করিন্থের ইমানদার-দলের কাছে লেখা পৌলের দ্বিতীয় চিঠি

রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

(১)আমি পৌল, আল্লাহর ইচ্ছায় মসিহ ইসার একজন হাওয়ারি এবং আমাদের ভাই হযরত তিমথী র., আখায়া প্রদেশের সমস্ত মুমিন ও করিন্থের ইমানদারদলের কাছে লিখছি। (২)আমাদের প্রতিপালক এবং হযরত ইসা মসিহের আল্লাহর রহমত ও শান্তি তোমাদের ওপর বর্ষিত হোক।

(৩)আমাদের হযরত ইসা মসিহের প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা হোক; যিনি দয়াময় প্রতিপালক এবং সকল সান্ত্বনার আল্লাহ, (৪)তিনি আমাদের সমস্ত দুঃখ-কষ্টে সান্ত্বনা দান করেন, যেন আমরা নিজেরা আল্লাহর কাছ থেকে যে সান্ত্বনা পাই,  সেই সান্তনা দিয়ে যারা বিভিন্ন রকম দুঃখ-কষ্টের মধ্যে রয়েছে তাদেরকেও সান্ত্বনা দিতে পারি।

(৫)মসিহের দুঃখ-ভোগ যেমন আমাদের জন্য সীমাহীন, তেমনি মসিহের মাধ্যমে আমরা যে সান্ত্বনা পাই তাও সীমাহীন।

(৬)আমরা যদি দুঃখ-কষ্ট ভোগ করি, তবে তা তোমাদের সান্ত্বনা ও নাজাতেরই জন্য; আর যদি আমরা সান্ত্বনা পাই, তবে তা তোমাদের সান্ত্বনার জন্য; যা তোমরা ধৈর্যেও সাথে আমাদের মতো একই দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে অনুভব করো, (৭)তোমাদের প্রতি আমাদের আশা অটল; কারণ আমরা জানি, তোমরা যেমন আমাদের দুঃখ-কষ্টের অংশীদার, তেমনি আমাদের সান্ত্বনারও অংশীদার।

(৮)ভাই ও বোনেরা, এশিয়ায় আমরা যে দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছিলাম, তা তোমাদের অজানা থাকুক, তা আমরা চাই না। সেখানে আমরা সম্পূর্ণরূপে দুমড়ে-মুচড়ে যাবার মতো এমন অসহ্য চাপের মধ্যে ছিলাম যে, আমরা আমাদের জীবনের আশাও ছেড়ে দিয়েছিলাম।

(৯)বস্তুত, আমাদের মনে হয়েছিলো যে, আমরা মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হচ্ছি; আর তা হয়েছিল যেনো আমরা নিজেদের ওপর ভরসা না করে, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা করি, যিনি মৃতদের জীবিত করে তোলেন।

(১০)যিনি আমাদেরকে এমন ভয়াবহ বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন তিনিই আমাদেরকে রক্ষা করবেন; আমরা তাঁর ওপর এই ভরসা রাখছি যে, আগামীতেও তিনি আমাদের উদ্ধার করবেন, (১১)আমাদের জন্য মোনাজাত করে তোমরাও আমাদেরকে সাহায্য করছো; ফলে অনেকের মোনাজাতের দ্বারা আমরা যে রহমত পেয়েছি, তার জন্য আমাদের পক্ষে অনেকেই শুকরিয়া জানাবে।

(১২)নিঃসন্দেহে, এটাই আমাদের গর্ব- আমাদের বিবেক এই সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, আমরা দুনিয়াতে সরলতা, আন্তরিকতা ও আল্লাহ-ভয়ের সাথে চলেছি, জাগতিক জ্ঞানে নয়, বরং আল্লাহর দয়া, সরলতা এবং সততাপূর্ণ আচরণ করেছি- তোমাদের সাথে আরো বেশী করেছি।

(১৩)আমরা তোমাদের কাছে এমন কিছুই লিখছি না যা তোমরা পড়তে ও বুঝতে পারবে না; এবং আশা করি এই চিঠির শেষ পর্যন্ত তোমরা তা বুঝবে। (১৪)যেমন তোমরা ইতিমধ্যেই আংশিক ভাবে আমাদের বুঝতে পারছো- যে হযরত ইসা আ. এর আগমনের দিনে আমরা হবো তোমাদের গর্ব এবং তোমরাও হবে আমাদের গর্ব।

(১৫)আর আমি এই বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম বলেই প্রথমেই তোমাদের কাছে যেতে চেয়েছিলাম, যেনো তোমরা দ্বিগুণ রহমত লাভ করতে পারো; (১৬)আমি ঠিক করেছিলাম যে, মেসিডোনিয়া যাবার পথে আমি তোমাদের সাথে দেখা করবো এবং মেসিডোনিয়া থেকে ফিরার পথে আবার তোমাদের কাছে আসবো, আর তোমরা আমার ইহুদিয়াতে যাবার ব্যবস্থা করে দেবে।

(১৭)আমি যখন এটা করতে চেয়েছিলাম, তখন কি আমি দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম? আমি কি সাধারণ মানুষের মতো পরিকল্পনা করি, যাতে একই সময়ে “হ্যাঁ, হ্যাঁ” এবং “না, না” বলতে প্রস্তুত থাকি?  (১৮)আল্লাহ যেমন নিশ্চিতভাবে বিশ^স্ত তেমনি তোমাদের কাছে আমাদের কথা কখনোই “হ্যাঁ এবং না” একসাথে ছিলো না। (১৯)সেই একান্ত প্রিয় মনোনীতজন হযরত ইসা মসিহ, যাকে আমরা- হযরত সিলভানুস র. ও হযরত তিমথিয় র. এবং আমি তোমাদের কাছে প্রচার করেছি, “হ্যাঁ এবং না” ছিলেন না; তাঁর মাঝে সব সময় “হ্যাঁ” ছিলো। (২০)কারণ তাঁর মধ্যে আল্লাহর প্রত্যেকটি ওয়াদাই “হ্যাঁ” হয়ে থাকে, এ কারণেই আমরা তাঁর মাধ্যমে “আমিন” বলে আল্ল¬াহর গৌরব প্রকাশ করি।

(২১)কিন্তু তিনিই আল্লাহ, যিনি আমাদেরকে তোমাদের সাথে মসিহে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং আমাদেরকে অভিষিক্ত করেছেন, (২২)তিনিই আমাদেও উপর তাঁর সিলমোহর দিয়েছেন এবং প্রাথমিক বায়না হিসেবে আমাদের হৃদয়ে তাঁর রুহুকে দিয়েছেন।

(২৩)কিন্তু আমি আমার প্রাণের সাক্ষী হিসেবে আল্লাহকে ডাকছি- তোমাদের রক্ষা করার জন্য আমি আবার করিন্থে আসিনি।

(২৪)তোমাদের ইমানের ব্যাপারে আমরা তোমাদের ওপর কর্তৃত্ব করি না, বরং তোমাদের আনন্দের জন্যই আমরা তোমাদের সহকর্মী; কারণ তোমারা ইমানের অটল হয়ে দাঁড়িয়ে আছো।

রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

(১) সুতরাং, আমি মনে মনে তোমাদের সাথে আরেকটি বেদনাদায়ক-সাক্ষাৎ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

(২)কেননা আমি যদি তোমাদের দুঃখ দেই, তাহলে আমাকে আনন্দ দেবার আর কে থাকে কিন্তু আমি যাকে দুঃখ দিয়েছি, সে ছাড়া? (৩)এবং এজন্যই আমি ওসব কথা লিখেছিলাম, যেন আমি যখন আসবো, তখন যাদের কাছ থেকে আমার আনন্দ পাবার কথা, তাদের কাছ থেকে আমাকে দুঃখ পেতে না হয়; কারণ আমি তোমাদের সবার বিষয়ে নিশ্চিত যে, আমার আনন্দেই তোমাদের সবার আনন্দ।

(৪)আমি নিদারুণ বেদনা ও মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তোমাদেরকে লিখেছিলাম, তোমাদেরকে  দুঃখ দেবার জন্য নয় বরং তোমরা যেন জানতে পারো যে তোমাদের প্রতি আমার মহব্বত কতো গভীর। (৫)আমি বাড়িয়ে বলছি না, কিন্তু কেউ যদি দুঃখ দিয়ে থাকে, তাহলে সে শুধু আমাকেই না, বরং কিছু ক্ষেত্রে তোমাদের সবাইকেই দিয়েছে।

(৬)অধিকাংশ লোকের মিলিত সিদ্ধান্তে নেওয়া এই শাস্তিই এই ধরণের লোকের জন্য যথেষ্ট; (৭)সুতরাং, এখন তোমরা বরং তাকে ক্ষমা করো এবং সান্ত্বনা দাও, যেন অতিরিক্ত দুঃখে সে হতাশ হয়ে না পড়ে।

