্রুর কাজ।’ গোলামরা তাকে বললো, ‘তাহলে আপনি কি চান যে, আমরা গিয়ে ওগুলো তুলে ফেলি?’ (২৯)তিনি বললেন, ‘না, ঘাসগুলো তুলতে গিয়ে হয়তো তোমরা তার সাথে গমের গাছগুলোও উপড়ে ফেলবে।
(৩০)ফসল কাটার সময় পর্যন্ত ওগুলোকে একসাথে বেড়ে উঠতে দাও। ফসল কাটার সময় আমি মজুরদের বলবো, প্রথমে ঘাসগুলো তুলে পোড়ানোর জন্য আঁটি আঁটি করে বেঁধে রাখো, তারপর গমগুলো আমার গোলায় জমা করো।’”
(৩১)তিনি তাদের আরেকটি দৃষ্টান্ত দিলেন, “বেহেস্তি রাজ্য এমন একটি সরিষার মতো, যা এক লোক নিয়ে নিজের জমিতে বুনলো। (৩২)সমস্ত বীজের মধ্যে এটি সবচেয়ে ছোটো কিন্তু বেড়ে ওঠার পর তা সমস্ত শাক-সবজির চেয়ে বড়ো হয় এবং এমন একটি গাছ হয়ে ওঠে যে, পাখিরা এসে তার ডালে বাসা বাঁধে।” (৩৩)তিনি তাদের আরো একটি দৃষ্টান্ত দিলেন, “বেহেস্তি রাজ্য খামির মতো, যা কোনো এক মহিলা নিয়ে গিয়ে তিন গুন ময়দার ভেতরে লুকিয়ে রাখলো। এর ফলে সব ময়দাই ফেঁপে উঠলো।”
(৩৪)হযরত ইসা আ. দৃষ্টান্তের মধ্য দিয়ে এসব বিষয় লোকদের বললেন; দৃষ্টান্ত ছাড়া তিনি তাদের কিছুই বললেন না,
(৩৫)যেনো নবির মাধ্যমে বলা একথা পূর্ণ হয়- “আমি কথা বলার জন্য দৃষ্টান্তের মাধ্যমে আমার মুখ খুলবো। দুনিয়া সৃষ্টির সময় থেকে যা-কিছু লুকোনো আছে, আমি তা ঘোষণা করবো।”
(৩৬)অতঃপর তিনি লোকদের বিদায় করে ঘরে ঢুকলেন। তাঁর সাহাবিরা এসে তাঁকে বললেন, “ক্ষেতের ওই ঘাসের দৃষ্টান্তটি আমাদের বুঝিয়ে দিন।” (৩৭)তিনি উত্তর দিলেন, “যিনি ভালো বীজ বোনেন, তিনি ইবনুল-ইনসান। (৩৮)জমি এই দুনিয়া এবং রাজ্যের সন্তানেরা হলো ভালো বীজ। ঘাস হলো মন্দের সন্তানেরা (৩৯)এবং যে-শত্রু তা বুনেছিলো, সে হলো ইবলিস। কাটার সময় হলো সময়ের শেষ, (৪০)এবং যারা কাটবেন, তারা হচ্ছেন ফেরেস্তা। ঘাস যেমন জড়ো করে আগুনে পোড়ানো হয়, কেয়ামতের দিনে তেমনই হবে।
(৪১)ইবনুল-ইনসান তাঁর ফেরেস্তাদের পাঠিয়ে দেবেন। তারা তাঁর রাজ্য থেকে সমস্ত গুনাহর কারণগুলো (৪২)এবং গুনাহগারদেরকে সংগ্রহ করবেন এবং তাদের জাহান্নামে ফেলে দেবেন।
(৪৩)সেখানে তারা কান্নাকাটি করতে ও দাঁতে দাঁত ঘষতে থাকবে। তখন দীনদারেরা তাদের প্রতিপালকের রাজ্যে সূর্যের মতো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলবে। যার শোনার কান আছে সে শুনুক!
(৪৪)বেহেস্তি রাজ্য জমির ভেতর লুকিয়ে রাখা ধনের মতো। এক লোক তা খুঁজে পেয়ে আবার লুকিয়ে রাখলো। তারপর সে আনন্দের সাথে চলে গেলো এবং তার যা-কিছু ছিলো, সব বিক্রি করে এসে সেই জমিটি কিনলো। (৪৫)আবার বেহেস্তি রাজ্য এমন এক সওদাগরের মতো, যে ভালো মুক্তা খুঁজছিলো। (৪৬)সে একটি মহামূল্যবান মুক্তার খোঁজ পেয়ে ফিরে গিয়ে তার যা-কিছু ছিলো, সব বিক্রি করে সেই মুক্তাটি কিনলো। (৪৭)আবার বেহেস্তি রাজ্য এমন একটি জালের মতো, যা লেকে ফেলা হলো এবং তাতে সবরকম মাছ ধরা পড়লো। (৪৮)জাল ভরে গেলে লোকেরা তা টেনে কিনারে তুললো এবং বসে ভালো মাছগুলো বেছে বেছে ঝুড়িতে রাখলো, আর খারাপগুলো ফেলে দিলো।
(৪৯)সুতরাং যুগের শেষে এমনই হবে। ফেরেস্তারা এসে দীনদারদের মধ্য থেকে গুনাহগারদের আলাদা করবেন এবং তাদের জাহান্নামে ফেলে দেবেন। (৫০)সেখানে তারা কান্নাকাটি করবে ও দাঁতে দাঁত ঘষতে থাকবে।
(৫১)তোমরা কি এসব বুঝতে পেরেছো?” তারা উত্তর দিলেন, “জি, হুজুর।” (৫২)তিনি তাদের বললেন, “বেহেস্তি রাজ্যের বিষয়ে শিক্ষা পাওয়া প্রত্যেক আলিম এমন একজন গৃহকর্তার মতো, যে তার ভাণ্ডার থেকে নতুন ও পুরোনো জিনিস বের করে।”
(৫৩)এসব দৃষ্টান্ত দেয়া শেষ করে হযরত ইসা আ. সেই জায়গা থেকে চলে গেলেন। (৫৪)তিনি নিজের গ্রামে এলেন এবং তাদের সিনাগোগে গিয়ে লোকদেরকে শিক্ষা দিতে লাগলেন। তারা আশ্চর্য হয়ে বললো, “এই জ্ঞান ও মোজেজা সে কোথা থেকে পেলো? (৫৫)এ কি সেই কাঠমিস্ত্রির ছেলে নয়? তার মায়ের নাম কি হযরত মরিয়ম র. নয়? ইয়াকুব, ইউসুফ, সিমোন ও ইহুদা কি তার ভাই নয়? (৫৬)এবং তার বোনেরা সবাই কি আমাদের মধ্যে নেই? তাহলে কোথা থেকে সে এসব পেলো?”
(৫৭)এভাবেই তাঁকে নিয়ে তারা মনে বাধা পেলো। কিন্তু ইসা তাদের বললেন, “নিজের গ্রাম ও নিজের বাড়ি ছাড়া আর সব জায়গাতেই নবিরা সম্মান পান।” (৫৮)তাদের অবিশ্বাসের কারণে তিনি সেখানে আর বেশি মোজেজা দেখালেন না।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)সেই সময় বাদশা হেরোদ হযরত ইসা আ.র বিষয়ে শুনতে পেলেন। (২)তিনি তার কর্মচারীদের বললেন, “ইনিই সেই নবি হযরত ইয়াহিয়া আ.। তিনি মৃত থেকে জীবিত হয়ে উঠেছেন বলেই এসব মোজেজা দেখাচ্ছেন।”
(৩)হেরোদ হযরত ইয়াহিয়া আ.কে বন্দি করেছিলেন এবং তাকে বেঁধে জেলে রেখেছিলেন। তিনি তার ভাই ফিলিপের স্ত্রী হেরোদিয়ার জন্যই এটি করেছিলেন। (৪)কারণ হযরত ইয়াহিয়া আ. তাকে বলতেন, “তাকে বিয়ে করা আপনার জন্য শরিয়ত-সম্মত নয়।” (৫)হেরোদ তাকে হত্যা করতে চাইলেও লোকদের ভয় করতেন; কারণ লোকেরা তাকে নবি বলে মানতো।
(৬)হেরোদের জন্মদিনে হেরোদিয়ার মেয়ে মেহমানদের সামনে নাচলো এবং সে হেরোদকে সন্তুষ্ট করলো। (৭)সেজন্য হেরোদ কসম খেয়ে ওয়াদা করলেন যে, সে যা চাবে তিনি তাকে তা-ই দেবেন। (৮)মায়ের কাছ থেকে কুপরামর্শ পেয়ে সে বললো, “আমাকে থালায় করে হযরত ইয়াহিয়া আ.-র মাথাটা এখানে এনে দিন।” (৯)বাদশা তার কসমের কথা ভেবে দুঃখিত হলেন এবং মেহমানদের সামনে ওয়াদা করার কারণে তিনি তাকে তা দিতে হুকুম দিলেন। (১০)তিনি লোক পাঠিয়ে জেলখানার মধ্যেই হযরত ইয়াহিয়া আ.-র মাথা কাটালেন। (১১)মাথাটি থালায় করে এনে মেয়েটিকে দেয়া হলো এবং সে তা তার মায়ের কাছে নিয়ে গেলো। (১২)তার সাহাবিরা এসে দেহমোবারকটি নিয়ে গিয়ে দাফন করলেন। অতঃপর তারা গিয়ে হযরত ইসা আ.কে জানালেন।
(১৩)এই খবর শুনে হযরত ইসা আ. সেই জায়গা ছেড়ে নৌকায় করে একাকী একটি নির্জন জায়গায় চলে গেলেন। লোকেরা তা জানতে পেরে বিভিন্ন গ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে তাঁর অনুসরণ করতে লাগলো। (১৪)পাড়ে এসে নৌকা থেকে নেমে তিনি প্রচুর লোক দেখতে পেলেন। তাদের প্রতি তাঁর মমতা হলো এবং তিনি তাদের রোগীদের সুস্থ করলেন।
(১৫)দিনের শেষে হাওয়ারিরা এসে তাঁকে বললেন, “জায়গাটি নির্জন, বেলাও প্রায় ডুবে গেছে; এদের বিদায় দিন, যেনো এরা গ্রামগুলোতে গিয়ে নিজেদের জন্য খাবার কিনতে পারে।” (১৬)হযরত ইসা আ. তাদের বললেন, “ওদের যাবার দরকার নেই, তোমরাই ওদের কিছু খেতে দাও।” (১৭)তারা বললেন, “এখানে আমাদের কাছে পাঁচটি রুটি ও দুটো মাছ ছাড়া আর কিছুই নেই।”
(১৮)তিনি বললেন, “ওগুলো আমার কাছে আনো।” (১৯)অতঃপর তিনি লোকদের ঘাসের ওপর বসতে হুকুম দিলেন। তিনি সেই পাঁচটি রুটি আর দুটো মাছ নিয়ে আসমানের দিকে তাকিয়ে শুকরিয়া জানালেন, তারপর রুটি ভেঙে হাওয়ারিদের হাতে দিলেন আর হাওয়ারিরা তা লোকদের দিলেন।
(২০)সকলে খেলো এবং সন্তুষ্ট হলো। তারা পড়ে থাকা টুকরোগুলো কুড়িয়ে নিলেন আর তাতে বারোটি ঝুড়ি পূর্র্ণ হলো। (২১)যারা খেয়েছিলো, মহিলা ও শিশু বাদে, তাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিলো প্রায় পাঁচ হাজার।
(২২)তখনই তিনি হাওয়ারিদের বললেন যেনো তারা নৌকায় করে তাঁর আগে ওপারে যান। এদিকে তিনি লোকদের বিদায় করতে লাগলেন। (২৩)লোকদের বিদায় করে মোনাজাত করার জন্য তিনি একা পাহাড়ে উঠে গেলেন। যখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো, তখনো তিনি সেখানে একাই রইলেন।
(২৪)ততোক্ষণে নৌকাটি পাড় থেকে অনেকটা দূরে চলে গিয়েছিলো এবং ঢেউগুলো নৌকার ওপর বারবার আছড়ে পড়ছিলো; কারণ বাতাস তাদের উল্টো দিক থেকে আসছিলো। (২৫)প্রায় শেষ রাতের দিকে তিনি পানির ওপর দিয়ে হেঁটে তাদের কাছে এলেন। (২৬)হাওয়ারিরা তাঁকে পানির ওপর দিয়ে হাঁটতে দেখে ভয় পেয়ে বললেন, “এ তো ভূত!” এবং ভয়ে চিৎকার করে উঠলেন। (২৭)তখনই হযরত ইসা আ. তাদের সাথে কথা বললেন। তিনি বললেন, “সাহস করো, এ তো আমি; ভয় করো না।”
(২৮)পিতর তাঁকে বললেন, “হুজুর, যদি আপনিই হন, তাহলে আমাকে হুকুম দিন, যেনো আমি পানির ওপর দিয়ে হেঁটে আপনার কাছে আসতে পারি।” (২৯)তিনি বললেন, “এসো।” অতঃপর পিতর নৌকা থেকে নেমে পানির ওপর দিয়ে হেঁটে হযরত ইসা আ.-র দিকে চললেন। (৩০)কিন্তু বাতাস দেখে তিনি ভয় পেলেন এবং ডুবে যেতে যেতে চিৎকার করে বললেন, “হুজুর, আমাকে বাঁচান!” (৩১)হযরত ইসা আ. তখনই হাত বাড়িয়ে তাকে ধরলেন এবং বললেন, “এতো অল্প তোমার ইমান! কেনো সন্দেহ করলে?” (৩২)অতঃপর তারা নৌকায় উঠলে বাতাস থেমে গেলো। (৩৩)যারা নৌকায় ছিলেন, তারা নতজানু হয়ে তাঁকে বললেন, “সত্যিই আপনি আল্লাহর একান্ত প্রিয় মনোনীতজন।”
(৩৪)অতঃপর তারা লেক পার হয়ে গিনেসরতে এলেন।
(৩৫)সেখানকার লোকেরা তাঁকে চিনতে পেরে এলাকার সব জায়গায় খবর পাঠালো ও সমস্ত রোগীদের তাঁর কাছে আনলো। (৩৬)এবং তাঁর কাছে কাকুতি-মিনতি করতে লাগলো, যেনো তারা তাঁর চাদরের ঝালরটি হলেও ছুঁতে পারে। আর যারা তা ছুঁলো তারা সকলেই সুস্থ হলো।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)অতঃপর জেরুসালেম থেকে কয়েকজন ফরিসি ও আলিম হযরত ইসা আ.র কাছে এসে বললেন, (২)“বুজুর্গদের দেয়া যে-নিয়ম চলে আসছে, আপনার সাহাবিরা তা মানে না কেনো? কারণ খাবার আগে তো তারা হাত ধোয় না।” (৩)উত্তরে তিনি বললেন, “প্রচলিত নিয়ম-নীতির জন্য আপনারাই-বা কেনো আল্লাহর হুকুম অমান্য করো? (৪)আল্লাহ বলেছেন, ‘বাবা-মাকে সম্মান করো’ এবং ‘যে বাবা-মাকে অসম্মান করে তাকে হত্যা করা হোক।’
(৫)কিন্তু আপনারা বলে থাকেন, যদি কেউ তার মা কিংবা বাবাকে বলে, ‘আমার যে-জিনিস দ্বারা তোমার সাহায্য হতে পারতো তা আল্লাহকে দেয়া হয়েছে,’ তাহলে বাবা-মাকে তার আর সম্মান করার দরকার নেই। (৬)সুতরাং আপনারা আপনাদের প্রচলিত নিয়মের জন্য আল্লাহর কালাম বাতিল করছেন।
(৭)ভণ্ডের দল! আপনাদের বিষয়ে হযরত ইসাইয়া নবি ঠিক কথাই বলেছেন- (৮)‘এই লোকেরা মুখেই আমাকে সম্মান করে আর তাদের অন্তর আমার কাছ থেকে দূরে থাকে। (৯)তারা মিথ্যাই আমার ইবাদত করে। তাদের দেয়া শিক্ষা মানুষের তৈরি কতকগুলো নিয়ম মাত্র।’”
(১০)অতঃপর তিনি লোকদেরকে নিজের কাছে ডেকে বললেন, “আমার কথা শোনো ও বোঝো, (১১)বাইরে থেকে যা মানুষের মুখের ভেতরে যায় তা মানুষকে নাপাক করতে পারে না, বরং মানুষের ভেতর থেকে যা বেরিয়ে আসে তা-ই মানুষকে নাপাক করে।”
(১২)তখন হাওয়ারিরা কাছে এসে তাঁকে বললেন, “ফরিসিরা যে আপনার একথা শুনে অপমানিত বোধ করেছেন তা কি আপনি জানেন?” (১৩)উত্তরে তিনি বললেন, “যে চারা আমার প্রতিপালক লাগাননি তার প্রত্যেকটি উপড়ে ফেলা হবে। (১৪)ওদের কথা ছেড়ে দাও। ওরা অন্ধ হয়ে অন্ধকে পথ দেখাচ্ছে। যদি এক অন্ধ আরেক অন্ধকে পথ দেখায়, তাহলে দু’জনেই গর্তে পড়বে।”
(১৫)হযরত পিতর রা. তাঁকে বললেন, “দৃষ্টান্তটি আমাদের বুঝিয়ে দিন।” (১৬)তিনি বললেন, (১৭)“তোমরাও কি এখনো অবুঝ রয়েছো? তোমরা কি বোঝো না যে, যা-কিছু মুখের ভেতর যায় তা পেটের ভেতর ঢোকে এবং শেষে বেরিয়ে নালায় গিয়ে পড়ে? (১৮)কিন্তু যা মুখ থেকে বেরিয়ে আসে তা আসলে অন্তর থেকেই আসে আর সেগুলোই মানুষকে নাপাক করে। (১৯)কারণ অন্তর থেকেই কুচিন্তা, খুন, জিনা, ল¤পটতা, চুরি, মিথ্যা সাক্ষ্য, অপবাদ বেরিয়ে আসে। (২০)এসবই মানুষকে নাপাক করে কিন্তু হাত না ধুয়ে খেলে মানুষ নাপাক হয় না।”
(২১)হযরত ইসা আ. সেই জায়গা ছেড়ে টায়ার ও সিডন এলাকায় গেলেন।
(২২)তখনই ওই এলাকার এক কেনানীয় মহিলা এসে চিৎকার করে বলতে লাগলো, “হুজুর, দাউদের বংশধর, আমার প্রতি রহম করুন! আমার মেয়েটিকে ভূতে ধরেছে এবং সে খুবই কষ্ট পাচ্ছে।” (২৩)কিন্তু তিনি তাকে একটি কথাও বললেন না। তখন তাঁর হাওয়ারিরা এসে তাঁকে অনুরোধ করে বললেন, “ওকে বিদায় করে দিন, কারণ ও আমাদের পেছনে পেছনে চিৎকার করছে।” (২৪)উত্তরে তিনি বললেন, “আমাকে কেবল ইস্রাইলের হারানো সন্তানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
