- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১-৫)আমি পৌল একজন হাওয়ারি- এই হাওয়ারি-পদ আমি কোনো মানুষের কাছ থেকে বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত মানুষের দ্বারা পাইনি, বরং হযরত ইসা মসিহ এবং যিনি তাঁকে মৃত থেকে জীবিত করে তুলেছেন, সেই প্রতিপালক আল্লাহই আমাকে নিযুক্ত করেছেন- এবং আমার সংগে যে-ইমানদারেরা (অর্থাৎ আল্লাহর পরিবারের যে সদস্যরা) আছেন, আমরা সবাই গালাতীয় ইমানদার-দলগুলোর কাছে লিখছি: আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ এবং হযরত ইসা মসিহের রহমত ও শান্তি তোমাদের সাথে থাকুক, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর ইচ্ছা অনুসারে, এই মন্দ সময়ের হাত থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করতে, আমাদের গুনাহের জন্য হযরত ইসা মসিহ নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন, চিরদিন ও অনন্তকাল আল্লাহর প্রশংসা হোক। আমিন।
(৬-৭)আমি খুব অবাক হচ্ছি যে, মসিহের অনুগ্রহে যিনি তোমাদেরকে ডেকেছিলেন, তোমরা এত তাড়াতাড়ি তাঁকে ত্যাগ করে অন্যরকম সুখবরের দিকে ঝুঁকে পড়ছো- আসলে অন্য কোনো সুখবর নেই, বরং এমন কিছু লোক আছে, যারা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করছে, আর মসিহের সুখবর বিকৃত করতে চাইছে।
(৮)কিন্তু যে-সুখবর আমরা তোমাদের কাছে প্রচার করেছি তা থেকে আলাদা কোনো সুখবর যদি তোমাদের কাছে প্রচার করা হয়- তা আমরা নিজেরাই করি বা বেহেস্ত থেকে কোনো ফেরেস্তাই করেন- তাহলে সেই ব্যক্তির উপরে অভিশাপ পড়ক!
(৯)আমরা যেমন আগে বলেছি, তেমনি আমি এখন আবারও বলছি, যে-সুখবর তোমরা গ্রহণ করেছো তা থেকে আলাদা কোনো সুখবর যদি কেউ তোমাদের কাছে প্রচার করে, তাহলে তার উপর অভিশাপ পড়ুক!
(১০)আমি কি মানুষের অনুমোদন চাইছি, না আল্লাহর অনুমোদন চাইছি? কিংবা আমি কি মানুষকে খুশি করার চেষ্টা করছি? আমি যদি এখনও মানুষকে খুশি করতে চেষ্টা করতাম, তাহলে তো আমি মসিহের খাদেম হতাম না।
(১১-১২)ভাই ও বোনেরা, আমি চাই যে, তোমারা এই কথা জানো যে, আমি যে-সুখবর প্রচার করেছি তা কোনো মানুষের কাছ থেকে আসেনি; কারণ, আমি তা কোনো মানুষের কাছ থেকে পাইনি, কিংবা কোনো মানুষ আমাকে তা শেখায়নি, বরং হযরত ইসা মসিহ নিজেই আমার কাছে তা প্রকাশ করেছেন।
(১৩)তোমরা নিশ্চয়ই ইহুদি ধর্মে আমার পূর্বের জীবন-যাপনের কথা শুনেছো, আমি আল্লাহর কওমের উপর ভীষণ অত্যাচার করতাম ইমানদার-দলের এবং তাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করতাম।
(১৪)ইহুদি ধর্ম পালনের ব্যাপারে আমার সমবয়সী অনেক ইহুদিকেই আমি ছাড়িয়ে গিয়েলাম; কারণ পূর্বপুরুষদের পরম্পরাগত রীতিনীতি পালনের ব্যাপারে অনেক বেশী উদ্দোগী।
(১৫-১৭)কিন্তু আল্লাহ, যিনি আমার জন্মের আগেই আমাকে আলাদা করে রেখেছিলেন, দয়া করে আমাকে ডেকেছিলেন। আমি যেন অ-ইহুদিদের কাছে মসিহের বিষয়ে প্রচার করি, সেই জন্য আল্লাহ যখন তাঁর একান্ত প্রিয় মনোনীতজনকে আমার কাছে প্রকাশ করলেন, তখন আমি কোনো মানুষের সংগে পরামর্শ করিনি। এমনকি যারা আমার আগে হাওয়ারি হয়েছিলেন, তাদের সংগে দেখা করতে আমি জেরুসালেমেও যাইনি। আমি বরং তখনই আরব দেশে চলে গেলাম এবং পরে আবার দামেস্কে ফিরে এলাম।
(১৮)এর তিন বছর পর আমি হযরত সাফওয়ান রা. সংগে দেখা করতে জেরুসালেমে গেলাম এবং তার সংগে পনেরো দিন থাকলাম।
(১৯)কিন্তু তখন হযরত ইসা মসিহের ভাই হযরত ইয়াকুব রা. ছাড়া অন্য কোনো হাওয়ারিকেই আমি দেখতে পাইনি।
(২০)আমি তোমাদের কাছে যা লিখছি, তার কিছুই আমি মিথ্যা বলছি না, আল্লাহই তার সাক্ষী।