(৮)তাই আমি বিশেষভাবে অনুরোধ করছি, তোমরা যে তাকে সত্যিই মহব্বত করো তা নিশ্চিতভাবে বুঝিয়ে দাও ।

(৯)সব বিষয়ে তোমরা বাধ্য কি না, তা যাচাই করে দেখার জন্যই আমি তোমাদেরকে লিখেছিলাম।

(১০)তোমরা কাউকে ক্ষমা করলে আমিও তাকে ক্ষমা করি। আর যদি আমি কাউকে, কোনো বিষয়ে ক্ষমা করে থাকি, তাহলে মসিহকে সামনে রেখে তোমাদের জন্যই তা করেছি, (১১)এবং আমরা তা করি যেওনা শয়তানের চালাকিতে পরাজিত না হই; কারণ তার ছলচাতুরী আমাদের অজানা নয়। 

(১২)আমি যখন মসিহের সুখবর প্রচারের জন্য ত্রোয়াসে গিয়েছিলাম, তখন আল্লাহর আমার জন্য একটা পথ খোলে দিয়েছিলেন; (১৩)কিন্তু আমার ভাই হযরত তীত র.কে সেখানে না পাওয়ায় আমি মনে কোন শান্তি পাইনি; সেজন্য তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি মেসিডোনিয়ায় চলে গেলাম।

(১৪)কিন্তু সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি মসিহের মাধ্যমে সব সময় আমাদেরকে বিজয় মিছিলে এগিয়ে নিয়ে চলেন এবং আমাদের মধ্যদিয়ে সব জায়গায় তাঁর জ্ঞাসের সুবাস ছড়িয়ে পড়ে। (১৫)কারণ যারা নাজাত পাচ্ছে এবং যারা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তাদের সবার মধ্যে আমরা আল্লাহর নিকট মসিহেরই সৌরভ; (১৬)তবে এক পক্ষের কাছে আমাদের সৌরভ হলো মৃত্যুর দুর্গন্ধ, আর অন্যদের কাছে আমাদের সৌরভ হলো জীবনেরই সুবাস। এই সবের জন্য কে উপযুক্ত?

(১৭)আমরা অনেকের মতো আল্লাহর কালাম নিয়ে ব্যবসা করি না; কিন্তু মসিহের পক্ষে আল্লাহর উপস্থিতিতে, আল্লাহরই প্রেরিত লোক হিসেবে আমরা আন্তরিকতার সাথে কথা বলি।

রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

(১)আমরা কি আবারও নিজেদের প্রশংসা করতে শুরু করেছি? নিশ্চয়ই অন্যদের মতো তোমাদের কাছ থেকে আমাদের কোনো প্রশংসা পত্রের প্রয়োজন নেই, আছে কি?

(২)তোমরা নিজেরাই আমাদের চিঠি, যা আমাদের হৃদয়ে লেখা রয়েছে, যা প্রত্যেকেই জানতে ও পড়তে পারে; (৩)এবং তোমরাই তা প্রমান করো, যা আমাদেও দ্বারা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা কালি দিয়ে নয়, কিন্তু জীবন্ত আল্লাহর রুহ দিয়ে লেখা, পাথর-ফলকে নয়, কিন্তু মানুষের হৃদয়-ফলকে লেখা হয়েছে।

(৪)আর মসিহের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আমাদের এরূপ দৃঢ় বিশ্বাস আছে। (৫)এটা নয় যে আমরা নিজেরাই নিজেদের গুণে কোন কিছু করতে পারার দাবী করতে পারি, তা নয়; কিন্তু আমাদের সেই যোগ্যতা আল্লাহ থেকে পাওয়া, (৬)তিনিই আমাদেরকে এক নতুন ওয়াদা-চুক্তির খাদেম হিসেবে যোগ্য করে তুলেছেন- যা লিখিত শরিয়তে নয় কিন্তু রুহের; কারণ লিখিত শরিয়ত মৃত্যু আনে, কিন্তু আল্লাহর রুহ জীবন দান করে।

(৭)পাথরে খোদাই করা মৃত্যুর সেবক যদি এমন মহিমার সংগে আসে যে, বনি-ইস্রায়েলের লোকেরা হযরত মুসা আ. এর মুখের নূরানী উজ্জলতার কারণে তাঁর মুখের দিকে তাকাতে পারে নি, যা এখন অপসারিত হয়েছে, (৮)সেই নূরানী ভাব তো লোপ পাচ্ছিলো, তা হলে আল্লাহর রুহের খাদেম আরও কতো মহিমাপূর্ণই না হবে?

(৯)কারণ যদি দোষী সাব্যস্ত করার খেদমত মহিমায় পূর্ণ হয়, তাহলে ধার্মিকতার খেদমত আরও কতো না অধিক মহিমাপূর্ণ!

(১০)বস্তুত এককালে যা মহিমাপূর্ণ ছিলো, তা আরোও মহৎ গৌরবের কারণে তার সেই গৌরব হারিয়ে ফেলেছে; (১১)কেননা যা লোপ পাচ্ছিলো তা যদি মহিমাপূর্ণ হয়, তবে যা চিরস্থায়ী তা কতোই না অধিক মহিমাপূর্ণ! (১২)অতএব, আমাদের এই রকম দৃঢ় আশা আছে বলেই আমরা দুর্দান্ত সাহসের সঙ্গে কথা বলি; (১৩)হযরত মুসা আ. এর মতো নয়, তিনি তো মুখের ওপরে আবরণ দিয়ে ঢেকে রাখতেন যেন বনি-ইস্রায়েল তাঁর মুখের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া দেখতে না পায়, (১৪)কিন্তু তাদের মন কঠিন ছিলো। প্রকৃতপক্ষে, আজ অবধি যারা পুরাতন ওয়াদানামার পাঠ শোনে, তখন সেই একই আবরণ আজ পর্যন্ত সেখানেই রয়েছে, কেবল সেই আবরণ একমাত্র মসিহেই সরানো হয়; (১৫)বস্তুত, আজ পর্যন্ত যখনই হযরত মুসা আ. এর কিতাব তেলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের মনের ওপর একটি আবরণ থাকে; (১৬)কিন্তু যখনই কেউ মসিহের দিকে ফেরে, তখন সেই আবরণ সরে যায়।

(১৭)এখন মসিহই আল্লাহর রুহ; এবং যেখানে আল্লাহর রুহ, সেখানেই স্বাধীনতা। (১৮)আর আমরা সবাই, অনাবৃত মুখে, আয়নায় প্রতিফলিত মসিহের মহিমা দেখতে পাই, আমরা তাঁরই প্রতিচ্ছবিতে ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া মহিমায় রূপান্তরিত হই, কারণ এটি আল্লাহর রুহ থেকে আসে।

রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

(১) অতএব, আল্লাহর দয়াতেই আমরা এই খেদমতের কাজে নিযুক্ত হয়েছি, তাই আমরা কখনো মনোবল হারাই না।

(২)যে সব লজ্জাজনক বিষয় মানুষ গোপন করে, সেগুলো আমরা ত্যাগ করেছি; আমরা প্রতারণার আশ্রয় নিই না বা আল্লাহর কালামকে প্রমাণ করার চেষ্টাা করি না; বরং খোলাখুলিভাবে সত্য প্রকাশ করে আল্লাহর সামনে প্রত্যেকের বিবেকের কাছে নিজেদেরকে যোগ্য করে তুলি। (৩)এবং যদি আমাদের সুখবর কারো কাছে ঢাকানো থেকে থাকে, তবে তা তাদেরই কাছে ঢাকানো থাকে, যারা ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে।

(৪)ওই সব মানুষ যারা অবিশ্বাসী, এই দুনিয়ার দেবতা তাদের হৃদয় অন্ধ করে দিয়েছে, যেন তারা মসিহ, যিনি আল্লাহর প্রতিচ্ছবি, তাঁর মহিমার সুখবরের আলো দেখতে না পায়।

(৫)কারণ, আমরা নিজেদের প্রচার করি না; বরং হযরত ইসা মসিহকে মুনিব বলে প্রচার করি এবং তাঁর জন্যই নিজেদেরকে তোমাদের খাদেম হিসেবে প্রচার করি।

(৬)কারণ আল্লাহই বলেছিলেন, “অন্ধকারের মধ্য থেকে আলো জ্বলুক,” “আলোকিত হোক”, তিনিই আমাদের হৃদয়ে আলো জ্বেলে দিয়েছেন, যেন হযরত ইসা মসিহের মুখে আল্লাহর মহিমার জ্ঞানের আলো জ্বলে উঠে।

