ইবনুল-ইনসান: রুকু – ১০

248422
Total
Visitors
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন
১অতঃপর মসিহ আরো সত্তরজনকে মনোনীত করলেন। তিনি নিজে যে যে গ্রামে ও যে যে জায়গায় যাবেন বলে ঠিক করেছিলেন, সেসব জায়গায় তাদেরকে দু’জন দু’জন করে তাঁর আগে পাঠিয়ে দিলেন। ২তিনি তাদের বললেন, “ফসল অনেক কিন্তু কাজ করার লোক কম। এজন্য ফসলের মালিকের কাছে মোনাজাত করো, যেনো তিনি তাঁর ফসল কাটার জন্য লোক পাঠিয়ে দেন। ৩তোমরা যাও; নেকড়ে বাঘের মধ্যে ভেড়ার মতোই আমি তোমাদের পাঠাচ্ছি। ৪টাকার থলি, ঝুলি বা জুতো সাথে নিয়ো না এবং রাস্তায় কাউকে সালাম জানাবে না। ৫তোমরা যে-বাড়িতে যাবে, প্রথমে বলবে, ‘এই বাড়িতে শান্তি বর্ষিত হোক।’ ৬শান্তি ভালোবাসে এমন কেউ যদি সেখানে থাকে, তাহলে তোমাদের শান্তি তার ওপরে থাকবে কিন্তু যদি না থাকে, তাহলে তা তোমাদের কাছেই ফিরে আসবে। ৭সেই বাড়িতেই থেকো এবং তারা যা দেয়, তাই খেয়ো ও পান করো; কারণ যে কাজ করে সে বেতন পাবার যোগ্য। এক বাড়ি ছেড়ে অন্য বাড়িতে যেয়ো না। ৮তোমরা যখন কোনো গ্রামে যাও এবং সেখানকার লোকেরা তোমাদের গ্রহণ করে, তখন তারা তোমাদের যা দেয় তাই খেয়ো। ৯সেখানকার অসুস্থদের সুস্থ করো এবং তাদের বলো, ‘আল্লাহর রাজ্য তোমাদের কাছে এসেছে।’

১০কিন্তু তোমরা যখন কোনো গ্রামে যাও, তখন সেখানকার লোকেরা যদি তোমাদের গ্রহণ না করে, তাহলে সেই গ্রামের রাস্তায় গিয়ে এই কথা বলো- ১১‘তোমাদের গ্রামের যে-ধুলো আমাদের পায়ে লেগেছে, তা-ও আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে ঝেড়ে ফেললাম। তবুও তোমরা জেনে রেখো, আল্লাহর রাজ্য কাছে এসে গেছে।’ ১২আমি তোমাদের বলছি, ওই দিন সেই গ্রামের চেয়ে বরং সদোম শহরের অবস্থা অনেক সহনীয় হবে।

১৩হায় কোরাযিন! হায় বেতসাইদা! ধিক তোমাদের; কারণ যেসব আশ্চর্য কাজ তোমাদের মধ্যে করা হয়েছে তা যদি টায়ার ও সিডন শহরে করা হতো, তাহলে অনেক আগেই তারা চট পরে ছাই মেখে তওবা করতো।’ ১৪কিন্তু কেয়ামতের দিন টায়ার ও সিডনের অবস্থা বরং তোমাদের চেয়ে অনেক সহনীয় হবে। ১৫আর তুমি কফরনাহুম, তুমি নাকি আকাশ পর্যন্ত উঁচুতে উঠবে? না, তোমাকে সব থেকে নিচে নামানো হবে।

১৬যারা তোমাদের কথা শোনে, তারা আমারই কথা শোনে। যারা তোমাদের গ্রহণ করে না, তারা আমাকেই গ্রহণ করে না। যারা আমাকে গ্রহণ করে না, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তারা তাঁকেই গ্রহণ করে না।”

১৭সেই সত্তরজন আনন্দের সাথে হযরত ইসা আ.র কাছে ফিরে এসে বললেন, “হুজুরে আকরাম, আপনার নামে ভূতেরা পর্যন্ত আমাদের কথা শোনে!” ১৮তিনি তাদের বললেন, “আমি শয়তানকে বেহেস্ত থেকে বিদুৎ চমকানোর মতো করে পড়ে যেতে দেখেছি। ১৯দেখো, আমি তোমাদের সাপ ও বিছাকে পায়ের তলে মাড়াবার এবং শয়তানের সমস্ত শক্তির ওপরে ক্ষমতা দিয়েছি। কোনোকিছুই তোমাদের ক্ষতি করবে না। ২০কিন্তু ভূতেরা তোমাদের কথা শোনে, এজন্য আনন্দিত হয়ো না, বরং বেহেস্তে তোমাদের নাম লেখা রয়েছে বলে আনন্দ করো।”

২১একই সময়ে হযরত ইসা আ. আল্লাহর রুহের দ্বারা আনন্দিত হয়ে বললেন, “হে আমার প্রতিপালক, দুনিয়া ও বেহেস্তের মালিক, আমি তোমার শুকরিয়া আদায় করি। কারণ তুমি এসব বিষয় জ্ঞানী ও বুদ্ধিমানদের কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছো কিন্তু শিশুর মতো লোকদের কাছে প্রকাশ করেছো। হ্যাঁ, প্রতিপালক, তোমার মহান ইচ্ছাতেই এসব হয়েছে।