(২৫)কিন্তু সে তাঁর সামনে এসে নতজানু হয়ে বললো, “হুজুর, আমার উপকার করুন।” (২৬)তিনি বললেন, “সন্তানদের খাবার নিয়ে কুকুরের সামনে ফেলা ভালো নয়।” (২৭)সে বললো, “হ্যাঁ, হুজুর, তবুও মনিবের টেবিল থেকে খাবারের যেসব টুকরো পড়ে তা তো কুকুরেই খায়।” (২৮)তখন হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “মা, সত্যিই তোমার ইমান গভীর! তুমি যেমন চাও, তোমার জন্য তেমনই হোক।” আর তখনই তার মেয়েটি সুস্থ হয়ে গেলো।
(২৯)পরে হযরত ইসা আ. সেই জায়গা ছেড়ে গালিল লেকের ধারে এলেন এবং একটি পাহাড়ে উঠে সেখানে বসলেন। (৩০)তখন বিরাট একদল লোক খোঁড়া, বিকলাঙ্গ, অন্ধ, বোবা এবং আরো অনেককে সাথে নিয়ে তাঁর কাছে এলো। তারা তাদেরকে তাঁর পায়ের কাছে রাখলো এবং তিনি তাদের সুস্থ করলেন। (৩১)সুতরাং লোকেরা যখন দেখলো যে, বোবারা কথা বলছে, বিকলাঙ্গরা সুস্থ হচ্ছে, খোঁড়ারা হাঁটছে এবং অন্ধরা দেখতে পাচ্ছে, তখন তারা আশ্চর্য হলো এবং বনি-ইস্রায়েলের আল্লাহর প্রশংসা করতে লাগলো।
(৩২)অতঃপর হযরত ইসা আ. হাওয়ারিদেরকে তাঁর কাছে ডেকে বললেন, “এই লোকদের জন্য আমার মমতা হচ্ছে; কারণ আজ তিন দিন এরা আমার সাথে সাথে আছে আর এদের কাছে কোনো খাবারও নেই। ক্ষুধার্ত অবস্থায় আমি এদের বিদায় দিতে চাই না; কারণ হয়তো এরা পথেই অজ্ঞান হয়ে পড়বে।” (৩৩)হাওয়ারিরা তাঁকে বললেন, “এই নির্জন জায়গায় এতো লোককে খাওয়ানোর মতো পর্যাপ্ত রুটি আমরা কোথায় পাবো?” (৩৪)হযরত ইসা আ. তাদের জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের কাছে কয়টি রুটি আছে?” তারা বললেন, “সাতটি রুটি এবং কয়েকটি ছোটো মাছ আছে।”
(৩৫)অতঃপর তিনি লোকদের মাটির ওপর বসতে হুকুম দিলেন। (৩৬)তিনি সেই সাতটি রুটি ও মাছগুলো নিলেন। তারপর শুকরিয়া জানিয়ে তা ভাংলেন ও সাহাবিদের হাতে দিলেন আর সাহাবিরা তা লোকদের দিলেন। (৩৭)লোকেরা সকলে পেট ভরে খেলো। পরে তারা পড়ে থাকা টুকরোগুলো কুড়িয়ে সাতটি টুকরি পূর্ণ করলেন। (৩৮)যারা খেয়েছিলো তাদের মধ্যে মহিলা ও শিশু বাদে পুরুষের সংখ্যা ছিলো চার হাজার। (৩৯)অতঃপর তিনি লোকদের বিদায় করে নৌকায় চড়ে মগ্দন এলাকায় গেলেন।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)ফরিসি ও সদ্দুকিরা এসে তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য তাঁর কাছে বেহেস্ত থেকে একটি মোজেজা দেখতে চাইলেন।
(২)তিনি তাদের জবাব দিলেন, “সন্ধ্যা হলে তোমরা বলে থাকো, ‘আকাশটা লাল, সুতরাং আবহাওয়া ভালোই থাকবে।’ (৩)আবার সকালে বলো, ‘আজ ঝড় হবেই, কারণ আকাশটা লাল ও অন্ধকার।’ আকাশের অবস্থা তোমরা ঠিকই বুঝতে পারো কিন্তু সময়ের চিহ্ন বুঝতে পারো না। (৪)এই খারাপ ও অবিশ্বস্ত জাতি মোজেজা দেখতে চায় কিন্তু হযরত ইউনুস আ.-র চিহ্ন ছাড়া কোনো মোজেজাই এদের দেখানো হবে না।” অতঃপর তিনি তাদের ছেড়ে চলে গেলেন।
(৫)লেকের ওপারে পৌঁছে হাওয়ারিরা দেখলেন যে, তারা রুটি নিতে ভুলে গেছেন। (৬)হযরত ইসা আ. তাদের বললেন, “তোমরা সতর্ক থাকো, ফরিসি ও সদ্দুকিদের খামি থেকে সাবধান হও।” (৭)তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগলেন, “আমরা রুটি আনিনি বলে উনি একথা বলছেন।”
(৮)কিন্তু হযরত ইসা আ. বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের বললেন, “দুর্বল বিশ্বাসীর দল, তোমরা নিজেদের মধ্যে কেনো বলাবলি করছো যে, তোমাদের কাছে রুটি নেই? (৯)তোমরা কি এখনো অনুভব করতে পারোনি? তোমাদের কি মনে নেই সেই পাঁচ হাজার লোকের জন্য পাঁচটি রুটির কথা, আর তোমরা কতোটি ঝুড়ি পূর্ণ করেছিলে? (১০)কিংবা সেই চার হাজার লোকের জন্য সাতটি রুটির কথা, আর কতোটি টুকরি তোমরা পূর্ণ করেছিলে?
(১১)কেনো তোমরা বুঝতে পারলে না যে, আমি তোমাদেরকে রুটির বিষয়ে বলিনি? ফরিসি ও সদ্দুকিদের খামি থেকে সাবধান হও!” (১২)তখন তারা বুঝতে পারলেন যে, তিনি রুটির খামি থেকে নয়, বরং ফরিসি ও সদ্দুকিদের শিক্ষা থেকে সাবধান থাকতে বলেছেন।
(১৩)অতঃপর হযরত ইসা আ. যখন কৈসরিয়া-ফিলিপি এলাকায় গেলেন, তখন তিনি তাঁর হাওয়ারিদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, “ইবনুল-ইনসান কে? এ-বিষয়ে লোকে কী বলে?” (১৪)তারা বললেন, “কেউ কেউ বলে, হযরত ইয়াহিয়া নবি; কেউ কেউ বলে, হযরত ইলিয়াস নবি; আবার কেউ কেউ বলে, হযরত ইয়ারমিয়া নবি অথবা নবিদের মধ্যে একজন।” (১৫)তিনি তাদের বললেন, “কিন্তু তোমরা কী বলো, আমি কে?” (১৬)হযরত সাফওয়ান রা. উত্তর দিলেন, “নিশ্চয়ই আপনি মহিমান্বিত আল্লাহর মসিহ, তাঁর একান্ত প্রিয় মনোনীতজন।”
(১৭)হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “হযরত সাফওয়ান ইবনে ইউনুস, তুমি রহমতপ্রাপ্ত! কারণ রক্তমাংসে গড়া কোনো মানুষ নয়, বরং আমার প্রতিপালকই তোমার কাছে এটি প্রকাশ করেছেন। (১৮)এবং আমি তোমাকে বলছি, তুমি পিতর, আর এই পাথরের উপরেই আমি আমার উম্মাহ গড়ে তুলবো। শয়তানের কোনো শক্তিই তার ওপর বিজয়ী হতে পারবে না। (১৯)আমি তোমাকে বেহেস্তি রাজ্যের চাবিগুলো দেবো। তুমি এই দুনিয়াতে যা বাঁধবে তা বেহেস্তেও বেঁধে রাখা হবে আর যা খুলবে তা বেহেস্তেও খুলে দেয়া হবে।” (২০)অতঃপর তিনি হাওয়ারিদেরকে কড়া হুকুম দিলেন, যেনো তারা কাউকেই না বলেন যে, তিনিই মসিহ।
(২১)সেই সময় থেকে হযরত ইসা আ. তাঁর হাওয়ারিদেরকে স্পষ্টভাবে জানাতে লাগলেন যে, তাঁকে অবশ্যই জেরুসালেমে যেতে হবে। বুজুর্গদের, প্রধান ইমামদের ও আলিমদের হাতে অনেক কষ্টভোগ করতে হবে। তাঁকে মেরে ফেলা হবে এবং তৃতীয় দিনে তাঁকে মৃত থেকে জীবিত হয়ে উঠতে হবে।
(২২)তখন হযরত সাফওয়ান রা. তাঁকে একপাশে নিয়ে গিয়ে অনুযোগ করতে লাগলেন। বললেন, “হুজুর, আল্লাহ না করুন! আপনার ওপর কখনোই এরকম না ঘটুক!” (২৩)কিন্তু তিনি পেছন ফিরে পিতরকে বললেন, “আমার কাছ থেকে দূর হও শয়তান! তুমি আমার পথের বাধা। কারণ তুমি আল্লাহর ইচ্ছা মতো ভাবছো না কিন্তু মানুষের মতোই ভাবছো।”
(২৪)অতঃপর হযরত ইসা আ. তাঁর হাওয়ারিদেরকে বললেন, “যদি কেউ আমার অনুসারী হতে চায়, তাহলে সে নিজেকে অস্বীকার করুক এবং নিজের সলিব বহন করে আমাকে অনুসরণ করুক।
(২৫)কারণ যে-ব্যক্তি তার নিজের জীবন রক্ষা করতে চায়, সে তা হারাবে; কিন্তু যে আমার জন্য নিজের জীবন হারায়, সে তা ফিরে পাবে। (২৬)কেউ যদি গোটা দুনিয়া লাভ করেও তার জীবন হারায়, তাহলে তার কী লাভ হলো? আসলে, জীবন ফিরে পাবার জন্য মানুষ কী দিতে পারে?
(২৭)ইবনুল-ইনসান তাঁর ফেরেস্তাদের সাথে নিয়ে তাঁর প্রতিপালকের মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে আসবেন এবং তখন তিনি প্রত্যেককে তার কাজ অনুসারে ফল দেবেন। (২৮)আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এখানে এমন কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছে, যারা ইবনুল-ইনসানকে তাঁর রাজ্যে আসতে না দেখা পর্যন্ত মরবে না।”
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)ছ’দিন পর হযরত ইসা আ. হযরত পিতর রা., হযরত ইয়াকুব রা. ও তার ভাই হযরত ইউহোন্না রা.কে সাথে নিয়ে একটি উঁচু পাহাড়ে গেলেন। (২)তাদের সামনে তিনি রূপান্তরিত হলেন এবং তাঁর মুখ সূর্যের মতো উজ্জ্বল দেখাচ্ছিলো। তাঁর জামাকাপড় চোখ ঝলসানো সাদা হয়ে গেলো। (৩)হঠাৎ করে সেখানে তাদের সামনে হযরত ইলিয়াস আ. ও হযরত মুসা আ. উপস্থিত হলেন। তারা তাঁর সাথে কথা বলছিলেন।
(৪)তখন হযরত পিতর রা. হযরত ইসা আ.কে বললেন, “হুজুর, ভালোই হয়েছে যে, আমরা এখানে আছি।
আপনি যদি চান, তাহলে আমি এখানে তিনটে কুঁড়েঘর তৈরি করি- একটি আপনার, একটি হযরত মুসা আ.এর ও একটি হযরত ইলিয়াস আ.র জন্য।” (৫)তিনি তখনো কথা বলছেন, এমন সময় একখন্ড উজ্জ্বল মেঘ এসে তাদের ঢেকে ফেললো; আর সেই মেঘ থেকে একথা শোনা গেলো, “এ-ই আমার একান্ত প্রিয় মনোনীতজন, এর ওপর আমি খুবই সন্তুষ্ট। তোমরা এর কথা শোনো।”
(৬)একথা শুনে হাওয়ারিরা ভীষণ ভয় পেয়ে মাটিতে উবুড় হয়ে পড়লেন। (৭)কিন্তু হযরত ইসা আ. এসে তাদের ছুঁয়ে বললেন, “ওঠো, ভয় করো না।”
(৮)তখন তারা ওপরের দিকে তাকিয়ে ইসাকে ছাড়া আর কাউকেই দেখতে পেলেন না। (৯)পাহাড় থেকে নেমে আসার সময় হযরত ইসা আ. তাদের হুকুম দিলেন, “তোমরা যা দেখলে, ইবনুল-ইনসান মৃত থেকে জীবিত হয়ে না ওঠা পর্যন্ত তা কাউকেই বলো না।”
(১০)হাওয়ারিরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “আলিমরা কেনো বলেন, প্রথমে হযরত ইলিয়াস আ.কে আসতে হবে?” (১১)তিনি তাদের উত্তর দিলেন, “প্রথমে হযরত ইলিয়াস আ. এসে সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনবেন। (১২)কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, হযরত ইলিয়াস আ. এসেছিলেন, তবুও তারা তাকে চিনতে পারেনি এবং তারা তার প্রতি যা ইচ্ছা তাই করেছে। একইভাবে ইবনুল-ইনসানও তাদের হাতে কষ্টভোগ করবেন।” (১৩)তখন হাওয়ারিরা বুঝতে পারলেন যে, তিনি তাদের কাছে হযরত ইয়াহিয়া নবির বিষয়ে বলছেন।
(১৪)অতঃপর তারা যখন সমবেত লোকদের কাছে ফিরে এলেন, তখন এক লোক তাঁর সামনে এসে নতজানু হয়ে বললো, (১৫)“হুজুর, আমার ছেলেটির প্রতি রহম করুন। সে মৃগীরোগে খুব কষ্ট পাচ্ছে। প্রায়ই সে আগুন ও পানিতে পড়ে যায়। (১৬)আমি তাকে আপনার হাওয়ারিদের কাছে এনেছিলাম কিন্তু তারা তাকে সুস্থ করতে পারলেন না।”
(১৭)হযরত ইসা আ. বললেন, “অবিশ্বাসী ও বিপথগামীর দল! আর কতোদিন আমি তোমাদের সাথে থাকবো? আর কতোদিন তোমাদের সহ্য করবো? তাকে আমার কাছে আনো।” (১৮)তারপর হযরত ইসা আ. ভূতকে ধমক দিলে সে ছেলেটির ভেতর থেকে বেরিয়ে গেলো এবং ছেলেটি তখনই সুস্থ হয়ে গেলো।
(১৯)অতঃপর হাওয়ারিরা গোপনে হযরত ইসা আ.র কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “আমরা তাকে ছাড়াতে পারলাম না কেনো?” (২০)তিনি তাদের বললেন, “তোমাদের ইমান অল্প বলেই পারলে না। আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, একটি সরিষার মতো ইমান যদি তোমাদের থাকে, তাহলে তোমরা এই পাহাড়কে বলবে, ‘এখান থেকে সরে ওখানে যাও,’ আর তাতে তা সরে যাবে। তোমাদের পক্ষে কিছুই অসম্ভব হবে না।”
(২১,২২)গালিলে একত্রিত হওয়ার সময় হযরত ইসা আ. তাদের বললেন, “ইবনুল-ইনসানকে তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে। (২৩)তারা তাঁকে হত্যা করবে এবং তিন দিনের দিন তিনি আবার জীবিত হয়ে উঠবেন।” এতে তারা খুবই দুঃখিত হলেন।
(২৪)অতঃপর তারা কফরনাহুমে এলে বায়তুল-মোকাদ্দসের কর আদায়কারীরা হযরত পিতর রা.-র কাছে এসে বললেন, “আপনাদের শিক্ষক কি বায়তুল-মোকাদ্দসের কর দেন না?” (২৫)তিনি বললেন, “হ্যাঁ, দেন।” হযরত পিতর রা. ঘরে ঢুকে কিছু বলার আগেই হযরত ইসা আ. তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “সাফওয়ান, তুমি কী মনে করো? এই দুনিয়ার বাদশারা কাদের কাছ থেকে কর বা টোল আদায় করে থাকেন? নিজের সন্তানদের, নাকি অন্যদের কাছ থেকে?” (২৬)হযরত পিতর রা. বললেন, “অন্যদের কাছ থেকে।” তখন হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “তাহলে সন্তানেরা তো স্বাধীন।
(২৭)তবুও আমরা যেনো তাদের জন্য কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করি। সেজন্য তুমি গিয়ে লেকে বড়শি ফেলো। তাতে প্রথমে যে-মাছটি উঠবে, সেটি ধরে তার মুখ খুললে তুমি একটি রুপার মুদ্রা পাবে; ওটা নিয়ে গিয়ে তোমার ও আমার কর হিসেবে তাদের দিয়ে এসো।”
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)সেই সময় হাওয়ারিরা হযরত ইসা আ.র কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, বেহেস্তি রাজ্যে কে সর্বশ্রেষ্ঠ?” (২)তিনি একটি শিশুকে ডেকে তাদের মাঝে দাঁড় করালেন
(৩)এবং বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমরা যদি পরিবর্তীত না হও এবং শিশুদের মতো না হয়ে ওঠো, তাহলে কোনোভাবেই বেহেস্তি রাজ্যে ঢুকতে পারবে না। (৪)যে কেউ এই শিশুর মতো নিজেকে নম্র করে, সে-ই বেহেস্তি রাজ্যে সব থেকে শ্রেষ্ঠ।
(৫)যে কেউ আমার নামে এর মতো কোনো শিশুকে গ্রহণ করে, সে আমাকেই গ্রহণ করে। (৬)কেউ যদি আমার ওপর ইমানদার এই ছোটোদের মধ্যে কারো পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে নিজের গলায় নিজে পাথর বেঁধে সাগরে ডুবে মরাই বরং তার জন্য ভালো। (৭)হায় এই বাধায় ভরা দুনিয়া! বাধা অবশ্য আসবেই, তবুও আফসোস তার জন্য, যার মধ্য দিয়ে সেই বাধা আসবে!