(৭)কিন্তু আমরা এই অমূল্য রত্ন মাটির পাত্রে ধারণ করেছি, যেন সেই অসাধারণ শক্তি আমাদের কাছ থেকে নয় বরং আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।

(৮)আমরা সবদিক দিয়েই দুঃখ-কষ্ট পাই তবুও ভেঙ্গে পড়ি না; হতাশ হই তবুও নিরাশ হই না;  (৯)নির্যাতিত হই তবুও পরিত্যক্ত হই না; আঘাত পাই তবুও ধ্বংস হই না; (১০)আমরা সব সময় আমাদের শরীরে হযরত ইসা আ. এর মৃত্যু বয়ে বেড়াচ্ছি, যেন আমাদের শরীরে হযরত ইসা আ. এর জীবন প্রকাশিত হয়।

(১১)কারণ আমরা যারা জীবিত, প্রতি মুহূর্তে হযরত ইসা আ. এর জন্য মৃত্যু মুখে সমর্পিত হচ্ছি, যেনো আমাদের মরণশীল শরীরে হযরত ইসা আ. এর জীবনও প্রকাশিত হয়। (১২)তাই আমাদের মাঝে মৃত্যু কিন্তু তোমাদের মাঝে জীবন কাজ করছে।

(১৩)কিন্তু যেহেতু আমাদের মধ্যে সেই একই ইমানের রুহ আছে, আসমানি কিতাবে লেখা রয়েছে, “আমি ইমান এনেছি তাই কথা বলেছি।” আমরাও ইমান এনেছি তাই কথা বলি, (১৪)কারণ আমরা জানি, যিনি হযরত ইসা আ.কে জীবিত করেছেন, তিনি আমাদেরও হযরত ইসা আ. এর সংগে জীবিত করবেন এবং তোমাদের সংগে আমাদেরও তাঁর সামনে উপস্তিত করবেন।

(১৫)আসলে, সবকিছু তোমাদেরই কল্যাণের জন্য হয়েছে, যেন আল্লাহর দয়া অনেক অনেক লোকের ওপর ছড়িয়ে পড়ে এবং আল্লাহর মহিমার উদ্দেশে আরো অধিক শুকরিয়া আদায়ের কারণ হয়ে ওঠে।

(১৬)এজন্যই আমরা মনোবল হারাই না; যদিও আমাদের বাইরের শরীর ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে, তবুও আমাদের ভেতরের স্বভাব বা চরিত্র দিনে দিনে নতুন হয়ে উঠছে।

(১৭)ক্ষণিকের এই সামান্য দুঃখ-কষ্ট আমাদেরকে অনন্তকালীন মহিমার জন্য প্রস্তুত করছে যা পরিমাপ করা যায় না, (১৮)কারণ যা দেখা যায় তার প্রতি নয় বরং যা দেখা যায় না তার প্রতিই আমরা লক্ষ রাখি; কেননা যা দেখা যায় তা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু যা দেখা যায় না তা অনন্তকালস্থায়ী।

রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

(১) কারণ আমরা জানি যে, যদি এই জাগতিক তাঁবু, যার মধ্যে আমরা বসবাস করি, তা যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে আমাদের জন্য আল্লাহর দেওয়া একটি বাড়ি আছে, যা মানুষের হাতে তৈরি নয়, তা অনন্তকাল স্থায়ী বেহেস্তে অবস্থিত,

(২)আমাদের বেহেস্তি পোশাক-পরার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় আমরা এই তাঁবুর মধ্যে আর্তনাদ করছি; (৩)যদি সত্যিই আমরা তা পরিধান করি, তা হলে আমদের তো আর উলঙ্গ দেখাা যাবে না।

(৪)কারণ আমরা যতক্ষণ এই তাঁবুতে আছি, আমরা আর্তনাদ করি ও ভারগ্রস্ত হই, কারণ আমরা পোশাকহীন হতে চাই না বরং তা থেকে আরো দুরে থাকতে চাই, যেনো যাকিছু মরণশীল তা জীবনের দ্বারা আবৃত হয়।

(৫)যিনি আমাদেরকে এর জন্যই প্রস্তুত করেছেন তিনি আল্লাহ, এর নিশ্চয়তা হিসেবে তিনি আমাদেরকে তাঁর রুহ দিয়েছেন।

(৬)অতএব আমরা সবসময় আত্মবিশ্বাসী; যদিও আমরা জানি যে, যতদিন আমরা দেহঘরে বাস করছি, ততদিন আমরা মুনিবের কাছ থেকে দূরে আছি; (৭)কেননা আমরা ইমান দ্বারা চলি, বাহ্যিক দেখায় নয়, (৮)হ্যাঁ, আমাদের সাহস আছে এবং শরীর থেকে দূর হয়ে মুনিবের সংগে বাস করতে চাই। (৯)সুতরাং আমরা দেহঘরে বাস করি বা না করি, তাঁকে সন্তুষ্ট করাই আমাদের লক্ষ্য।

(১০)কারণ আমাদের সকলকেই হযরত ইসা মসিহের বিচার-আসনের সামনে হাজির হতে হবে, যেনো শরীরে থাকাকালীন সময়ে ভালো কাজ হোক কি মন্দ কাজ হোক, প্রত্যেকে তার প্রতিদান পায়।

(১১)অতএব, আল্লাহ ভয় কি, তা আমরা জানি বলে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছি; কিন্তু আমরা নিজেরাই আল্লাহর কাছে সুপরিচিত এবং আমি আশা করি তোমাদের বিবেকের কাছেও আমরা সুপরিচিত।

(১২)আমরা আবার তোমাদের কাছে নিজেদের প্রশংসা করছি না, কিন্তু তোমরা যেন আমাদেরকে নিয়ে গর্ব করতে পারো তার জন্য সুযোগ দিচ্ছি, যারা হৃদয়ে নয় কিন্তু বাহ্যিক বিষয় নিয়ে গর্ব করে, তোমরা যেনো তাদেরকে উত্তর দিতে পারো।

(১৩)কারণ আমরা যদি পাগল হয়ে থাকি, তবে তা আল্লাহর জন্য; এবং যদি স্বাভাবিক মনে থাকি তবে তা তোমাদের জন্য।

(১৪)কারণ হযরত ইসা মসিহের মহব্বত আমাদের বশে রেখে চালাচ্ছে; কেননা আমরা নিশ্চিত যে, একজন সবার জন্য মৃত্যুবরণ করলেন অতএব সবাই মৃত্যুবরণ করল।

(১৫)আর তিনি সকলের জন্য মৃত্যুবরণ করলেন, যেনো যারা বেঁচে আছে তারা আর নিজেদের জন্য নয়, কিন্তু যিনি তাদের জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন ও পুনরুত্থিত হয়েছেন তাঁর জন্যই জীবনযাপন করে।

(১৬)তাই এখন থেকে আমরা কাউকেই জাগতিক দৃষ্টিভঙ্গী অনুসারে বিবেচনা করি না; যদিও এক সময়ে জাগতিক দৃষ্টিভঙ্গী অনুসারে আমরা মসিহকে জানতাম, কিন্তু আমরা তাঁকে আর সেইভাবে জানি না।

(১৭)সুতরাং কেউ যদি মসিহের মধ্যে থাকে, তবে সে এক নতুন সৃষ্টি; তার পুরানো সবকিছু অতীত হয়ে গেছে; দেখ, সবকিছু নতুন হয়ে উঠেছে!

(১৮)আর সমস্ত কিছুই আল্লাহর কাছ থেকে হয়েছে, যিনি মসিহের মাধ্যমে তাঁর সংগে আমাদেরকে পূনর্মিলন করেছেন এবং অন্যদেরকে পূনর্মিলন করানোর দায়িত্ব আমাদেরকে দিয়েছেন; (১৯)এর অর্থ হলো, আল্লাহ মসিহের মাধ্যমে নিজের সংগে দুনিয়ার পূনর্মিলন করছিলেন, তাদের অপরাধ তাদের বিরুদ্ধে গণ্য করলেন না এবং সেই পূনর্মিলনের খবর জানাবার দায়িত্ব আমাদের ওপর ন্যস্ত করলেন।

(২০)সুতরাং আমরা মসিহের দূত; আল্লাহ নিজেই যেন আমাদের মাধ্যমেই নিবেদন করছেন; আমরা মসিহের পক্ষে এই মিনতি করছি, তোমরা আল্লাহর সাথে সম্মিলিত হও।

(২১)যিনি গুনাহ করেননি, তাঁকে তিনি আমাদের জন্য গুনাহগার হিসেবে গণ্য করলেন, যেনো আমরা হযরত ইসা মসিহের মাধ্যমে আল্লাহর ধার্মিকতায় পরিনত হই।

রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

(১)যেহেতু আমরা তাঁর সহকর্মী সেজন্য তোমাদের কাছে অনুরোধ করছি যে, তোমরা আল্লাহর রহমত নিষ্ফল হতে দিও না, (২)কারণ তিনি বলেন, “আমি উপযুক্ত সময়ে তোমার কথা শুনেছি, এবং নাজাতের দিনে আমি তোমাকে সাহায্য করেছি।” দেখো, এখন উপযুক্ত সময়; দেখো, এখন নাজাত পাবার দিন!

