ইবনুল-ইনসান: রুকু – ৪

248606
Total
Visitors
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন
১হযরত ইসা আ. আল্লাহর রুহে পূর্ণ হয়ে জর্দান থেকে ফিরে এলেন এবং সেই রুহের পরিচালনায় তাঁকে মরু প্রান্তরে যেতে হলো। ২সেখানে চল্লিশ দিন ধরে ইবলিস তাঁকে লোভ দেখালো। ওই দিনগুলোতে তিনি কিছুই খেলেন না এবং ওই দিনগুলো শেষ হলে তাঁর খিদে পেলো।

৩তখন ইবলিস তাঁকে বললো, “তুমি যদি আল্লাহর একান্ত প্রিয় মনোনীতজন হও, তাহলে এই পাথরটিকে রুটি হয়ে যেতে বলো।” ৪হযরত ইসা আ. তাকে বললেন “একথা লেখা আছে, ‘মানুষ কেবল রুটিতেই বাঁচে না।’”

৫এরপর ইবলিস তাঁকে একটি উঁচু জায়গায় নিয়ে গেলো এবং মুহূর্তের মধ্যে দুনিয়ার সব রাজ্য দেখিয়ে বললো, ৬“এসবের অধিকার ও এগুলোর জাঁকজমক আমি তোমাকে দেবো। কারণ এসব আমাকে দেয়া হয়েছে এবং আমার যাকে ইচ্ছা আমি তাকেই তা দিতে পারি। ৭তুমি যদি আমাকে সিজদা করো, তাহলে এই সবই তোমার হবে।” ৮হযরত ইসা আ. তাকে জবাব দিলেন, “একথা লেখা আছে, ‘তুমি তোমার মালিক আল্লাহর এবাদত করবে এবং কেবল তাঁরই বাধ্য থাকবে।’”

৯তখন ইবলিস তাঁকে জেরুসালেমে নিয়ে গেলো আর বায়তুল-মোকাদ্দসের চূড়ায় দাঁড় করিয়ে বললো, “তুমি যদি আল্লাহর একান্ত প্রিয় মনোনীতজন হও, তাহলে এখান থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ো। ১০কারণ একথা লেখা আছে, ‘তিনি তাঁর ফেরেস্তাদের তোমার বিষয়ে হুকুম দেবেন, যেনো তারা তোমাকে রক্ষা করেন।’ ১১এবং ‘তারা তোমাকে হাত দিয়ে ধরে ফেলবেন, যাতে তোমার পায়ে পাথরের আঘাত না লাগে।’” ১২হযরত ইসা আ. তাকে বললেন, “একথাও বলা হয়েছে, ‘তোমার মালিক আল্লাহকে তুমি পরীক্ষা করো না।’” ১৩সমস্ত রকম লোভ দেখানো শেষ করে ইবলিস আরেকটি সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে চলে গেলো।

১৪পরে হযরত ইসা আ. আল্লাহর রুহের শক্তিতে পূর্ণ হয়ে গালিলে ফিরে গেলেন এবং তাঁর খবর সে-এলাকার চারপাশের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়লো। ১৫তিনি তাদের সিনাগোগগুলোতে গিয়ে শিক্ষা দিতে শুরু করলেন এবং সবাই তাঁর প্রশংসা করতে লাগলো। ১৬তিনি নাসরতে এলেন। এখানেই তিনি বড়ো হয়েছিলেন। তিনি নিজের নিয়ম অনুসারে সাব্বাতে সিনাগোগে গেলেন এবং তেলাওয়াত করার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। ১৭তাঁর হাতে হযরত ইসাইয়া নবির গুটিয়ে রাখা সহিফাখানা দেয়া হলো। তিনি তা খুলে সেই জায়গা পেলেন, যেখানে লেখা আছে- ১৮“আল্লাহর রুহ আমার ওপরে আছে। কারণ তিনিই আমাকে অভিষিক্ত করেছেন, যেনো আমি গরিবদের কাছে সুখবর নিয়ে আসি।

তিনি আমাকে বন্দিদের কাছে স্বাধীনতার কথা, অন্ধদের কাছে দেখতে পাওয়ার কথা ঘোষণা করতে, মজলুমদের মুক্ত করতে ১৯এবং আল্লাহর রহমতের বছর ঘোষণা করতে পাঠিয়েছেন।”

২০অতঃপর সহিফাখানা গুটিয়ে খাদেমের হাতে দিয়ে তিনি বসলেন। সিনাগোগের প্রত্যেকটি লোক স্থিরদৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলো। ২১তখন তিনি বলতে আরম্ভ করলেন, “পাক-কিতাবের এই কথাগুলো আজ তোমাদের শোনার সাথে সাথে পূর্ণ হলো।” ২২সবাই তাঁর প্রশংসা করলো এবং তাঁর মুখে সুন্দর সুন্দর কথা শুনে অবাক হলো। তারা বললো, “এ কি ইউসুফের ছেলে নয়?” ২৩তিনি তাদের বললেন, “তোমরা নিশ্চয়ই আমাকে এই প্রবাদটি বলবে, ‘ডাক্তার, নিজেকে সুস্থ করো’ এবং আরো বলবে, ‘কফরনাহুমে যেসব কাজ করার কথা আমরা শুনেছি, সেসব নিজের গ্রামেও করে দেখাও।’” ২৪তিনি আরো বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, কোনো নবিকেই তাঁর নিজের গ্রামের লোকেরা গ্রহণ করে না।