(৮)তোমার হাত বা পাঁ যদি তোমার বাধার কারণ হয়, তাহলে তা কেটে ফেলে দাও। দু’হাত ও দু’পা নিয়ে জাহান্নামে যাওয়ার চেয়ে বরং নুলা বা খোঁড়া হয়ে জান্নাতে ঢোকা তোমার পক্ষে উত্তম। (৯)তোমার চোখ যদি তোমার বাধার কারণ হয়, তাহলে তা তুলে ফেলে দাও। দু’চোখ নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে বরং কানা হয়ে জান্নাতে ঢোকা তোমার পক্ষে উত্তম। (১০)দেখো, তোমরা এই ছোটোদের মধ্যে একজনকেও তুচ্ছো করো না; কারণ আমি তোমাদের বলছি, জান্নাতে তাদের ফেরেস্তারা সব সময় আমার প্রতিপালকের মুখ দেখছেন। (১১)যা হারিয়ে গেছে তা উদ্ধার করবার জন্য ইবনুল-ইনসান এসেছেন।
(১২)তোমরা কী মনে করো? কোনো লোকের যদি একশোটি ভেড়া থাকে এবং সেগুলোর মধ্যে একটি যদি হারিয়ে যায়, তাহলে সে কি নিরানব্বইটিকে পাহাড়ে রেখে যেটি হারিয়ে গেছে সেটিকে খুঁজতে যায় না? (১৩)আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, যদি সে সেটি খুঁজে পায়, তাহলে যে-নিরানব্বইটি হারিয়ে যায়নি, সেগুলোর চেয়ে বরং সেটির জন্যই সে বেশি আনন্দ করে। (১৪)ঠিক সেভাবে এই ছোটোদের মধ্যে একজনও নষ্ট হোক, তোমাদের প্রতিপালক তা চান না।
(১৫)তোমার ভাই বা বোন যদি তোমার বিরুদ্ধে অন্যায় করে, তাহলে তার কাছে গিয়ে গোপনে তার দোষ দেখিয়ে দিয়ো। যদি সে তোমার কথা শোনে, তাহলে তো তুমি তোমার ভাইকে ফিরে পেলে। (১৬)কিন্তু যদি সে না শোনে, তাহলে অন্য দু’-একজনকে তোমার সাথে নিয়ে যেয়ো, যেনো দু’-তিনজন সাক্ষীর সাহায্যে সমস্ত বিষয়ের একটি সমাধান হয়। যদি সে তাদের কথাও না শোনে, তাহলে সমাজকে বলো। (১৭)আর যদি সমাজের কথাও না শোনে, তাহলে সে তোমার কাছে অ-ইহুদি কিংবা কর-আদায়কারীর মতো হোক।
(১৮)আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমরা দুনিয়াতে যা বাঁধবে তা জান্নাতেও বেঁধে রাখা হবে; এবং তোমরা দুনিয়াতে যা খুলবে তা জান্নাতেও খুলে দেয়া হবে।
(১৯)আবারো আমি তোমাদের সত্যি করে বলছি, এই দুনিয়ায় তোমাদের মধ্যে দু’জন যদি একমত হয়ে কোনো বিষয়ে মোনাজাত করে, তাহলে আমার প্রতিপালক তোমাদেরকে তা দেবেন। (২০)কারণ যেখানে দুই বা তিনজন আমার নামে একত্রিত হয়, সেখানে আমি তাদের মধ্যে উপস্থিত থাকি।”
(২১)তখন পিতর এসে তাঁকে বললেন, “হুজুর, আমার ভাই বারবার আমার বিরুদ্ধে অন্যায় করলে আমি তাকে কতোবার মাফ করবো? সাতবার কি?” (২২)হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “কেবল সাতবার নয় কিন্তু আমি তোমাকে সত্তরগুণ সাতবার মাফ করতে বলি।
(২৩)এজন্য বেহেস্তি রাজ্যকে এমন এক বাদশার সাথে তুলনা করা চলে, যিনি তার গোলামদের কাছে হিসেব চাইলেন। (২৪)তিনি যখন হিসেব নিতে আরম্ভ করলেন, তখন তাদের মধ্য থেকে এমন একজনকে আনা হলো, যে বাদশার কাছ থেকে দশ হাজার দিনার ঋণ নিয়েছিলো। (২৫)কিন্তু তার ফেরত দেবার ক্ষমতা না থাকায় বাদশা তার স্ত্রী, ছেলেমেয়ে এবং যাবতীয় সম্পদের সাথে তাকে বিক্রি করে ঋণ আদায় করার হুকুম দিলেন। (২৬)তাতে সেই গোলাম নতজানু হয়ে তার পায়ে ধরে বললো, ‘আমার ওপর দয়া করুন, আপনাকে আমি সবই ফেরত দিয়ে দেবো।’ (২৭)তখন বাদশা দয়ায় পূর্ণ হয়ে সেই গোলামকে ছেড়ে দিলেন এবং তার ঋণও মাফ করে দিলেন।
(২৮)কিন্তু সেই গোলাম বাইরে গিয়ে তার এক সহগোলামকে দেখতে পেলো, যে তার কাছ থেকে একশো দিনার ঋণ নিয়েছিলো। সে তার গলা টিপে ধরে বললো, ‘তোমার ঋণ ফেরত দাও।’ (২৯)সেই গোলামটি তখন তার পায়ে পড়ে তাকে অনুরোধ করে বললো, ‘আমার ওপর দয়া করো, আমি তোমাকে অবশ্যই সব ফেরত দিয়ে দেবো।’ (৩০)কিন্তু সে রাজি হলো না, বরং ঋণ ফেরত না দেয়া পর্যন্ত তাকে জেলখানায় বন্দি করে রাখলো।
(৩১)এই ঘটনা দেখে তার সহগোলামরা খুবই দুঃখ পেলো এবং তারা গিয়ে তাদের বাদশাকে সবকিছু জানালো। (৩২)তখন বাদশা তাকে ডেকে বললেন, ‘দুষ্ট গোলাম!
তুমি আমাকে অনুরোধ করেছিলে বলে আমি তোমার সব ঋণ মাফ করে দিয়েছিলাম। (৩৩)আমি তোমার প্রতি যেমন দয়া করেছিলাম, তোমার সহকর্মীর প্রতি তেমনই দয়া করা কি তোমার উচিত ছিলো না?’
(৩৪)অতঃপর বাদশা রাগ হয়ে তাকে কারারক্ষীদের হাতে তুলে দিলেন। যতোক্ষণ না সে তার সমস্ত ঋণ ফেরত দেয়, ততোক্ষণ তার ওপর নির্যাতন করার জন্য বললেন। (৩৫)সুতরাং তোমরা প্রত্যেকে যদি তোমাদের ভাইবোনকে অন্তর থেকে মাফ না করো, তাহলে আমার প্রতিপালকও তোমাদের ওপর ওরকমই করবেন।”
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)এসব কথা বলা শেষ করে হযরত ইসা আ. গালিল ছেড়ে জর্দান নদীর ওপারে ইহুদিয়ায় গেলেন। (২)হাজার হাজার মানুষ তাঁর পেছনে পেছনে চললো আর তিনি সেখানে তাদের সুস্থ করলেন। (৩)কয়েকজন ফরিসি এসে তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য জিজ্ঞেস করলেন, “যে-কোনো কারণে স্ত্রীকে তালাক দেয়া কি শরিয়ত-সম্মত?” (৪)উত্তরে তিনি বললেন, “আপনারা কি পড়েননি, প্রথমে যিনি তাদের সৃষ্টি করেছিলেন, তিনি ‘তাদের পুরুষ ও মহিলা করে সৃষ্টি করেছিলেন,’ এবং বলেছিলেন-
(৫)‘এজন্যই মানুষ তার বাবা-মাকে ছেড়ে নিজের স্ত্রীর সাথে যুক্ত হবে আর তারা দু’জন একদেহ হবে।’ (৬)সুতরাং তারা আর দুই নয় কিন্তু একদেহ। এজন্য আল্লাহ যা যুক্ত করেছেন, মানুষ তা আলাদা না করুক।”
(৭)তারা তাঁকে বললেন, “তাহলে হযরত মুসা আ. কেনো আমাদেরকে তালাকনামা দিয়ে স্ত্রীকে তালাক দেবার হুকুম দিয়েছেন?” (৮)তিনি তাদের বললেন, “আপনাদের হৃদয় খুব কঠিন বলেই স্ত্রীকে তালাক দিতে হযরত মুসা আ. আপনাদের অনুমতি দিয়েছেন। (৯)কিন্তু প্রথম থেকে এমনটি ছিলো না। আমি আপনাদের বলছি, যে কেউ জিনার অপরাধ ছাড়া অন্য কোনো কারণে স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং অন্যকে বিয়ে করে, সে জিনা করে।” (১০)সাহাবিরা তাঁকে বললেন, “স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক যদি এরকমই হয়, তাহলে তো বিয়ে না করাই ভালো।” (১১)তিনি তাদের বললেন, “সকলে একথা মেনে নিতে পারে না; কেবল যাদের সে-ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তারাই পারে।
(১২)এমন খোজারা আছে, যারা জন্ম থেকেই এমন। আবার এমন খোজারা আছে, মানুষ যাদের খোজা করেছে। আবার এমন খোজারাও আছে, যারা বেহেস্তি রাজ্যের জন্য নিজেদের খোজা করে রেখেছে। একথা যে মানতে পারে, সে মানুক।”
(১৩)অতঃপর শিশুদেরকে তাঁর কাছে নিয়ে আসা হলো, যেনো তিনি তাদের মাথায় হাত রেখে দোয়া করেন। কিন্তু যারা তাদের নিয়ে এসেছিলো, হাওয়ারিরা তাদের তিরস্কার করতে লাগলেন। (১৪)কিন্তু হযরত ইসা আ. বললেন, “শিশুদেরকে আমার কাছে আসতে দাও, বাধা দিয়ো না; কারণ বেহেস্তি রাজ্য এদের মতো লোকদেরই।” (১৫)এবং তিনি তাদের মাথার ওপর হাত রেখে সেখান থেকে চলে গেলেন।
(১৬)অতঃপর কোনো এক লোক এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “হুজুর, বেহেস্তে যেতে হলে আমাকে কোন কোন ভালো কাজ করতে হবে?” (১৭)তিনি তাকে বললেন, “আমাকে ভালোর বিষয়ে জিজ্ঞেস করছো কেনো? ভালো মাত্র একজনই আছেন। যদি তুমি বেহেস্তে যেতে চাও, তাহলে হুকুমগুলো পালন করো।” (১৮)তিনি তাঁকে বললেন, “কোন কোন হুকুম?” হযরত ইসা আ. বললেন, “খুন করো না, জিনা করো না, চুরি করো না, মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ো না, (১৯)বাবা-মাকে সম্মান করো এবং তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো মহব্বত কোরো।” (২০)যুবকটি তাঁকে বললেন, “আমি এর সবই পালন করে আসছি; আমার আর কী বাকি আছে?”
(২১)হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “যদি তুমি খাঁটি হতে চাও, তাহলে যাও, তোমার সমস্ত স¤পত্তি বিক্রি করে গরিবদের দান করে দাও; তাতে তুমি বেহেস্তে ধন পাবে। তারপর এসে আমাকে অনুসরণ কোরো।” (২২)একথা শুনে যুবকটি দুঃখিত হয়ে চলে গেলো, কারণ তার অনেক ধন-স¤পত্তি ছিলো।
(২৩)তখন হযরত ইসা আ. তাঁর সাহাবিদেরকে বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, ধনীদের পক্ষে বেহেস্তি রাজ্যে ঢোকা কঠিন হবে।
(২৪)আমি তোমাদের আবারো বলছি, ধনীর পক্ষে বেহেস্তি রাজ্যে ঢোকার চেয়ে সুচের ছিদ্র দিয়ে উটের চলে যাওয়া সহজ।” (২৫)একথা শুনে সাহাবিরা আরো অবাক হয়ে বললেন, “তাহলে কে নাজাত পাবে!”