(৩)আমরা কারো পথে কোনো বাধার সৃষ্টি করি না, যাতে আমাদের খেদমতের কাজে কোনো দোষ পাওয়া না যায়,

(৪)কিন্তু আল্লাহর খাদেম হিসেবে সকল বিষয়ে আমরা নিজেদেরকে যোগ্য প্রমাণ করেছি, অসীম ধৈর্যে, দুঃখ-কষ্টে, অভাব-অনটনে, দুর্যোগে, (৫)প্রহারে, কারাবাসে, দাঙ্গা-হাঙ্গামায়, পরিশ্রমে, অনিদ্রায়, অনাহারে; (৬)বিশুদ্ধতায়, জ্ঞানে, সহ্যগুণে, দয়ায়, রুহের পবিত্রতায়, অকৃত্রিম ভালোবাসায়, (৭)সত্যের কালামে এবং আল্লাহর শক্তিতে; ডান হাত ও বাম হাতে ধার্মিকতার হাতিয়ার নিয়ে; (৮)সম্মান ও অসম্মানে, দুর্নাম ও সুনামে। আমাদেরকে ভন্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবুও আমরা সত্যবাদী; (৯)আমরা অপরিচিতের মতো, তবুও সুপরিচিত; মৃতের মতো, অথচ দেখো-আমরা বেঁচে আছি; শাস্তিপ্রাপ্ত, নিহত নই; (১০)দুঃখিত, তবুও সর্বদা আনন্দিত; গরিবের মতো, তবুও অনেককে ধনী করে তুলেছি; আমাদের যেন কিছুই নাই, তবুও সবকিছুর অধিকারী।

(১১)হে করিন্থবাসী, তোমাদের কাছে আমরা খোলাখুলিভাবেই কথা বলেছি; আমাদের হৃদয় তোমাদের জন্য উম্মুক্ত। (১২)তোমাদের জন্যে আমাদের মমতার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, কেবল তোমাদের মমতার মধ্যে সীমাবদ্ধতা। (১৩)তবুও আমি সন্তানের মতো তোমাদের বলছি- তোমরা তোমাদের হৃদয় প্রশস্ত করো।

(১৪)তোমরা অ-ইমানদারদের সংগে অসমভাবে জোয়ালে আবদ্ধ হয়ো না; কারণ ধার্মিকতার সংগে অধার্মিকতার কী সম্পর্ক আছে? আলোর সংগে অন্ধকারের কি সম্পর্ক আছে? (১৫)মসিহের সংগে বলীয়ালের কী মিল আছে? অথবা একজন অ-ইমানদারদের সংগে ইমানদারদেরই বা কী মিল আছে?

(১৬)প্রতিমার সংগে আল্লাহর ঘরের কী সমঝোতা আছে? কারণ আমরা তো জীবন্ত আল্লাহর ঘর; যেমন আল্লাহ বলেছেন, “আমি তাদের মধ্যে বাস করবো ও তাদেরই সংগে চলাফেরা করবো; এবং আমি তাদের আল্লাহ হবো ও তারা আমার লোক হবে। 

(১৭)তাই তোমরা তাদের মধ্য থেকে বের হয়ে এসো ও আলাদা হয়ে থাকো, আল্লাহ বলেছেন, নাপাক জিনিস ছুঁইও না; তখন আমি তোমাদের গ্রহণ করবো, (১৮)আর আমি তোমাদের প্রতিপালক হবো এবং আর তোমরা আমার সান্নিধ্যপ্রাপ্ত হবে, একথা সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন।”

রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

(১)প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এসব ওয়াদাগুলো যখন আমাদেরই জন্য, তখন এসো, আমরা দেহ-মনের সমস্ত নোংরামি থেকে নিজেদেরকে পাক-সাফ করি এবং আল্লাহকে ভয় করে সম্পূর্ণ পবিত্র হয়ে উঠি।

(২)তোমাদের হৃদয়ে আমাদেরকে স্থান দাও; আমরা তো কারো ওপর অন্যায় করিনি, ক্ষতি করিনি এবং কারো কাছ থেকে সুযোগ নেইনি।

(৩)আমি তোমাদের দোষী করার জন্য একথা বলছি না; কেননা আমি আগেই বলেছি, তোমরা আমার হৃদয়ে রয়েছো; যেনো আমরা একসাথে মরি এবং একসাথে বাঁচি।

(৪)তোমাদের নিয়ে আমি প্রায়ই অহংকার করি; তোমাদের নিয়ে আমি খুবই গর্বিত; আমার সান্ত্বনার অভাব নেই; আমাদের সমস্ত দুঃখ-কষ্টের মাঝে আমাদের আনন্দ সীমাহীন।

(৫)এমনকি মেসিডোনিয়ায় পৌঁছেও আমাদের শরীর বিশ্রাম পায়নি; বরং সবখানেই আমরা কষ্ট পেয়েছি – বাইরে ছিলো বিবাদ আর ভেতরে ছিলো ভয়।

(৬)কিন্তু আল্লাহ, যিনি হতাশাগ্রস্ত মানুষকে সান্ত্বনা দেন, তিনিই হযরত তিত র. এর আসার মধ্য দিয়ে আমাদের সান্ত্বনা দিলেন, (৭)শুধু তাঁর আগমনের জন্য নয় বরং তোমরা তাকে সান্ত্বনা দিয়েছো জেনেও আমরা সান্ত্বনা পেয়েছি; আমার জন্য তোমাদের আকুল আকাঙ্ক্ষা, শোক পালন ও দৃঢ় সমর্থনের কথা তিনি আমাকে জানিয়েছে; আর তাতে আমি আরো আনন্দিত হয়েছি। 

(৮)যদিও আমি আমার চিঠির দ্বারা তোমাদের দুঃখ দিয়েছিলাম, তবুও সেজন্য আমার কোনো দুঃখ নেই- (যদিও আমি দুঃখীত ছিলাম- কারণ আমি বুঝতে পারছিলাম যে, ওই চিঠি দিয়ে অল্প সময়ের জন্য হলেও আমি তোমাদের দুঃখ দিয়েছি)।

(৯)কিন্তু এখন আমি আনন্দিত; তোমরা দুঃখ পেয়েছিলে বলে নয় বরং দুঃখ পেয়ে তোমরা তওবা করেছো বলে; আল্লাহর ইচ্ছাতেই তোমরা ওই দুঃখ পেয়েছিলে, যাতে আমাদের দ্বারা তোমাদের কোনো ক্ষতি হয়নি।

(১০)আল্লাহর দেওয়া দুঃখ এমন তওবার চেতনা দেয় যা নাজাতের দিকে নিয়ে এবং তাতে দুঃখ করার কিছুই থাকে না কিন্তু দুনিয়ার দেওয়া দুঃখ মৃত্যুও জন্ম দেয়।

(১১)ভেবে দেখো, আল্লাহর দেওয়া দুঃখ তোমাদের মধ্যে কতোটা আন্তরিকতা; নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য তোমরা কতো আগ্রহী হয়ে উঠেছো; অন্যায়ের বিরুদ্ধে তোমরা কতো ক্ষুব্ধ, কতো উদ্বিগ্ন, তোমরা কতো আকুল, কতো উদ্যোগী, অন্যায়কারীকে শাস্তি দিতে কতো তৎপর! প্রতিটি ক্ষেত্রেই তোমরা নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করেছো।

(১২)সুতরাং, যদিও আমি তোমাদেরকে লিখেছিলাম, তবে তা যে অন্যায় করেছে বা যার ওপর অন্যায় করা হয়েছে, তার জন্য নয় বরং আমাদের জন্য তোমাদের যে আকুলতা, আল্লাহর সামনে তা যেন তোমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারো, সেজন্যই লিখেছিলাম।

(১৩)এর মাঝেই আমরা সান্ত্বনা পেয়েছি। সেই সান্ত্বনার সংগে হযরত তিত র. এর আনন্দ দেখে আমরা আরো বেশি আনন্দিত হয়েছি, কারণ তোমরা সবাই সত্যই তার প্রাণ জুড়িয়ে দিয়েছ।