(২১-২২)তারপর আমি সিরিয়া প্রদেশ ও কিলিকিয়ার বিভিন্ন জায়গায় গেলাম, তখনও ইহুদিয়ার মসিহে ইমানদার দলগুলো আমার পরিচয় জানতে পারেনি;
(২৩)তারা কেবল এই কথা শুনেছিলো, “আগে যে-লোক আমাদের ওপর অত্যাচার করতো, সে এখন সেই ইমানের কথাই প্রচার করছে, যে ইমান সে এক সময় ধ্বংস করতে চেয়েছিলো।”
(২৪)আর আমার কারণে জন্য তারা আল্লাহর প্রশংসা করতে লাগলো।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)এর চৌদ্দ বছর পর হযরত বার্নাবাস রা.-কে সংগে আমি আবার জেরুসালেমে গেলাম, আর তীতকেও সংগে নিলাম।
(২)আমি দর্শন বা প্রত্যাদেশ পেয়েই সেখানে গেলাম। যে সুখবরের বাণী আমি অ-ইহুদিদের কাছে প্রচার করে থাকি, তাদের সামনে অর্থাৎ শুধুমাত্র স্বীকৃত নেতাদের সংগে একান্তে এক সাক্ষাতের সময় তা তুলে ধরলাম। কারণ নিশ্চিত হতে চাইলাম যে, আমি যে-দৌঁড় আমি দৌঁড়াচ্ছি, তা বৃথা নয়।
(৩)এমনকি তীত, যিনি আমার সঙ্গে ছিলেন, তিনি গ্রীক হলেও, তাকে খতনা করতে বাধ্য করা হয়নি।
(৪-৫)মসিহ হযরত ইসাতে আমাদের যে স্বাধীনতা আছে তা থেকে আমাদের দোষ ধরার জন্য যারা গোপনে ইমানদারদের মধ্যে ঢুকে পড়েছিলো, যাতে তারা আমাদেরকে তাদেও গোলাম বানিয়ে রাখতে পারে, আমরা এক মুহূর্তের জন্যও তাদের বশ্যতা স্বীকার করিনি, যাতে সুখবরের সত্য সব সময় তোমাদের কাছে থাকে।
(৬)এবং যাদেরকে নেতা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়ার কথা ছিলো তারা আসলে কী ছিলেন, তাতে আমার কিছুই যায় আসে না; আল্লাহ কোন পক্ষপাতিত্ব করেন না- সেই নেতারা আমার জন্য কিছুই করেননি
(৭-৯)অন্যদিকে তারা যখন দেখলেন যে, আমাকে খতনা-বিহীন লোকদের কাছে সুখবর প্রচার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, ঠিক যেভাবে হযরত সাফওয়ান রা.-কে খতনা করানো লোকদের কাছে সুখবর প্রচার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কারণ যিনি হযরত সাফওয়ান রা.-কে খতনা করানো লোকদের কাছে পাঠানোর কাজ করেছিলেন, তিনিই আমাকে অ-ইহুদিদের কাছে পাঠানোর কাজটি করেছেন, আর হযরত ইয়াকুব রা., হযরত সাফওয়ান রা. ও হযরত ইউহোন্না রা.- যারা স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন- তারা যখন আমাকে যে-অনুগ্রহ দেয়া হয়েছে বুঝতে পারলেন, তখন তারা হযরত বার্নাবাস রা. ও আমার প্রতি সহভাগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন, এবং একমত হলেন যে, আমরা অ-ইহুদিদের কাছে যাবো এবং তারা খতনা করানোদের কাছে যাবেন।
(১০)তারা কেবল একটা বিষয়ই চেয়ে ছিলেন, আমরা যেন গরিবদের কথা মনে রাখি; আর প্রকৃতপক্ষে আমিও তা করার জন্য আকাঙ্ক্ষী ছিলাম।
(১১-১২)কিন্তু হযরত সাফওয়ান রা. যখন আন্তিয়খিয়াতে আসলেন, তখন আমি তাঁর মুখোমুখি হয়ে তাঁর বিরোধিতা করলাম, কারণ তিনি নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন; হযরত ইয়াকুব রা. এর কাছ থেকে কিছু লোক এখানে আসার আগ পর্যন্ত তিনি অ-ইহুদিদের সাথে খাওয়া-দাওয়া করতেন। কিন্তু তারা আসার পর খতনাকারীদের ভয়ে তিনি নিজেকে আলাদা করে রেখেছিলেন।
(১৩)অন্যান্য ইহুদিরাও তার সাথে এই ভণ্ডামিতে যোগ দিলো, এমনকি হযরত বার্নাবাস রা.ও তাদের ভণ্ডামির দ্বারা বিপথে পা বাড়ালেন।
(১৪)কিন্তু আমি যখন দেখলাম, সুখবরের সত্যের সংগে তাদের কাজের কোনো ধারাবাহিকতা নেই, তখন আমি সবার সামনে হযরত সাফওয়ান রা.-কে বললাম, “আপনি ইহুদি হয়েও যখন ইহুদিদের মতো জীবন-যাপন না করে- অ-ইহুদিদের মতো জীবন-যাপন করেন, তাহলে আপনি কেমন করে অ-ইহুদিদেরকে ইহুদিদের মতো জীবন-যাপন করতে বাধ্য করতে পারেন?”