(২৬)হযরত ইসা আ. তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “মানুষের পক্ষে এটি অসম্ভব কিন্তু আল্লাহর পক্ষে সবই সম্ভব।”
(২৭)তখন হযরত সাফওয়ান রা.-পিতর তাঁকে বললেন, “দেখুন, আমরা তো সবকিছু ছেড়ে দিয়ে আপনার অনুসারী হয়েছি, তাহলে আমরা কী পাবো?” (২৮)হযরত ইসা আ. তাদের বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, সবকিছুই যখন আবার নতুন করে সৃষ্টি করা হবে, ইবনুল-ইনসান যখন তাঁর মহিমার সিংহাসনে বসবেন, তখন তোমরা যারা আমার অনুসারী, তোমরাও বারোটি সিংহাসনে বসে ইস্রাইলের বারো বংশের বিচার করবে।
(২৯)আর যে কেউ আমার নামের জন্য বাড়িঘর, ভাইবোন, বাবামা, ছেলেমেয়ে ও জায়গাজমি ছেড়ে দিয়েছে, সে তার একশো গুণ বেশি পাবে এবং পরকালে জান্নাতবাসী হবে। (৩০)কিন্তু যারা প্রথমে আছে, তাদের মধ্যে অনেকে শেষে পড়বে আর যারা শেষে আছে, তারা প্রথম হবে।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)বেহেস্তি রাজ্য এমন একজন জমির মালিকের মতো, যে তার আঙুরক্ষেতের কাজে মজুর ঠিক করার জন্য খুব সকালে বাইরে গেলো। (২)সে মজুরদের সাথে দিন-প্রতি এক দিনার মজুরি ঠিক করে তাদেরকে তার আঙুরক্ষেতে পাঠিয়ে দিলো। (৩)প্রায় ন’টায় সে আবার বাইরে গেলো এবং আরো কয়েকজন মজুরকে বাজারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো। (৪)সে তাদের বললো, ‘তোমরাও আঙুরক্ষেতে যাও, আমি তোমাদের উপযুক্ত মজুরি দেবো।’ (৫)সুতরাং তারা গেলো। আবার সে প্রায় বারোটা ও তিনটায় বাইরে গিয়ে ওই একই কাজ করলো। (৬)এবং প্রায় পাঁচটায় বাইরে গিয়ে সে অন্য কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো। সে তাদের বললো, ‘তোমরা সারাদিন এখানে বেকার দাঁড়িয়ে আছো কেনো?’ (৭)তারা তাকে বললো, ‘কেউ আমাদের কাজে লাগায়নি।’ সে তাদের বললো, ‘তোমরাও আঙুরক্ষেতে যাও।’
(৮)দিনের শেষে আঙুরক্ষেতের মালিক তার ম্যানেজারকে বললো, ‘মুজুরদের ডেকে শেষজন থেকে আরম্ভ করে প্রথমজন পর্যন্ত প্রত্যেককে মজুরি দাও।’ (৯)যাদের প্রায় পাঁচটার সময় ঠিক করা হয়েছিলো, তারা এসে প্রত্যেকে এক দিনার করে পেলো।
(১০)প্রথমে যারা কাজে গিয়েছিলো, তারা ভাবলো যে, তারা বেশি পাবে; কিন্তু তারাও প্রত্যেকে এক দিনার করেই পেলো। (১১)এতে তারা জমির মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলতে লাগলো, (১২)যারা সব শেষে কাজে এসেছিলো, তারা মাত্র এক ঘন্টা কাজ করেছে, আর আমরা রোদে পুড়ে সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করেছি, অথচ আপনি তাদেরকে আমাদের সমান করলেন।’
(১৩)সে তাদের মধ্যে একজনকে বললো, ‘বন্ধু, আমি তো তোমার প্রতি কোনো অন্যায় করিনি। তুমি কি আমার কাছে এক দিনারে কাজ করতে রাজি হওনি? (১৪)তোমার পাওনা নিয়ে চলে যাও। আমি ঠিক করেছি যে, তোমাকে যা দিয়েছি, শেষের জনকেও তাই দেবো। (১৫)যা আমার নিজের তা আমার খুশিমতো ব্যবহার করার অধিকার কি আমার নেই? নাকি আমি দয়ালু বলে তোমার হিংসা হচ্ছে?’ (১৬)এভাবে যারা শেষের, তারা প্রথম হবে আর যারা প্রথম, তারা শেষে পড়বে।”
(১৭)পরে হযরত ইসা আ. যখন জেরুসালেমের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন, তখন পথ চলতে চলতে তিনি তাঁর বারোজন হাওয়ারিকে একপাশে ডেকে নিয়ে বললেন, (১৮)“দেখো, আমরা জেরুসালেমে যাচ্ছি। সেখানে ইবনুল-ইনসানকে প্রধান ইমামদের ও আলিমদের হাতে তুলে দেয়া হবে। তারা তাঁকে মৃত্যুর উপযুক্ত বলে দোষী করবে। তারপর তারা তাঁকে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করার, চাবুক মারার (১৯)এবং সলিবে হত্যা করার জন্য অ-ইহুদিদের হাতে দেবে। আর তিন দিনের দিন তিনি আবার জীবিত হয়ে উঠবেন।”
(২০)অতঃপর সিবদিয়ের ছেলেদের মা তার ছেলেদের নিয়ে হযরত ইসা আ.র কাছে এলেন এবং নতজানু হয়ে তাঁর কাছে দয়া চাইলেন। (২১)তিনি তাকে বললেন, “তুমি কী চাও?” তিনি বললেন, “আপনি এই ঘোষণা দিন যে, আপনার রাজ্যে আমার দুই ছেলের একজন আপনার ডান পাশে আর অন্যজন বাঁ পাশে বসবে।” (২২)কিন্তু হযরত ইসা আ. বললেন, “তোমরা যা চাচ্ছো তা তোমরা জানো না। যে-গ্লাসে আমি পান করতে যাচ্ছি তাতে কি তোমরা পান করতে পারো? তারা তাঁকে বললেন, “হ্যাঁ, আমরা পারি।”
(২৩)তখন হযরত ইসা আ. তাদের বললেন, “যে-গ্লাসে আমি পান করবো, তোমরা অবশ্যই তাতে পান করবে; কিন্তু আমার প্রতিপালক যাদের জন্য স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তাদের ছাড়া অন্য কাউকেই আমার ডান কিংবা বাঁ পাশে বসতে দেবার অধিকার আমার নেই।”
(২৪)বাকি দশজন এসব কথা শুনে ওই দুই ভাইয়ের ওপর বিরক্ত হলেন। (২৫)তখন ইসা তাদেরকে কাছে ডেকে বললেন, “তোমরা জানো যে, অইহুদিদের শাসনকর্তারা তাদের ওপর প্রভুত্ব করে এবং তাদের নেতারা তাদের ওপর নির্দয়ের মতো হুকুম চালায়। (২৬)তোমাদের তা হওয়া উচিত নয়। তোমাদের মধ্যে যে বড়ো হতে চায়, তাকে অবশ্যই তোমাদের সেবাকারী হতে হবে। (২৭)আর তোমাদের মধ্যে যে মহান হতে চায়, তাকে অবশ্যই তোমাদের গোলাম হতে হবে। (২৮)একইভাবে ইবনুল-ইনসান সেবা পেতে আসেননি কিন্তু সেবা করতে এবং অনেক মানুষের মুক্তির মূল্য হিসেবে নিজের জীবন দিতে এসেছেন।”
(২৯)তারা জিরিহো ছেড়ে যাবার সময় অনেক মানুষ হযরত ইসা আ.র পেছনে পেছনে চললো। (৩০)সেখানে পথের ধারে দু’জন অন্ধ বসে ছিলো। হযরত ইসা আ. সেই পথ দিয়ে যাচ্ছেন শুনে তারা চিৎকার করে বলতে লাগলো, “হুজুর, হযরত দাউদ আ.র বংশধর, আমাদের প্রতি রহম করুন!”
(৩১)এতে অনেকে তাদের ধমক দিলো, যেনো তারা চুপ করে। কিন্তু তারা আরো জোরে চিৎকার করে বললো, “হুজুর, দাউদের বংশধর, আমাদের প্রতি রহম করুন!” (৩২)তখন হযরত ইসা আ.দাঁড়ালেন এবং তাদের ডেকে বললেন, “তোমারা কী চাও? আমি তোমাদের জন্য কী করবো?”
(৩৩)তারা তাঁকে বললো, “হুজুর, আমাদের চোখ যেনো খুলে যায়।” (৩৪)তখন মমতায় পূর্র্ণ হয়ে হযরত ইসা আ. তাদের চোখ ছুঁলেন। আর তখনই আবার তারা তাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলো এবং তাঁকে অনুসরণ করলো।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)তারা জেরুসালেমের কাছে জৈতুন পাহাড়ের বৈতফগি গ্রামে এলে হযরত ইসা আ. তাঁর দু’জন হাওয়ারিকে এই বলে পাঠিয়ে দিলেন, “তোমরা সামনের গ্রামে যাও।
(২)গ্রামে ঢোকার সাথে সাথে সেখানে বাঁধা অবস্থায় একটি গাধা দেখতে পাবে এবং একটি বাচ্চাও তার সাথে আছে। তাদের খুলে আমার কাছে নিয়ে এসো। (৩)যদি তোমাদের কেউ কিছু বলে, তাহলে শুধু বলো, ‘এগুলোকে হুজুরের দরকার আছে,’ তিনি এগুলো তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে দেবেন।”
(৪)এমন হলো যেনো নবির মধ্য দিয়ে বলা একথা পূর্ণ হয়- (৫)“তোমরা সিয়োন-কন্যাকে বলো, ‘দেখো, তোমার বাদশা তোমার কাছে আসছেন। তিনি নম্র এবং গাধার ওপর বসা, বাচ্চা-গাধার ওপর বসা।’”
(৬)হাওয়ারিদেরকে হযরত ইসা আ. যেমন হুকুম দিয়েছিলেন, তারা গিয়ে তেমনই করলেন। (৭)তারা সেই গাধা ও বাচ্চা-গাধাটি আনলেন এবং তাদের গায়ের চাদর তার ওপর পেতে দিলেন। অতঃপর তিনি তার ওপর উঠে বসলেন। (৮)অনেকে তাদের গায়ের চাদর রাস্তার ওপর বিছিয়ে দিলো। অন্যেরা গাছপালা থেকে ডাল কেটে এনে পথের ওপর বিছিয়ে দিলো। (৯)জনতা, যারা তাঁর সামনে ও পেছনে যাচ্ছিলো, চিৎকার করে বলতে লাগলো- “হোশান্না দাউদ-সন্তান! আল্লাহর নামে যিনি আসছেন, তিনি রহমতপ্রাপ্ত! জান্নাতুল ফেরদাউসেও হোশান্না!”
(১০)অতঃপর তিনি জেরুসালেমে ঢোকার পর সারাটা শহরে হৈচৈ পড়ে গেলো। সকলে জিজ্ঞেস করতে লাগলো, “ইনি কে?” (১১)জনতা বলতে থাকলো, “ইনি গালিলের নাসরত গ্রামের নবি ইসা ইবনে মরিয়ম।”
(১২)অতঃপর হযরত ইসা আ. বায়তুল-মোকাদ্দসে ঢুকলেন এবং সেখানে যারা বেচাকেনা করছিলো, তাদের তাড়িয়ে দিলেন। তিনি টাকা বদলকারী ও কবুতর বিক্রেতাদের টেবিল উল্টে ফেললেন। তিনি তাদের বললেন, (১৩)“লেখা আছে, ‘আমার ঘরকে এবাদতের ঘর বলা হবে,’ কিন্তু তোমরা এটাকে ডাকাতের আড্ডাখানা করে তুলেছো!”
(১৪)অতঃপর অন্ধ ও খোঁড়ারা বায়তুল-মোকাদ্দসের ভেতর হযরত ইসা আ.র কাছে এলো আর তিনি তাদের সুস্থ করলেন।
(১৫)কিন্তু প্রধান ইমামেরা ও আলিমরা তাঁর আশ্চর্যকাজ দেখে এবং বায়তুল-মোকাদ্দসের ভেতর ছেলে-মেয়েদের চিৎকার করে “হোশান্না দাউদ-সন্তান” বলতে শুনে রেগে গেলেন,
(১৬)এবং তাঁকে বললেন, “এরা যা বলছে তা কি তুমি শুনতে পাচ্ছো?” হযরত ইসা আ. তাদের বললেন, “হ্যাঁ। তোমরা কি কখনো পড়োনি- ‘ছোটো ছেলেমেয়ে এবং শিশুদের মুখেই তুমি তোমার নিজের প্রশংসার ব্যবস্থা করেছো’?”
(১৭)অতঃপর তিনি তাদের ছেড়ে শহরের বাইরে বেথানিয়া গ্রামে গেলেন এবং সেখানেই রাত কাটালেন। (১৮)পরদিন সকালে শহরে ফেরার সময় তাঁর খিদে পেলো। (১৯)পথের পাশে একটি ডুমুরগাছ দেখে তিনি তার কাছে গেলেন কিন্তু তাতে পাতা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলেন না। তখন তিনি গাছটিকে বললেন, “তোমাতে আর কখনো ফল না ধরুক।” আর তখনই ডুমুরগাছটি শুকিয়ে গেলো। (২০)হাওয়ারিরা তা দেখে অবাক হয়ে বললেন, “এতো তাড়াতাড়ি কেমন করে ডুমুরগাছটি শুকিয়ে গেলো!”
(২১)উত্তরে হযরত ইসা আ. তাদের বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমাদের যদি ইমান থাকে এবং তোমরা সন্দেহ না করো, তাহলে ডুমুরগাছের ওপর যা করা হয়েছে, তোমরা যে শুধু তা-ই করবে এমন নয়, বরং তোমরা যদি এই পাহাড়টিকে বলো, ‘উঠে সাগরে গিয়ে পড়ো,’ তাহলে তা-ই হবে। (২২)মোনাজাতের সময় তোমরা বিশ্বাস করে যা-কিছু চাবে, তোমরা তা-ই পাবে।”
(২৩)অতঃপর তিনি বায়তুল-মোকাদ্দসে এসে যখন শিক্ষা দিচ্ছিলেন, তখন প্রধান ইমামেরা ও সমাজের বুজুর্গরা তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “কোন অধিকারে তুমি এসব করছো? কে তোমাকে এ-অধিকার দিয়েছে?” (২৪)উত্তরে হযরত ইসা আ. তাদের বললেন, “আমিও তোমাদের একটি প্রশ্ন করবো, যদি তোমরা আমাকে উত্তর দাও, তাহলে আমিও তোমাদের বলবো, আমি কোন অধিকারে এসব করছি। (২৫)বলোতো, হযরত ইয়াহিয়া আ. বায়াত দেবার অধিকার আল্লাহ, নাকি মানুষের কাছ থেকে পেয়েছিলেন?” তারা নিজেদের মধ্যে এই আলোচনা করলেন, “যদি আমরা বলি, আল্লাহর কাছ থেকে,’ তাহলে সে আমাদের বলবে, ‘তাহলে আপনারা তার ওপর ইমান আনেননি কেনো?’ (২৬)আবার যদি বলি, ‘মানুষের কাছ থেকে’, তাহলে লোকদের কাছ থেকে আমাদের ভয় আছে; কারণ সকলে হযরত ইয়াহিয়া আ.কে একজন নবি বলেই মানে।”
(২৭)সুতরাং তারা হযরত ইসা আ.কে উত্তর দিলেন, “আমরা জানি না।” এবং তিনি তাদের বললেন, “তাহলে আমিও তোমাদের বলবো না, কোন অধিকারে আমি এসব করছি।
(২৮)তোমরা এবিষয়ে কী মনে করো? এক লোকের দুই ছেলে ছিলো। সে তার বড়ো ছেলের কাছে গিয়ে বললো, ‘বাবা, তুমি আজ আঙুরক্ষেতে গিয়ে কাজ করো।’ (২৯)উত্তরে সে বললো, ‘আমি পারবো না।’ কিন্তু পরে সে মন ফিরিয়ে কাজে গেলো। (৩০)অতঃপর সে অন্য ছেলেটির কাছে গিয়ে একই কথা বললো। উত্তরে সে বললো, ‘যাচ্ছি, বাবা।’ কিন্তু সে গেলো না।
(৩১)এই দুই ছেলের মধ্যে কে তাদের বাবার ইচ্ছা পালন করলো?” তারা বললেন, “প্রথমজন।” হযরত ইসা আ. তাদের বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, কর-আদায়কারী এবং বেশ্যারা তোমাদের আগেই আল্লাহর রাজ্যে ঢুকছে। (৩২)কারণ দীনের পথ ধরেই হযরত ইয়াহিয়া আ. আপনাদের কাছে এসেছিলেন আর আপনারা তার কথায় ইমান আনেননি। কর-আদায়কারী ও বেশ্যারা তার ওপর ইমান এনেছিলো, এটি দেখেও আপনারা তওবা করে তার ওপর ইমান আনেননি।
(৩৩)আরেকটি দৃষ্টান্ত শুনুন- ‘কোনো এক জমিদার একটি আঙুরক্ষেত করে তার চারদিকে বেড়া দিলো। আঙুর থেকে রস সংগ্রহ করার জন্য একটি গর্ত খুঁড়লো এবং একটি উঁচু পাহারা ঘর তৈরি করলো। তারপর চাষীদের কাছে ক্ষেতটি বর্গা দিয়ে বিদেশে চলে গেলো।
(৩৪)ফসল কাটার সময় সে আঙুরের ভাগ নিয়ে আসার জন্য তার গোলামদের সেই চাষীদের কাছে পাঠিয়ে দিলো। (৩৫)কিন্তু চাষীরা তার গোলামদের ধরে একজনকে মারধর করলো, একজনকে হত্যা করলো এবং অন্য আরেকজনকে পাথর মারলো। (৩৬)অতঃপর সে প্রথমবারের চেয়ে আরো বেশি গোলাম পাঠিয়ে দিলো কিন্তু তারা তাদের সাথেও একইরকম ব্যবহার করলো।
