ইবনুল-ইনসান: রুকু – ২৪

248614
Total
Visitors
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন
১কিন্তু সপ্তাহের প্রথম দিন খুব সকালে সেই মহিলারা তাদের তৈরি করা সুগন্ধি মসলা নিয়ে কবরের কাছে গেলেন। ২তারা দেখলেন, কবরের মুখ থেকে পাথরটি সরিয়ে রাখা হয়েছে, ৩কিন্তু তারা কবরের ভেতরে গিয়ে দেহ-মোবারক পেলেন না। ৪তারা যখন অবাক হয়ে সে-বিষয়ে ভাবছিলেন, তখন অতি উজ্জ্বল কাপড় পরা দু’ব্যক্তি তাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন। ৫এতে তারা ভয় পেয়ে মাথা নিচু করলেন। কিন্তু তারা তাদের বললেন, “কেনো তোমরা মৃতদের মাঝে জীবিতকে খোঁজ করছো? তিনি এখানে নেই; তিনি জীবিত হয়ে উঠেছেন। ৬তিনি গালিলে থাকতে তোমাদের কাছে যা যা বলেছিলেন তা স্মরণ করো- ৭ইবনুল-ইনসানকে অবশ্যই গুনাহগারদের হাতে তুলে দেয়া হবে, তাঁকে সলিবে দেয়া হবে এবং তৃতীয় দিনে আবার তিনি মৃত থেকে জীবিত হয়ে উঠবেন।” ৮তখন সেকথা তাদের মনে পড়লো ৯এবং তারা কবর থেকে ফিরে গিয়ে সেই এগারোজন এবং অন্য সবাইকে এসব কথা জানালেন।

১০সেই মহিলাদের মধ্যে ছিলেন মগ্‌দলিনি মরিয়ম, যোহান্না ও ইয়াকুবের মা মরিয়ম। এবং তাদের সাথে অন্য যে-মহিলারা ছিলেন, তারাও এসব কথা হাওয়ারিদের কাছে বললেন। ১১কিন্তু এসব কথা তাদের কাছে অর্থহীন মনে হলো এবং তারা মহিলাদের কথায় বিশ্বাস করলেন না।

১২কিন্তু হযরত পিতর রা. উঠে দৌড়ে কবরের কাছে গেলেন এবং নিচু হয়ে কেবল লিনেনের কাপড়গুলোই দেখতে পেলেন। যা-ঘটেছে তাতে আশ্চর্য হয়ে তিনি ফিরে এলেন।

১৩সেদিনই তাদের মধ্যে দু’জন জেরুসালেম থেকে প্রায় সাত মাইল দূরে অবস্থিত ইম্মায়ু নামে একটি গ্রামে যাচ্ছিলেন। ১৪এবং যা-কিছু ঘটেছে তা নিয়ে একে অন্যের সাথে আলাপ করছিলেন। তারা আলাপ-আলোচনা করছেন, ১৫এমন সময় হযরত ইসা আ. নিজেই সেখানে এসে তাদের সাথে হাঁটতে থাকলেন। ১৬কিন্তু তাদের চোখকে বিরত রাখা হয়েছিলো তাঁকে চিনতে পারা থেকে। ১৭তিনি তাদের বললেন, “তোমরা হাঁটতে হাঁটতে কী বিষয়ে একে অন্যের সাথে আলোচনা করছো?” ১৮তারা দুঃখের সাথে থমকে দাঁড়িয়ে রইলেন। তখন ক্লিয়পা নামে তাদের মধ্যে একজন তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনিই কি জেরুসালেমের একমাত্র প্রবাসী, যিনি জানেন না যে, এই ক’দিনে সেখানে কী ঘটেছে?”

১৯তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কী কী ঘটেছে?” তারা বললেন, “নাসরতের হযরত ইসা আ.কে নিয়ে ঘটনাগুলো হলো- তিনি একজন নবি ছিলেন। তিনি কাজে ও কথায় আল্লাহ ও সমস্ত লোকের চোখে শক্তিশালী ছিলেন ২০এবং কীভাবে আমাদের প্রধান ইমামেরা ও নেতারা তাঁকে মৃত্যুর শাস্তি দেবার জন্য দিয়ে দিলেন এবং তাঁকে সলিবে হত্যা করলেন! ২১কিন্তু আমরা আশা করেছিলাম, তিনিই ইস্রাইলকে মুক্ত করবেন। কেবল তাই নয়, আজ তিন দিন হলো এসব ঘটনা ঘটেছে। ২২আবার আমাদের কয়েকজন মহিলা আমাদের অবাক করেছেন। আজ খুব সকালে তারা কবরে গিয়েছিলেন;

২৩এবং যখন তাঁর দেহ-মোবারক সেখানে পেলেন না, তখন ফিরে এসে বললেন, তারা ফেরেস্তাদের দেখা পেয়েছেন, যারা তাদের বলেছেন যে, তিনি জীবিত হয়ে উঠেছেন। ২৪তখন আমাদের সাথে যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে কয়েকজন কবরে গিয়ে মহিলারা যেমন বলেছিলেন, ঠিক তেমনই দেখতে পেলেন কিন্তু তারা তাঁকে দেখতে পেলেন না।

২৫তখন তিনি তাদের বললেন, “হায়! কি বোকা তোমরা; নবিদের কথায় ইমান আনতে তোমাদের হৃদয় কতো অলস! ২৬মসিহের এসব কষ্টভোগ ও তাঁর মহিমায় প্রবেশ করার কি প্রয়োজন ছিলো না?” ২৭অতঃপর তিনি মুসা ও নবিদের কিতাব থেকে শুরু করে তাঁর নিজের সম্পর্কে সমস্ত আসমানি কিতাবে বর্ণিত বিষয়গুলো তাদের বুঝিয়ে বললেন।

