ইবনুল-ইনসান: রুকু – ১৯

248614
Total
Visitors
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন
১তিনি জিরিহোতে এসে শহরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ২সেখানে সক্কেয় নামে এক লোক ছিলেন। তিনি প্রধান কর-আদায়কারী এবং ধনী ছিলেন। ৩হযরত ইসা আ. কে, তা দেখার জন্য তিনি চেষ্টা করছিলেন কিন্তু তিনি বেঁটে ছিলেন বলে ভিড়ের জন্য তাঁকে দেখতে পাচ্ছিলেন না।

৪সুতরাং তিনি তাঁকে দেখার জন্য সামনে দৌড়ে গিয়ে একটি ডুমুরগাছে উঠলেন, কারণ তিনি সে-পথ দিয়েই যাচ্ছিলেন।

৫হযরত ইসা আ. সেখানে এসে ওপরের দিকে তাকালেন এবং তাকে বললেন, “সক্কেয়, তাড়াতাড়ি নেমে এসো, কারণ আমি আজ অবশ্যই তোমার বাড়িতে থাকবো।” ৬তিনি তাড়াতাড়ি নেমে এলেন এবং আনন্দের সাথে তাঁকে স্বাগত জানালেন। ৭এই ঘটনা দেখে সবাই বিড়বিড় করে বলতে শুরু করলো, “উনি একজন গুনাহগারের ঘরে মেহমান হতে গেলেন!” ৮সক্কেয় সেখানে দাঁড়িয়ে হযরত ইসা আ.কে বললেন, “হুজুর, আমি আমার ধন-সম্পত্তির অর্ধেক গরিবদের দিয়ে দেবো এবং কাউকে যদি ঠকিয়ে থাকি, তাহলে তার চার গুণ ফিরিয়ে দেবো।” ৯তখন হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “আজ এই বাড়িতে নাজাত এলো, কারণ সেও তো হযরত ইব্রাহিম আ.-র বংশধর। ১০যারা হারিয়ে গেছে, তাদের খোঁজ করতে ও নাজাত দিতে ইবনুল-ইনসান এসেছেন।”

১১সবাই যখন এসব শুনছিলো, তখন তিনি একটি দৃষ্টান্ত দিলেন। কারণ তিনি ছিলেন জেরুসালেমের কাছাকাছি, আর তারা ভাবছিলো, আল্লাহর রাজ্য খুব তাড়াতাড়িই প্রকাশ পাবে। সুতরাং তিনি বললেন ১২“উঁচু বংশের এক লোক রাজপদ নিয়ে ফিরে আসবে বলে দূর দেশে গেলো। ১৩সে তার দশজন গোলামকে ডাকলো এবং প্রত্যেককে এক হাজার দিনার দিয়ে বললো, ‘আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত এগুলো দিয়ে ব্যবসা করো।’ ১৪কিন্তু তার দেশের লোকেরা তাকে ঘৃণা করতো। এজন্য তারা তার পেছনে লোক পাঠিয়ে জানালো, ‘আমরা চাই না লোকটি আমাদের ওপর রাজত্ব করুক।’ ১৫সে বাদশাহি ক্ষমতা নিয়ে ফিরে এলো এবং যেসব গোলামকে দিনার দিয়ে গিয়েছিলো, তাদের ডেকে আনতে হুকুম দিলো। সে জানতে চাইলো, ব্যবসা করে তারা কে কতো লাভ করেছে।

১৬প্রথমজন এসে বললো, ‘হুজুর, আপনার দিনার দিয়ে আমি দশ গুণ লাভ করেছি।’ ১৭সে তাকে বললো, ‘সাবাস! উত্তম গোলাম। তুমি সামান্য বিষয়ে বিশ্বস্ত বলে আমি তোমাকে দশটি শহরের ভার দিলাম।’ ১৮দ্বিতীয়জন এসে বললো, ‘হুজুর, আপনার দিনার দিয়ে আমি পাঁচ গুণ লাভ করেছি। ১৯সে তাকে বললো, ‘তুমি পাঁচটি শহর শাসন করো।’

২০অতঃপর অন্য আরেকজন এসে বললো, ‘হুজুর, দেখুন, আমি আপনার দেয়া দিনার রুমালে বেঁধে রেখে দিয়েছিলাম। ২১আপনার সম্বন্ধে আমার ভয় ছিলো, কারণ আপনি খুব কড়া লোক। আপনি যা জমা করেননি তা নিয়ে থাকেন এবং যা বুনেননি তা কাটেন।’ ২২সে তাকে বললো, ‘দুষ্ট গোলাম! তোমার কথা দিয়েই আমি তোমার বিচার করবো। তুমি তো জানো যে, আমি কড়া লোক। যা জমা করিনি তা নিয়ে থাকি এবং যা বুনিনি তা কাটি? ২৩তাহলে কেনো তুমি আমার দিনারগুলো মহাজনের কাছে রাখোনি? তা করলে তো আমি এসে সুদসহ দিনারগুলো পেতাম।’ ২৪পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকদের সে বললো, ‘ওর কাছ থেকে দিনার নিয়ে নাও এবং যার দশ হাজার দিনার আছে, তাকে দাও।’ ২৫তারা তাকে বললো, “হুজুর, ওর তো দশ হাজার দিনার আছে!’ ২৬‘আমি তোমাদের বলছি, যাদের আছে, তাদের আরো দেয়া হবে; কিন্তু যাদের নেই, তাদের যা আছে, তাও তাদের কাছ থেকে নিয়ে নেয়া হবে। ২৭কিন্তু আমার এই শত্রুরা, যারা চায়নি আমি তাদের ওপরে রাজত্ব করি, তাদের এখানে নিয়ে এসো এবং আমার সামনেই হত্যা করো।’”