(১৫-১৬)আমরা জন্মগতভাবে ইহুদি এবং গুনাহগার অ-ইহুদি নই; তবুও আমরা একথা জানি যে, শরিয়ত পালনের জন্য নয়, বরং হযরত ইসা মসিহের ওপর ইমান আনার মধ্য দিয়েই একজন মানুষ ধার্মিক গণ্য হয়। এবং আমরা মসিহ হযরত ইসা আ. এর উপর ইমান এনেছি, যেনো মসিহের উপর ইমান আনার জন্যই আমরা ধার্মিক বলে গৃহীত হই, শরিয়ত পালনের দ্বারা নয়, কারণ শরিয়ত পালনের দ্বারা কেউ-ই ধার্মিক বলে গণ্য হবে না।
(১৭)কিন্তু, মসিহে ধার্মিক প্রতিপন্ন হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে যদি আমরা নিজেরাই গুনাহগার বলে প্রমাণিত হই, তাহলে মসিহ কি গুনাহের গোলাম? অবশ্যই না!
(১৮)কিন্তু যে-জিনিসগুলো আমি একবার ভেংগে ফেলেছিলাম সেগুলো যদি আমি আবার গড়ে তুলি, তাহলে তো আমি নিজেই নিজেকে একজন অপরাধী বলে প্রমাণ করি।
(১৯-২০)শরিয়তের দ্বারাই শরিয়তে আমার মৃত্যু হয়েছে, যেন আমি আল্লাহর কাছে বেঁচে থাকতে পারি। মসিহের সংগে আমি সলিববিদ্ধ হয়েছি; কারণ আল্লাহর উদ্দেশ্যে বেঁচে থাকার জন্য আমি শরিয়তের দ্বারা শরিয়তের কাছে মৃত্যুবরণ করেছি। মসিহের সংগে আমি সলিববিদ্ধ হয়েছি; এবং আমি আর জীবিত নই, কিন্তু মসিহই আমার মধ্যে বাস করেন। এবং এখন আমি শরীরের মধ্যে যে জীবনযাপন করি, তা আল্লাহর একান্ত প্রিয় মনোনীতজনের উপর ইমানের দ্বারাই যাপন করি, যিনি আমাকে ভালোবাসলেন এবং আমার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করলেন।
(২১)আমি আল্লাহর এই অনুগ্রহকে বাতিল করে দিচ্ছি না; কারণ শরিয়তের মাধ্যমে যদি ধার্মিক প্রতিপন্ন হওয়া যায়, তাহলে মসিহ অকারণে মারা গেছেন।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)হে নির্বোধ গালাতিয়েরা! কে তোমাদের জাদু করেছে? তোমাদেরই তো চোখের সামনেই হযরত ইসা মসিহকে প্রকাশ্যে সলিববিদ্ধ অবস্থায় দেখানো হয়েছিল!
(২)তোমাদের কাছ থেকে আমি শুধু এইটুকু জানতে চাই: তোমরা কি শরিয়ত পালন করার মাধ্যমে আল্লাহর রুহকে পেয়েছো, না কি শুনে ইমান এনেছো?
(৩)তোমরা কি এতটাই বোকা যে, আল্লাহর রুহ দিয়ে শুরু করে এখন শরীর দিয়ে শেষ করছো?
(৪)তোমরা কি বৃথাই এত দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছো?- যদি সত্যিই তা অকারণে হতো।
(৫)তাহলে আল্লাহ কি তোমাদেরকে তাঁর রুহকে দান করেন এবং তোমাদের মধ্যে আশ্চর্য কাজ করেন? নাকি তোমরা শরিয়ত পালন করছো বলে, অথবা তোমরা যা শুনেছো তার ওপর ইমান এনেছো বলে?