(৩৭)শেষে সে তার ছেলেকে তাদের কাছে পাঠিয়ে দিলো। ভাবলো, ‘তারা অন্তত আমার ছেলেকে সম্মান করবে।’ (৩৮)কিন্তু সেই চাষীরা ছেলেকে দেখে এই বলে পরামর্শ করতে লাগলো, ‘এ-ই তো উত্তরাধিকারী। (৩৯)চলো, আমরা ওকে হত্যা করি, তাহলে আমরাই তার মালিকানা পেয়ে যাবো।’ সুতরাং তারা তাকে ধরে আঙুরক্ষেতের বাইরে ফেলে দিলো এবং হত্যা করলো। (৪০)তাহলে আঙুরক্ষেতের মালিক যখন আসবে, তখন সে সেই চাষীদের কী করবে?” (৪১)তারা তাঁকে বললেন, “তিনি সেই দুষ্টদের শোচনীয় মৃত্যু ঘটাবেন এবং যে-চাষীরা তাকে সময়মতো ফসলের ভাগ দেবে, তাদের কাছেই সেই আঙুরক্ষেতটি বর্গা দেবেন।”
(৪২)হযরত ইসা আ. তাদের বললেন, “আপনারা কি পাককিতাবে পড়েননি¬- ‘রাজমিস্ত্রিরা যে-পাথরটি বাতিল করে দিয়েছিলো, সেটিই কোণের প্রধান-পাথর হয়ে উঠলো। এটি ছিলো আল্লাহর কাজ, আর তা আমাদের চোখে খুব আশ্চর্য লাগে?’ (৪৩)এজন্য আমি তোমাদের বলছি, আল্লাহর রাজ্য তোমাদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হবে এবং এমন এক জাতিকে তা দেয়া হবে, যে-জাতি সে-রাজ্যের ফল ধরাবে। (৪৪)যে এই পাথরের ওপর পড়বে, সে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে এবং এটি যার ওপর পড়বে, সে চুরমার হয়ে যাবে।”
(৪৫)প্রধান ইমামেরা এবং ফরিসিরা তাঁর দৃষ্টান্তগুলো শুনে বুঝতে পারলেন যে, তিনি তাদের বিষয়েই কথা বলছেন। (৪৬)তখন তারা তাঁকে বন্দি করতে চাইলেন; কিন্তু তারা জনতার ভয়ে ভীত ছিলেন, কারণ তারা তাঁকে নবি বলে মানতো।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)আবারো হযরত ইসা আ. তাদের সাথে দৃষ্টান্তের মাধ্যমে কথা বললেন। (২)তিনি বললেন, “বেহেস্তি রাজ্যকে এমন একজন বাদশার সাথে তুলনা করা যেতে পারে, যিনি তার ছেলের বিয়েভোজের আয়োজন করলেন।
(৩)ভোজে দাওয়াত দেয়া লোকদের ডেকে আনার জন্য তিনি তার গোলামদের পাঠিয়ে দিলেন কিন্তু তারা আসতে চাইলো না। (৪)তখন তিনি আবার অন্য গোলামদের পাঠালেন। বললেন, ‘যারা দাওয়াত পেয়েছে তাদের গিয়ে বলো, ‘দেখুন, আমি আমার ভোজ প্রস্তুত করেছি। ষাঁড় ও মোটাসোটা বাছুরগুলো জবাই করা হয়েছে। সবকিছুই প্রস্তুত। আপনারা বিয়েভোজে আসুন’।
(৫)কিন্তু তারা এদেরকে গুরুত্ব না দিয়ে কেউ তার নিজের খামারে, আবার কেউ-বা তার নিজের কাজে চলে গেলো। (৬)বাকিরা তার গোলামদের ধরে অপমান ও হত্যা করলো। (৭)এতে বাদশা খুব রেগে গেলেন। তিনি তার সৈন্য পাঠিয়ে সেই খুনীদের ধ্বংস করলেন এবং তাদের শহর পুড়িয়ে দিলেন।
(৮)অতঃপর তিনি তার গোলামদের বললেন, ‘বিয়েভোজ প্রস্তুত কিন্তু ওই দাওয়াতিরা যোগ্য ছিলো না। (৯)সুতরাং তোমরা বরং রাস্তার মোড়ে মোড়ে যাও এবং যতো মানুষের দেখা পাবে, তাদের প্রত্যেককে বিয়েভোজে ডেকে আনবে।’ (১০)তখন ওই গোলামরা বাইরে রাস্তায় রাস্তায় গিয়ে ভালোমন্দ যাদেরই পেলো, তাদের প্রত্যেককে একত্রিত করলো। ফলে বিয়ে বাড়িটি মেহমানে ভরে গেলো।
(১১)অতঃপর বাদশা মেহমানদের দেখার জন্য ভেতরে এসে দেখলেন, এক লোক বিয়েভোজের পোশাক পরেনি। (১২)তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বন্ধু, বিয়েভোজের পোশাক ছাড়া তুমি কেমন করে এখানে ঢুকলে?’ সে এর কোনো উত্তরই দিতে পারলো না। (১৩)তখন বাদশা কাজের লোকদের বললেন, ‘এর হাতপা বেঁধে বাইরের অন্ধকারে ফেলে দাও। সেখানে সে কান্নাকাটি করবে ও দাঁতে দাঁত ঘষতে থাকবে।’ (১৪)কারণ অনেককে ডাকা হয়েছে কিন্তু অল্পসংখ্যকই মনোনীত।”
(১৫)তখন ফরিসিরা চলে গেলেন এবং কীভাবে তাঁকে তাঁর কথার ফাঁদে ফেলা যায়, সেই ষড়যন্ত্র করতে লাগলেন। (১৬)তারা হেরোদীয়দের সাথে নিজেদের অনুসারীদের মাধ্যমে তাঁর কাছে বলে পাঠালেন- “হুজুর, আমরা জানি, আপনি একজন সৎলোক। আপনি সঠিকভাবে আল্লাহর পথের বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। মানুষ কি মনে করবে বা না করবে, তাতে আপনার কিছু যায় আসে না; কারণ আপনি কারো মুখ চেয়ে কিছু করেন না।
(১৭)আপনি কী মনে করেন? আমাদের বলুন- কাইসারকে কর দেয়া কি বৈধ?” (১৮)হযরত ইসা আ. তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে বললেন, “ভন্ডের দল, কেনো আমাকে পরীক্ষা করছো? (১৯)কর দেবার পয়সা আমাকে দেখাও।” তারা তাঁর কাছে একটি দিনার নিয়ে এলো।
(২০)অতঃপর তিনি তাদের বললেন, “এর ওপর এই ছবি ও নাম কার?” (২১)তারা বললো, “কাইসারের।” তিনি তাদের বললেন, “যা কাইসারের তা কাইসারকে দাও, আর যা আল্লাহর তা আল্লাহকে দাও।” (২২)একথা শুনে তারা অবাক হলো এবং তাঁকে ছেড়ে চলে গেলো।
(২৩)সেই একই দিনে সদ্দুকিরা- যারা বলেন, পুনরুত্থান বলে কিছু নেই, তারা তাঁর কাছে এলেন
(২৪)এবং তাঁকে প্রশ্ন করে বললেন, “হুজুর, হযরত মুসা আ. বলেছেন, ‘যদি কেউ সন্তানহীন অবস্থায় মারা যায়, তাহলে তার ভাই সেই বিধবাকে বিয়ে করবে এবং ভাইয়ের হয়ে তার বংশ রক্ষা করবে।’ (২৫)আমাদের মাঝে সাত ভাই ছিলো। প্রথমজন বিয়ে করলো, সন্তানহীন অবস্থায় মারা গেলো এবং তার ভাইয়ের জন্য সেই বিধবাকে রেখে গেলো। (২৬)এভাবে দ্বিতীয় থেকে সপ্তমজন পর্যন্ত প্রত্যেকে একই কাজ করলো। (২৭)সবশেষে সেই মহিলাও মারা গেলো। (২৮)কেয়ামতের দিন ওই সাতজনের মধ্যে সে কার স্ত্রী হবে? কারণ তারা প্রত্যেকেই তো তাকে বিয়ে করেছিলো।”
(২৯)হযরত ইসা আ. তাদের বললেন, “তোমরা ভুল করছো। কারণ তোমরা আল্লাহর কালাম জানো না এবং আল্লাহর ক্ষমতা সম্পর্কেও জানো না। (৩০)মৃতেরা যখন জীবিত হয়ে উঠবে, তখন তারা বিয়েও করবে না এবং তাদের বিয়ে দেয়াও হবে না। তখন তারা হবে বেহেস্তের ফেরেস্তাদের মতো। (৩১)মৃতদের জীবিত হয়ে ওঠার বিষয়ে আল্লাহ তোমাদের যেকথা বলেছেন তা কি তোমরা পড়োনি? (৩২)‘আমি হযরত ইব্রাহিম আ.এর আল্লাহ, হযরত ইসহাক আ.র আল্লাহ ও হযরত ইয়াকুব আ.র আল্লাহ।’ তিনি তো মৃতদের আল্লাহ নন, তিনি জীবিতদেরই আল্লাহ।” (৩৩)একথা শুনে লোকেরা তাঁর শিক্ষায় অবাক হলো।
(৩৪)হযরত ইসা আ. সদ্দুকিদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন শুনে ফরিসিরা একত্রে জড়ো হলেন। (৩৫)তাদের মধ্যে একজন আইনজ্ঞ এসে তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য জিজ্ঞেস করলেন, (৩৬)“হুজুর, শরিয়তের হুকুমগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হুকুম কোনটি?” (৩৭)তিনি তাকে বললেন, “‘তুমি তোমার সম্পূর্ণ অন্তর, তোমার সম্পূর্ণ মন ও তোমার সম্পূর্ণ প্রাণ দিয়ে তোমার মালিক আল্লাহকে মহব্বত করবে।’- (৩৮)এটিই শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম হুকুম। (৩৯)এবং দ্বিতীয়টি এটিরই মতো- ‘তুমি তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো মহব্বত করবে।’ (৪০)এই দুটো হুকুমের ওপরই গোটা শরিয়ত এবং সহিফাগুলো দাঁড়িয়ে আছে।”
(৪১)ফরিসিরা তখনো দল বেঁধে ছিলেন। হযরত ইসা আ. তাদের জিজ্ঞেস করলেন, (৪২)“মসিহের বিষয়ে তোমরা কী মনে করো? তিনি কার সন্তান?” তারা তাঁকে বললেন, “ হযরত দাউদের সন্তান।” (৪৩)তিনি তাদের বললেন, “তাহলে দাউদ আল্লাহর রুহের দ্বারা চালিত হয়ে কীভাবে তাঁকে মনিব বলে ডেকেছিলেন?
তিনি বলেছিলেন- (৪৪)‘আল্লাহ আমার মনিবকে বললেন, ‘যতোক্ষণ না আমি তোমার শত্রুদের তোমার পায়ের তলায় রাখি, ততোক্ষণ তুমি আমার ডান দিকে বসো।’ (৪৫)হযরত দাউদ আ. নিজেই যখন তাঁকে মনিব বলেছেন, তখন কেমন করে তিনি তাঁর সন্তান হতে পারেন?”
(৪৬)কেউ তাঁকে কোনো উত্তর দিতে পারলো না এবং সেদিন থেকে কেউ তাঁকে আর কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতেও সাহস করলো না।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)অতঃপর হযরত ইসা আ. জনতা ও তাঁর সাহাবিদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, (২)“আলিম ও ফরিসিরা নিজেরাই হযরত মুসা আ.র আসনে বসে আছে। (৩)সুতরাং তারা যা-কিছু বলে, তোমরা তা পালন করো এবং তার অনুগামী হয়ো; কিন্তু তারা যা করে, তোমরা তা করো না; কারণ তারা যা শিক্ষা দেয় তা তারা নিজেরাই পালন করে না। (৪)তারা ভীষণ ভারি ভারি বোঝা বেঁধে মানুষের কাঁধে চাপিয়ে দেয় কিন্তু সেগুলো সরানোর জন্য নিজেরা একটি আঙুলও নাড়াতে চায় না। (৫)তারা যা-কিছু করে তার সবই লোক দেখানো। তারা তাদের পাককিতাবের আয়াত লেখা তাবিজগুলো বড়ো করে তৈরি করে এবং ঝালরগুলো লম্বা রাখে। (৬)তারা ভোজসভায় সম্মানের জায়গায় ও সিনাগোগের প্রধান আসনে বসতে, (৭)হাটে বাজারে সালাম পেতে এবং লোকের মুখে ওস্তাদ বলে ডাক শুনতে ভালোবাসে।
(৮)কিন্তু তোমরা নিজেদেরকে ওস্তাদ বলে ডাকতে দিয়ো না; কারণ একজনই আছেন তোমাদের ওস্তাদ আর তোমরা সকলে ভাই ভাই। (৯)পৃথিবীতে কাউকেই প্রতিপালকের আসন দিয়ো না; কারণ তোমাদের প্রতিপালক একজনই, আর তিনি বেহেস্তে আছেন। (১০)তোমরা নিজেদের ওস্তাদ বলেও ডাকতে দিয়ো না; কারণ একজনই তোমাদের ওস্তাদ, তিনি মসিহ। (১১)তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বড়ো, তাকে তোমাদের সেবাকারী হতে হবে। (১২)যারা নিজেদেরকে বড়ো করে, তাদেরকে ছোটো করা হবে এবং যারা নিজেদেরকে ছোটো করে, তাদেরকে বড়ো করা হবে।
(১৩)ভন্ড-আলিম ও ফরিসিরা, লানত তোমাদের ওপর! কারণ তোমরা মানুষের সামনে বেহেস্তি রাজ্যের দরজা বন্ধ করে রাখো।
তোমরা নিজেরা তাতে ঢোকো না আর যারা ঢুকতে চেষ্টা করছে, তাদেরকেও ঢুকতে দাও না। (১৫)ভন্ড-আলিম ও ফরিসিরা, লা’নত তোমাদের ওপর! একটিমাত্র লোককে ইহুদি ধর্মে আনার জন্য তোমরা সাগর-স্থল চষে বেড়াও; আর যখন সে ইহুদি হয়, তখন তোমরা তাকে তোমাদের চেয়েও দ্বিগুণ জাহান্নামি করে তোলো।
(১৬)অন্ধ নেতার দল, লানত তোমাদের ওপর! তোমরা বলে থাকো, বায়তুল-মোকাদ্দসের নামে কেউ কসম খেলে কিছুই হয় না কিন্তু কেউ যদি বায়তুল-মোকাদ্দসের সোনার নামে কসম খায়, তাহলে সে সেই কসমে বাঁধা পড়ে। (১৭)মূর্খ ও অন্ধের দল, কোনটি বড়ো, সোনা নাকি বায়তুল-মোকাদ্দস, যা সেই সোনাকে পবিত্র করেছে?
(১৮)তোমরা একথাও বলে থাকো, ‘যে-স্থানে কোরবানি দেয়া হয়, সেই স্থানের নামে কেউ কসম খেলে কিছুই হয় না কিন্তু যদি কেউ সেই স্থানে রাখা দানের নামে কসম খায়, তাহলে সে সেই কসমে বাঁধা পড়ে। (১৯)কি অন্ধ তোমরা! কোনটি বড়ো, সেই দান নাকি সেই স্থান, যা সেই দানকে আল্লাহর জন্য আলাদা করে রাখে?
(২০)সুতরাং কোরবানির স্থানের নামে যে কসম খায়, সে সেই স্থান এবং তার ওপরের সবকিছুর নামেই কসম খায়।
(২১)আর বায়তুল-মোকাদ্দসের নামে যে কসম খায়, সে বায়তুল-মোকাদ্দসের এবং তার ভেতরে যিনি বাস করেন, তাঁর নামেও কসম খায়। (২২)যে বেহেস্তের নামে কসম খায়, সে আল্লাহর আরস এবং যিনি তার ওপর বসে আছেন, তাঁর নামেই কসম খায়।
(২৩)ভন্ড-আলিম ও ফরিসিরা, লানত তোমাদের ওপর! কারণ তোমরা পুদিনা, মৌরী ও জিরার দশ ভাগের এক ভাগ দিয়ে থাকো কিন্তু শরিয়তের আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- ন্যায়নীতি, দয়ামায়া ও ইমান ত্যাগ করেছো। অন্যান্যগুলোকে ত্যাগ না করে বরং এগুলো তোমাদের পালন করা উচিত ছিলো।
(২৪)অন্ধ নেতার দল! একটি ছোট্ট মশাও তোমরা ছাঁকো অথচ উট গিলে ফেলো! (২৫)ভন্ড-আলিম ও ফরিসিরা, লানত তোমাদের ওপর!
কারণ তোমরা থালাবাটির বাইরের দিকটা পরিষ্কার করে থাকো অথচ সেগুলোর ভেতরটা লোভ ও স্বার্থপরতায় পূর্ণ। (২৬)অন্ধ ফরিসির দল, আগে থালাবাটির ভেতরটা পরিষ্কার করো, তাহলে তার বাইরের দিকটাও পরিষ্কার হয়ে উঠবে।
(২৭)ভন্ড-আলিম ও ফরিসিরা, লানত তোমাদের ওপর! কারণ তোমরা চুনকাম করা কবরের মতো- যার বাইরের দিকটা সুন্দর কিন্তু ভেতরটা মৃতের হাড়গোড় ও সবরকমের ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। (২৮)ঠিক সেভাবে বাইরে তোমরা লোকদের চোখে দীনদার বলে গণ্য হও কিন্তু তোমাদের ভেতরটা ভন্ডামি ও অধর্মে পূর্র্ণ।
(২৯)ভন্ড-আলিম ও ফরিসিরা, লানত তোমাদের ওপর! কারণ তোমরা নবিদের কবর গেঁথে তোলো এবং ওলি-আউলিয়াদের কবর সাজিয়ে থাকো। (৩০)তোমরা বলে থাকো, ‘আমরা যদি আমাদের পূর্র্বপুরুষদের সময়ে বেঁচে থাকতাম, তাহলে নবিদের রক্তপাতের জন্য তাদের সঙ্গী হতাম না।’ (৩১)এভাবে তোমরা নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে এই সাক্ষ্য দিচ্ছো যে, নবিদের যারা হত্যা করেছে, তোমরা তাদেরই বংশধর।
(৩২)অতএব, তোমরা তোমাদের পূর্র্বপুরুষদের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করো। (৩৩)সাপের দল, কালসাপের জাত! কীভাবে তোমরা জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা পাবে?