২৮এসব বলার পর তিনি তাদের আগে আগে জেরুসালেমের দিকে চললেন। ২৯তিনি যখন জৈতুন পাহাড়ের গায়ের বৈতফগি ও বেথানিয়া গ্রামের কাছে এলেন, তখন তাঁর সাহাবিদের দু’জনকে এই বলে পাঠিয়ে দিলেন, ৩০“তোমরা সামনের গ্রামে যাও, সেখানে ঢোকার সময় দেখতে পাবে, একটি বাচ্চা-গাধা বাঁধা আছে, যার ওপরে কেউ কখনো বসেনি। ওটা খুলে এখানে নিয়ে এসো। ৩১যদি কেউ তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করে, ‘কেনো এটি খুলছো?’ তাহলে শুধু বলো, ‘হুজুরের এটির দরকার আছে।’” ৩২সুতরাং যাদের পাঠানো হয়েছিলো, তারা গিয়ে তিনি যেমন বলেছিলেন, তেমনি দেখতে পেলেন। ৩৩তারা যখন বাচ্চা-গাধাটি খুলছিলেন, তখন তার মালিকরা তাদের জিজ্ঞেস করলো, “তোমরা কেনো বাচ্চা-গাধাটি খুলছো?” ৩৪তারা বললেন, “হুজুরের এটির দরকার আছে।”

৩৫অতঃপর তারা সেটি হযরত ইসা আ.-র কাছে আনলেন এবং বাচ্চা-গাধাটির ওপরে তাদের গায়ের চাদর পেতে দিয়ে হযরত ইসা আ.কে বসালেন। ৩৬তিনি যখন যাচ্ছিলেন, তখন লোকেরা পথের ওপর তাদের কাপড় বিছিয়ে দিচ্ছিলো।

৩৭যে-রাস্তাটি জৈতুন পাহাড় থেকে নেমে এসেছে, তিনি যখন সেই রাস্তার কাছে এলেন, তখন তাঁর সাথে যে-উম্মতেরা যাচ্ছিলেন, তারা যেসব মোজেজা দেখেছিলেন, সেগুলোর জন্য চিৎকার করে আনন্দের সাথে আল্লাহর প্রশংসা করতে করতে বলতে লাগলেন,

৩৮“শুভেচ্ছা, স্বাগতম, সেই বাদশাকে, যিনি আল্লাহর নামে আসছেন! বেহেস্তে শান্তি এবং জান্নাতুল ফেরদাউসে গৌরব ও মহিমা!” ৩৯ভিড়ের মধ্য থেকে কয়েকজন ফরিসি তাঁকে বললেন, “হুজুর, আপনার অনুসারীদের চুপ করতে বলুন।” ৪০তিনি বললেন, “আমি তোমাদের বলছি, এরা যদি চুপ করে, তাহলে পাথরগুলো চিৎকার করে উঠবে।”

৪১তিনি কাছে এসে শহরটি দেখে তার জন্য কাঁদলেন। ৪২বললেন, “যা-কিছু শান্তি আনে, আজকের দিনে তুমি, কেবল তুমিই যদি তা বুঝতে পারতে! কিন্তু এখন তা তোমার চোখ থেকে লুকোনো হয়েছে। ৪৩নিশ্চয়ই তোমার এমন সময় আসবে, যখন তোমার শত্রুরা তোমার চারদিকে দেয়াল তুলবে এবং তোমাকে ঘিরে রাখবে ও সব দিক থেকে তোমাকে চেপে ধরবে। ৪৪তারা তোমাকে গুঁড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে- তোমাকে ও তোমার ভেতরের তোমার সন্তানদের- এবং তারা তোমার একটি পাথরের ওপরে আরেকটি পাথর রাখবে না; কারণ আল্লাহর সাহায্য আসার সময়টি তুমি বোঝোনি।”

৪৫অতঃপর তিনি বায়তুল-মোকাদ্দসে ঢুকে জিনিসপত্র বিক্রেতাদের তাড়িয়ে দিতে লাগলেন। ৪৬আর তিনি বললেন, “লেখা আছে, ‘আমার ঘর হবে এবাদতের ঘর’; কিন্তু তোমরা এটাকে ডাকাতের আড্ডাখানা করে তুলেছো!” ৪৭প্রত্যেক দিন তিনি বায়তুল-মোকাদ্দসে গিয়ে শিক্ষা দিচ্ছিলেন। প্রধান ইমামেরা, আলিমরা এবং লোকদের নেতারা তাঁকে হত্যা করার সুযোগ খুঁজতে লাগলেন। ৪৮কিন্তু কীভাবে তা করবেন, তার কোনো উপায় তারা খুঁজে পেলেন না। কারণ লোকেরা তাঁর প্রত্যেকটি কথা খুব মন দিয়ে শুনতো।
Facebook
WhatsApp
Telegram
Email
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৩
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৪
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৫
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৬
ইবনুল-ইনসান: রুকু – ৭
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৮
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৯
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১০
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১১
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১২
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৩
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৪
ইবনুল-ইনসান: রুকু ১৫
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৬
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৭
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৮
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৯
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২০
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২১
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২২
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২৩
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২৪