(১৪)কারণ আমি যদি তোমাদের নিয়ে তার কাছে কোনো বিষয়ে গর্ব করে থাকি তাহলে সেজন্য আমাকে লজ্জায় পড়তে হয়নি; বরং তোমাদের কাছে আমরা যাকিছু বলেছি তার সবই যেমন সত্য ছিলো তেমনি হযরত তিত র. এর কাছে আমাদের গর্বও সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। (১৫)এবং তোমরা সবাই তার প্রতি যে বাধ্যতা দেখিয়েছো, যেভাবে অকৃত্রিম সম্মানের সাথে তাঁকে গ্রহণ করেছো এবং তা স্মরণ করে তোমাদের প্রতি তার ভালোবাসা আরো বেড়ে গেছে।

(১৬)আমি আনন্দিত, কারণ তোমাদের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে।

রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

(১)ভাই ও বোনেরা, মেসিডোনিয়ার ইমানদার-দলগুলো আল্লাহর কাছ থেকে যে রহমত পেয়েছে, সেই বিষয়ে আমরা তোমাদেরকে জানাতে চাই; (২)কারণ দুঃখ-কষ্টের সময়ে তাদের প্রচুর আনন্দ এবং চরম অভাবের সময়ে তাদের দানশীলতায় ধন-সম্পদে উপচে পড়েছিলো।  এমন নিদারুণ অগ্নি-পরীক্ষার মধ্যেও তাদের আনন্দ এমনভাবে উথলে উঠেছে যে, সীমাহীন অভাবের মাঝেও তারা খোলা হাতে দান করেছে।

(৩)আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তারা সেচ্ছায় নিজেদের সাধ্যমতো, এমনকি সাধ্যের অতিরিক্তও দান করেছে, (৪)মুমিনদের খেদমত করার এই সুযোগ পাবার জন্য তারা আমাদের কাছে আন্তরিক ভাবে অনুরোধ করেছিলো- (৫)আর আমরা যেমন আশা করেছিলাম, সেভাবে নয়; প্রথমে তারা নিজেদেরকে আল্লাহর হাতে এবং পরে আল্ল¬াহর ইচ্ছামতো আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে, (৬)তাই আমরা হযরত তিত র.কে অনুরোধ করলাম, যেনো তিনি আগে এই কাজ শুরু করেছেন, তেমনি এখন তোমাদের মধ্যে এই দানের কাজ সম্পন্ন করেন।

(৭)তোমরা যেমন সবকিছুতেই শ্রেষ্ট- ইমানে, বক্তৃতায়, জ্ঞানে, পরিপূর্ণ আগ্রহে এবং আমাদের প্রতি মহব্বতে- তেমনি তোমরা যেনো এই দান ও উদারতার কাজে শ্রেষ্ঠ হও, এটাই আমাদের চাওয়া।  

(৮)একথা আমি আদেশ হিসেবে নয় বরং অন্যদের আন্তরিকতার সংগে তুলনা করে তোমাদের মহব্বত কতোখানি খাঁটি তা যাচাই করে দেখার জন্যই বলছি।

(৯)তোমরা তো আমাদের হযরত ইসা মসিহের উদারতার কাজের কথা জানো, নিজে ধনী হয়েও তিনি তোমাদের জন্য গরিব হলেন, যেন তাঁর গরিব হওয়ার মধ্য দিয়ে তোমরা ধনী হতে পারো। (১০)এবং এই ব্যাপারে আমি আমার পরামর্শ দিচ্ছি, এতে তোমরা উপকৃত হবে- গত বছর তোমরা যে কেবল কিছু করতে শুরু করেছিলে তা নয় বরং কিছু করার জন্য সিদ্ধান্তও নিয়েছিলে।

(১১)এখন সেই কাজ শেষ করো; সিদ্ধান্ত নেবার ব্যাপারে তোমাদের যে আগ্রহ ছিলো, সেই একই আগ্রহ নিয়ে তোমরা তোমাদের সাধ্যমতো কাজটি সমাপ্ত করো।

(১২)কারণ দেবার আগ্রহ যদি থাকে, তাহলে যার যা আছে, সেই হিসেবেই তার দান কবুল হয়, যার যা নেই, সেই হিসেবে নয়।

(১৩)আমি চাই না যে, অন্যদের অভাব ঘোচাতে গিয়ে তোমরা কষ্টে পড়ো বরং এক্ষেত্রে একটা ভারসাম্য থাকাই ভালো।

(১৪)এখন তোমাদের বাড়তি সম্পদে ওদের অভাব মিটুক, যাতে ওদের বাড়তি সম্পদ একদিন তোমাদের অভাব মেটাতে পারে; যাতে ন্যায্য ভারসাম্য থাকে।

(১৫)আসমানি কিতাবে লেখা আছে, “যার অনেক ছিলো, তার কিছুই অতিরিক্ত হলো না আর যার সামান্য ছিলো, তারও অভাব হলো না।”

(১৬)তোমাদের জন্য আমার হৃদয়ে যে আগ্রহ আছে, সেই একই আগ্রহ আল্লাহ হযরত তিত র. এর হৃদয়েও জাগিয়ে তুলেছেন, আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি।

(১৭)কারণ তিনি যে কেবল আমাদের অনুরোধ রেখেছে তা-ই নয়, বরং গভীর আগ্রহী হয়ে নিজের ইচ্ছায় সে তোমাদের কাজে যাচ্ছেন।

(১৮)আমরা তার সংগে আরো এক ভাইকে পাঠাচ্ছি, যিনি সমস্ত ইমানদার দলের কাছে সুখবর প্রচারের জন্য বিখ্যাত; (১৯)শুধু তাই নয়, আল্লাহর মহিমা প্রকাশ ও আমাদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে আমরা যে মহৎ দানের ব্যবস্থা করছি, সেই কাজে আমাদের সফরসঙ্গী হিসেবে ইমানদার-দলগুলো তাকে মনোনীত করেছে।

(২০)আমরা চাই, এই যে উদার দানের ব্যবস্থা করার জন্য কেউ যেনো আমাদের কাজের জন্য কেউ দোষারোপ করতে না পারে, (২১)কারণ কেবল আল্লাহর দৃষ্টিতে নয় বরং মানুষের দৃষ্টিতেও যা কিছু সঠিক তা করতে চাই।

(২২)তাদের সংগে আমরা আমাদের সেই ভাইকে পাঠাচ্ছি, যাকে আমরা অনেকবার পরীক্ষা করে দেখেছি, অনেক বিষয়ে বিষয়ে আগ্রহী বলে মনে করেছি. কিন্তু তোমাদের ওপর তার গভীর বিশ্বাসের কারণে সে এখন সে এখন আগের চেয়ে আরো বেশি আগ্রহী।

(২৩)হযরত তিত র. এর ব্যাপারে আমার কথা হলো- তোমাদের খেদমতের ব্যপারে সে আমার সহকর্মী, এবং অন্য ভাইদের ব্যাপারে আমার কথা হলো- তারা ইমানদার-দলগুলোর সংবাদবাহক এবং মসিহেরই গৌরব।

(২৪)সুতরাং, প্রকাশ্যে ইমানদার-দলগুলোর সামনে তোমাদের মহব্বত ও তোমাদেরকে নিয়ে আমাদের গর্বের মহব্বতের প্রমাণ তুলে ধরো।

রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

(১)এখন মুমিনদের সেবা করার বিষয়ে তোমাদেরকে আমার লেখার প্রয়োজন নেই, (২)কারণ আমি তোমাদের আগ্রহ জানি এবং আমি মেসিডোনিয়ার লোকদের কাছে বিষয়ে গর্ব করে বলেছি যে, গত বছর থেকে আখায়ার লোকেরা প্রস্তুত হয়ে রয়েছে; আর তোমাদের উৎসাহ তাদের অধিকাংশ লোককে উৎসাহিত করেছে।

(৩)তবে আমি ভাইদেরকে পাঠাচ্ছি, যাতে তোমাদের নিয়ে আমাদের যে গর্ব তা এই বিষয়েও নিষ্ফল না হয়, আর আমি যেমন বলেছি, সেভাবে তোমরা প্রস্তুত থাকো; (৪)তা না হলে, মেসিডোনিয়ার কোন লোক আমার সাথে এসে যদি দেখে যে, তোমরা প্রস্তুত নও, তাহলে এই কাজে আমরা অপমানিত হবো। এবিষয়ে তোমাদেরকে আমাদের আর কিছু বলার নেই।

(৫)সেইজন্য আমি ভাইদের এই অনুরোধ করা প্রয়োজন মনে করলাম, যেনো তাঁরা আমার আগে তোমাদের কাছে যান এবং তোমরা যে দানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছো, তা আগে থেকে ব্যবস্থা করে রাখেন, যাতে তা স্বেচ্ছাকৃত দান হিসেবে প্রস্তুত থাকে, জোর করে আদায় করা নয়।