(৬-৭)ঠিক যেমন হযরত ইব্রাহিম আ. “আল্লাহকে বিশ্বাস করেছিলেন, এবং এটি আল্লাহর কাছে ধার্মিকতা বলে গণ্য হয়েছিল,” সুতরাং, তোমরা জেনে রাখো, যারা ইমান আনে তারা হযরত ইব্রাহিম আ.-এর বংশধর।
(৮)এবং আসমানি কিতাবে আগেই জানানো হয়েছে যে, আল্লাহ ইমানের কারণে অইহুদিদের ধার্মিক প্রতিপন্ন করেন, তাই হযরত ইব্রাহিম আ. এর কাছে আগেই এই সুখবর প্রকাশ করা হয়েছিলো, “তোমার মাধ্যমে সমস্ত অইহুদি রহমত পাবে।”
(৯)এজন্য, যারা ইমান আনে তারা ইমানদার হযরত ইব্রাহিম আ.-এর সাথে রহমতপ্রাপ্ত হয়।
(১০)কারণ যারা শরিয়তের কাজকর্মের ওপর নির্ভর করে, তারা সবাই অভিশাপের অধীন; কারণ লেখা আছে, “তওরাতের প্রত্যেকটি হুকুম যে পালন না করে, সে অভিশপ্ত।”
(১১)এখন এটাও পরিষ্কার যে, শরিয়ত পালন করার জন্য কেউ-ই আল্লাহর দৃষ্টিতে ধার্মিক বলে গন্য হয় না; কারণ “ধার্মিক ব্যক্তি তার ইমানের দ্বারাই বাঁচবে।”
(১২)কিন্তু শরিয়ত ইমানের ওপর নির্ভর করে না; বরং “যে শরিয়তের আইন মেনে চলে, সে তার দ্বারাই জীবন পাবে।”
(১৩-১৪)মসিহ আমাদের জন্য অভিশপ্ত হয়ে শরিয়তের অভিশাপ থেকে আমাদেরকে মুক্ত করেছেন- কেননা লেখা আছে, “যাকে গাছে টাংগানো হয়, সে অভিশপ্ত”- যাতে মসিহ ইসার মধ্য দিয়ে হযরত ইব্রাহিম আ. এর পাওয়া রহমত অইহুদিদের কাছে পৌছায়, যেনো আমরা ইমানের মধ্য দিয়ে ওয়াদাকৃত রুহকে পাই।
(১৫)ভাই ও বোনেরা, আমি প্রতিদিনের জীবন থেকে একটি উদাহরণ দিচ্ছি- একবার কোনো ব্যক্তির ইচ্ছাপত্র অনুমোদিত হয়ে গেলে, কেই তাতে কিছু যোগ করে না বা বাতিল করে না।
(১৬)এখন হযরত ইব্রাহিম আ. ও তার বংশের কাছে ওয়াদা করা হয়েছিলো; এখানে তোমার বংশধরদের কাছে বলা হয়নি; বরং বলা হয়েছে তোমার বংশের কাছে অর্থাৎ একজনের কাছে, তিনি হলেন মসিহ।
(১৭)আমি আসলে বলতে চাচ্ছি- আল্লাহ আগেই যে-ওয়াদা-চুক্তি অনুমোদন করেছেন, চার’শ ত্রিশ বছর পরে আসা শরিয়ত তাকে বাতিল করে না, অর্থাৎ ওয়াদা বাতিল করে না।
(১৮)কারণ উত্তরাধিকার যদি শরিয়ত থেকে আসে, তাহলে সেটা তো ওয়াদার মধ্য দিয়ে আসে না; অথচ প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই আল্লাহ এটি হযরত ইব্রাহিম আ.-কে দান করেছেন।
(১৯)তাহলে আবার শরিয়ত কেন? সীমালংঘনের কারণেই শরিয়ত যুক্ত করা হয়েছিলো; আর তার মেয়াদ ছিলো ততদিন, যতদিন না সেই প্রতিশ্রুত বংশধর আসেন, ফেরেস্তাদের মধ্য দিয়ে একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বহাল করা হয়েছিলো।
(২০)এখন একজন মধ্যস্থতাকারী কেবল এক পক্ষের জন্য নয়, বরং আমাদের আল্লাহ একজনই।
(২১)তাহলে শরিয়ত কি আল্লাহর ওয়াদাগুলোর বিরুদ্ধে? অবশ্যই না! কেননা যদি এমন শরিয়ত দেওয়া হ’তো যা জীবন দিতে পারে, তাহলে তো শরিয়ত পালনের মধ্য দিয়েই ধার্মিকতা আসতো।
(২২)কিন্তু আসমানি কিতাব সবকিছুকেই গুনাহের ক্ষমতার অধীনে বন্দী করে রেখেছে, যেন হযরত ইসা মসিহে ইমানের মাধ্যমে যা ওয়াদা করা হয়েছিল তা যারা ইমান আনে তাদের দেওয়া হয়।
(২৩)এখন ইমান আসার আগে, ইমান প্রকাশিত না-হওয়া পর্যন্ত, আমরা শরিয়তের আইন-কানুনের অধীনে বন্দী ছিলাম এবং তার পাহারায় ছিলাম।
