ইবনুল-ইনসান: রুকু ১৫

248621
Total
Visitors
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন
১সমস্ত কর-আদায়কারী ও গুনাহগাররা যখন তাঁর কথা শোনার জন্য তাঁর কাছে আসছিলো, ২তখন ফরিসিরা ও আলিমরা বিরক্তি প্রকাশ করে বলতে লাগলেন, “এই লোকটি গুনাহগারদের সাথে মেলামেশা ও খাওয়া-দাওয়া করে।”

৩তখন তিনি তাদের এই দৃষ্টান্ত দিলেন-

৪“মনে করো তোমাদের মধ্যে কোনো একজনের একশটি ভেড়া আছে এবং তাদের মধ্য থেকে একটি যদি হারিয়ে যায়, তাহলে কি সে নিরানব্বইটি মাঠে রেখে সেই একটিকে না পাওয়া পর্যন্ত খুঁজতে থাকে না? ৫সেটি খুঁজে পাবার পর সে খুশি হয়ে তাকে কাঁধে তুলে নেয়। ৬এবং পরে বাড়ি ফিরে গিয়ে তার বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের একত্রে ডেকে বলে, ‘আমার সাথে আনন্দ করো, কারণ আমার হারানো ভেড়াটি আমি খুঁজে পেয়েছি।’ ৭আমি আপনাদের বলছি, ঠিক সেভাবে, তওবা করার প্রয়োজন নেই, এমন নিরানব্বইজন ধার্মিকের চেয়ে বরং একজন গুনাহগার তওবা করলে বেহেস্তে আরো বেশি আনন্দ হয়।

৮অথবা এক মহিলার দশটি রূপার টাকা আছে, সে যদি তার ভেতর থেকে একটি হারিয়ে ফেলে, তাহলে বাতি জ্বেলে ঘর ঝাড় দিয়ে না পাওয়া পর্যন্ত সে কি তা সতর্কতার সাথে খুঁজতে থাকে না? ৯যখন সে তা খুঁজে পায়, তখন তার বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের একত্রে ডেকে বলে, ‘আমার সাথে আনন্দ করো, কারণ আমার হারানো টাকাটি আমি খুঁজে পেয়েছি।’ ১০আমি আপনাদের বলছি, ঠিক সেভাবে, একজন গুনাহগার তওবা করলে আল্লাহর ফেরেস্তাদের মধ্যে আনন্দ হয়।”

১১অতঃপর হযরত ইসা আ. বললেন, “এক লোকের দুই ছেলে ছিলো। ১২ছোটো ছেলেটি তার বাবাকে বললো, ‘বাবা, তোমার সম্পত্তিতে আমার যে অংশ আছে তা আমাকে দাও।’ তাতে সে তার দুই ছেলের মধ্যে তার স¤পত্তি ভাগ করে দিলো। ১৩কিছুদিন পর ছোটো ছেলেটি তার সম্পত্তি বিক্রি করে টাকাপয়সা নিয়ে দূর দেশে চলে গেলো। সেখানে সে খারাপ পথে জীবন কাটিয়ে তার সব টাকাপয়সা উড়িয়ে দিলো। ১৪যখন সে তার সবকিছু খরচ করে ফেললো, তখন সেই দেশের সব জায়গায় ভীষণ দুর্ভিক্ষ দেখা দিলো এবং সে খুব কষ্টে পড়লো। ১৫তখন সে গিয়ে সেই দেশের এক লোকের কাছে চাকরি চাইলো। লোকটি তাকে তার শূকর চরাতে মাঠে পাঠিয়ে দিলো। ১৬শূকরে যে গুড়োগাড়া খেতো, সে তাই খেয়ে পেট ভরাতে চাইতো কিন্তু কেউ তাকে কিছুই দিতো না।

১৭তার চেতনা হলে সে মনে মনে বললো, ‘আমার বাবার কতো মজুর কতো বেশি খাবার পাচ্ছে অথচ আমি এখানে না খেয়ে মরছি!