(৬)মূল বিষয়টি এই: যে অল্প পরিমাণে বীজ বুনে সে অল্প পরিমাণে কাটবে, আর যে প্রচুর পরিমাণে বীজ বুনে সে প্রচুর পরিমাণে কাটবে।

(৭)প্রত্যেকে তার মনে যা দেওয়ার নিয়ত করেছে, সে তাই দান করুক, অনিচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে নয়, কারণ আল্লাহ একজন খুশীমনে দানকারীকে ভালোবাসেন করেন।

(৮)আর আল্লাহ তোমাদেরকে প্রচুর পরিমাণে সকল প্রকার রহমত দান করতে সক্ষম; যাতে সকল বিষয়ে, সব সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ থাকে, তোমরা সব রকমের ভালো কাজে প্রচুর পরিমাণে অংশগ্রহন করতে পারো। (৯)যেমন লেখা আছে, “সে বিলিয়ে দিয়েছে, দরিদ্রদের দান করেছে, তার ধার্মিকতা চিরকাল স্থায়ী।”

(১০)যিনি বপনকারীকে বীজ এবং খাবারের জন্য রুটি যুগিয়ে থাকেন তিনি বপন করার জন্য তোমাদের বীজ যোগাবেন ও পরিমাণ বাড়িয়ে দেবেন, আর তোমাদের ধার্মিকতার ফসল বৃদ্ধি করবেন।

(১১)তোমার সব দিক দিয়ে সমৃদ্ধ হবে, যেনো তোমরা সব সময় উদার হতে পারো; আর সেই দানশীলতা আমাদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে; (১২)কারণ এই খেদমতের কাজের মাধ্যমে কেবল মুমিনদের চাহিদা পূরণ করছে তা নয়; বরং আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া উপচে পড়ছে।

(১৩)এই খেদমত কাজের প্রমানের মাধ্যমে তারা আল্লাহর গৌরব করবেন, কারণ তোমরা মসিহের সুখবরের প্রতি তোমাদের স্বীকৃত আনুগত্য প্রকাশ করেছো, এবং তাদের প্রতি ও অন্য সবার প্রতি তোমাদের উদার দানশীলতা, (১৪)আর আল্লাহর তোমাদের প্রতি যে অসাধারণ দয়া করেছেন কার কারণে তারা তোমাদের জন্য দোয়া করেন। (১৫)আল্লাহর অবর্ণনীয় দানের জন্য তাঁকে শুকরিয়া জানাই!

রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

(১) আমি পৌল, মসিহের নম্রতা ও কোমলতার মাধ্যমে তোমাদেরকে অনুরোধ করছি। তোমাদের মাঝে থাকার সময় আমি নম্র হয়ে থাকি কিন্তু দূরে থাকলে তোমাদের প্রতি কঠোর হই!– (২)আমার অনুরোধ যারা মনে করে যে, আমরা সাধারণ মানুষের মতো জীবন কাটাচ্ছি, আমি আসার পর তাদের বিরুদ্ধে যেন আমাকে কঠোর হতে না হয়। আমি চাই যখন আমি তোমাদের তাছে থাকবো তখন যেনো সাহস দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে না হয়, যারা মনে করে যে আমরা শুধু মানুষের মতো ব্যবহার করছি।

(৩)নিশ্চয়ই আমরা মানুষ, মানুষের মতো জীবন-যাপন করি, কিন্তু আমরা মানুষের নিয়মে যুদ্ধ করি না;  তবুও আমরা যে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি, তা কোনো মানুষের সংগ্রাম নয়।

(৪)আমাদের যুদ্ধের অস্ত্রগুলো মানবীয় অস্ত্র নয় বরং সেগুলো আল্লাহর শক্তিতে বলিয়ান বলে দূর্গ ধ্বংস করতে পারে। আমরা তর্ক-বিতর্ক ধ্বংস করি (৫)এবং আল্লাহকে জানার পথে মাথা তুলে দাঁড়ানো প্রত্যেক বাধাকে ধ্বংস করি; আর প্রত্যেকটি চিন্তাকে বন্দি করে মসিহের হুকুম পালনে নিয়ে আসি।

(৬)তোমরা সম্পূর্ণরূপে বাধ্য হওয়ার পর প্রত্যেকটি অবাধ্যতার শাস্তি দেবার জন্য আমরা প্রস্তুত। যখন তোমাদের বাধ্যতা পূর্ণ হবে তখন সমস্ত অবাধ্যতার শাস্তি দিতে আমরা প্রস্তুত আছি।

(৭)তোমাদের চোখের সামনে যা আছে তার দিকে তাকিয়ে দেখো, তোমাদের যদি দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, তোমরা মসিহের লোক, তাহলে তোমরা একথাও মনে রেখো যে, তোমাদের মতো আমরাও মসিহের লোক।

(৮)এখন আমি যদি আমাদের কর্তৃত্ব নিয়ে যদি আমি কিছুটা বেশিই গর্ব করে থাকি, সেই গর্ব তোমাদের উন্নতির জন্য আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন, ধ্বংসের জন্য নয়, তবে সেজন্য আমি লজ্জিত হবো না।

(৯)আমি চিঠিপত্রের মাধ্যমে তোমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছি- তোমরা এমনটি ভাবো, আমি তা চাই না।

(১০)কারণ বলে, “তার চিঠিগুলো ভারী এবং শক্তিশালী কিন্তু শারীরিক উপস্তিতি দুর্বল মনে হয় এবং তার কথাবার্তাগুলো মূল্যহীন।”

(১১)এরকম লোকদের বোঝা দরকার যে, অনুপস্থিত থেকে চিঠির মাধ্যমে আমরা যা বলছি, উপস্থিত হলে আমরা ঠিক তা-ই করবো।

(১২)যারা নিজেদের প্রশংসা করে, তাদের কারো সাথে আমরা নিজেদেও তুলনা করতে সাহস করি না, কিন্তু যখন তারা একে অপরের সাথে নিজেওে পরিমাপ করে এবং একে অপরের সাথে নিজেদের তুলনা করে তখন তারা সুবুদ্ধিও পরিচয় দেয় না।     

(১৩)কিন্তু আমরা সীমা-ছাড়া গর্ব করবো না, বরং আল্লাহ আমাদের কাজের যে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তার মধ্যেই থাকবো, এমনকি আমরা যাতে তোমাদের কাছেও পৌছাতে পারি। 

(১৪)সুতরাং, আমরা যখন তোমাদের কাছে পৌঁছেছি, তখন তো আমরা আমাদের সীমার বাইরে পা বাড়াচ্ছি না; তোমাদের কাছে আমরাই প্রথম হযরত ইসা মসিহের সুখবর প্রচার করতে গিয়েছিলাম।

(১৫)আমরা সীমা অতিক্রম করে অন্যেদের কাজ নিয়ে গর্ব করি না; আমরা আশা করি যে, তোমাদের ইমান বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথে তোমাদের মাঝে আমাদেও কাজের সীমাও বৃদ্ধি পাবে, (১৬)ফলে অন্য কারো কর্মক্ষেত্রে ইতোমধ্যে যাকিছু করা হয়েছে তার মধ্যে না গিয়ে, তাদেও কাজ নিয়ে গর্ব না করে, আমরা বরং তোমাদের এলাকার বাইরেও সুখবর প্রচার করতে পারি। (১৭)তবে “যে গর্ব করে, সে আল্লাহকে নিয়েই গর্ব করুক।”

(১৮)কারণ যারা নিজের প্রশংসা করে তারা গ্রহনযোগ্য নয়, বরং আল্লাহ যাদের প্রশংসা করেন, তারাই গ্রহনযোগ্য।

রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

(১)আমি চাই, তোমরা আমার একটুখানি বোকামি সহ্য করো; অবশ্য তোমরা তো সহ্য করছো।

(২)আমি তোমাদের জন্য আমার এক রুহানী ঈর্ষা বোধ করছি, কারণ আমি তোমাদেরকে একজন স্বামীর সাথে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছি, যেনো আমি তোমাদেরকে মসিহের কাছে পবিত্র কুমারী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারি।

(৩)কিন্তু আমার ভয় হচ্ছে যে, সাপ যেভাবে হযরত হাওয়া আ. প্রতারিত করেছিলো, সেভাবে তোমাদের চিন্তা-ভাবনা মসিহের প্রতি অকৃত্রিম ও আন্তরিক ভক্তি থেকে বিপথে নিয়ে যাবে।

(৪)কারণ আমরা যে হযরত ইসা আ. এর কথা প্রচার করেছি, কেউ যদি এসে তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো ইসার কথা প্রচার করে, কিংবা তোমরা যে আল্লাহর রুহকে পেয়েছো, তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো রুহকে যদি তোমরা পাও, অথবা যে সুখবর তোমরা গ্রহণ করেছো, তা থেকে আলাদা কোনো সুখবর যদি তোমরা গ্রহণ করো, তাহলে তো তোমরা যথেষ্ট আনন্দের সাথেই তা মেনে নাও।

(৫)আমি কিন্তু নিজেকে এসব অতি-হাওয়ারিদের থেকে বিন্দুমাত্র কম মনে করি না।

(৬)আমি হয়ত কথা বলার ক্ষেত্রে আনাড়ি, কিন্তু আমার জ্ঞানে নই; আর আমরা সবদিক দিয়ে ও সমস্ত বিষয়ে তা নিশ্চিতভাবে তোমাদের কাছে স্পষ্ট করেছি। 

(৭) আমি বিনামূল্যেই তোমাদের কাছে আল্লাহর সুখবর প্রচার করেছি; আমি তোমাদেরকে উন্নত করার জন্য নিজেকে নত করে কি গোনাহ করেছি? 