২৮তারা যে-গ্রামে যাচ্ছিলেন, তার কাছাকাছি এলে তিনি আরো আগে যাবার ভাব দেখালেন। ২৯কিন্তু তারা খুবই সাধাসাধি করে তাঁকে বললেন, “এখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে, দিনও শেষের পথে, আমাদের সাথে থাকুন।” এতে তিনি তাদের সাথে থাকার জন্য ঘরে ঢুকলেন। ৩০তিনি যখন তাদের সাথে খেতে বসলেন, তখন রুটি নিয়ে শুকরিয়া জানালেন এবং তা টুকরো টুকরো করে তাদের দিলেন। ৩১তখন তাদের চোখ খুলে গেলো। তারা তাঁকে চিনতে পারলেন এবং তখনই তিনি তাদের সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

৩২তারা একে অন্যকে বললেন, “রাস্তায় যখন তিনি আমাদের সাথে কথা বলছিলেন এবং আল্লাহর কালাম বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন আমাদের অন্তর কি জ্বলে জ্বলে উঠছিলো না?” ৩৩তখনই তারা উঠে জেরুসালেমে গেলেন এবং সেই এগারোজন ও তাদের সাথে অন্যদেরও এক জায়গায় দেখতে পেলেন। ৩৪তারা বলছিলেন, সত্যিই আমাদের মালিক জীবিত হয়ে উঠেছেন এবং সাফওয়ানকে দেখা দিয়েছেন। ৩৫রাস্তায় যা হয়েছিলো তা তারা তাদের জানালেন এবং তিনি যখন রুটি টুকরো করছিলেন, তখন কেমন করে তারা তাঁকে চিনতে পেরেছিলেন, তাও বললেন।

৩৬তারা কথা বলছিলেন, এমন সময় হযরত ইসা আ. নিজে তাদের মধ্যে এসে দাঁড়িয়ে তাদের সবাইকে বললেন, “আস্সালামু আলাইকুম।” ৩৭তারা জিন দেখছেন ভেবে খুব ভয় পেলেন।

৩৮কিন্তু তিনি তাদের বললেন, “কেনো তোমরা ভয়ে অস্থির হচ্ছো আর কেনোই-বা তোমাদের মনে সন্দেহ জাগছে? ৩৯আমার হাতপা দেখো। দেখো, এ আমি। আমাকে ছুঁয়ে দেখো। কারণ রুহের তো হাড়মাংস থাকে না কিন্তু দেখো, আমার আছে।” ৪০একথা বলে তিনি তাঁর হাত ও পা তাদের দেখালেন। ৪১কিন্তু তারা এতো আশ্চর্য ও আনন্দিত হয়েছিলেন যে, বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তখন তিনি তাদের বললেন, “তোমাদের এখানে কি কোনো খাবার আছে?” ৪২তারা তাঁকে এক টুকরো রান্না করা মাছ দিলেন। ৪৩তিনি তা নিয়ে তাদের সামনেই খেলেন।

৪৪অতঃপর তিনি তাদের বললেন, “আমি যখন তোমাদের সাথে ছিলাম, তখন তোমাদের বলেছিলাম, হযরত মুসা আ.র তওরাতে, নবিদের সহিফাগুলোতে ও যবুরে আমার বিষয়ে যে যে কথা লেখা আছে, তার সব অবশ্যই পূর্ণ হবে। ৪৫তখন তিনি আল্লাহর কালাম বোঝার জন্য তাদের হৃদয় খুলে দিলেন। ৪৬এবং তাদের বললেন, “এভাবেই লেখা আছে- মসিহকে কষ্টভোগ করতে এবং তৃতীয় দিনে মৃত থেকে জীবিত হয়ে উঠতে হবে। ৪৭এবং জেরুসালেম থেকে শুরু করে সমস্ত জাতির কাছে তাঁর নামে তওবা ও গুনাহ মাফের কথা প্রচার করা হবে। ৪৮তোমরাই এ-সমস্ত বিষয়ের সাক্ষী।

৪৯দেখো, আমার প্রতিপালক যা দেবার ওয়াদা করেছেন তা আমি তোমাদের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি। ওপর থেকে শক্তি না পাওয়া পর্যন্ত তোমরা এই শহরেই থেকো।”

৫০পরে তিনি তাদের নিয়ে বেথানিয়া পর্যন্ত গেলেন এবং দু’হাত তুলে তাদের দোয়া করলেন। ৫১এভাবে দোয়া করতে করতেই তিনি তাদের থেকে আলাদা হলেন এবং তাঁকে বেহেস্তে তুলে নেয়া হলো। ৫২তখন তারা তাঁকে হাঁটু গেঁড়ে নত হয়ে সম্মান দেখালেন ও খুব আনন্দের সাথে জেরুসালেমে ফিরে গেলেন। ৫৩আর তারা নিয়মিত বায়তুল-মোকাদ্দসে আল্লাহর প্রশংসা করতে থাকলেন।
Facebook
WhatsApp
Telegram
Email
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৩
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৪
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৫
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৬
ইবনুল-ইনসান: রুকু – ৭
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৮
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৯
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১০
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১১
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১২
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৩
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৪
ইবনুল-ইনসান: রুকু ১৫
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৬
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৭
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৮
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৯
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২০
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২১
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২২
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২৩
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২৪