(৩৪)এজন্য আমি তোমাদের কাছে নবি, জ্ঞানী এবং আলিমদের পাঠাচ্ছি, তাদের মধ্যে কাউকে তোমরা হত্যা ও সলিববিদ্ধ করবে, কাউকে তোমাদের সিনাগোগের ভেতর চাবুক মারবে এবং গ্রাম থেকে গ্রামে তাড়া করে ফিরবে।
(৩৫)এজন্য নির্দোষ হাবিল থেকে শুরু করে জাকারিয়া ইবনে বারাখি- যাকে পবিত্র স্থান ও কোরবানির স্থানের মাঝখানে হত্যা করেছিলে- এই পর্যন্ত পৃথিবীতে যতো দীনদার লোকের রক্ত ঝরেছে, তোমরাই সেসব রক্তের জন্য দায়ী হবে। (৩৬)আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এই সবকিছু এ-কালের লোকদের ওপরেই পড়বে।
(৩৭)জেরুসালেম! হায় জেরুসালেম! তুমি নবিদের হত্যা করে থাকো এবং তোমার কাছে যাদের পাঠানো হয়, তাদের পাথর মেরে হত্যা করে থাকো। মুরগি যেমন তার বাচ্চাদের ডানার নিচে জড়ো করে, সেভাবে আমিও তোমার সন্তানদের কতোবার আমার কাছে আনতে চেয়েছি কিন্তু তুমি রাজি হওনি। (৩৮)দেখো, তোমার ঘর তোমার সামনেই খালি অবস্থায় পড়ে থাকবে। (৩৯)আমি তোমাদের বলছি, যে-পর্যন্ত না তোমরা বলবে, ‘মালিকের নামে যিনি আসছেন তিনি রহমতপ্রাপ্ত,’ সে-পর্যন্ত তোমরা আমাকে আর দেখতে পাবে না।”
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)হযরত ইসা আ. বায়তুল-মোকাদ্দস থেকে বেরিয়ে চলে যাচ্ছেন, এমন সময় তাঁর হাওয়ারিরা কাছে এসে বায়তুল-মোকাদ্দস যে কতো সুন্দরভাবে তৈরি করা হয়েছে তা তাঁকে দেখালেন। (২)তখন তিনি তাদের বললেন, “তোমরা তো এই সব দেখছো, তাই না? কিন্তু আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এর একটি পাথরও আরেকটি পাথরের ওপর থাকবে না; সবই ভেঙে ফেলা হবে।” (৩)অতঃপর তিনি জৈতুন পাহাড়ের ওপর বসলেন। তাঁর হাওয়ারিরা কাছে এসে গোপনে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন- “আমাদের বলুন, কখন এসব ঘটবে এবং আপনার আসার ও কেয়ামতের আলামতই-বা কী হবে?”
(৪)হযরত ইসা আ. তাদের বললেন, “সতর্ক থাকো, কেউ যেনো তোমাদের না ঠকায়। (৫)কারণ অনেকেই আমার নাম নিয়ে এসে বলবে, ‘আমিই মসিহ! এবং তারা অনেককে বিপথে নিয়ে যাবে। (৬)তোমরা যুদ্ধের খবরা-খবর ও যুদ্ধের গুজব শুনবে। দেখো, তোমরা ভয় পেয়ো না। এই সবই ঘটবে কিন্তু তখনই শেষ নয়। (৭)জাতির বিরুদ্ধে জাতি এবং রাজ্যের বিরুদ্ধে রাজ্য দাঁড়াবে। (৮)জায়গায় জায়গায় দুর্ভিক্ষ ও ভূমিকম্প হবে। এসব কেবল প্রসববেদনার আরম্ভ।
(৯)তখন লোকে তোমাদের অত্যাচার করার জন্য ধরিয়ে দেবে এবং তোমাদের হত্যা করবে। (১০)আমার নামের জন্য সব জাতিই তোমাদের ঘৃণা করবে। অতঃপর অনেকেই বিপথে যাবে। একে অন্যের সাথে বেইমানি করবে এবং একজন অন্যজনকে ঘৃণা করবে।
(১১)অনেক ভন্ড-নবি আসবে এবং অনেককে বিপথে নিয়ে যাবে। (১২)অধর্ম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেরই মহব্বত কম হয়ে যাবে। (১৩)কিন্তু যে শেষ পর্যন্ত স্থির থাকবে, সে নাজাত পাবে। (১৪)সাক্ষ্য হিসেবে সারা বিশ্বের সমস্ত জাতির কাছে আল্লাহর রাজ্যের এই ইঞ্জিল প্রচারিত হওয়ার পরেই কেয়ামত আসবে।
(১৫)তোমরা যখন নবি দানিয়েলের মধ্য দিয়ে বলা সর্বনাশা ঘৃণার জিনিস পবিত্র স্থানে থাকতে দেখবে- যে পড়ে সে বুঝুক- (১৬)সেই সময় যারা ইহুদিয়াতে থাকবে, তারা পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যাক। (১৭)যে ছাদের ওপর থাকবে, সে ঘরের জিনিস নেবার জন্য নিচে না নামুক। (১৮)যে ক্ষেতের মধ্যে থাকবে, সে তার পোশাক নেবার জন্য না ফিরুক। (১৯)যারা গর্ভবতী এবং যারা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ায়, তাদের জন্য সেই দিনগুলো কতোই-না বেদনার! (২০)মোনাজাত করো, যেনো শীতকাল কিংবা সাব্বাতে তোমাদের পালাতে না হয়।
(২১)কারণ সেই সময় এমন মহাকষ্ট হবে, যা পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত হয়নি এবং আগামীতে কখনই হবে না। (২২)সেই দিনগুলো যদি কমিয়ে দেয়া না হয়, তাহলে কেউই রক্ষা পাবে না। কিন্তু মনোনীতদের জন্য সেই দিনগুলো কমিয়ে দেয়া হবে।
(২৩)তখন কেউ যদি তোমাদের বলে, ‘দেখো, মসিহ এখানে!’ বা ‘তিনি ওখানে!’- তবে তা বিশ্বাস করো না। (২৪)কারণ ভন্ড-মসিহেরা ও ভন্ড-নবিরা আসবে এবং অনেক অতি-আশ্চর্যকাজ ও চিহ্ন দেখাবে, যেনো সম্ভব হলে মনোনীতদেরও বিপথে নিয়ে যেতে পারে।
(২৫)দেখো, আমি আগেই তোমাদের বলে রাখলাম। (২৬)সুতরাং লোকে যদি তোমাদের বলে, ‘দেখো, তিনি মরুপ্রান্তরে আছেন,’ তোমরা বাইরে যেয়ো না। যদি তারা বলে, ‘তিনি ভেতরের ঘরে আছেন,’ বিশ্বাস করো না। (২৭)কারণ বিদ্যুৎ যেমন পুব দিক থেকে শুরু করে পশ্চিম দিক পর্যন্ত চমকে দেয়, ইবনুল-ইনসানের আসাও ঠিক সেভাবেই হবে।
(২৮)যেখানে মরা থাকবে, সেখানেই শকুন এসে জড়ো হবে। (২৯)ওই দিনগুলোর কষ্টের ঠিক পরেই সূর্য অন্ধকার হয়ে যাবে, চাঁদ আর আলো দেবে না। তারাগুলো আসমান থেকে খসে পড়বে এবং সৌরজগত দুলতে থাকবে।
(৩০)অতঃপর আসমানে ইবনুল-ইনসানের চিহ্ন দেখা যাবে। তখন পৃথিবীর সমস্ত জাতি দুঃখ-শোকে বুক চাপড়াবে। তারা দেখতে পাবে, মহাশক্তি ও মহিমার সাথে ‘ইবনুল-ইনসান মেঘে চড়ে আসছেন’।
(৩১)অতঃপর তিনি শিঙার তীব্র আওয়াজসহ ফেরেস্তাদের পাঠিয়ে দেবেন এবং তারা আসমান-জমিনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত চারদিক থেকে তাঁর মনোনীতদের একত্র করবেন।
(৩২)ডুমুরগাছ দেখে শিক্ষা নাও। যখন তার ডালপালা নরম হয়ে তাতে পাতা গজায়, তখন তোমরা জানতে পারো যে, গরমকাল এসেছে। (৩৩)একইভাবে তোমরা যখন এসব ঘটতে দেখবে, তখন বুঝবে যে, তিনি কাছে এসেছেন; এমনকি দরজায় উপস্থিত। (৩৪)আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, যতোক্ষণ এসব না ঘটবে, ততোক্ষণ এ-কালের লোকেরা টিকে থাকবে।
(৩৫)আসমান ও জমিন শেষ হয়ে যাবে কিন্তু আমার কালাম কখনো শেষ হবে না। (৩৬)সেই দিন ও সেই সময়ের কথা কেউই জানে না- বেহেস্তের ফেরেস্তারা না, আল্লাহর একান্ত প্রিয় মনোনীতজনও না, কেবল প্রতিপালকই জানেন।
(৩৭)হযরত নুহ আ.র সময়ে যে-অবস্থা হয়েছিলো, ইবনুল-ইনসানের আসার সময়েও ঠিক একই অবস্থা হবে। (৩৮)বন্যার আগের দিনগুলোতে নুহ জাহাজে না ঢোকা পর্যন্ত লোকেরা খাওয়াদাওয়া করেছে, বিয়ে করেছে এবং বিয়ে দিয়েছে। এবং যে-পর্যন্ত না বন্যা এসে তাদের সকলকে ভাসিয়ে নিয়ে গেলো, সে-পর্যন্ত তারা কিছুই বুঝতে পারেনি। (৩৯)ইবনুল-ইনসানের আসার সময়েও ঠিক একই অবস্থা হবে।
(৪০)তখন দু’জন মাঠে থাকবে; একজনকে নিয়ে যাওয়া হবে এবং অন্যজনকে ফেলে যাওয়া হবে। (৪১)দুই মহিলা জাঁতা ঘুরাবে; একজনকে নিয়ে যাওয়া হবে, অন্যজনকে ফেলে যাওয়া হবে।
(৪২)সুতরাং জেগে থাকো। কারণ তোমাদের মালিক কখন আসছেন তা তোমরা জানো না। (৪৩)তবে মনে রেখো, বাড়ির মালিক যদি জানতো, রাতের কোন সময়ে চোর আসবে, তাহলে সে জেগে থাকতো এবং নিজের ঘরে সিঁধ কাটতে দিতো না।
(৪৪)সুতরাং তোমরা অবশ্যই প্রস্তুত থেকো। কারণ যে-সময়ের কথা তোমরা চিন্তাও করবে না, সেই সময়েই ইবনুল-ইনসান আসবেন।
(৪৫)সেই বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান গোলাম কে, যাকে তার মালিক বাড়ির সমস্ত গোলামদের ঠিক সময়ে খাবার দেবার দায়িত্ব দিয়েছে? (৪৬)সেই গোলামই ভাগ্যবান, যাকে তার মালিক ফিরে এসে তার হুকুম অনুসারে কাজ করতে দেখবে। (৪৭)আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, সে তার সমস্ত ধন-সম্পত্তির দায়িত্ব তার ওপর ছেড়ে দেবে।
(৪৮)কিন্তু যদি অসৎ গোলাম মনে মনে ভাবে, ‘আমার মালিকের আসতে দেরি হবে।’ (৪৯)এবং সে যদি তার সহকর্মীদের মারধর করতে ও মাতালদের সাথে পানাহার করতে শুরু করে, (৫০)তাহলে যেদিন ও যে-সময়ের কথা সেই গোলাম চিন্তাও করবে না এবং জানবেও না, সেই দিন ও সেই সময়েই তার মালিক এসে উপস্থিত হবে। (৫১)অতঃপর সে তাকে কেটে টুকরো টুকরো করে ভন্ডদের মধ্যে ফেলে দেবে। সেখানে সে কান্নাকাটি করবে ও দাঁতে দাঁত ঘষতে থাকবে।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)তখন বেহেস্তি রাজ্য হবে এমন দশ কুমারীর মতো, যারা বরকে বরণ করার জন্য তাদের বাতি নিয়ে বাইরে গেলো। (২)তাদের মধ্যে পাঁচজন ছিলো বোকা এবং পাঁচজন ছিলো বুদ্ধিমতী। (৩)বোকারা তাদের বাতি সাথে নিলো ঠিকই কিন্তু সাথে করে তেল নিলো না। (৪)আর বুদ্ধিমতীরা তাদের বাতির সাথে আলাদা পাত্রে করে তেলও নিলো।
(৫)বর আসতে দেরি হওয়াতে তারা সবাই ঝিমাতে-ঝিমাতে ঘুমিয়ে পড়লো। (৬)কিন্তু মাঝরাতে চিৎকার শোনা গেলো, ‘দেখো, বর আসছে! তাকে বরণ করতে বেরিয়ে এসো।’ (৭)তখন সেই কুমারীরা উঠে তাদের বাতি ঠিকঠাক করলো।
(৮)বোকারা বুদ্ধিমতীদের বললো, ‘তোমাদের তেল থেকে আমাদের কিছু তেল দাও; কারণ আমাদের বাতি নিভে যাচ্ছে।’
(৯)কিন্তু বুদ্ধিমতীরা জবাব দিলো, ‘না! তেল যা আছে তাতে আমাদের ও তোমাদের কুলাবে না। তোমরা বরং দোকানে গিয়ে নিজেদের জন্য তেল কিনে আনো।’ (১০)তারা তেল কিনতে গেলো আর তখনই বর এসে পড়লো। যারা প্রস্তুত ছিলো তারা তার সাথে বিয়ে-উৎসবে যোগ দিলো এবং দরজা বন্ধ করে দেয়া হলো। (১১)পরে অন্য কুমারীরা এসে বললো, ‘মালিক, আমাদের জন্য দরজাটি খুলুন।’ (১২)কিন্তু উত্তরে সে বললো, ‘আমি সত্যিই বলছি, আমি তোমাদের চিনি না।’
(১৩)সুতরাং সতর্ক থাকো। কারণ সেই দিন বা সেই সময়ের কথা তোমরা জানোই না।
(১৪)মনে করো, কোনো এক লোক ভ্রমণে যাচ্ছে। সে তার গোলামদের ডেকে তার ধন-স¤পত্তির দায়িত্ব তাদের হাতে তুলে দিলো। (১৫)সে একজনকে পাঁচ হাজার, একজনকে দু’হাজার এবং একজনকে এক হাজার দিনার দিলো। প্রত্যেককে তার ক্ষমতা অনুসারে দিলো। তারপর ভ্রমণে বেরিয়ে গেলো। (১৬)যে পাঁচ হাজার দিনার পেলো, সে তখনই তা দিয়ে ব্যবসা শুরু করলো এবং আরো পাঁচ হাজার দিনার লাভ করলো। (১৭)যে দু’হাজার দিনার পেলো, সেও একইভাবে আরো দু’হাজার দিনার লাভ করলো। (১৮)কিন্তু যে এক হাজার দিনার পেলো, সে গিয়ে মাটিতে গর্ত খুঁড়ে তার মালিকের টাকাগুলো সেখানে লুকিয়ে রাখলো।
(১৯)অনেকদিন পর ওই গোলামদের মালিক ফিরে এসে তাদের কাছে হিসেব চাইলো। (২০)অতঃপর যে পাঁচ হাজার দিনার পেয়েছিলো, সে আরো পাঁচ হাজার দিনার নিয়ে এসে বললো, ‘মালিক, আপনি আমাকে পাঁচ হাজার দিনার দিয়েছিলেন; (২১)দেখুন, আমি আরো পাঁচ হাজার দিনার লাভ করেছি।’ তার মালিক তাকে বললো, ‘বেশ করেছো, তুমি উত্তম ও বিশ্বস্ত গোলাম। তুমি অল্প বিষয়ে বিশ্বস্ত বলে আমি তোমাকে অনেক বিষয়ের দায়িত্ব দেবো। এসো, তোমার মালিকের আনন্দে শরিক হও।’
(২২)যে দু’হাজার দিনার পেয়েছিলো, সেও এসে বললো, ‘মালিক, আপনি আমাকে দু’হাজার দিনার দিয়েছিলেন; দেখুন, আমি আরো দু’হাজার দিনার লাভ করেছি।’ (২৩)তার মালিক তাকে বললো, ‘বেশ করেছো, তুমি উত্তম ও বিশ্বস্ত গোলাম। তুমি অল্প বিষয়ে বিশ্বস্ত বলে আমি তোমাকে অনেক বিষয়ের দায়িত্ব দেবো। এসো, তোমার মালিকের আনন্দে শরিক হও।’
(২৪)যে এক হাজার দিনার পেয়েছিলো, সেও এসে বললো, ‘মালিক, আমি জানতাম, আপনি ভয়ানক কঠিন লোক। আপনি যেখানে বোনেন না, সেখান থেকেই কাটেন এবং যেখানে বীজ ছড়ান না, সেখান থেকেই কুড়ান। (২৫)সুতরাং আমি ভীত ছিলাম। আপনার দিনারগুলো আমি মাটিতে লুকিয়ে রেখেছিলাম। এই দেখুন, আপনার জিনিস আপনারই আছে।’
(২৬)উত্তরে তার মালিক তাকে বললো, ‘দুষ্ট ও অলস গোলাম! তুমি তো জানতে, যেখানে আমি বুনি না, সেখান থেকেই কাটি আর যেখানে ছড়াই না, সেখান থেকেই কুড়াই। (২৭)আমার দিনারগুলো মহাজনদের কাছে গচ্ছিত রাখা তোমার উচিত ছিলো। তাহলে আমি ফিরে এসে লাভসহ আমার মূল দিনারগুলো ফেরত পেতাম।
(২৮)সুতরাং তোমরা ওর কাছ থেকে দিনারগুলো নিয়ে যার দশ হাজার দিনার আছে, তাকে দাও। (২৯)যাদের আছে, তাদের আরো দেয়া হবে, তাতে তাদের অনেক বেশি হবে। কিন্তু যাদের নেই, তাদের যা আছে, তাও তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হবে। (৩০)ওই অকেজো গোলামটিকে তোমরা বাইরের অন্ধকারে ফেলে দাও। সেখানে সে কান্নাকাটি করবে ও দাঁতে দাঁত ঘষতে থাকবে।’
(৩১)ইবনুল-ইনসান যখন ফেরেস্তাদের সাথে করে নিজের মহিমায় আসবেন, তখন তিনি তাঁর মহিমার সিংহাসনে বসবেন।
(৩২)সেই সময় দুনিয়ার সমস্ত জাতিকে তাঁর সামনে জমায়েত করা হবে। এবং রাখাল যেমন ছাগলের ভেতর থেকে ভেড়া আলাদা করে, তেমনি তিনিও লোকদের একজনকে অন্যজন থেকে আলাদা করবেন। (৩৩)তিনি নিজের ডান দিকে ভেড়াদের আর বাম দিকে ছাগলদের রাখবেন।
(৩৪)অতঃপর বাদশা তাঁর ডান দিকে যারা রয়েছে তাদের বলবেন, ‘তোমরা যারা আমার প্রতিপালকের রহমতপ্রাপ্ত, এসো, দুনিয়া সৃষ্টির শুরু থেকে যে-রাজ্য তোমাদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে তার অধিকারী হও।
(৩৫)কারণ আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম আর তোমরা আমাকে খেতে দিয়েছিলে। আমি পিপাসিত ছিলাম, তোমরা আমাকে পান করিয়েছিলে। আমি বিদেশি হলেও তোমরা আমাকে স্বাগত জানিয়েছিলে। (৩৬)যখন আমার জামা-কাপড় ছিলো না, তোমরা আমাকে জামা-কাপড় পরিয়েছিলে। আমি অসুস্থ ছিলাম, তোমরা আমার সেবাযত্ন করেছিলে। আমি জেলখানায় ছিলাম, তোমরা আমাকে দেখতে গিয়েছিলে।’
(৩৭)যারা দীনদার তারা তখন তাঁকে উত্তরে বলবেন, ‘মালিক, কবে আমরা আপনাকে ক্ষুধার্ত দেখে খাবার দিয়েছিলাম, কিংবা পিপাসিত দেখে পান করিয়েছিলাম?