(৮)আমি তোমাদেও খেদমত করার জন্য অন্যান্য ইমানদার-দলের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে আমি তাদের টাকা বা অর্থ লুট করেছি।

(৯)আর আমি যখন তোমাদের মাঝে থাকার সময় অভাবে ছিলাম, এবং অভাবের মধ্যে ছিলাম, তখনো আমি কারো বোঝা হইনি; কারণ যে ভাইয়েরা মেসিডোনিয়া থেকে এসেছিলো, তারাই আমার অভাব মিটিয়েছিলো। তাই আমি তোমাদের উপর কোনো বোঝা হইনি এবং আগামীতেও হবো না।

(১০)আমার মধ্যে মসিহের যে সত্য আছে, আমার এই গর্ব থেকে আখায়া অঞ্চলের কেউই আমাকে থামাতে পারবে না। (১১)এবং কেন আমি একথা বলছি? তোমাদের মহব্বত করি না বলে কি? আল্লাহ জানেন, আমি তোমাদের মহব্বত করি!

(১২)আর আমি যা করি তা-ই করতে থাকবো, যাতে যারা নিজেদেরকে আমাদের সমান বলে গর্ব করার সুযোগ খোঁজে, তারা যেন সেই সুযোগ না পায়।

(১৩)কারণ এই ধরনের গর্বকারীরা ভন্ড হাওয়ারী, প্রতারনকারী প্রচারক, মসিহের হাওয়ারীদের ছদ্মবেশধারণকারী। (১৪)এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই! কারণ শয়তানও নিজেকে আলোময় ফেরেস্তার বেশ ধারণ করে। (১৫)সুতরাং, তার সেবরাও যদি ধার্মিকতার খাদেমদের ছদ্মবেশ ধরে, তবে তাতে আশ্চর্য হবার কী আছে? যেমন তাদের কাজ, তেমনই তাদের পরিণাম হবে।

(১৬)আমি আবারো বলছি, কেউ যেনো আমাকে বোকা মনে না করে; কিন্তু তোমরা যদি বোকা মনে করো, তাহলে আমাকে বোকা হিসেবেই গ্রহণ করো, যেনো আমিও একটু গর্ব করতে পারি।

(১৭)আমি গর্ব করার বিষয়ে যা বলছি, তা আল্লাহর দেয়া ক্ষমতাবলে বলছি না, বরং মুর্খের মতো বলছি; (১৮)যেহেতু অনেকেই মানুষের মান অনুসারে গর্ব করে তাই আমিও গর্ব করবো। (১৯)কারণ তোমরা বুদ্ধিমান বলে আনন্দের সাথেই নির্বোধদের সহ্য করে থাকো!

(২০)কেউ যদি তোমাদেরকে গোলাম বানায়, কেউ যদি তোমাদেরকে শিকারে পরিণত করে, কেউ যদি তোমাদের কাছ থেকে নানা-রকম সুবিধা আদায় করে নেয়, কেউ যদি নিজেই নিজের উচ্চ প্রশংসা করে কিংবা কেউ যদি তোমাদের গালে চড়ও মারে, তোমরা তার সবই সহ্য করো।

(২১)আমি লজ্জার সংগে স্বীকার করছি যে, আমরা এমন কিছু করার মতো ভীষণ দুর্বল ছিলাম! কিন্তু আমি বোকার মতোই বলছি- যা নিয়ে অন্যেরা গর্ব করার সাহস করে, তা নিয়ে গর্ব করার সাহস আমারও আছে।

(২২)তারা কি ইব্রানী? আমিও তাই। তারা কি ইস্রাইলীয়? আমিও তাই। তারা কি হযরত ইব্রাহিম আ. এর বংশধর? আমিও তাই।

(২৩)তারা কি মসিহের খাদেম? আমি পাগলের মতো বলছি- আমি আরো বেশি তাই: আমি তাদের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করেছি, অনেকবার জেল খেটেছি, অসংখ্যবার চাবুকের আঘাত সয়েছি এবং অনেকবার মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছি।

(২৪)আমি পাঁচবার ইহুদিদের হাতে ঊনচল্লিশটা করে চাবুকের আঘাত খেয়েছি, (২৫)আমাকে তিনবার লাঠি দিয়ে মারা হয়েছে। একবার পাথর মারা হয়েছে। তিনবার আমার জাহাজ ডুবি হয়েছে; সমুদ্রে ভেসে ভেসে আমার একদিন ও একরাত কেটেছে; (২৬)যাত্রাপথে বহুবার আমি নদী-সঙ্কটে পড়েছি, ডাকাত, নিজের লোক এবং অ-ইহুদিদের হাতে বিপদে পড়েছি; বিপদ হয়েছে শহরে, প্রান্তরে, সমুদ্রে এবং ভন্ড ভাই-বোনদের কাছ থেকে;

(২৭)বহুরাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছি, ক্ষুধা-তৃষ্ণায়, বহুবার অনাহারে, ঠান্ডায় ও বস্ত্রের অভাবের মতো এমন কঠিন পরিস্থিতিতে আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।

(২৮)এবং এসব ব্যাপার ছাড়াও সব ইমানদার-দলগুলোর জন্য দুশ্চিন্তার কারণে প্রতিদিনই আমার ওপর চাপ পড়ছে।

(২৯)কেউ দুর্বল হলে আমিও কি দুর্বল হই না? কেউ অন্যের বাধার কারণ হলে আমি কি রাগে জ্বলে উঠি না?

(৩০)আমাকে যদি গর্ব করতেই হয়, তাহলে আমি আমার দুর্বলতার বিষয় নিয়েই গর্ব করবো। (৩১)প্রতিপালক আল্লাহ যিনি চিরকাল প্রশংসিত এবং হযরত ইসা- তিনি জানেন, আমি মিথ্যা বলি না।

(৩২)যখন আমি দামেস্কে ছিলাম তখন বাদশাহ আরিতাসের অধীনস্ত গভর্নর আমাকে বন্দি করার জন্য দামেস্ক শহরে পাহারা বসিয়েছিলেন, (৩৩)কিন্তু দেয়ালের জানালা দিয়ে ঝুড়িতে করে আমাকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিলো, ফলে আমি তার হাত থেকে পালাতে পেরেছিলাম।

রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

(১)গর্ব করা প্রয়োজন; এতে কোনো লাভ হবে না; তবুও আমি আল্লাহর দর্শন ও ইলহামের কালামের কথা বলবো।

(২)হযরত ইসা আ. এর এমন একজন অনুসারীকে আমি জানি, যাকে চৌদ্দ বছর আগে তৃতীয় আসমানে তুলে নেওয়া হয়েছিলো- সশরীরে না-কি শরীর বিহীনভাবে সেটা আমি জানি না, আল্লাহই জানেন ।

(৩-৪)আমি জানি যে, ওই লোকটিকে বেহেস্তে তুলে নেওয়া হয়েছিলো- সেখানে তিনি এমন কথা শুনেছিলো, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, এমন সব কথা যা মানুষের বলার অনুমতি নেই।

(৫)এমন লোককে নিয়েই আমি গর্ব করবো কিন্তু আমার নিজের দুর্বলতা ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে আমি নিজেকে নিয়ে গর্ব করবো না।

(৬)কিন্তু আমি যদি গর্ব করতে চাই, আমি বোকার মত তা করবো না, কারণ আমি সত্য কথাই বলবো। কিন্তু তা থেকে আমি বিরত থাকবো যাতে মানুষ আমাকে যেমন দেখে এবং আমার কাছ থেকে যা শোনে কেউ তার থেকে আমাকে শ্রেষ্ঠতর বলে না ভাবে,

(৭)এমন কি ইলহামপ্রাপ্ত ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করেও। কাজেই আমি যাতে অতিমাত্রায় গর্বিত না হই, সেজন্য আমার শরীরে একটা কাঁটা বিদ্ধ করা হয়েছে, শয়তানের এক দূত দেওয়া হয়েছে আমাকে যন্ত্রণা দেয়ার জন্য, যাতে অতিমাত্রায় গর্বিত না হই।