২৫কিন্তু সত্য হচ্ছে এই যে, হযরত ইলিয়াস আ.র সময় যখন তিন বছর ছ’মাস বৃষ্টি হয়নি, আকাশ বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো এবং সারা দেশে ভীষণ দুর্ভিক্ষ হয়েছিলো, তখন ইস্রাইলেও অনেক বিধবা ছিলো, ২৬কিন্তু তাদের কারো কাছে হযরত ইলিয়াস আ.কে পাঠানো হয়নি, কেবল সিডন এলাকার সারিফত গ্রামের বিধবার কাছে পাঠানো হয়েছিলো। ২৭নবি ইয়াসার সময় ইস্রাইলে অনেক কুষ্ঠরোগী ছিলো কিন্তু তাদের কাউকে পাকসাফ করা হয়নি, কেবল সিরিয়ার নামানকেই করা হয়েছিলো।”

২৮একথা শুনে সিনাগোগের সমস্ত লোক রেগে আগুন হয়ে গেলো। ২৯তারা উঠে তাঁকে গ্রামের বাইরে ঠেলে নিয়ে গেলো। আর তাদের গ্রামটি যে-পাহাড়ের চূড়ায় ছিলো, সেখান থেকে তাঁকে নিচে ফেলে দিতে চাইলো। ৩০কিন্তু তিনি তাদের মধ্য দিয়েই হেঁটে চলে গেলেন।

৩১তিনি গালিলের কফরনাহুম শহরে গেলেন এবং সাব্বাতে তাদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন। ৩২তাঁর শিক্ষায় লোকেরা আশ্চর্য হলো। কারণ তিনি অধিকারসহ কথা বলছিলেন। ৩৩সিনাগোগে ভূতে পাওয়া এক লোক ছিলো এবং সে জোরে চিৎকার করে বললো, ৩৪“হে নাসরতের হযরত ইসা আ., আমাদের একা থাকতে দিন! আমাদের সাথে আপনার কী?

আপনি কি আমাদের ধ্বংস করতে এসেছেন? আমি জানি আপনি কে- আপনিই আল্লাহর সেই পবিত্রজন।” ৩৫কিন্তু হযরত ইসা আ. তাকে ধমক দিয়ে বললেন, “চুপ করো, ওর ভেতর থেকে বেরিয়ে যাও!” সেই ভূত তখন লোকটিকে সকলের সামনে আছড়ে ফেললো এবং তার কোনো ক্ষতি না করে তার ভেতর থেকে বেরিয়ে গেলো। ৩৬এতে সবাই আশ্চর্য হয়ে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগলো, “এ কেমন কথা? অধিকার ও ক্ষমতা নিয়ে তিনি ভূতদের হুকুম দেন আর তারা বেরিয়ে যায়!” ৩৭সেই এলাকার সব জায়গায় তাঁর কথা ছড়িয়ে পড়তে লাগলো।

৩৮সিনাগোগ থেকে বেরিয়ে তিনি হযরত সাফওয়ান রা.র বাড়িতে গেলেন। তার শাশুড়ির খুব জ্বর হয়েছিলো এবং তারা হযরত ইসা আ.কে তার বিষয়ে বললেন। ৩৯তখন তিনি তার পাশে দাঁড়িয়ে জ্বরকে ধমক দিলেন। তাতে জ্বর তাকে ছেড়ে গেলো আর তিনি তখনই উঠে তাঁদের মেহমানদারি করতে লাগলেন।

৪০সূর্য ডোবার সময় লোকেরা সমস্ত রোগীকে তাঁর কাছে নিয়ে এলো। তারা নানা রোগে ভুগছিলো। তিনি তাদের প্রত্যেকের গায়ে হাত দিয়ে তাদের সুস্থ করলেন। ৪১অনেক লোকের ভেতর থেকে ভূতও বেরিয়ে গেলো। তারা চিৎকার করে বললো, “আপনিই আল্লাহর একান্ত প্রিয় মনোনীতজন!” কিন্তু তিনি তাদের ধমক দিলেন এবং কথা বলতে দিলেন না, কারণ তারা জানতো যে, তিনিই মসিহ।

৪২ফজরে তিনি সেই জায়গা ছেড়ে একটি নির্জন জায়গায় চলে গেলেন। অনেক লোক তাঁর খোঁজ করতে করতে তাঁর কাছে গেলো এবং যাতে তিনি তাদের ছেড়ে চলে না যান, সেজন্য তাঁকে ফেরাতে চেষ্টা করলো। ৪৩কিন্তু তিনি তাদের বললেন, “আরো অনেক জায়গায় আমাকে আল্লাহর রাজ্যের সুখবর প্রচার করতে হবে, এজন্যই আমাকে পাঠানো হয়েছে।” ৪৪সুতরাং তিনি ইহুদিয়ার গালিলের সিনাগোগগুলোতে প্রচার করতে থাকলেন।
Facebook
WhatsApp
Telegram
Email
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৩
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৪
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৫
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৬
ইবনুল-ইনসান: রুকু – ৭
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৮
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ৯
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১০
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১১
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১২
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৩
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৪
ইবনুল-ইনসান: রুকু ১৫
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৬
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৭
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৮
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ১৯
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২০
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২১
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২২
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২৩
ইবনুল-ইনসান: রুকু - ২৪