(৩৮)কবে আমরা আপনাকে বিদেশি জেনেও স্বাগত জানিয়েছিলাম কিংবা জামা-কাপড় ছিলো না দেখে জামা-কাপড় পরিয়েছিলাম? (৩৯)আর কবেই-বা আপনি অসুস্থ কিংবা জেলখানায় আছেন জেনে আমরা আপনাকে দেখতে গিয়েছিলাম?’ (৪০)উত্তরে তখন বাদশা তাদের বলবেন, ‘আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, আমার এই তুচ্ছতম ভাইদের মধ্যে একজনের জন্য তোমরা যা-কিছু করেছো তা আমারই জন্য করেছো।’
(৪১)অতঃপর তিনি তাঁর বাম দিকের লোকদের বলবেন, ‘লানতপ্রাপ্ত লোকেরা, আমার কাছ থেকে দূর হয়ে জাহান্নামে যাও- যা ইবলিস ও তার সঙ্গীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে! (৪২)কারণ আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম কিন্তু তোমরা আমাকে খেতে দাওনি। আমি পিপাসিত ছিলাম, তোমরা আমাকে পান করাওনি। (৪৩)আমি বিদেশি বলে তোমরা আমাকে স্বাগত জানাওনি। আমার জামা-কাপড় ছিলো না, তোমরা আমাকে জামা-কাপড় পরাওনি। অসুস্থ ও জেলখানায় ছিলাম, তোমরা আমাকে দেখতে যাওনি।’
(৪৪)তখন উত্তরে তারাও বলবে, ‘মালিক, কখন আমরা আপনাকে ক্ষুধার্ত বা পিপাসিত, বিদেশি বা জামা-কাপড়হীন, অসুস্থ বা জেলবন্দি দেখেও আপনার যত্ন নেইনি?’ (৪৫)তখন তিনি তাদের উত্তর দেবেন, ‘আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এই তুচ্ছতমদের মধ্যে একজনের জন্যও তোমরা যখন তা করোনি, তখন তা আমার জন্যও করোনি।’ (৪৬)এবং এই লোকেরা যাবে জাহান্নামে কিন্তু দীনদারেরা হবে জান্নাতবাসী।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)এসব কথা বলা শেষ করে হযরত ইসা আ. তাঁর হাওয়ারিদেরকে বললেন, (২)“তোমরা তো জানো, আর দু’দিন পরেই ইদুল-ফেসাখ; এবং ইবনুল-ইনসানকে সলিববিদ্ধ করার জন্য তুলে দেয়া হবে।” (৩)অতঃপর প্রধান ইমামেরা ও লোকদের বুজুর্গরা মহাইমাম কাইয়াফার প্রাসাদে একত্রিত হলেন (৪)এবং হযরত ইসা আ.কে গোপনে ধরে এনে হত্যার ষড়যন্ত্র করলেন। (৫)তবে তারা বললেন, “ইদের সময় নয়, তাতে লোকদের মধ্যে দাঙ্গা বেধে যেতে পারে।”
(৬)অতঃপর তিনি যখন বেথানিয়ার কুষ্ঠী সিমোনের বাড়িতে ছিলেন, (৭)তখন এক মহিলা একটি সাদা পাথরের পাত্রে করে খুব দামি সুগন্ধি তেল নিয়ে তাঁর কাছে এলো এবং তিনি খেতে বসলে সে তা তাঁর মাথায় ঢেলে দিলো। (৮)তা দেখে হাওয়ারিরা রেগে গিয়ে বললেন, “এই অপচয় কেনো? (৯)এটি তো অনেক দামে বিক্রি করে টাকাগুলো গরিবদের দেয়া যেতো।”
(১০)কিন্তু হযরত ইসা আ. তা বুঝতে পেরে হাওয়ারিদের বললেন, “এই মহিলাকে তোমরা দুঃখ দিচ্ছো কেনো? (১১)সে তো আমার জন্য ভালো কাজই করেছে। গরিবরা তো সব সময় তোমাদের কাছে আছে কিন্তু আমাকে তোমরা সব সময় পাবে না। (১২)সে আমার শরীরে এই তেল ঢেলে আমাকে দাফনের জন্য প্রস্তুত করেছে। (১৩)আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, সারা দুনিয়ার যেখানেই ইঞ্জিল প্রচার করা হবে, সেখানেই এই মহিলার কথা মনে করিয়ে দেবার জন্য তার এই কাজের কথাও বলা হবে।”
(১৪)এরপর সেই বারোজনের মধ্যে একজন, যার নাম হযরত ইহুদা ইস্কারিয়োত রা., প্রধান ইমামদের কাছে গেলেন এবং বললেন, (১৫)“আমি যদি তাঁকে আপনাদের হাতে তুলে দেই, তাহলে আপনারা আমাকে কী দেবেন?” তারা তাকে তিরিশ টুকরো রুপা দিলেন। (১৬)সেই সময় থেকেই তিনি তাঁকে তাদের হাতে তুলে দেবার জন্য সুযোগ খুঁজতে লাগলেন।
(১৭)ইদুল-মাত্ছের প্রথম দিনে হাওয়ারিরা হযরত ইসা আ.র কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার জন্য আমরা কোথায় ইদুল-ফেসাখের খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করবো? আপনার ইচ্ছা কী?” (১৮)তিনি বললেন, “শহরের অমুক লোকের কাছে গিয়ে বলো, ‘হুজুর বলছেন, আমার সময় কাছে এসে গেছে; আমি আমার হাওয়ারিদের সাথে তোমার বাড়িতেই ইদুল-ফেসাখ পালন করবো।’” (১৯)সুতরাং হাওয়ারিরা হযরত ইসা আ.র নির্দেশ মতো কাজ করলেন এবং ইদুল-ফেসাখের খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করলেন।
(২০)তারপর সন্ধ্যায় তিনি সেই বারোজনকে সাথে নিয়ে খেতে বসলেন। (২১)খাবার সময় তিনি বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমাদের মধ্যে একজন আমার সাথে বেইমানি করবে।” (২২)এতে তারা ভীষণ দুঃখ পেলেন এবং একজনের পর একজন বলতে লাগলেন, “হুজুর, নিশ্চয়ই আমি না?”
(২৩)তিনি উত্তর দিলেন, “যে আমার সাথে একই বাটিতে হাত ডুবিয়েছে, সে-ই আমাকে তুলে দেবে।
(২৪)ইবনুল-ইনসানের বিষয়ে যেভাবে লেখা আছে, তিনি সেভাবেই যাচ্ছেন কিন্তু আফসোস সেই লোকের জন্য, যে ইবনুল-ইনসানকে তুলে দেবে! এই লোকের জন্ম না হলেই বরং তার জন্য ভালো হতো।” (২৫)যিনি তাঁকে তুলে দিতে যাচ্ছিলেন, সেই ইহুদা বললেন, “হুজুর, নিশ্চয়ই আমি না?” তিনি জবাব দিলেন, “একথা তুমি বললে।”
(২৬)খাওয়া-দাওয়া চলছে, এমন সময় হযরত ইসা আ. রুটি নিয়ে শুকরিয়া জানালেন এবং তা ভেঙে হাওয়ারিদের হাতে দিয়ে বললেন, “নাও, খাও, এ আমার শরীর।” (২৭)তারপর তিনি গ্লাস নিয়ে শুকরিয়া জানালেন এবং তাদের হাতে দিয়ে বললেন, (২৮)“তোমরা সবাই এটা থেকে পান করো, কারণ এ আমার রক্ত, চুক্তির রক্ত, যা অনেকের গুনাহ মাফের জন্য দেয়া হচ্ছে।
(২৯)আমি তোমাদের বলছি, আমার প্রতিপালকের রাজ্যে তোমাদের সাথে নতুনভাবে আঙুররস পান করার আগে আর কখনোই আমি তা পান করবো না।” (৩০)অতঃপর তারা একটি হামদ গেয়ে জৈতুন পাহাড়ে গেলেন।
(৩১)তখন হযরত ইসা আ. তাদের বললেন, “আজ রাতে আমার কারণে তোমরা প্রত্যেকে পালাবে। কারণ লেখা আছে, ‘আমি রাখালকে আঘাত করবো এবং পালের ভেড়াগুলো ছড়িয়ে পড়বে।’ (৩২)কিন্তু আমাকে মৃত থেকে জীবিত করার পর আমি তোমাদের আগেই গালিলে যাবো।” (৩৩)পিতর তাঁকে বললেন, “আপনার কারণে সবাই পালিয়ে গেলেও আমি কখনো আপনাকে ছেড়ে যাবো না।” (৩৪)হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “আমি তোমাকে সত্যিই বলছি, আজ রাতেই মোরগ ডাকার আগে তুমি আমাকে তিনবার অস্বীকার করবে।” (৩৫)হযরত পিতর রা. তাঁকে বললেন, “যদি আমাকে আপনার সাথে মরতেও হয়, তবুও আমি আপনাকে অস্বীকার করবো না!” এবং হাওয়ারিরা সবাই একই কথা বললেন।
(৩৬)অতঃপর হযরত ইসা আ. তাদের সাথে গেতসিমানি নামে একটি জায়গায় এলেন। তিনি তাঁর হাওয়ারিদের বললেন, “আমি যতোক্ষণ ওখানে গিয়ে মোনাজাত করি, ততোক্ষণ তোমরা এখানে বসে থাকো।”
(৩৭)তিনি পিতর ও জাবিদির দুই ছেলেকে নিজের সাথে নিলেন এবং মনে গভীর দুঃখ ও অশান্তি বোধ করতে লাগলেন। (৩৮)তখন তিনি তাদের বললেন, “দুঃখে যেনো আমার প্রাণ বেরিয়ে যাচ্ছে। তোমরা বরং এখানে অপেক্ষা করো এবং আমার সাথে জেগে থাকো।”
(৩৯)অতঃপর তিনি কিছুটা দূরে গিয়ে মাটিতে সেজদায় পড়ে মোনাজাত করলেন, “হে আমার প্রতিপালক, যদি সম্ভব হয়, এই গ্লাস আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাক। তবু আমার ইচ্ছামতো না হোক কিন্তু তোমার ইচ্ছামতোই হোক।”
(৪০)তারপর তিনি হাওয়ারিদের কাছে ফিরে এসে দেখলেন তারা ঘুমাচ্ছেন। তিনি পিতরকে বললেন, “পিতর, তোমরা আমার সাথে এক ঘন্টাও কি জেগে থাকতে পারলে না! (৪১)জেগে থাকো ও মোনাজাত করো, যেনো পরীক্ষায় না পড়ো। রুহে ইচ্ছা আছে বটে কিন্তু দেহ দুর্বল।”
(৪২)আবার তিনি ফিরে গিয়ে দ্বিতীয়বার মোনাজাত করে বললেন, “হে আমার প্রতিপালক, আমি পান না করলে যদি এটার সরে যাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে তোমার ইচ্ছাই পূর্ণ হোক।”
(৪৩)আবার তিনি ফিরে এসে দেখলেন তারা ঘুমাচ্ছেন; কারণ তাদের চোখ ভারি হয়ে এসেছিলো। ৪৪সুতরাং তিনি আবার তাদের ছেড়ে চলে গেলেন এবং তৃতীয়বার সেই একই কথা বলে মোনাজাত করলেন।
(৪৫)অতঃপর তিনি হাওয়ারিদের কাছে এলেন এবং তাদের বললেন, “এখনো তোমরা ঘুমাচ্ছো আর বিশ্রাম করছো? দেখো, সময় এসে গেছে। ইবনুল-ইনসানকে গুনাহগারদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। (৪৬)ওঠো, চলো, আমরা যাই। ওই দেখো, যে আমাকে ধরিয়ে দেবে সে এসে পড়েছে।” (৪৭)তখনো তিনি কথা বলছেন, এমন সময় ইহুদা, সেই বারোজনের একজন, সেখানে এলেন। প্রধান ইমামদের ও বুজুর্গদের পাঠানো প্রচুর লোক তরবারি ও লাঠিসহ তার সাথে ছিলো। (৪৮)যিনি তাঁকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি ওই লোকদের সাথে একটি চিহ্ন ঠিক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “যাঁকে আমি চুমু দেবো, তিনিই সেই লোক; তোমরা তাঁকে গ্রেফতার কোরো।”
(৪৯)তখনই তিনি হযরত ইসা আ.র কাছে এসে বললেন, “হুজুর, আসসালামু আলাইকুম!”
এবং তাঁকে চুমু দিলেন। (৫০)হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “বন্ধু, তুমি যা করতে এসেছো তা-ই করো।” (৫১)অতঃপর তারা এগিয়ে এসে হযরত ইসা আ.কে গ্রেফতার করলো। হঠাৎ হযরত ইসা আ.র সঙ্গীদের মধ্যে একজন হাত বাড়িয়ে তার তরবারি বের করলেন এবং মহাইমামের গোলামকে আঘাত করে তার একটি কান কেটে ফেললেন। (৫২)তখন হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “তোমার তরবারি খাপে রেখে দাও; কারণ তরবারি যারা ধরে, তারা তরবারির আঘাতেই মরে। (৫৩)তুমি কি মনে করো যে, আমি আমার প্রতিপালকের কাছে চাইলে তিনি এখনই আমার জন্য বারো বাহিনীরও বেশি ফেরেস্তা পাঠিয়ে দেবেন না? (৫৪)কিন্তু তাহলে পাককিতাবের কথা কীভাবে পূর্ণ হবে, যাতে বলা হয়েছে যে, এসব অবশ্যই এভাবে ঘটবে?”
(৫৫)সেই সময় হযরত ইসা আ. জনতার উদ্দেশে বললেন, “ডাকাত ধরার জন্য মানুষ যেভাবে যায়, সেভাবে তোমরা কি তরবারি ও লাঠি নিয়ে আমাকে গ্রেফতার করতে এসেছো? আমি দিনের পর দিন বায়তুল-মোকাদ্দসে বসে শিক্ষা দিয়েছি কিন্তু তখন তো তোমরা আমাকে ধরোনি! (৫৬)কিন্তু এসব ঘটলো যেনো নবিদের কথা পূর্ণ হতে পারে।” তখন হাওয়ারিরা সকলেই তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে গেলেন।
(৫৭)যারা হযরত ইসা আ.কে গ্রেফতার করেছিলো, তারা তাঁকে মহাইমাম কাইয়াফার কাছে নিয়ে গেলো। তার বাড়িতে আলিমরা ও বুজুর্গরা একত্রিত হয়েছিলেন। (৫৮)হযরত পিতর রা. দূরে থেকে তাঁর পেছনে পেছনে মহাইমামের উঠোনে গিয়ে ঢুকলেন এবং শেষ পর্যন্ত কী হয় তা দেখার জন্য ভেতরে গিয়ে পাহারাদারদের সাথে বসলেন।
(৫৯)প্রধান ইমামেরা এবং মহাসভার সবাই হযরত ইসা আ.কে মেরে ফেলার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাসাক্ষ্য খুঁজছিলেন। (৬০)যদিও অনেকেই মিথ্যাসাক্ষ্য দেবার জন্য এগিয়ে এসেছিলো কিন্তু তেমন কোনো সাক্ষ্যই তারা পেলেন না। অবশেষে দু’ব্যক্তি এগিয়ে এসে (৬১)বললো, “এই লোকটি বলেছে, ‘আমি আল্লাহর ঘর ভেঙে ফেলে তিন দিনের মধ্যে আবার তা গড়তে পারি’।”
(৬২)তখন মহাইমাম উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমার কি কিছুই বলার নেই? এসব লোক তোমার বিরুদ্ধে কী সাক্ষ্য দিচ্ছে?” (৬৩)কিন্তু হযরত ইসা আ. চুপ করেই রইলেন।
তখন মহাইমাম তাঁকে বললেন, “আমি তোমাকে আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিনের কসম দিয়ে বলছি, তুমিই যদি মসিহ, আল্লাহর একান্ত প্রিয় মনোনীতজন, হয়ে থাকো, তাহলে আমাদের বলো?”