(৮)এই ব্যাপারে আমি আল্লাহকে তিনবার অনুরোধ করেছি, যেন এটা আমাকে ছেড়ে চলে যায়, (৯)কিন্তু তিনি আমাকে বলেছেন, “আমার অনুগ্রহই তোমার জন্য যথেষ্ট, কারণ দুর্বলতার মধ্য দিয়েই শক্তি পরিপূর্ণ হয়।” সুতরাং, আমার দুর্বলতাগুলো নিয়ে আমি আরো বেশি আনন্দের সাথে গর্ব করবো, যেন মসিহের শক্তি আমার মধ্যে বাস করে।

(১০)কাজেই মসিহের জন্য দুর্বলতায়, অপমানে, কষ্টে, অত্যাচারে এবং চরম দুর্দশায় আমি সন্তুষ্ট, কারণ যখন আমি দুর্বল, তখনই আমি সবল।

(১১)আমি বোকা ছিলাম! তোমরাই আমাকে বোকা হতে বাধ্য করেছো। আসলে, তোমাদেরই উচিত ছিলো আমার প্রশংসা করা; কারণ যদিও আমি কিছুই নই, তবুও ওসব অতি-হাওয়ারিদের তুলনায় কোনো দিক দিয়েই কম নই।

(১২)অসীম ধৈর্যের সংগে চিহ্ন ও অলৌকিক এবং অদ্ভুত কাজ দেখিয়ে তোমাদের মাঝে একজন সত্যিকারের হাওয়ারির চিহ্ন প্রদর্শন করা হয়েছে।

(১৩)আমি নিজে তোমাদের বোঝা হইনি, এই ব্যাপারটি ছাড়া অন্যান্য ইমানদার-দলের চেয়ে কোন দিক দিয়ে তোমরা খারাপ ছিলে? আমার এই ভুল ক্ষমা করো!

(১৪)এই আমি, তৃতীয় বারের মতো তোমাদের কাছে আসার জন্য প্রস্তুত। এবং আমি তোমাদের বোঝা হবো না, কারণ আমি তোমাদের কোনো জিনিস নয়; কেবল তোমাদেরকে চাই; কারণ বাবা-মায়ের জন্য সম্পদ সঞ্চয় করা সন্তানদের কর্তব্য নয়, বরং সন্তানদের জন্য সম্পদ সঞ্চয় করা বাবা-মা’রই উচিৎ।  

(১৫)আমি খুবই আনন্দের সংগে তোমাদের সাথে সময় কাটাবো এবং তোমাদের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেবো। যদি তোমাদের বেশি মহব্বত করি তবে কি আমাকে কম মহব্বত পেতে হবে?

(১৬)মনে করা যাক, আমি তোমাদের বোঝা হইনি; তা সত্ত্বেও তোমরা বলো, আমি ধূর্ত বলে চালাকি করে তোমাদেরকে বশ করেছি।

(১৭)আমি যাদেরকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি, তাদের কারো মাধ্যমে আমি কি তোমাদের কাছ থেকে কোনো সুযোগ নিয়েছি?

(১৮)আমি হযরত তিত রা.কে যেতে অনুরোধ করেছিলাম আর তার সংগে সেই ভাইকেও পাঠিয়েছিলাম। নিশ্চয়ই হযরত তিত র. তোমাদেরকে ঠকায়নি, ঠকিয়েছে কি? আমরা কি একই রুহের দ্বারা চালিত হইনি? আমরা কি একই পদক্ষেপ গ্রহণ করিনি?

(১৯)তোমরা কি মনে করছো যে, এতক্ষণ যাবত আমরা তোমাদের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করছি? আল্লাহকে সাক্ষী রেখে মসিহের পক্ষে আমরা এসব কথা বলছি। প্রিয় ভাই-বোনেরা, তোমাদেরকে গড়ে তোলার জন্যই আমরা সব কিছু করি।

(২০)আমার ভয় হচ্ছে, আমি গিয়ে তোমাদেরকে যেমনটি দেখতে চাই, হয়তো তেমনটি দেখতে পাবো না আর তোমরাও আমাকে যেমনটি দেখতে চাও, তেমনটি দেখতে পাবে না। আমার ভয় হচ্ছে, ওখানে হয়তো ঝগড়া, ঈর্ষা, রাগ, স্বার্থপরতা, অপবাদ, পরচর্চা, অতিমাত্রায় আত্মগর্ব এবং গোলমাল চলছে।

(২১)আমার ভয় হচ্ছে, যখন আমি আবার আসবো, তখন আমার আল্লাহ তোমাদের সামনে আমার মাথা নত করে দেবেন এবং এমন অনেকের জন্য আমাকে দুঃখ পেতে হবে, যারা আগে গুনাহ করেছে, অথচ তাদের অপবিত্রতা, জিনা ও লম্পটতার জন্য তারা তওবা করেনি।

রুকু PDF আকারে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

(১)এই তৃতীয় বারের মতো আমি তোমাদের কাছে আসছি। “অবশ্যই দুই বা তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে যে কোনো অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে।”

(২)দ্বিতীয় বার যখন আমি তোমাদের কাছে গিয়েছিলাম, তখন যারা আগে গুনাহ করেছিলো, তাদের এবং অন্যান্য সবাইকে আমি যেভাবে সাবধান করে দিয়েছিলাম, এখন উপস্থিত না থেকেও তেমনি তাদের সাবধান করে দিচ্ছি- আমি যদি আবার আসি, আমি কিন্তু ক্ষমা করবো না;  (৩)কারণ মসিহ যে আমার মধ্য দিয়ে কথা বলছেন, তোমরা তার প্রমাণ চাইছো। তোমাদের ব্যাপারে তিনি দুর্বল নন, বরং তোমাদের মাঝে তিনি শক্তিশালী।

(৪)দুর্বল অবস্থায় তিনি সলিববিদ্ধ হয়েছিলেন বটে, কিন্তু আল্লাহর শক্তিতে তিনি জীবিত আছেন। আমরা তাঁর প্রতি দুর্বল হয়েছি, কিন্তু তোমাদের জন্য আল্লাহর শক্তিতে তাঁর সংগে আমরা জীবিত থাকবো।

(৫)তোমরা নিজেদেরকে পরীক্ষা করে দেখো, তোমরা ইমানে স্থির আছো কি-না। নিজেদেরকে যাচাই করে দেখো। হযরত ইসা মসিহ যে তোমাদের মধ্যে আছেন, তা কি তোমরা বোঝো না? যদি না তোমরা পরীক্ষায় ব্যর্থ হও। (৬)আমি আশা করি, তোমরা বুঝতে পারবে যে, আমরা ব্যর্থ হইনি।

(৭)কিন্তু আমরা আল্লাহর কাছে মোনাজাত করি, যেন তোমরা কোনো অন্যায় না করো- আমাদেরকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখানোর জন্য নয়, বরং আমাদেরকে ব্যর্থ দেখালেও  যা সঠিক তোমরা যেন তা-ই করো।

(৮)সত্যের বিরুদ্ধে আমরা কিছুই করতে পারি না কিন্তু সত্যের পক্ষে সবই করতে পারি। (৯)আসলে আমরা যখন দুর্বল এবং তোমরা সবল, তখন আমরা আনন্দ করি। এজন্যই আমরা মোনাজাত করি, যেন তোমরা নিখুঁত হয়ে উঠতে পারো।

(১০)সুতরাং, তোমাদের থেকে দূরে থাকতেই আমি এসব লিখছি, যেন ধ্বংসের জন্য নয় বরং গড়ে তোলার জন্য আল্লাহ আমাকে যে অধিকার দিয়েছেন, তোমাদের কাছে এসে আমাকে তা কঠোর হাতে ব্যবহার করতে না হয়।

(১১)অবশেষে বলছি, ভাইয়েরা ও বোনেরা, এবার বিদায় নিচ্ছি। শৃঙ্খলা বজায় রাখো, আমার আবেদন শোন, একে অন্যের সাথে ঐক্যমতে পৌঁছাও, শান্তিতে থাকো, তাহলে মহব্বত ও শান্তির আল্লাহ তোমাদের সঙ্গী হবেন।

(১২)পবিত্র চুমু দ্বারা একে অন্যকে শুভেচ্ছা জানিয়ো। সমস্ত মুমিনরাও তোমাদের সালাম জানাচ্ছেন।

(১৩)হযরত ইসা মসিহের অনুগ্রহ, আল্লাহর মহব্বত এবং আল্লাহর রুহের সাহচর্য তোমাদের সকলের সঙ্গী হোক।

Facebook
WhatsApp
Telegram
Email
Print