(২৪)তাই মসিহের আগমন পর্যন্ত শরিয়ত আমাদের শাসনকারী ছিল, যাতে আমরা ইমানের দ্বারা ধার্মিক গনিত হই।
(২৫)কিন্তু এখন যে ইমান এসেছে, আমরা আর ঐ শাসনের অধীন নই,
(২৬)কারণ মসিহ ইসার ওপর ইমান আনার মধ্য দিয়ে তোমরা সবাই আল্লাহর সন্তান।
(২৭)তোমরা যতজন মসিহে বায়াত নিয়েছো, তারা মসিহকে দিয়ে নিজেদেরকে আবৃত করেছো।
(২৮)এখন আর ইহুদি কি অ-ইহুদি, গোলাম কি স্বাধীন, মহিলা কি পুরুষ বলে কিছু নেই; কারণ মসিহ ইসাতে তোমরা সবাই এক হয়েছো।
(২৯)এবং তোমরা যদি মসিহের হয়ে থাকো, তাহলে তোমরাই তো হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর বংশধর, প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা অনুসারে উত্তরাধিকারী।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১-২)আমি বলতে চাচ্ছি- উত্তরাধিকারীরা যতদিন নাবালক থাকে, ততদিন তারা গোলামদের থেকে উত্তম নয়; যদিও তারা সমস্ত সম্পত্তির মালিক; কিন্তু পিতার বেঁধে দেওয়া সময় পর্যন্ত তারা অভিভাবক ও ভারপ্রাপ্ত লোকের অধীনে থাকে।
(৩)তাই আমাদের ব্যাপারটিও একই রকম- আমরা যখন নাবালক ছিলাম, তখন তো আমরা ছিলাম দুনিয়ার নানা রীতিনীতির গোলাম ছিলাম।
(৪-৫)কিন্তু সময় পুর্ণ হলে আল্লাহ তাঁর একান্ত প্রিয় মনোনীতজনকে পাঠালেন, যিনি শরীয়তের অধীনে, একজন নারীর গর্ভে জম্ম নিয়েছিলেন, যেন শরিয়তের অধীনে থাকা লোকদেরকে মুক্ত করতে পারেন এবং আমরা দত্তক সন্তানের অধিকার লাভ করতে পারি।
(৬)যেহেতু তোমরা সন্তান, তাই আল্লাহ তাঁর একান্ত প্রিয় মনোনীতজনের রুহকে আমাদের হৃদয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন; যিনি তাঁকে “আব্বা! পিতা!” বলে ডাকেন ।
(৭)সুতরাং, তোমরা আর গোলাম নও, বরং সন্তান; আর যদি সন্তান হয়ে থাকো, তাহলে আল্লাহর মাধ্যমে উত্তরাধিকারীও বটে।
(৮)আগে যখন তোমরা আল্লাহকে জানতে না, তখন তোমরা যেসব সত্ত্বার গোলাম হয়েছিলে যারা প্রকৃত আল্লাহ নয়।
(৯)কিন্তু এখন তোমরা আল্লাহকে চিনেছো, কিংবা অন্যভাবে বলা যায়, আল্লাহর দ্বারা পরিচিত হয়েছো, তাহলে কেমন করে তোমরা আবার ওই সব দুর্বল ও ভিখারির আত্মার দিকে ফিরে যেতে পারো? কেমন করে তোমরা আবার ওই সবের গোলাম হতে চাইতে পারো?
(১০)তোমরা বিশেষ-বিশেষ দিন, মাস, ঋতু ও বছর পালন করছো।
(১১)তোমাদের নিয়ে আমার ভয় হচ্ছে, তোমাদের জন্য আমার কাজ হয়তো ব্যর্থ হয়েছে।
(১২) ভাই ও বোনেরা, আমি তোমাদের অনুরোধ করছি, তোমরা আমার মতো হও, কারণ আমিও তোমাদের মতো হয়েছি। তোমরা আমার প্রতি কোনো অন্যায় করোনি।
(১৩)তোমরা জানো যে, আমার শারীরিক অসুস্থতার জন্যই আমি প্রথমে তোমাদের কাছে সুখবর প্রচার করেছিলাম;
(১৪)যদিও আমার অবস্থা তোমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছিলো, তবুও তোমরা আমাকে অবহেলা বা তুচ্ছ করোনি, বরং তোমরা আমাকে আল্লাহর ফেরেস্তা হিসেবে, মসিহ ইসার মতোই গ্রহণ করেছিলে।
(১৫)তাহলে তোমাদের নিজেদের সেই কৃতজ্ঞতাবোধ কোথায় গেল? তোমাদের সম্বন্ধে আমি এই সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, যদি সম্ভব হতো তাহলে তোমরা তোমাদের চোখ তুলে আমাকে দিয়ে দিতে।
(১৬)তাহলে সত্য কথা বলার কারণেই কি এখন আমি তোমাদের শত্রু হয়ে গেছি?