(৬৪)হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “আপনি নিজেই তা বললেন। কিন্তু আমি আপনাকে বলছি, এখন থেকে আপনারা ইবনুল-ইনসানকে সর্বশক্তিমানের ডান দিকে বসে থাকতে এবং আসমানের মেঘে চড়ে আসতে দেখবেন।”
(৬৫)তখন মহাইমাম তার জামা-কাপড় ছিঁড়ে বললেন, “ও তো কুফরি করলো! আমাদের আর সাক্ষীর কী দরকার? (৬৬)আপনারা তো এইমাত্র ওর কুফরি শুনতে পেলেন। আপনাদের সিদ্ধান্ত কী?” তারা জবাব দিলেন, “ও মৃত্যুর উপযুক্ত।” (৬৭)তখন লোকেরা তাঁর মুখে থুথু দিলো এবং তাঁকে ঘুষি মারলো। (৬৮)কেউ কেউ আবার তাঁকে চড়-থাপ্পড় মেরে বললো, “এই মসিহ, তুই নাকি নবি! বল দেখি কে তোকে মারলো?”
(৬৯)এদিকে পিতর বাইরের উঠোনেই বসে ছিলেন। একজন চাকরানী তার কাছে এসে বললো, “তুমিও তো গালিলের ওই হযরত ইসা আ.র সাথে ছিলে।” (৭০)কিন্তু পিতর সকলের সামনে একথা অস্বীকার করে বললেন, “তুমি যে কী বলছো, আমি তা বুঝতেই পারছি না!”
(৭১)এরপর হযরত পিতর রা. সদর দরজার কাছে গেলেন। তাকে দেখে অন্য এক চাকরানী সেখানকার লোকদের বললো, “এই লোকটি নাসরতের হযরত ইসা আ.র সাথে ছিলো।” (৭২)আবারো তিনি কসম খেয়ে অস্বীকার করে বললেন, “ওই লোকটিকে আমি চিনি না।”
(৭৩)কিছুক্ষণ পরেই, যারা সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলো তারা এগিয়ে এসে পিতরকে বললো, “নিশ্চয়ই তুমি ওদেরই একজন। তোমার কথা বলার ধরণ তোমাকে ধরিয়ে দিচ্ছে।” (৭৪)তখন তিনি নিজেকে অভিশাপ দিয়ে কসম খেয়ে বলতে লাগলেন, “ওই লোকটিকে আমি চিনিই না।” আর তখনই একটি মোরগ ডেকে উঠলো।
(৭৫)তখন হযরত পিতর রা.র মনে পড়লো যে, হযরত ইসা আ. বলেছিলেন, “মোরগ ডাকার আগেই তুমি আমাকে তিনবার অস্বীকার করবে।” এবং তিনি বাইরে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)ফজরের পরেই প্রধান ইমামেরা ও বুজুর্গরা একত্রে বসে হযরত ইসা আ.কে মেরে ফেলার বিষয়ে আলোচনা করলেন। (২)তারা হযরত ইসা আ.কে বেঁধে নিয়ে গিয়ে প্রাদেশিক শাসনকর্তা পিলাতের হাতে তুলে দিলেন।
(৩)যখন ইহুদা, যিনি তাঁকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন, দেখলেন যে, হযরত ইসা আ. দোষী বলে সাব্যস্ত হয়েছেন, (৪)তখন তিনি অনুতপ্ত হলেন এবং প্রধান ইমামদের ও বুজুর্গদের কাছে গিয়ে সেই তিরিশ টুকরো রুপা ফেরত দিয়ে বললেন, “নিষ্পাপ-রক্তপাত ঘটিয়ে আমি গুনাহ করেছি।” কিন্তু তারা বললেন, “তাতে আমাদের কী? এ তো তোমার ব্যাপার।” (৫)তখন তিনি ওই রুপার টুকরোগুলো নিয়ে বায়তুল-মোকাদ্দসের ভেতরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে চলে গেলেন এবং গলায় দড়ি দিয়ে মরলেন।
(৬)কিন্তু প্রধান ইমামেরা ওই রুপার টুকরোগুলো কুড়িয়ে নিয়ে বললেন, “এগুলো কোষাগারে রাখা ঠিক নয়, কারণ এ তো রক্তের মূল্য।” (৭)তাই তারা পরামর্শ করার পর ওগুলো দিয়ে বিদেশিদের কবর দেবার জন্য এক কুমোরের জমি কিনলেন। (৮)সেজন্য আজো ওই জমিকে বলা হয় “রক্তের জমি”।
(৯)হযরত ইয়ারমিয়া নবির মধ্য দিয়ে বলা একথা এভাবেই পূর্ণ হলো- ¬“তারা তিরিশ টুকরো রুপা নিলো। যাঁর মূল্য নির্ধারিতই ছিলো, এটি তাঁরই মূল্য। (১০)বনি-ইসরাইলের কিছু লোক তাঁর জন্য এই মূল্য নির্ধারণ করেছিলো। আল্লাহ আমাকে যেভাবে হুকুম দিয়েছিলেন, সেভাবেই তারা ওগুলো কুমারের জমির জন্য দিলো।”
(১১)হযরত ইসা আ.কে গভর্নরের সামনে দাঁড় করানো হলো। গভর্নর তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি ইহুদিদের বাদশা?” হযরত ইসা আ. বললেন, “আপনিই তা বলছেন।” (১২)কিন্তু প্রধান ইমামেরা ও বুজুর্গরা যখন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন, তখন তিনি কোনো উত্তর দিলেন না। (১৩)তখন পিলাত তাঁকে বললেন, “তুমি কি শুনতে পাচ্ছো না যে, ওরা তোমার বিরুদ্ধে কতো কি অভিযোগ করছেন?” (১৪)কিন্তু তিনি তাকে কোনো উত্তর দিলেন না, এমনকি একটি অভিযোগেরও না। এতে গভর্নর খুবই আশ্চর্য হলেন।
(১৫)ইদের সময় লোকেরা যে-কয়েদিকে চাইতো, রীতি অনুসারে গভর্নর তাকে ছেড়ে দিতেন।
(১৬)সেই সময় বারাব্বা নামে একজন কুখ্যাত কয়েদি ছিলো। (১৭)সুতরাং লোকেরা সমবেত হলে পিলাত তাদের জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা কী চাও? তোমাদের জন্য আমি কাকে মুক্তি দেবো, বারাব্বাকে, নাকি এই হযরত ইসা আ.কে, যাকে মসিহ বলা হয়?” (১৮)কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, হিংসা করেই তারা তাঁকে তার হাতে দিয়েছেন।
(১৯)তিনি যখন বিচারের আসনে বসে ছিলেন, তখন তার স্ত্রী তাকে বলে পাঠালেন, “তুমি ওই দীনদার মানুষটির বিরুদ্ধে কিছুই করো না, কারণ আমি আজ তাঁকে নিয়ে একটি স্বপ্ন দেখে খুবই কষ্ট পেয়েছি।”
(২০)এদিকে প্রধান ইমামেরা ও বুজুর্গরা লোকদের উসকে দিলেন, যেনো তারা বারাব্বাকে চেয়ে নেয় এবং হযরত ইসা আ.কে হত্যার দাবি জানায়। (২১)গভর্নর আবার তাদের জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা কী চাও? তোমাদের জন্য এই দু’জনের মধ্যে আমি কাকে মুক্তি দেবো?” তারা বললো, ‘বারাব্বাকে’। (২২)পিলাত তাদের বললেন, “তাহলে এই যে হযরত ইসা আ., যাকে মসিহ বলা হয়, তাকে নিয়ে আমি কী করবো?” তারা সকলে বললো, “ওকে সলিবে দিন!”
(২৩)তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কেনো, সে কী দোষ করেছে?” কিন্তু তারা আরো জোরে চেঁচিয়ে বলতে লাগলো, “ওকে সলিবে দিন!”
(২৪)সুতরাং পিলাত যখন দেখলেন যে, তিনি কিছুই করতে পারছেন না, বরং একটি দাঙ্গা শুরু হতে চলেছে, তখন তিনি কিছু পানি নিয়ে লোকদের সামনে হাত ধুয়ে বললেন, “এই মানুষটির রক্তপাতের ব্যাপারে আমি নির্দোষ; তোমরাই তা বুঝবে।” (২৫)তখন সমস্ত লোক একসাথে বলে উঠলো, “ওর রক্তপাতের ব্যাপারে আমরা ও আমাদের সন্তানরাই দায়ী রইলাম।”
(২৬)তখন পিলাত বারাব্বাকে তাদের কাছে ছেড়ে দিলেন, আর হযরত ইসা আ.কে চাবুক মেরে সলিবে দেবার জন্য দিয়ে দিলেন।
(২৭)অতঃপর গভর্নরের সৈন্যরা হযরত ইসা আ.কে গভর্নরের প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে গেলো এবং তারা গোটা সেনাদলকে তাঁর চারদিকে জড়ো করলো। (২৮)তারা তাঁর জামা-কাপড় খুলে নিয়ে তাঁকে টকটকে লাল গাউন পরিয়ে দিলো।
(২৯)এরপর তারা কাঁটার মুকুট গেঁথে তাঁর মাথায় পরিয়ে দিলো। তাঁর ডান হাতে দিলো একটি নলখাগড়া। এবং তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে তাঁকে উপহাস করে বলতে লাগলো, “খোশ আমদেদ, ইহুদিরাজ!” (৩০)তারা তাঁর গায়ে থুথু দিলো, নলখাগড়াটি নিয়ে নিলো এবং তাঁর মাথায় আঘাত করলো। (৩১)এভাবে তাঁকে ঠাট্টাতামাসা করার পর তারা ওই গাউনটি খুলে তাঁকে তাঁর নিজের জামা-কাপড় পরিয়ে দিলো এবং সলিবে দিয়ে হত্যা করার জন্য নিয়ে চললো।
(৩২)বাইরে যাবার সময় তারা সিমোন নামে কুরিনীয় এক লোকের দেখা পেলো। তাকেই তারা তাঁর সলিব বইতে বাধ্য করলো। (৩৩)অতঃপর তারা যখন ‘গল্গথা’ অর্থাৎ ‘মাথার খুলির স্থান’, নামে একটি জায়গায় এসে পৌঁছালো, (৩৪)তখন তারা তাঁকে তেতো মেশানো আঙুররস খেতে দিলো কিন্তু স্বাদ নিয়েই তিনি তা আর খেলেন না।
(৩৫)অতঃপর তারা তাঁকে সলিবে দিলো। ভাগ্য পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর জামা-কাপড় নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলো। (৩৬)এবং সেখানে বসে তাঁকে পাহারা দিতে লাগলো।
(৩৭)তারা তাঁর মাথার ওপরে তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগনামা লিখে লাগিয়ে দিলো, “এ হলো হযরত ইসা আ., ইহুদিদের বাদশা।” (৩৮)তারা দু’জন ডাকাতকেও তাঁর সাথে সলিবে দিলো- একজনকে ডান দিকে ও অন্যজনকে বাম দিকে।
(৩৯)যারা সেপথ দিয়ে যাচ্ছিলো, তারা মাথা নেড়ে তাঁকে ঠাট্টা করে বললো, (৪০)“তুমি নাকি বায়তুল-মোকাদ্দস ভেঙে আবার তিন দিনের ভেতর তা তৈরি করতে পারো! তুমি যদি আল্লাহর একান্ত প্রিয় মনোনীতজন হয়ে থাকো, তাহলে এখন সলিব থেকে নেমে এসে নিজেকে রক্ষা করো।”
(৪১)একইভাবে প্রধান ইমামেরা আলিম ও বুজুর্গদের সাথে তাঁকে উপহাস করে বললেন, (৪২)“সে অন্যদের রক্ষা করতো কিন্তু নিজেকে রক্ষা করতে পারে না। সে তো ইস্রাইলের বাদশা! এখন সলিব থেকে নেমে আসুক, তাহলে আমরাও তার ওপর ইমান আনবো। (৪৩)সে তো আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে। আল্লাহ যদি চান, তাহলে এখন একমাত্র তিনিই তাকে উদ্ধার করুন। কারণ সে তো বলতো, ‘আমি আল্লাহর একান্ত প্রিয় মনোনীতজন।’” (৪৪)যে-ডাকাতদের তাঁর সাথে সলিবে দেয়া হয়েছিলো, তারাও তাঁকে একইভাবে টিটকারি করলো।
(৪৫)দুপুর বারোটা থেকে বেলা তিনটে পর্যন্ত সারাদেশ অন্ধকার হয়ে রইলো। (৪৬)বেলা তিনটের সময় হযরত ইসা আ. চিৎকার করে বললেন, “এলোই, এলোই, লামা সাবাক্তানি?” অর্থাৎ “আল্লাহ আমার, আল্লাহ আমার, কেনো তুমি আমাকে ত্যাগ করেছো?” (৪৭)যারা কাছে দাঁড়িয়ে ছিলো, তাদের কয়েকজন একথা শুনে বললো, “সে হযরত ইলিয়াস আ.কে ডাকছে।” (৪৮)এক লোক দৌড়ে গিয়ে একটি স্পঞ্জ সিরকায় ভেজালো এবং তা একটি লাঠির মাথায় লাগিয়ে তাঁকে পান করতে দিলো। (৪৯)কিন্তু অন্যরা বললো, “থাক, দেখি, হযরত ইলিয়াস আ. তাকে নামিয়ে নিতে আসেন কিনা।”
(৫০)অতঃপর হযরত ইসা আ. আবার জোরে চিৎকার করে ইন্তেকাল করলেন। (৫১)তখনই বায়তুল-মোকাদ্দসের পর্দাটি ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত চিরে দু’ভাগ হয়ে গেলো। ভূমিক¤প হলো এবং পাথরগুলো ফেটে গেলো। (৫২)কবরগুলোও খুলে গেলো এবং চিরনিদ্রায় শায়িত অনেক কামিলের দেহ জেগে উঠলো। (৫৩)তাঁর পুনরুত্থানের পর তারা কবর থেকে বেরিয়ে এসে পবিত্র শহরের মধ্যে গেলেন এবং অনেককে দেখা দিলেন।
(৫৪)রোমীয় সেনা অফিসার ও তার সাথে যারা ইসাকে পাহারা দিচ্ছিলেন, তারা ভূমিক¤প ও অন্য সব ঘটনা দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে বললেন, “নিশ্চয়ই ইনি আল্লাহর একান্ত প্রিয় মনোনীতজন ছিলেন।”
(৫৫)সেখানে কয়েকজন মহিলা দূরে দাঁড়িয়ে এসব দেখছিলেন। তারা গালিল থেকে ইসাকে অনুসরণ করে তাঁর সেবা করতে করতে এসেছিলেন। (৫৬)তাদের মধ্যে ছিলেন মºলিনি মরিয়ম, ইয়াকুব ও ইউসুফের মা মরিয়ম এবং জাবিদির ছেলেদের মা।
(৫৭)সন্ধ্যার দিকে অরিমাথিয়া গ্রামের হযরত ইউসুফ নামে এক ধনী লোক সেখানে এলেন। তিনিও হযরত ইসা আ.র একজন সাহাবি ছিলেন। (৫৮)তিনি পিলাতের কাছে গিয়ে হযরত ইসা আ.র দেহমোবারক চাইলেন। তখন পিলাত তাকে তা দিয়ে দিতে আদেশ দিলেন।
(৫৯)সুতরাং হযরত ইউসুফ র. দেহ মোবারকটি নিয়ে একটি পরিষ্কার লিনেন কাপড়ের কাফন পরালেন; (৬০)এবং নিজের জন্য পাহাড় কেটে তৈরি করা একটি নতুন কবরে তাঁকে দাফন করলেন। অতঃপর কবরের মুখে একটি বড়ো পাথর গড়িয়ে দিয়ে তিনি ফিরে গেলেন। (৬১)মºলিনি মরিয়ম ও অন্য মরিয়ম সেখানে কবরের সামনে বসে রইলেন।
(৬২)পরদিন অর্থাৎ প্রস্তুতি দিনের পরদিন, প্রধান ইমামেরা ও ফরিসিরা একসাথে পিলাতের কাছে গিয়ে বললেন, (৬৩)“জনাব, আমাদের মনে পড়ছে, জীবিত থাকতে এই ভন্ডটা বলেছিলো, ‘তিন দিন পর আমি আবার জীবিত হয়ে উঠবো।’ (৬৪)অতএব, তিন দিন পর্যন্ত কবরটি পাহারা দিতে আদেশ দিন। তা না হলে হয়তো তার সাহাবিরা তার দেহ চুরি করে নিয়ে যাবে এবং মানুষকে বলবে, ‘তিনি মৃত থেকে জীবিত হয়ে উঠেছেন।’ তাতে প্রথম প্রতারণার চেয়ে শেষ প্রতারণা আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে।”
(৬৫)পিলাত তাদের বললেন, “আপনারা পাহারাদারদের নিয়ে গিয়ে যেভাবে পারেন, ওটা রক্ষা করুন।” (৬৬)সুতরাং তারা পাহারাদারদের সাথে গিয়ে পাথরটি সিলমোহর করে কবরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেন।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