২২আমার প্রতিপালক সবকিছু আমারই হাতে দিয়েছেন। প্রতিপালক ছাড়া আর কেউ তাঁর একান্ত প্রিয় মনোনীতজনকে জানে না, আবার একান্ত প্রিয় মনোনীতজন ছাড়া আর কেউ প্রতিপালককে জানে না এবং একান্ত প্রিয় মনোনীতজন যার কাছে প্রতিপালককে প্রকাশ করতে ইচ্ছা করেন, কেবল  সে-ই জানে।

২৩অতঃপর হযরত ইসা আ. হাওয়ারিদের দিকে ফিরলেন এবং তাদেরকে গোপনে বললেন, “তোমরা যা দেখছো তা যারা দেখতে পায়, তারা ভাগ্যবান। ২৪আমি তোমাদের বলছি, তোমরা যা যা দেখছো, অনেক নবি ও বাদশা তা দেখতে চেয়েও দেখতে পাননি। আর তোমরা যা যা শুনছো তা শুনতে চেয়েও শুনতে পাননি।”

২৫তখন একজন আলিম দাঁড়ালেন এবং হযরত ইসা আ.কে পরীক্ষা করার জন্য বললেন, “হুজুর, কী করলে আমি বেহেস্তে যেতে পারবো?” ২৬তিনি তাকে বললেন, “তওরাতে কী লেখা আছে? সেখানে কী পড়েছো?” ২৭তিনি জবাব দিলেন, “তুমি তোমার স¤পূর্ণ হৃদয়, মন, প্রাণ এবং সামর্থ্য দিয়ে তোমার মালিক আল্লাহকে মহব্বত করবে; এবং তোমার প্রতিবেশীকেও নিজের মতো মহব্বত করবে।” ২৮তিনি তাকে বললেন, “তুমি ঠিক জবাবই দিয়েছো। সেরকমই করো, তাহলে তুমি বেহেস্তে যেতে পারবে।” ২৯কিন্তু তিনি নিজেকে দীনদার দেখাবার জন্য ইসাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কে আমার প্রতিবেশী?”

৩০হযরত ইসা আ. জবাব দিলেন, “এক লোক জেরুসালেম থেকে জিরিহো শহরে যাবার পথে ডাকাতদের হাতে পড়লো। তারা লোকটির জামাকাপড় খুলে ফেললো এবং তাকে মেরে আধমরা করে রেখে গেলো। ৩১একজন ইমাম সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলো। সে লোকটিকে দেখলো এবং পাশ কাটিয়ে চলে গেলো। ৩২ঠিক সেভাবে একজন লেবীয় সেই জায়গায় এলো এবং তাকে দেখতে পেয়ে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো। ৩৩কিন্তু একজন সামেরীয় সেই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তার কাছে এলো এবং তাকে দেখে তার মমতা হলো। ৩৪লোকটির কাছে গিয়ে সে তার ক্ষতস্থানের ওপর তেল আর আঙুররস ঢেলে বেঁধে দিলো। তারপর তাকে তার নিজের বোঝা বহনকারী পশুর ওপর বসিয়ে একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে তার সেবাযত্ন করলো। ৩৫পরদিন সেই সামেরীয় দুটো দিনার বের করে হোটেলের মালিককে দিয়ে বললো, ‘এই লোকটির যত্ন নেবেন এবং এর বেশি যা খরচ হয়, আমি ফিরে এসে তা শোধ করবো।’ ৩৬এখন তোমার কী মনে হয়? এই তিনজনের মধ্যে কে সেই ডাকাতদের হাতে পড়া লোকটির প্রতিবেশী?” ৩৭তিনি বললেন, “যে তাকে দয়া করলো, সে-ই।” হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “তাহলে তুমিও গিয়ে সেরকম করো।”

৩৮অতঃপর তাঁরা যখন নিজেদের পথে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি কোনো একটি গ্রামে ঢুকলেন। সেখানে মার্থা নামে এক মহিলা তাঁকে তার ঘরে দাওয়াত করলেন।

৩৯মরিয়ম নামে তার এক বোন ছিলেন। তিনি হুজুরের পায়ের কাছে বসে তাঁর কথা শুনছিলেন। ৪০কিন্তু মার্থা তার অনেক কাজের মাঝে ব্যস্ত ছিলেন। সুতরাং তিনি এসে তাঁকে বললেন, “হুজুর, আপনি কি দেখেন না, আমার বোন সমস্ত কাজ আমার একার ওপরে ফেলে দিয়েছে? আপনি ওকে বলুন, যেনো ও আমাকে সাহায্য করে।” ৪১কিন্তু উত্তরে হুজুরে আকরাম তাকে বললেন, “মার্থা, মার্থা, তুমি অনেক বিষয়ে চিন্তিত ও ব্যস্ত, ৪২কিন্তু একটি মাত্র বিষয়ই দরকারি; মরিয়ম সেই ভালো বিষয়টিই বেছে নিয়েছে, সেটি তার কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হবে না।”
Facebook
WhatsApp
Telegram
Email
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৩
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৪
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৫
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৬
ইবনুল-ইনসান: রুকু – ৭
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৮
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৯
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১০
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১১
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১২
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৩
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৪
ইবনুল-ইনসান: রুকু ১৫
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৬
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৭
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৮
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৯
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২০
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২১
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২২
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২৩
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২৪