(১৭)তারা এখন তোমাদের প্রতি খুবই আগ্রহ দেখাচ্ছে বটে, তবে তা কোনো ভালো উদ্দেশ্যে নয়; তারা আমার দিক থেকে তোমাদেরকে ফিরিয়ে রাখতে চায়, যাতে তোমরা তাদের প্রতি আগ্রহী হও।
(১৮)আমি যখন তোমাদের মাঝে উপস্থিত থাকি, কেবল তখন নয়, বরং মহৎ উদ্দেশ্যের জন্য সব সময়ই প্রস্তুত থাকা ভালো।
(১৯-২০)আমার স্নেহের সন্তানেরা, যতদিন না তোমাদের মধ্যে মসিহকে দেখা যাচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত আমি আবার তোমাদের জন্য প্রসব-বেদনা ভোগ করছি, আমি যদি এখন তোমাদের মধ্যে উপস্থিত থাকতে পারতাম ও আমার সুর বদলাতে পারতাম, কারণ আমি তোমাদের বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত।
(২১)আমাকে বলো তো, তোমরা যারা শরিয়তের অধীনে হতে চাও, তোমরা কি শরিয়তের শুনতে পাও না?
(২২)লেখা আছে, হযরত ইব্রাহিম আ.-এর দু’টি ছেলে ছিলো, তাদের একজন দাসীর মাধ্যমে ও আরেকজন স্বাধীন মহিলার মাধ্যমে।
(২৩)দাসীর সন্তানটি জন্মেছিলেন মাংসিক অভিলাষে ও স্বাধীন মহিলার সন্তানটির জন্ম হয়েছিলো ওয়াদার মাধ্যমে।
(২৪)এটি একটি রূপক- এই দুই মহিলা দু’টি ওয়াদার প্রতীক। একটি ওয়াদা তুর পাহাড় থেকে আসা হাজেরা, যিনি গোলামীর জন্য সন্তান প্রসব করেছিলেন।
(২৫)হাজেরা হলেন আরবের তুর পাহাড়, এবং বর্তমান জেরুসালেমের সংগে সাদৃশ্যপূর্ণ; কারণ সে তার সন্তানদের সাথে গোলামীতে রয়েছে।
(২৬)কিন্তু অপর মহিলা বেহেস্তের জেরুসালেমের প্রতীক; সেই জেরুশালেম স্বাধীন এবং তিনিই আমাদের মা।
(২৭)কারণ কিতাবে লেখা আছে, “হে নিঃসন্তান, তুমি আনন্দ করো, তুমি যে সন্তানহীনা, আনন্দ করো। যার কখনো প্রসব-বেদনা হয়নি- আনন্দে ফেটে পড়ো, চিৎকার করো; কারণ বিবাহিতার চেয়ে নিঃসংগ-নারীর সন্তান অনেক বেশি।”
(২৮)এখন, আমার বন্ধুরা, তোমরা হযরত ইসহাকেরই মতো ওয়াদার সন্তান।
(২৯)সেই সময় মাংসিক অভিলাষে জন্ম নেওয়া সন্তানটি যেভাবে রূহ অনুসারে জন্ম নেওয়া সন্তানটির ওপর জুলুম করতেন, এখনও ঠিক তা-ই করা হচ্ছে।
(৩০)কিন্তু আসমানি কিতাব কী বলে? “দাসী ও তার সন্তানকে তাড়িয়ে দাও; কারণ দাসীর সন্তান কোনোমতেই স্বাধীন নারীর সন্তানের সংগে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে না।”
(৩১)সুতরাং, ভাই ও বোনেরা, আমরা দাসীর সন্তান নই, আমরা বরং স্বাধীন নারীরই সন্তান।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১) স্বাধীন থাকার জন্যই মসিহ আমাদেরকে মুক্ত করেছেন। সেজন্য তোমরা স্থির থাকো, গোলামির জোয়ালের বশীভুত হয়ো না।
(২)শুনো, আমি পৌল তোমাদের বলছি, যদি তোমরা নিজেদের খতনা করাতে দাও, তাহলে মসিহ তোমাদের কোনো উপকারেই আসবেন না।
(৩)আমি আবারও প্রত্যেক মানুষের কাছে এই সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, যে কেউ নিজেকে খতনা করাতে দেয়, সে সমস্ত শরিয়ত পালন করতে বাধ্য।
(৪)তোমরা যারা শরিয়ত পালন করে ধার্মিক হতে চাও, তোমরা নিজেদেরকে মসিহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছো; এবং তোমরা তাঁর অনুগ্রহ থেকে দুরে সরে গেছো।
(৫)কারণ আমরা রুহের মাধ্যমে, ইমানে দ্বারা, ধার্মিকতার আশা নিয়ে অধীর আগ্রহের সাথে অপেক্ষায় আছি।
(৬)কারণ মসিহ ইসার ওপর ইমান আনার পর খতনা করানো বা না-করানো কোনোটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়; ফল দেয় না; একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইমান, যা মহব্বতের মধ্য দিয়ে কাজ করে।
(৭)তোমরা তো বেশ ভালোই দৌঁড়াচ্ছিলে; তাহলে সত্যের বাধ্য হতে কে তোমাদেরকে বাধা দিলো?