১৮আমি আমার বাবার কাছে গিয়ে বলবো, “বাবা, আমি আল্লাহ ও তোমার বিরুদ্ধে গুনাহ করেছি। ১৯তোমার ছেলে বলে পরিচয় দেবার যোগ্য আমি নই। তোমার মজুরদের মতো করে আমাকে রাখো।” ২০সুতরাং সে উঠে তার বাবার কাছে গেলো। সে দূরে থাকতেই তাকে দেখে তার বাবার খুব মমতা হলো। ২১তিনি দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু দিলেন। তখন ছেলেটি বললো, ‘বাবা, আমি আল্লাহ ও তোমার বিরুদ্ধে গুনাহ করেছি। আমি তোমার ছেলে বলে পরিচয় দেবার যোগ্য নই।’ ২২কিন্তু তার বাবা তার গোলামদের বললেন, ‘তাড়াতাড়ি করে সবচেয়ে ভালো জুব্বাটি এনে ওকে পরিয়ে দাও। ওর হাতে আংটি ও পায়ে জুতা দাও, ২৩আর মোটাসোটা বাছুরটি এনে জবাই করো। এসো, আমরা খাওয়া-দাওয়া করে আনন্দ করি। ২৪কারণ আমার এই ছেলেটি মারা গিয়েছিলো কিন্তু আবার বেঁচে উঠেছে। হারিয়ে গিয়েছিলো, পাওয়া গেছে!’ এবং তারা আমোদ-প্রমোদ করতে লাগলো।

২৫সেই সময় তার বড়ো ছেলেটি মাঠে ছিলো। বাড়ির কাছে এসে সে নাচ ও গান-বাজনার শব্দ শুনতে পেলো। ২৬সে একজন গোলামকে ডেকে জিজ্ঞেস করলো, ‘এসব কী হচ্ছে?’ ২৭সে জবাব দিলো, ‘আপনার ভাই এসেছে এবং আপনার বাবা তাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়েছেন বলে মোটাসোটা বাছুরটি জবাই করেছেন।’ ২৮তখন সে রাগ করে ভেতরে যেতে চাইলো না। তার বাবা বেরিয়ে এসে তাকে সাধাসাধি করতে লাগলো। ২৯কিন্তু সে তার বাবাকে বললো, ‘দেখো, এতো বছর ধরে আমি গোলামদের মতো তোমার কাজ করে আসছি, একবারও আমি তোমার আদেশের অবাধ্য হইনি। তবুও আমার বন্ধুদের সাথে আমোদ-প্রমোদ করার জন্য তুমি কখনো আমাকে একটি ছাগলের বাচ্চাও দাওনি। ৩০কিন্তু তোমার এই ছেলে, যে পতিতাদের পেছনে তোমার টাকাপয়সা উড়িয়ে দিয়েছে, সে যখন ফিরে এসেছে, তখন তার জন্য তুমি মোটাসোটা বাছুরটি জবাই করেছো!’ ৩১তার বাবা তাকে বললেন, ‘বাবা, তুমি তো সব সময়ই আমার সাথে সাথে আছো। আমার যা-কিছু আছে, সবই তো তোমার। ৩২আমাদের অবশ্যই খুশি হয়ে আনন্দ-উল্লাস করা উচিত। কারণ তোমার ভাই মারা গিয়েছিলো, আবার বেঁচে উঠেছে; সে হারিয়ে গিয়েছিলো, আবার তাকে পাওয়া গেছে।’”
Facebook
WhatsApp
Telegram
Email
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৩
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৪
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৫
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৬
ইবনুল-ইনসান: রুকু – ৭
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৮
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৯
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১০
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১১
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১২
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৩
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৪
ইবনুল-ইনসান: রুকু ১৫
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৬
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৭
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৮
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৯
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২০
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২১
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২২
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২৩
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২৪