(৮)এমন প্ররোচনা তাঁর কাছ থেকে আসে না, যিনি তোমাদেরকে ডেকেছেন।
(৯)একটুখানি খামি একটা গোটা ময়দার তালকে ফাঁপিয়ে তোলে।
(১০)তোমাদের উপর আল্লাহে আমার এই দৃঢ় বিশ্বাস আছে যে তোমরা অন্য কোনো রকম চিন্তা করবে না। কিন্তু যে তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করছে, সে যে-ই হোক না কেন, তাকে শাস্তি পেতে হবে।
(১১)ভাই ও বোনেরা আমার, আমি যদি এখনো খতনার কথাই প্রচার করি, তাহলে কেন আমি নির্যাতিত হচ্ছি? এক্ষেত্রে তো তাহলে সলিবের অপরাধ মুছে ফেলা হয়েছে।
(১২)যারা তোমাদেরকে অস্থির করে তুলছে, আমি চাই, তারা যেনো নিজেদের খোজা করে।
(১৩)ভাই ও বোনেরা, স্বাধীন হবার জন্যই তোমাদেরকে ডাকা হয়েছিল; শুধু নিজের ভোগ-বিলাস পূরণের সুযোগ হিসাবে তোমাদের এই স্বাধীনতাকে ব্যবহার করো না, বরং ভালোবাসায় একজন অন্যজনের সেবক হয়ে উঠো।
(১৪)কারণ, একটি সংক্ষিপ্ত হুকুমের মাঝেই প্রকাশ করা হয়েছে সম্পূর্ণ তওরাতের মূল কথা, “তোমার প্রতিবেশীকে তুমি নিজের মতো মহব্বত করবে।”
(১৫)যাইহোক, তোমরা যদি নিজেদের মধ্যে কামড়া-কামড়ি করো এবং গিলে ফেলো, তাহলে সাবধান! এরকম করলে তোমরা তো একে অন্যকে ধ্বংস করে ফেলবে।
(১৬)আমি বলি, তোমরা বরং রুহের পরিচালনায় জীবন-যাপন করো, এবং দৈহিক আকাঙ্ক্ষাগুলোকে পূর্ণ করো না।
(১৭)দৈহিক আকাঙ্ক্ষা যা চায়, তা আল্লাহর রুহের বিরুদ্ধে এবং রুহ যা চান, তা দৈহিক আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে; কারণ এগুলো একে অন্যের বিরোধী, যেনো তোমরা যা করতে চাও, তা তোমরা করতে না পারো ।
(১৮)কিন্তু তোমরা যদি আল্লাহর রুহের দ্বারা পরিচালিত হও, তাহলে তোমরা শরিয়তের অধীনে নও।
(১৯-২১)দৈহিক কামনার কাজগুলো স্পষ্টই দেখা যায়। সেগুলো হলো- জিনা, অপবিত্রতা, লম্পটতা, মূর্তিপূজা, জাদুবিদ্যা, শত্রুতা, বিবাদ, হিংসা, রাগ, ঝগড়া, মতের অমিল, দলাদলি, হিংসা, মাতলামি, আমোদ-প্রমোদ এবং এরকম আরো অনেক অন্যায়। এর আগে যেমন আমি তোমাদেরকে সতর্ক করেছি, এখনো তেমনি করছি- যারা এরকম কাজ করে, তারা আল্লাহর রাজ্যের অধিকারী হবে না।
(২২)অন্যদিকে আল্লাহর রুহের ফল হলো- মহব্বত, আনন্দ, শান্তি, ধৈর্য, দয়া, উদারতা, বিশ্বস্ততা, (২৩)নম্রতা ও নিজেকে দমন। এসব গুণের বিরুদ্ধে কোনো আইন নেই।
(২৪)যারা হযরত ইসা মসিহের, তারা তাদের শরীরিক কামনা-বাসনা, আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাসহ সলিববিদ্ধ করেছে।
(২৫)যদি আমরা আল্লাহর রুহের দ্বারা বেঁচে থাকি, তাহলে এসো আমরা আল্লাহর রুহের দ্বারাই পরিচালিত হই।
(২৬)এসো আমরা অহংকারী না হই, এক অপরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা না করি, একে অন্যকে হিংসা না করি।
রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
(১)ভাই ও বোনেরা, কেউ যদি কোনো অন্যায় কাজে ধরা পড়ে, তাহলে তোমরা যারা আল্লাহর রুহকে পেয়েছো, তোমাদের উচিত নম্রতার রুহে তাকে পুনরুদ্ধার করা। তবে তোমরা নিজেদের ব্যাপারে সতর্ক থেকো, যাতে প্রলোভনে না-পড়ো।
(২)তোমরা একে অন্যের ভার বহন করো; এভাবেই তোমরা মসীহের আইন-কানুন পূর্ণ করবে।
(৩)যারা কিছুই নয় তারা যদি নিজেদেরকে বিশেষ কিছু মনে করে, তাহলে তো তারা নিজেরাই নিজেদের সংগে প্রতারণা করে।
(৪)প্রত্যেকে তার নিজের কাজকে পরীক্ষা করে দেখুক; তাহলে প্রতিবেশীর কাজের পরিবর্তে নিজের কাজ তাদের গর্ব করা কারণ হয়ে উঠবে।
(৫)কারণ প্রত্যেককে অবশ্যই তার নিজের বোঝা বহন করতে হবে।
(৬)যাদেরকে আল্লাহর কালাম শিক্ষা দেওয়া হয়, তার অবশ্যই তাদের শিক্ষককে তাদের সমস্ত ভালো জিনিসের ভাগ দেবে।
(৭)প্রতারিত হয়ো না; আল্লাহকে উপহাস করা যায় না; কারণ তুমি যা বুনবে তাই কাটবে।
(৮)যদি তুমি তোমার দৈহিক অভিলাষের জন্য বীজ বুনো, তাহলে তুমি অভিলাষ থেকে দুর্নীতি কাটবে; কিন্তু যদি তুমি রুহের জন্য বীজ বুনো, তাহলে রুহ থেকে অনন্ত জীবন পাবে।
(৯)তাই এসো, আমরা যা ঠিক তা করতে করতে যেনো ক্লান্ত না হই, কারণ আমরা হাল ছেড়ে না দিলে ফসল কাটার সময় হলে, কাটবো।
(১০)তাই এসো, সুযোগ পেলেই আমরা সকলের ভালোর জন্য কাজ করি, বিশেষ করে ইমানদারদের পরিবারের ভালোর জন্য কাজ করি।
(১১)দেখো, যখন আমি নিজের হাতে লিখি তখন কত বড় বড় অক্ষরে লিখি!
(১২)যারা শরীরে নিজেদের ভালো দেখাতে চায় তারাই তোমাদেরকে খতনা করাতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে- এর একমাত্র কারণ হলো- যেন মসীহের সলিবের জন্য তাদেরকে নির্যাতিত হতে না-হয়।
(১৩)যারা খতনাপ্রাপ্ত, তারা নিজেরাই তো শরিয়ত পালন করে না; কিন্তু তারা তোমাদেরকে খতনা করাতে চায়, যাতে তারা তোমাদের শরীর নিয়ে গর্ব করতে পারে।
(১৪)হযরত ইসা মসীহের সলিব ছাড়া আমি যেন আর কোনোকিছু নিয়ে কখনো গর্ব না-করি। এই সলিবের জন্যই দুনিয়া আমার কাছে এবং আমি দুনিয়ার কাছে মৃত।
(১৫)কেননা, খতনা করা বা না-করা কোনো বিষয়ই নয়, বরং নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়াটাই আসল কথা!
(১৬)যারা এই নিয়ম মেনে চলবে-তাদের ওপর শান্তি ও অনুগ্রহ বর্ষিত হোক এবং বর্ষিত হোক আল্লাহর ইস্রায়েলীয়দের ওপরে।
(১৭)এখন থেকে কেউ আমাকে কষ্ট না-দিক; কারণ হযরত ইসা আ.-এর স্থায়ী চিহ্ন আমি আমার শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছি।
(১৮)ভাই ও বোনেরা, হযরত ইসা মসিহের অনুগ্রহ তোমাদের অন্তরে থাকুক। আমিন।
Facebook
WhatsApp
Telegram
Email
Print
